• ক্রিকেট

নাফিস ইকবাল জীবন যুদ্ধে পরাজিত এক যোদ্ধা!!

পোস্টটি ২৪৬৪ বার পঠিত হয়েছে

শুরু থেকেই অপেক্ষায় একজন আসবে বলে,
শেষ করতে দুর্দিনের সময় নিজের আগমনী বার্তায়
যে পথ দিগন্তের দিকে কান পেতেছে, আসবে বলে সে
সে এলো তার শুভাষিত বার্তায়, শুভাষিত করলো
লাল সবুজের ক্রিকেট আর ক্রিকেট প্রেমী কোটি ভক্ত
সল্প সময়ের ব্যবধানে হারিয়ে গেলো আড়ালে অগছোরে! সেকি হেলায়, অবহেলায়, খেয়ালিপনায়??

হ্যা প্রিয় পাঠক উপর চরন গুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাথে একেবারে যেনো খুব ঘনিষ্ঠ। যেনো একিই পথে হেটেঁ চলা দুই ভাই। একজন তরুন ক্রিকেটার এলো বিসিবি সুশীতল ছায়ায় ঠায় নিবে বলে! হাসাবে বলে লাল সবুজের ক্রিকেটাঙ্গন। হাসাঁলো আর হারিয়ে গেলো দূর অজানায়৷ কিন্তু সে তো ফিরে আসতে কঠিন উদ্যোমী ! ফিরবে বলে ঝড়াতে শুরু করলো ঘাম আর হাসাতে শুরু করলো হাতের উইলো আবার কেউবা ১.৫ আউন্সের বল হাতে। কিন্তু সে পথ তো আর ফুরাবার নয়। হাসাতে পারেনি মান দন্ড বিচার করার সেই দন্ড দাতা কে। অতপর কি?? অপমৃত্যু আরো একটি ফুলের! তখন আপনি আমার প্রশ্ন থাকে হেলায় নাকি অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে সদ্য প্রস্ফুটিত হওয়া সেই সব ফুলের কলি সমূহ!

images - 2020-05-07T073547.952

খুজঁ নিলে এমন অনেক তরুন ক্রিকেটার কিংবা ফুলের প্রস্ফুটিত ক্রিকেটার বেশি বৈ কম পাওয়া যাবে না। পাওয়া যাবে অনেক আক্ষেপ, অশ্রু মিশ্রিত হাজারো গল্প, এমন অনেক গল্পে মিলবে অজানায়, কোনো কারন ছাড়া হারিয়ে যাওয়া অনেক ক্রিকেটার। তাদের কষ্টোচিত্ত গল্পের পিছনের খলনায়ক দুই ঘাতক লীলা। দেশের ক্রিকেটের সব চেয়ে বড় ঘাতক দুই ভাই। উনাদের সবাই চিনেন। জি তারা কেউ নন ইঞ্জুরি এবং অফফর্ম বা অধারাবাহিক। কখনো ইঞ্জুরির ছোবলে কিংবা কখনোবা অধারাবাহিকতার অজুহাতে নতুনত্বের খুজেঁ হারিয়ে যাওয়া সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের ন্যায় খেলোয়াড় নেহাত কম নয়! এই দুই যুগলদ্বয় ধ্বংসযোগ্যে ধ্বংস হয় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের অনেক শুভাষিত ফুল। যে ফুলের শুভাষে মাতবে বলে অপেক্ষায় ছিলো কোটি ক্রিকেট ভক্ত। কিন্তু ভাগ্য বলে একটা কথা আছে, যা তাদের সহায় হয়নি। তাদেরই একজন নাফিস ইকবাল খান। চট্টগ্রামের খান পরিবারের বড় ছেলে নাফিস ইকবাল।

