• ক্রিকেট

ম্যাশকে বাদ দেয়া, আমাদের দাবি ও কিছু কথন

পোস্টটি ২৩৯৩ বার পঠিত হয়েছে

নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর অলরেডি ফেসবুকে অনেক কমেন্ট, পোস্ট গ্রুপে হয়ে গেছে। বিষয়বস্তু-ম্যাশ। বাংলাদেশ দলের বর্তমান কাপ্তান মাশরাফি বিন মূর্তজাকে দল থেকে বাদ দিতে অনেকে উঠেপড়ে লেগেছে। এরকম অবস্থা দেখেছিলাম নির্বাচনকালীন সময়ে। ওই সময়ে ম্যাশকে নিয়ে অনেক কথা, সমালোচনা করেছিল ম্যাশ হেটার্সরা। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর যারা দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফেসবুকের অলিতেগলিতে(গ্রুপে) ঘুরঘুর করছে। 

এরই মধ্যে ম্যাশকে সাপোর্ট করে অনেক পোস্টও লেখা হয়েছে। কিন্তু সেখানে সমস্যা হচ্ছে অনেক পোস্টেই ক্রিকেটিয় চিন্তা বাদ দিয়ে আবেগের বসতি গড়া হয়েছে। অনেকে আবার যারা মাশরাফির যৌক্তিক  সমালোচনা করছে তাদের ধুয়ে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে তুলকালাম অবস্থা।

এই দুই ম্যাচে মাশরাফির বোলিং আপ টু দ্য মার্ক হয়েনি। তার বলে গতি কম, বাউন্স নেই, ভ্যারিয়েশন নেই এইসব অভিযোগ পুরনো।  কিছুটা সত্যতাও রয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট-টেকার। বাস্তবতা এটাই। সীমিত সার্মথ্য দিয়েও তিনি সর্বোচ্চটা দিয়ে দেশকে নিংড়ে দিচ্ছেন।

mashrafe এর ছবির ফলাফলমাশরাফি বিন মূর্তজা। 

দুই ম্যাচে ম্যাশকে দেখলাম। দেখে মনে হয়েছে, নিজের প্রতি তিনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এক বিশাল চাপ তার উপর আছে বলে মনে হচ্ছে। মানসিকভাবে তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত বলে মনে হচ্ছে। বোলিং এ আত্মবিশ্বাস না থাকলে যত ভালো বোলারই হোক না কেন, ভুল হবেই। মাশরাফির ক্ষেত্রেও একই হয়েছে। সমস্যা যে, তিনি অধিনায়ক। তিনি বিপর্যস্ত থাকলে অধিনায়কত্বে ভুল থাকবে, প্রত্যেক সিদ্ধান্তে সংশয়ে থাকবেন। যার ফল দলের উপর পড়বে।

বিপর্যস্ত মাশরাফি এর ছবির ফলাফল

এটুকু পড়ে অনেকেই হয়তো তাহলে ম্যাশকে বাদ দিতে বলবেন। মুখে বলা সহজ, কাজে করা কঠিন। আবেগ-টাবেগ বাদ দিলাম, বিশ্বকাপের ৭ ম্যাচ বাকি আছে, এই মূহুর্তে অধিনায়ক পাল্টানো কোনো ভাল সিদ্ধান্ত না। এই কোচ-অধিনায়ক রা বিশ্বকাপের অনেক আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছেন। হঠাৎ করে অধিনায়ক পাল্টানো তাতে ছেদ পড়াতে বাধ্য। আমি-আপনারা বাংলাদেশে থেকে টিম ম্যানেজমেন্টের প্ল্যান সম্পর্কে অবহিত হতে পারব না, তবে কেন অহেতুক সেই প্ল্যানে ব্যাঘাত ঘটাবো? কোর্টনির আমলে বাংলাদেশের পেস ইউনিট তেমন উন্নতি করেনি, এখন যদি বাংলাদেশ ২-৩ ম্যাচ হারে পেসারদের জন্য, তাহলে কি বিশ্বকাপ চলাকালে কোর্টনিকে সরিয়ে দিতে হবে? অধিনায়কের ব্যাপারতাও একই। আফগানিস্তানকে দেখুন, গুলবাদিনের জায়গায় আসগর আফগান থাকলে আমি নিশ্চিত, দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেত তারা।  

