• ফুটবল

লা মাসিয়া'য় অশনি সংকেত

পোস্টটি ৭৮০ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

লা মাসিয়া দি কান প্লানেস, সংক্ষেপে লা মাসিয়া আর যার বাংলা অর্থ খামার। নাম অদ্ভুত!! তো কি হয়েছে, এই লা মাসিয়া থেকে উঠে এসেছে বিশ্বের অনেক ফুটবল ম্যাজিশিয়ান। ক্লাব ফুটবল কিংবা ন্যাশনাল সব জায়গায় লা মাসিয়ার প্লেয়ার পাবেনই আপনি৷

২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন। আর সেই স্পেনের ৮ জন ছিলো বার্সেলোনার প্লেয়ার যার মাঝে ৭ জন ছিলেন লা মাসিয়া গ্র‍্যাজুয়েট। জেরার্ড পিকে, কার্লোস পুয়োল, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি হার্নান্দেজ, সার্জিও বুস্কেটস এবং পেড্রো রদ্রিগেজ ছিলেন মেইন দলে। জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচের পর জার্মান কোচ জোয়াকিম লো বলেন, তারা কিছুটা বার্সেলোনা ধাঁচে খেলে। সুতরাং, এ থেকেই স্পেনে লা মাসিয়ার গন্ধ পাওয়া যায়।

২০১২ সালে লেভান্তের বিপক্ষে খেলায় মাঠে এগারো জন লা মাসিয়া গ্র‍্যাজুয়েট মাঠে নামে এবং তারা সেদিন ৪-০ গোলে লেভান্তে কে হারিয়েছিলো। এই ম্যাচ নিয়ে ভিক্টর ভালদেস বলেছিলেন,' আপনার সেরা ক্লাব হওয়ার জন্য বড় খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর দরকার নেই। '

ক্যাম্প ন্যু থেকে ৪ মাইল দূরে লবরেগ্যাট রিভার ভ্যালিতে অবস্থিত ট্রেনিং গ্রাউন্ডটি আসল মাসিয়া থেকেও সুন্দর। আসল মাসিয়া এখনো বার্সেলোনা স্টেডিয়ামের বাহিরে। ২০০৭ থেকে দর্শকরা স্টেডিয়ামের ডান সাইডের বার্সার প্রথম ট্রেনিং গ্রাউন্ড দেখতে পারেন।

বার্সেলোনার অন্যতম সেরা অর্জন হলো ২০১০ ব্যালন'ডি অরের সেরা তিনে থাকা মেসি, জাভি ও ইনিয়েস্তা। কারণ এই তিনজনই লা মাসিয়া একাডেমি গ্র‍্যাজুয়েট এবং তিনজন একসাথেই বার্সেলোনার মূল দলে খেলে।

বার্সেলোনা ক্লাবের মূল যুব দল বার্সেলোনা 'বি'। এছাড়া আরো রয়েছে ১২টি দল, ৩০০ এরও বেশি প্লেয়ার আর ২৪ জন কোচ। বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেয়ার কিন্তু এই লা মাসিয়া থেকে পথ শুরু করেছেন। ২০০৯ এ তিনি প্রথম ব্যালন'ডি অর জিতে আর এটিই ছিলো কোনো লা মাসিয়া ফুটবলারের প্রথম ব্যালন'ডি অর জয়। আর এরপর আরো পাঁচটা জিতে এখন সর্বোচ্চ ব্যালন'ডি অরের মালিক তিনি।

লা মাসিয়ায় এক ফুটবলারকে শেখানো হয় কাতালান সংস্কৃতি, শিখানো টিকিটাকা খেলা। মাথায় ঢুকানো কাতালুনিয়াকে তুলে ধরার দায়িত্ব। লা মাসিয়া নিয়ে বার্সা ইতিহাসের অন্যতম সফল কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, " The player who has passed through LA MASIA has something different to the rest, it’s a plus that only comes from having competed in a Barcelona shirt from the time you were a child."

সবকিছুই ঠিকভাবে চলছে, কিন্তু পরিবর্তন শুরু হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্দ্রো রোসেল এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট বার্তেমেউ আসার পর। সান্দ্রো রাসেল প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০০৯-১৩ সালের মাঝে ফিফা নিয়ম ভঙ্গ করে ১০ জন আন্তর্জাতিক ফুটবলারকে চুক্তি করেন যাদের বয়স ছিলো আঠারো এর নিচে এবং এর জন্য ১৪ মাসের ট্রান্সফার ব্যান ছিলো বার্সেলোনার উপর। নিজের একাডেমি থেকে নতুন প্লেয়ার উঠেই আসেনি উল্টো নিজেদের প্লেয়ার চলে গিয়েছে বাহিরে৷ পেড্রো, থিয়াগো আলকান্তারা বা জেরার্ড দেইলোফিউ বার্সা ছেড়ে অন্য ক্লাবে গিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। ডাচ লিজেন্ড চার্লস গুয়ারদিয়া বলেন, " লা মাসিয়া এখন ব্যবসায়ীক কেন্দ্র। "

প্রেসিডেন্ট বার্তেমেউ এর অধিনে বর্তমানে তারা কিছু আন্তর্জাতিক প্লেয়ারকে হারিয়েছেন। আদ্রিয়ান বার্নাবে, পাবলো মোরেনো, জর্দি এমবোউলা, কার্লেজ পেরেজ বর্তমানে অন্যক্লাবে নিজেদের জাত চেনাচ্ছেন৷ ইউরোপা লিগে গেন্টের বিপক্ষে পেরেজ বলেন, "আমি জানি আসলে বার্সায় কি হয়েছে। আমাকে যৌক্তিক কোনো কারণ তারা দেয় নি। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার ১০ দিন আগে তারা আমাকে ক্লাব ছাড়ার কথা জানায়।" আর এই পেরেজ ১৯-২০ মৌসুমে বার্সার হয়ে ৭টি লীগ ম্যাচ খেলেছেন এবং বেটিসের বিপক্ষে গোলও করেছিলেন। কিন্তু তাকে রোমার কাছে লোনে দেওয়া হয়। রানিং ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রেসিডেন্ট সাহেব সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে কম বয়সী আর্থুরের সাথে জুভেন্টাসের ৩০ বছর বয়সী পিয়ানিকের সোয়াপ ডিল। নাহ, আর হবে না এই বার্তেমেউকে দিয়ে। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২১ এ। আর নতুন প্রেসিডেন্ট যেই আসুক না কেনো তার প্রধান কাজ হবে লা মাসিয়াকে আগের রুপে ফিরিয়ে আনা। নাহলে বার্সেলোনার ভাগ্য ভয়ানক এক বিপদ বাদে কিছুই থাকবেনা। মেসি, আলবা, বুস্কেটস বা পিকের সময়ও শেষের দিকে। এখন একটাই কথা লা মাসিয়া পুনরুদ্ধার করো নাহলে বার্সেলোনাকে হারাও।