১৯৮৫ সালের ৩১ অক্টোবর খান পরিবারে আলো করে আসেন ক্ষনজন্মা না হওয়ার আক্ষেপে পুড়া নাফিস ইকবাল। চাচা আকরাম খান ছিলেন ক্রিকেটার, বাবা প্রয়াত ইকবাল খান ছিলেন একইসাথে ক্রিকেটার ও ফুটবলার। তাই ক্রিকেটের প্রতি নাফিস ইকবালের আগ্রহ থাকাটা ছিল স্বাভাবিক। বাল্যকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে চাচা আকরাম খানের নেতৃত্ব দেয়া দেখেই নাফিস ইকবালের মনে ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন উকি দিয়ে ওঠে। তখন থেকেই লাল সবুজের জার্সি গায়ে ক্রিকেট খেলার, সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ম্যাচ জেতা বা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কোন সিরিজ জেতার স্বপ্ন জেকে বসে তাঁর মাথায়। সেই স্বপ্ন একসময় বাস্তবে রূপান্তরিত হয়। বাবা-চাচার মত নাফিস ইকবাল নিজেও একসময় হয়ে যান ক্রিকেটার।

এরপর নাফিস নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটতে খেলেছেন অনুর্ধ্ব ১৩, অনুর্ধ্ব ১৫, অনুর্ধ্ব ১৭ বয়স ভিত্তিক দল। এমনকি ২০০১ অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন ঘরের মাঠে অনুর্ধ্ব ১৭ যুব এশিয়া কাপ। এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানে একটি টুর্নামেন্টে বেশ ভালো পারফর্ম করেছিলেন নাফিস। আর তাইতো নাফিসের কাছে প্রত্যাশা টা বেশি ছিলো সেই ফর্ম এশিয়া কাপে টেনে আনার। কিন্তু দুর্ভাগ্য বলে একটা কথা আছে। যার পুরোটাই পেয়ে বসেছিলো নাফিস ইকবাল কে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দিন কয়েক আগেই হারালেন বাবা ইকবাল খান কে। তৎক্ষনাৎ ছুটে গেলেন সেখানে। ভেঙে পড়লেন নাফিস। বাবার শোক যেনো নাফিস কে পেয়ে বসেছিলো। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর ২ দিন আগে সকল দুঃখ কষ্টকে বালিচাপা দিয়ে ঠিকই দলের সাথে যোগ দেন তিনি।

দেশের জন্যে কষ্টা চাপা দেওয়ার ব্যাপার টি যেনো ছিলো বাংলাদেশের জন্যে সুফল। এ যেনো রাজা আসলেন রাজার বেশেই৷ আসলেন এবং বাংলাদেশ কে টেনে তুললেন টুর্নমেন্টের ফাইনালে। আর সাথে উজ্জল ছিলেন পারফরম্যান্সে৷ নিজেদের ২য় ম্যাচে নাফিস করেছিলেন এক ঝলমলে ১২৪ রানের ইনিংস। দল ফাইনালে হেরে রানার্স আপ হলেও ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে একেবারে উজ্জল ছিলেন নাফিস ইকবাল। বাবার চলে যাওয়ার শোক কে যেনো শক্তিতে পরিনত করেছিলেন নাফিস। এবং কষ্ট থেকে বেশ ভালোভাবেই উতরে উঠেছিলেন নাফিস।

এরপর ২০০২ সালে নাফিস ইকবালের অভিষেক হয় অনুর্ধ্ব ১৯ দলে। শুরুতেই নাফিসের কাধেঁ দেওয়া হয় অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের গুরু দায়িত্ব৷ অধিনায়ক হিসবে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাওএর যাত্রা টা খুব বেশি ভালো করতে পারেননি নাফিস। দলীয় কিংবা ব্যাক্তিগত সব জায়গাতেই শূন্যের কোঠায় ছিলেন নাফিস৷ পুরো টুর্নামেন্টে ৭ ম্যাচ খেলে ২০.২ গড়ে তাঁর সংগ্রহ ছিল মাত্র ১০১ রান। গ্রুপ পর্বে  কানাডার সাথে টাই ম্যাচের পর কেনিয়ার বিপক্ষে অপ্রত্যাশিতভাবে হারতেও হয় বাংলাদেশকে। ওই বিশ্বকাপে সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারেনি নাফিস ইকবাল ও তাঁর দল। পুরো ক্যারিয়ারে তখনই সবচেয়ে বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন নাফিস।