ম্যাশ তরুন-সিনিয়র সকলের জন্য একজন অনুপ্রেরণাদায়ী। এটা আমার কথা না, খেলোয়াড়দের মুখের কথা। সেই ম্যাশ যখন মাঠে থাকবে না, অনুপ্রেরণায় ছেদ ঘটবেই। যাকে দেখে মিরাজ-সাইফুদ্দিনদের মতো তরুনরা সাহস পায়, তিনি না থাকলে তাদের সাহসে ব্যাঘাত ঘটবে। সবচেয়ে বড় কথা, ম্যাশ অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলে যদি বাংলাদেশ ২-৩ ম্যাচ টানা হারে, ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেটবোদ্ধা, সমর্থক-সকলের দোষ পড়বে ম্যাশের উপর, টিমের উপর এক বিশাল চাপ পড়বে এবং ২০০৩ বিশ্বকাপের চেয়েও জঘন্য বিশ্বকাপ যাবে বাংলাদেশের। ম্যাশের বর্ণিল ক্যারিয়ারের সলিল সমাধি ঘটবে বাজেভাবে।  

বিপর্যস্ত মাশরাফি এর ছবির ফলাফল

ম্যাশ না থাকলে ক্যাপ্টেন্সি অবধারিতভাবে সাকিবের উপর দেয়া হবে। সাকিব সেরা ফর্মে আছেন, যা তাকে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় বানিয়ে দিতে পারে। এমন এক দুর্দান্ত খেলোয়াড়কে অধিনায়কত্ব দিলে তার উপর চাপ পড়তে বাধ্য। এটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না, বিশ্বকাপ। এমনিতে ম্যাশের ক্যাপ্টেন্সি তিনি ছিনিয়ে নিয়েছেন, এই চাপটা অবধারিত ভাবেই তার পার্ফর্ম্যান্সকে প্রভাবিত করবেই। 

তাহলে উপায় কি? আমার মতে, ম্যাশকেই রাখা উচিত। টিম ম্যানেজমেন্টের উচিত তার সাথে শলা-পরামর্শ করা, তার হারানো আত্মবিশ্বাসকে ফিরিয়ে আনা। এবং সেটা অতি-সত্বরই করতে হবে। আরো কোনো সমস্যা থাকলে ম্যাশেরও উচিত ম্যানেজমেন্টের কাছে খোলাসা করা। কেননা তাঁর উপরই দলের খেলা নির্ভর করছে। তিনিই এই দলের প্রাণশক্তি। 

মুশির ব্যাপারটাও একই। তিনি বাজে উইকেটকিপার, অনেক সহজ সহজ ক্যাচ মিস করেন-এটা সত্য। কিন্তু এই বলে তাকে বিশ্বকাপের মাঝখানে সরিয়ে দেয়াটা অনুচিত। টিভিতে তাঁর মলিন মুখ দেখে আমি শংকিত তাঁর পারফর্ম্যান্স নিয়ে। সেখান থেকে যদি তাকে কিপিং থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়, সেটা দলের জন্য অনেক ক্ষতির হয়ে দাঁড়াবে। তাঁর ব্যাটিং যে খুব দরকার আমাদের জন্য! 

মুশফিকের ক্যাচ মিস এর ছবির ফলাফলমুশফিকের সেই ক্যাচ মিস। 

অনেক আলোচনা করলাম। আজকে ইংল্যান্ড ম্যাচের উপর বিশ্বকাপে আমাদের অনেক কিছু নির্ভর করছে। যদি বাংলাদেশ আজকে জিতে, তাহলে বাংলাদেশের আর ৪ ম্যাচ জেতা লাগবে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার জন্য। সেই ৪ ম্যাচ হতে পারে শ্রীলংকা, উইন্ডিজ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। অর্থাৎ আজকের ম্যাচ জেতা সেমির পথে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।

শেষে একটা অনুরোধ, আমরা যেটাইপের সমালোচনা করি সেগুলো কোনোরূপ কার্যকর সমালোচনা না। ‘মুশফিক আমার *লের কিপার’, ‘মেষ আবার কোন ******’ এগুলো সমালোচনা নয়, আক্রমণ করা। তাই আশা করি, আমরা সমালোচনা করার সময়ে পরিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে, যুক্তিমূলক সমালোচনা করি। নাহলে সেরকম সমালোচনা করে আপনার লাভ তো হবেই না, উলটো এমবি খরচ হবে, হাতের পরিশ্রম হবে, এবং সর্বপরি বাংলাদেশ দলের ক্ষতি হবে।

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।