• ক্রিকেট

গল্পে গল্পে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম স্মৃতি!

পোস্টটি ১৫৬০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

বাংলাদেশ! যুদ্ধ বিধ্বস্ত এক দেশে তখন সবে মাত্র নতুন পাতার মুকুল গজাচ্ছে ঐ কৃষ্ণডালে। মানুষ অতীত ভুলে মানুষ লক্ষ্য ঠিক রেখে মাত্র পথচলা শুরু করেছে৷ এরিই মধ্যে দেখতে দেখতে চলে গেলো ১৫ টি বছর। আর বিশ্বে নতুন এক পন্থায় লাল সবুজের জাত চেনানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের টাইগার বাহিনীর পদধূলি পড়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে৷

আজ থেকে ৩৪ বছরেরও আগেকার স্মৃতি। ৩৪ বছরে বদলেছে অনেক কিছু, সময়ের এগিয়ে চলার নীতিতে বাংলাদেশ কিছু পাওয়া আর না পাওয়ার সাথে তালে তাল মিলিয়ে টাইগাররা দাপিয়ে বেড়িয়েছে সবুজ বিস্তর মাঠের ২২ গজ নামক বাদামী গালিচায়!

তবে কথায় আছে না হাটিঁতে শিখিবার পূর্ব শর্ত হোচঁট খেতে হবে আগে৷ তবে হোচঁট খাওয়া মানেই তো হেরে যাওয়া নয়৷ সেদিনের এই পুচকে বাংলাদেশ বার বার হোচঁট খেয়ে পড়ে আর উঠে দাড়িঁয়ে আজ মাত করছে পুরো পৃথিবী কে। ক্রিকেট বিশ্বে অর্জন করে নিয়েছে সমীহ জাগানীয়া দলের তকমা। তবে এপর্যায়ে উঠে আসার গল্পের রণাঙ্গনের চিত্র টা মোটেও মসৃণ ছিলো না বাংলাদেশের জন্যে৷ অনেক দূরের পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ কে আসতে হয়েছে এই অবস্থানে।

আজকের এই অবস্থানে বাংলাদেশ যেমনি একদিনে আসতে পারেননি তেমনি বাংলাদেশ অর্জন ও একদিনে হয়ে যায়নি। সল্প সল্প অর্জনে গড়ে উঠা বাংলাদেশের আজকের পর্যায়ে আসতে পিছনে ফেলতে হয়েছে বিগত ৩৪ টি বছর। ৩৪ বছরে বাংলাদেশের এতো কিছু অর্জনের গোড়াপত্তন কোথায় আজ জানানোর চেষ্টা করবো সেগুলোই। হ্যাঁ প্রিয় পাঠক আজকে জানবো দেশের ক্রিকেটের বিভিন্ন ব্যাক্তিগত অর্জন, রেকর্ড, কিংবা দলীয় অর্জনের গোড়াপত্তন টা কার হাতে কিংবা কখন আসেছিলো। চলুন শুরু করা যাক;

images - 2020-05-16T151225.223

▪বাংলাদেশের শুরু- সাফল্যের ৩৪ বছরে শুরু টা ছিলো বাংলাদেশের একেবারেই বিবর্ণ। ১৯৮৬ সালেফ ৩১ মার্চ ছিলো সেইদিন যেদিন আন্তর্জাতিক আঙ্গানে প্রথম যাত্রা শুরু বাংলাদেশের। নিজের ১ম আন্তর্জাতিক ম্যাচে শ্রী-লংকার মারাতুয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়েছিলো পাকিস্তানের। বাংলাদেশের অবিষেক সে ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছিলো বাংলাদেশ কে। কিন্তু তবে সময় তো থেমে থাকার নয়। সময় এগিয়েছে আর তারি পরিক্রমায় আর উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পারফরম্যান্স। ১৯৮৬ সালে আন্তর্জাতিক আঙ্গনে অভিষিক্ত বাংলাদেশ এরপর আরো খেলেছে মোট ৫৯১ ম্যাচ।

▪রান এবং উইকেটে- বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে ৭ উইকেটে হারলেও স্মৃতিরপাতায় গহিন কোনে অবস্থিত সেই ম্যাচ। বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচে ১ম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রানের খাতা খুলেন রাকিবুল হাসান। আর বাংলাদেশ কে প্রথম উইকেটের মুখ দেখায় জাহাঙ্গির শাহ।

▪১ম জয়; ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অভিষেক হলেও একটা জয়ের জন্যে বাংলাদেশ কে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় ১ যুগ৷ অবশেষে ১৯৯৮ সালের ১৭ মে ক্রিকেট প্রেমীদের শেষ হয়েছিলো ১ যুগের অপেক্ষা। কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটের সেই জয় ছিলো বাংলাদেশের জন্যে বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচ হিসেবে খুব বেশি ছিলো না জয়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে ২৩ তম ম্যাচে এসে বাংলাদেশ পেয়েছিলো নিজেদের প্রথম জয়। এরপর এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের ঝুঁলিতে এখন পর্যন্ত আছে ১৭৪ টি ম্যাচ জয়।

