• ক্রিকেট

ক্রিকেট একাডেমি অব পাঠানস

পোস্টটি ১৩৮২ বার পঠিত হয়েছে

Irfan-Pathan-and-Yusuf-Pathan-at-the-nets

২০১৮তে ভাদোদরায় যাত্রা শুরু করে ক্রিকেট একাডেমি অব পাঠানস। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটি ভারতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় দুই সহোদর ইউসুফ ও ইরফান পাঠান ভাইদের উদ্যোগ। নিজেদের শহরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটা ভালো সুযোগ ছিলো এটা বলে মনে করেন তারা। ভাদোদরার এক মসজিদের মুয়াজ্জিনের দুই পুত্র তাদের ক্রিকেট যাত্রা শুরু করেছিলেন মসজিদের উঠোনে খেলেই। তাদের বাবা-মার যদিও ইচ্ছে ছিল ছেলেরা ইসলামিক স্কলার হবে। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি তাদের তীব্র আকর্ষন তাদের জীবন বদলে দিয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাই এখন নিজেদের শহর এবং দেশকে কিছু দিতে চান পাঠান ভাইয়েরা। অস্ট্রেলিয়ান গ্রেগ চ্যাপেল যিনি ভারতের হেড কোচ থাকাকালীন ইরফানের ব্যাটিং প্রতিভা বুঝতে পেরে তাকে টপ অর্ডারে তুলে এনে তার ক্যারিয়ারে বিশাল একটা ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই গ্রেগ চ্যাপেল আছেন এই একাডেমির প্রধান মেন্টরের দায়িত্বে। আরেক অস্ট্রেলিয়ান ক্যামেরন ট্রেডেল আছেন মেন্টর হিসেবে। হেড কোচ হিসেবে আছেন সিনিয়র ভারতীয় কোচ অরুন ভরদ্বাজ। এছাড়াও অনেক জুনিয়র কোচ এখানে কাজ করছেন।

একাডেমিতে মূলত দুটি বিষয়ে কোচিং করানো হচ্ছে বর্তমানে। একটি হলো কোচিং দ্যা কোচেস আর অন্যটি কোচিং দ্যা কিডস। অর্থাৎ এখানে তরুন কোচদের প্রশিক্ষন দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে যাতে তারা তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে পারে। একাডেমিটি চালুর পরে অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক এটিকে ব্যর্থ একটি উদ্যোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাত্র ১বছরেই এই একাডেমির সারাদেশে ২০টি সেন্টার চালু হয়েছে। মহারাষ্ট্রে তিনটি, গুজরাটে তিনটি, রাজস্থানে দুটি, দিল্লিতে দুটি, ইউপিতে দুটি, বিহার, ঝাড়খন্ড, কেরালায় এমনকি আন্দামানের একটি সেন্টার রয়েছে। সম্প্রতি পাটনায় রেলওয়ের ২৩বছরের পরিত্যক্ত একটি গ্রাউন্ড কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে নিজেদের উদ্যোগে খোলনলচে পালটে দিয়েছেন তারা। মাঠের এর ঘাস থেকে শুরু করে পিচ সবকিছুই বদলে সম্পূর্ণ আধুনিক একটি ক্রিকেট একাডেমিতে রূপান্তর করেছে সিএপি। একাডেমিতে ব্যবহার হচ্ছে সর্বাধুনিক পিচ ভিশন প্রযুক্তি, যাতে বোলারদের লাইন লেন্থ, পেস, ডিভিয়েশন, বাউন্স ইত্যাদি বিশ্লেষণ করা যাবে। প্রতিটি বলের ট্র‍্যাকিং ভিডিও এনালিসিস ব্যবহার করে ক্ষুদে প্রশিক্ষনার্থীদের শেখানো হচ্ছে নানা টেকনিক্যাল বিষয়গুলি। এইধরনের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকায়, এমসিসি লর্ডস একাডেমি ও দুবাইয়ের  আইসিসি গ্লোবাল একাডেমিতে।  গ্রেগ চ্যাপেলের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষন কারিকুল্যাম প্রণীত হয়েছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আনন্দ, সৃষ্টিশীলতা ও স্বাভাবিক নৈপূন্য বজায় রেখে তাদের স্কিল ও ফিটনেসে বিষয়ে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে।

Surat-centres

পাটনাতে এই একাডেমির উদ্বোধনের সময়ে ইউসুফ পাঠান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমি ও ইরফান ভারতের হয়ে খেলেছি এটা আমাদের জন্যে অত্যন্ত সৌভাগ্যের। ক্রিকেট আমাদের জীবনধারা বদলে দিয়েছে। এখন আমরা দেশের ক্রিকেটের জন্যে কাজ করতে চাই। আমরা জানি দেশে অনেক প্রতিভা আছে, যারা সেভাবে সুযোগ পাচ্ছেনা। আমরা তাদের নিয়ে কাজ করতে চাই। বিহার দেশের একটা বড় রাজ্য কিন্তু তারা এখনো অনেক কিছুতে পিছিয়ে আছে। আমাদের বিশ্বাস এখানে প্রতিভাবান অনেক বাচ্চা আছে, আমি অনেককে দেখেছি, তাদের সম্ভাবনা আছে, আমরা এদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে চাই”।

ইউসুফ পাঠান এখনো আইপিএল খেললেও ইরফান বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীর দলের বোলিং মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই দুই ভাইয়ের মোট ম্যাচ ২২৮টি, আর এতে মোট রান ৩৬৯৫ ও উইকেট ২৩১টি।

 

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।