images - 2020-05-07T073303.423

এরপর ২০০৩ সালে আবারো সমালোচনা এবং আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে নাফিস। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাস তখন সবে বলতে শুরু করেছে আমারো আছে ১৭ বছরের ঐতিহ্য৷ কিন্তু সেসবে মুখে বাধাঁ হয়ে দাড়াতো ১৭ বছরে ম্লান পারফরম্যান্স। ১৭ বছরে বেশ কিছু ওয়ানডে খেললেও তখনো সেভাবে বাংলাদেশের সুযোগ হয়ে উঠেনি ক্রিকেটের অভিজাত সংস্করনে ক্রিকেট পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে ২২ গজের লড়াই এ। 

২০০৩ সালে ইংল্যান্ড দল বাংলাদেশে ২ ম্যাচ টেস্ট এবং ৩ ম্যাচ ওয়ানডের পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে৷ সিরিজে শুরুর আগে ছিলো ২টি গা গরমের। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র করলেও বিসিবি প্রেসিডেন্ট একাদশের ব্যাটিংটা ছিল যাচ্ছেতাই। এরপর ২য় গা গরমের ম্যাচে বাংলাদেশ এ দলের একাদশে সুযোগ পান ১৮ বছর বয়সী নাফিস। সেবারেও বাংলাদেশ গুড়িয়ে যায় মাত্র ২৪২ রানে। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার ছিলো ২৪২ রানের মধ্যে ১১৮ রান ছিলো সেই টগবগে তরুন নাফিস ইকবালের।

ইংল্যান্ডের সাথে ২০০৩ সালেই হয় নাফিস ইকবালের ওয়ানডে অভিষেক। কিন্তু নিজের ভাগ্যের মতোই লাল সবুজের জার্সিতে নিজের অভিষেক টা কে রাঙাতে পারেননি নাফিস। ৩ ম্যাচ সিরিজের ২ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে করেছিলন মাত্র ১৩ রান। এরপর ইংলিশ দের সাথে হতে পারতো টেস্ট অভিষেক টাও। কিন্তু কিন্তু ২০০৪ সালে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে খেলতে চল যাওয়ায় পূরন হয়নি সেই স্বপ্ন।

ঘরের মাঠে জাতীয় দলে অভিষেক এবং ২০০২ সালের অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারার আক্ষেপ টা হয়তোবা পুড়াচ্ছিলো নাফিস কে। তার জন্যে প্রয়োজন ছিলো কিছু ভুবন ভুলানো পারফরম্যান্সের। এবার আর ভুল করেননি নাফিস। পুরো টুর্নামেন্টে হয়েছিলেন ৩য় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং দলীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে ৫০.৮৩ গড়ে তিনি করেছিলেন ৩৫০ রান। একই বছর  ইংল্যান্ড যুব দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে সাড়ে পাঁচ ঘন্টা উইকেটে থেকে ২৬৬ রানের এক কাব্যিক ইনিংস খেলেন নাফিস ইকবাল।

এরপর ২০০৪ সালে টেস্ট অভিষেক হয় নাফিসের। অভিষেকে ম্যাচের ২য় ইনিংসে দলীয় সব ব্যাটসম্যান গুড়িয়ে গেলেও সেখানে অনড় থেকে নাফিস খেলেছিলেন ৪৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস৷ সেই ইনিংসের সুবাদে নাফিস রাঙিয়ে রেখেছিলেন নিজের অভিষেক টেস্ট টা কে।

