• ক্রিকেট

প্রায় ১৫০ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটে যাওয়া কিছু অভাবনীয় ঘটনা এক করার প্রয়াস

পোস্টটি ৩৪০০ বার পঠিত হয়েছে
________________________________________ ১৯৮৯ সালের ১৫ নভেম্বর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার। ২৪ বছর পরের ১৫ নভেম্বর নেমেছিলেন শেষবার ব্যাটিং করতে। শচীনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ম্যাচের সংখ্যা ৬৬৪। স্কুল ক্রিকেটে বন্ধু বিনোদ কাম্বলির সাথে তার ঐতিহাসিক সেই পার্টনারশিপও ছিল ৬৬৪ রানের। ৬৬৪ রানের পার্টনারশিপের দিনের তারিখ ছিল ২৪ ফেব্রুয়ারি; ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি শচীন করেছিলেন ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারিতে। ১৩ বছরের অধিক সময় ধরে ৭৫ নম্বর জার্সি পড়ে '৭৫' সংখ্যাটাকে নিজের সমার্থক শব্দ বানিয়ে ফেলা সাকিব নিজের ৭৫ তম আন্তর্জাতিক অর্ধশতক করার ম্যাচে খেলেছিলেন ৭৫ রানের ইনিংস। স্যার ডোনাল্ড জর্জ ব্র্যাডম্যান টেস্টে ডাক মেরেছেন ১০টি, তিনি টেস্ট খেলেছেনও ১০টি ভেন্যুতে। উইলফ্রেড রোডসের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ৪০ হাজার ছুঁই ছুঁই রান, সঙ্গে বল হাতে ৪ হাজারের অধিক উইকেট, ফিল্ডিংয়ে ৭০০ এর বেশি ক্যাচ। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন হাজারের অধিক প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ। ডব্লিউ জি গ্রেস সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট খেলার রেকর্ড গড়ে বিদায় নেন যে ম্যাচে সে ম্যাচেই অভিষেক তার। এর ৩১ বছর পরে তিনিই ভাঙ্গেন ডব্লিউ জি গ্রেসের বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট খেলার রেকর্ড। ব্যাট হাতে ভারতীয় ক্রিকেটের পথপ্রদর্শক সুনীল গাভাস্কার নিজের শেষ ম্যাচ খেলেন ১৯৮৭ সালের ৫ নভেম্বর। তার ঠিক একবছর পরে ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর জন্ম বিরাট কোহলির। তার পরের বছরের ৫ নভেম্বর প্রথমবার ভারতীয় দলে ডাক পায় শচীন টেন্ডুলকার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৫৪ হাজার রান আর ২৮০০ এর অধিক উইকেট নেওয়া ক্রিকেটের ফাদার বলে খ্যাত ডব্লিউ জি গ্রেসের জন্মশতবার্ষিকীতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলেন ক্রিকেটের ডন স্যার ব্র‍্যাডম্যান। আবার ডন যেদিন নিজের শেষ টেস্ট খেলতে নামেন তার ৪২ বছর পরে একই দিনে ১৭ বছর বয়সী শচীন টেন্ডুলকার করেন তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতক। কাকতালীয় ঘটনা তো অবশ্যই। তবুও ক্রিকেটের একাল সেকাল এক বিন্দুতে মিলে যাওয়া বিধাতার কোন খেলাও নিশ্চয়! ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালেক স্টুয়ার্টের জন্ম ৮/৪/৬৩; তার টেস্ট রান হচ্ছে ৮৪৬৩। ভারত ১৯৮৬ সালে প্রথম বার ইংল্যান্ডকে লর্ডসে হারায়। এরপরে ২৮ বছর পরে দ্বিতীয়বার হারায়। দুই লর্ডস টেস্টের মধ্যে দারুণ কিছু মিল রয়েছে। দুটো ম্যাচেই জয়ী অধিনায়ক ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী। দুটো ম্যাচে 'শর্মা' পাঁচের অধিক উইকেট নেয়; একটায় চেতন, আরেকটায় ইশান্ত। ম্যাচে 'বিনি' প্রথম ইনিংসে ৯ রান করেন; একটায় রজার, অন্যটায় স্টুয়ার্ট। দুটো ম্যাচেই মুম্বাইয়ের একজন ব্যাটসম্যান শতক পায়। দুটো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিশ্বকাপের তিন বছর পর। এছাড়া ১৯৮৪ আর ২০১৪ দুটো বছরের ফুটবল বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলেছিল জার্মানি আর আর্জেন্টিনা। অদ্ভুতুড়ে আরো দুটো ম্যাচ মিলে গিয়েছিল আরেকবার! সেখানেও ভারতের নাম। ১৯৮৬ সালে ভারত পাকিস্তান ম্যাচ আর ২০১৪ এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তানের ম্যাচে অনেককিছু মিলে গিয়েছিল হুবহু। দুটো ম্যাচ আয়োজিত হয় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, উভয় ম্যাচে পাকিস্তান টস জিতে ফিল্ডিং নেয়, ভারত উভয় ম্যাচে ২৪৫ রান করে, ভারতীয় একজন ওপেনার দুটো ম্যাচেই দুটো ছয় করে মারে। উভয় ম্যাচে তিনজন ভারতীয় ব্যাটসম্যান অর্ধশতক করে, উভয় ইনিংসে দুজন পাকিস্তানি রান আউট হয়। শেষদিকে এসে উভয় ম্যাচে পাকিস্তানের দশ নাম্বার ব্যাটসম্যান প্রথম বলে শূন্য রানে আউট হয়। উভয় ম্যাচে তিন উইকেট পাওয়া ভারতীয় বোলার শেষ ওভার করে এবং ছয় খেয়ে ম্যাচ হারায়। দুটো ম্যাচেই পাকিস্তান ম্যাচ জিতে নেয় এক উইকেটে। তবে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কাকতালীয় ঘটনা সম্ভবত ২০১১ সালের আজকের দিনে। ২০১১ সালের ১১তম মাসের ১১তম দিনের (১১/১১/১১) বেলা ১১টা ১১ মিনিটে চলাকালীন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ১১১ রান। (এর সঙ্গে মিল রাখতেই কিনা পোস্ট করলাম ১১টা ১১ মিনিটে) গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে এমন কাকতালীয় বা দিনশেষে এক বিন্দুতে মিলে যাওয়ার এমন অসংখ্য ঘটনাই রয়ছে। সব কী আর জানা যায়? কিছু থাক না অজানা! এমন অজানাকেই জানার জন্যই তো আমাদের নিত্য ছুটে চলা...
'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।