▪প্রথম অধিনায়ক- বাংলাদেশের প্রথম অফিশিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম অধিনায়ক ছিলেন গাজী আশরাফ। কিন্তু যদি বলি বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ক্যাপ্টেন কে ছিলো?  উত্তর হবে শামীম হোসাইন কবির। আন-অফিশিয়াল একটি ম্যাচে প্রথম বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন শামীম হোসাইন কবির৷ এরপর বাংলাদেশ কে নেতৃত্ব দিয়েছেন আরো ১৭ জন অধিনায়ক। তন্মধ্যে মাশরাফি বিন মর্তুজা ছিলেন সবচেয়ে সফল। ও হ্যা বাংলাদেশের প্রথম জয়ে অধিনায়ক ছিলেন আকরাম খান।

images - 2020-05-16T143008.410

▪প্রথম অর্ধশত- বাংলাদেশের ক্রিকেটের যাত্রা পথে একটি অর্ধশত রানের ইনিংসের জন্যে বাংলাদেশের অপেক্ষা করতে হয়েছিলো ৪ বছর এবং সেঞ্চুরির জন্যে ১১ বছর। ১৯৯০ সালের ২৮ এপ্রিল ছিলো সেই দিন৷ যেদিন বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছিলো অর্ধশত। আজাহার হোসাইনের ১২৬ বলে ৫৪ রানের সুবাদে অর্জন হয়েছিলো সেই অধঁরা। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেটে মোট অর্ধশত হয়েছে ৬৩৫ টি।

▪প্রথম শতক- বাংলাদেশের ৫৯১ ম্যাচে মোট সেঞ্চুরি এসেছে ১১৭ টি। কিন্তু শুরু টা হয়েছিলো মেহরাব হোসাইন এর হাত ধরে। ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি উপহার দেন মেহরাব হোসাইন। ইনিংস্টা ছিলো ১১৬ বলে ১০১ রানের।

▪প্রথম হ্যাট-ট্রিক- বিশ্ব ক্রিকেটে তিনি বলে তিন উইকেট নেওয়ার নজির রাখতে পেরেছেন বাংলাদেশের ৭ বোলার। তার মধ্যে প্রথম এই রেকর্ড গড়েছিলেন বাংলাদেশী লেগি অলক কাপালি। ২০০৩ সালের আগষ্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ম্যাচে এমন কীর্তি গড়েছিলেন অলক কাপালি। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান সাব্বির আহমেদ, দিনেশ কানেরিয়া এবং উমর গুল কে আউট করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ১ম হ্যাটট্রিক করার রেকর্ড জন্ম দিয়েছিলেন অলক কাপালি।

images - 2020-05-16T142848.315

▪ ১ম ৫ উইকেট- বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মোট ৮০ বার ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড আছে। ৮০ বার এই কীর্তি গড় বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্ট থেকে অংশ নিয়েছেন ২৩ জন বোলার। কিন্তু শুরুটা কার হাতে?? উত্তর নাইমুর রহমান দুর্জয়৷ বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচে এমন কীর্তির সূচনা করেছিলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়। ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি হয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম এক ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারী বোলার।

বিগত ৩৪ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের অর্জনের খাতায় জমা পড়েছে অনেক কিছুই৷ আবার অনেক ক্ষেত্রে না পাওয়ার বেদনা টাও প্রবল মাত্রায় রয়েছে। কিছু অর্জনের অনেক কাছে গিয়েও টাইগাররা পারেনি অর্জনের খাতায় আরো কিছু জমা করতে। এতোসব অর্জনের পিছনের গল্প টা বাংলাদেশের জন্যে কখনোই মসৃণ ছিলো না। ৩৪ বছরে নানান চড়াই-উথরাই পেরিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে। এতোসব অর্জনের গর্জনে প্রথম কিছু অবশ্যই একটা বিশেষ কিছু। বিশেষ কিছু অর্জনের শুরু টা যেমনি মধুর, তেমনি মধুর সেই রেকর্ডে সামিল হওয়া৷ প্রথম কিংবা শেষ সব অর্জন এই আমাদের এক একটা বড় কিছু৷ কারো অর্জন এই ছোট করে দেখছি না, সব অর্জনে অনেক সম্মান রেখেই স্মৃতিরমোন্থনে কিছু টা সময় পার করে দিলাম। শুভকামনা রইলো যেনো এমন হাজারো অর্জনের গর্জনে ভরপুর থাকে টিম টাইগার!!