এরপর যেনো সময় হয়েছিলো বিদায় বেলার মুহুর্তে দল কে শেষবার রনাঙ্গের ময়দানে বাচিঁয়ে আকাশে শুখ তারা ন্যায় ভেসে যাওয়ার। সময়ের কাটাঁ তখন ২০০৫। তখন চলছিলো বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ। ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের ১ম ম্যাচে জিতে বাংলাদেশ গড়ে ১ম টেস্ট জয়ের রেকর্ড। সেই জয়ের সাক্ষি ও নাফিস ইকবাল। ২য় ম্যাচে ৪র্থ ইনিংসে বাংলাদেশের জন্যে ৩৭৪ রানের এক হিমালয় সমান টার্গেট দাড়ঁ করায় তৎকালীন শক্তিশালী দল জিম্বাবুয়ে। এতো বড় রানের ইনিংস তাড়া টেস্ট ক্রিকেট ছিলো না এমনকি বাংলাদেশ তখনো নতুন দল। বাংলাদেশের জন্যে জয়ের আশা দূরে, আশার পাল হেলেছিলো ছিলো ড্রয়ের দিকে।

সেটা বাস্তব রূপে রূপান্তরিত করবেন বলেই হয়তোবা সেদিন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন নাফিস ইকবাল। ৩৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম উইকেট জুটিতে জাভেদ উমর বেলিম আর নাফিস ইকবাল ৮৩ ওভার ব্যাটিং করে যোগ করেন ১৩৩ রান। তাতেই ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা ঝুলে পড়ে ড্রয়ের দিকে। জাভেদ ওমর ৩৪০ মিনিট উইকেটে কাটিয়ে দিয়ে ২৫৮ বলে ৪৩ রান করে ফিরে যাবার পর প্রতিরোধ গড়ে তুলেন নাফিস ইকবাল ও রাজিন সালেহ। পরবর্তীতে ম্যাচ ড্রয়ের বাকি কাজগুলো তাঁরাই সম্পন্ন করে মাঠ ছাড়েন।

এরই মধ্যে নাফিস পেয়ে যান ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ব্যাট হাতে ৪৭০ মিনিট উইকেটে থেকে ৩৫৫টি বল মোকাবেলায় তিনি করেন ১২১ রান। তাঁর এই ধৈর্য্যশীল ইনিংসটির জন্যই মূলত ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

নাফিসের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হয়নি বেশি দিন। হয়তোবা হতে পারেননি লম্বা রেসের ঘোড়া। কিন্তু যতো দিন বাংলাদেশ দলে ছিলেন দলে রাজ করে গেছেন রাজার বেশে। কিন্তু যখন আড়াল হয়েছেন বাংলার ক্রিকেটের আফসুসের অধ্যায় হয়ে। ততোক্ষনে ক্রিকেট প্রেমীদের মনে রচনার উপসংহার লিখাও শেষ করেছিলেন নাফিস ইকবাল। চলুন পাঠক তার এই ছোট ক্যারিয়ারে কিছু তথ্য দেখে নেইঃ

  • টেস্টে ক্যারিয়ারঃ পুরো টেস্ট ক্যারিয়ারে দেশের জার্সিতে ব্যাট করেছেন ২২ ইনিংস। ২২ ইনিংসে ৩৮.৮৮ গড়ে নাফিস উপহার দিয়েছেন ৫১৮ রান। সঙ্গে ১ সেঞ্চুরি এবং ২ হাফসেঞ্চুরি।
  • ওয়ানডে ক্যারিয়ারঃ পুরো ক্যারিয়ারে নাফিস ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ১৬ টি। ১৬ ইনিংসে নাফিসের সংগ্রহ ১৯.৩১ গড়ে ৫৭৮ রান। আছে ২ টি হাফসেঞ্চুরি ও।
  • প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটঃ প্রথম ক্রিকেটে নাফিস ব্যাট হাতে ২১৬ ইনিংসে ২৯.৯৬ গড়ে নাফিস করেছেন ৬২০২ রান। সঙ্গে সেঞ্চুরি আছে ১০ টি এবং হাফসেঞ্চুরি ৩১ টি।

২০০৬ সালের পর আর দলে ফেরা হয়নি সেই তরুন তুর্কির। এরপরে শুধুই জন্ম দিয়েছেন করুন শুরের। বাশিঁতে আর বাজেনি সেই শুরের মোর্চনা শুধুই বেজেছে হারিয়ে যাওয়ার সুর। আর এখন আমরা বলি সব গল্পের সমাপ্তি টা অতপর তারা শুখে দুখে চলতে লাগিলো এই ছত্রে হয় না। তখন সময় হয়েছে ছোট ভাই তামিমের উঠে আসার আর তখনি হারিয়ে গেলেন বড় ভাই নাফিস ইকবাল। আর আক্ষেপের রচনার শুরু করেন তামিম। সেই রচনার নাম যদি ভাইয়ার সাথে আমি একবার ওপেন করতে পারতাম??

images - 2020-05-05T123106.825

সেই এক ট্রেজিক ঘটনা! ২০০৭ সালে মিরপুরে ঐচ্ছিক অনুশীলনে একদিন উপস্থিত নাফিস ইকবাল। সেসময় নেটে অনুশীলন করছিলেন তাঁরই ছোট ভাই তামিম ইকবাল। তখন ছোট ভাইয়ের অনুশীলন বেশ উপভোগ করছিলেন নাফিস। আকস্মাৎ তামিমের করা এক শটে দ্রুত গতিতে বল এসে আঘাত হানে নাফিসের চোখের ঠিক ওপরে। এতে চোখের ওপরে হাড় ভেঙ্গে যায় তাঁর।

এই চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে আসতে মাস দুয়েকের মত সময় লাগে নাফিসের। তবে মাঠে ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই গোড়ালির ইনজুরিতে পড়ে যান তিনি। এই ইনজুরি থেকে সেরে উঠতে তাঁর সময় লাগে প্রায় দেড় বছর। ততদিনে ফিটনেস হারানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসেও বড় ধরনের চিড় ধরে যায় তাঁর।

এরপর আর ফিরে আসেনি সেই সোনালী অতিতের গল্প। দেশের ক্রিকেট শুধু ছুটেছে নতনুত্বের খুজেঁ। আর পেয়েছেন অনেক প্রতিভা। তাদের গর্ভে নাফিস নিজেকে কিছু টা হারিয়ে খুজেঁন। কিন্তু বিদায় বেলাতেও হার না মানা সেই সৈনিক দেশের জন্যে রেখে গেলেন এক যোদ্ধা। সে তার ছোট ভাই তামিম। তামিম রাঙিয়ে যাচ্ছেন দেশের ক্রিকেট। আর রাঙাচ্ছেন খান পরিবার কে। হয়তোবা এই কাজ টা করতেন নাফিস৷ কিন্তু বিধির লিখন তিনি পারেননি তবে রেখে গিয়েছিলেন নিজের ছোট ভাই পরিচয়ে চালিয়ে দেওয়া ছোট ভাই কে। আর আজকে পরিচয় হয় তামিমের বড় ভাই বলে! কোনো এক ক্রান্তিলগ্নে হয়তোবা নাফিস ভাববেন আমি পারিনি তো কি হয়েছে পেরেছে আমার আত্বার ছোট স্নেহের অনুজ। দেশের মানুষ আপনাকে স্যালুট জানায় এমন সুবর্ন ক্যারিয়ার এবং ব্যাক্তিত্বের জন্যে। শুভকামনা আপনার ভবিষ্যতের জন্যে!!!

 

'প্যাভিলিয়ন ব্লগ’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। প্যাভিলিয়ন ব্লগে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি এবং ভিডিওর সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক এবং মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।