• ক্রিকেট

গল্পটা জীবনের সব রং দেখে ফেলা তাসকিনের...

পোস্টটি ১৩৯৬ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

"মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়" কিংবা "স্বপ্নবাজ মানুষ" এগুলা প্রচলিত ভাষায় কথার কথা। কিন্তু বাস্তব জীবনেও মানুষ তার স্বপ্ন, লক্ষ্য এগুলোর পেছনে ছোঁটে। ১৯৯৫ সালের ৩রা এপ্রিল আর আট দশটা সাধারণ ছেলের মতো রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জন্ম নেয়া তাসকিনও বা এর ব্যতিক্রম হবেন কিভাবে? না, হয়ও নি। আজকের গল্পটাও এই তাসকিনকে নিয়ে। চলুন শুরু করা যাক...

নাম তাসকিন আহমেদ। ডাকনাম তাজিম। ছোটবেলার লাজুক তাজিমের বেড়ে ওঠা জন্মস্থান মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। ক্রিকেটের হাতে খড়ি নানুর বাসার সামনের গলিতে। পাড়ার বড় ভাইয়েরা তাকে খেলতে নিতো "দুধভাত" হিসেবে। সবসময় ফিল্ডিং আর সুযোগ পেলে শেষের দিকে ব্যাটটাই ছিলো তার নিত্যনৈমত্তিক খেলাধুলা। হঠাৎ একদিন মুখ ফুটে বলে বসা, "আমি না হয় শুধু বোলিংটাই করি"। সেই দিন থেকেই শুরু হয় সবসময় ফিল্ডিং আর শেষদিকে ব্যাটিং পাওয়া ছোট্ট তাজিমের বোলার তাসকিন হয়ে ওঠার গল্প।

সেদিন কাঁচা হাতে বোলিং শুরু করা তাসকিন একসময় এলাকায় সুনাম কুড়ালেন বোলার তাসকিন হিসেবে। হাঁটি হাটি পা পা করে বয়স তখন সবে ১৫। মোহাম্মদপুরের এরিয়া ছেড়ে হঠাৎ একদিন খেলতে গেলেন টেনিস বলে "কেরানিগঞ্জ কাপ" এর খেলা। খেলতে গিয়ে প্রথম দুই বলেই দুই উইকেট নিয়ে সবাইকে চমকে দেন হালকা পাতলা গড়নের এই তাসকিন। কেরানিগঞ্জের তাসকিনের সেই খেলাই দেখতে গিয়েছিলো তাসকিনেরই এক বন্ধু কাইউম। ভালো খেলার সুবাদে বন্ধু কাইউমের অনুপ্রেরণাতেই বাবাকে বলে ভর্তি হলেন ঢাকার ডিসকভারি একাডেমিতে। সেখান থেকেই মূলত ক্রিকেট বলে খেলার হাতেখড়ি। আস্তে আস্তে আবাহনী মাঠে দিনের পর দিন ঘাম ঝড়ানো তাসকিনের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা দেখে বাবা আর ছেলেকে আটকাননি, উল্টো দিতে থাকেন সাপোর্ট। সেইসময় আবহনী মাঠে বড়দের প্র‍্যাক্টিস হতো সপ্তাহে তিন দিন আর ছোটদের দুদিন, একদিন ছুটি। কিন্তু ক্রিকেটের নেশায় মত্ত থাকা তাসকিন এসবের তোয়াক্কা করতোনা, প্রতিদিনই আসতো প্র‍্যাক্টিসে। এইভাবে আস্তে আস্তে কোচেরও ভালোলাগায় পরিনত হতে থাকেন তাসকিন। এরপরে পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে ২০১১ সালে বয়স ভিত্তিকে ঢাকা মেট্রোয় সুযোগ পেয়ে যান। একই বছরের অক্টোবরে ঢাকা মেট্রো'র হয়ে বরিশাল বিভাগের বিপক্ষে অভিষেক হয় প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে। তার পরের বছরই অনুর্ধ-১৯ দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে যান। অনুর্ধ-১৯ দলে সর্বমোট ১০ ম্যাচ খেলে ১৭.২৫ গড়ে নেন ১৬ উইকেট। যার মধ্যে আবার অনুর্ধ-১৯ বিশ্বকাপেই ৬ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন দলের সর্বোচ্চ উইকেট টেকার। সেদিনের সেই পুঁচকে বোলারটিই আজ বিশ্ব ক্রিকেটে তাসকিন আহমেদ নামে পরিচিত।

বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট ছেড়ে এবার সময় ওপেন হ্যান্ডেড লেভেল ক্রিকেটে ফেরা। ২০১৩ সালের বিপিএল এর দ্বিতীয় আসরে সুযোগ পান চিটাগাং কিংসের নেট বোলার হিসেবে। বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সময়েই তাসকিনে মুগ্ধ হওয়া বাংলাদেশের সাবেক অলরাউন্ডার এবং তৎকালীন চিটাগাং কিংসের প্রধান কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন'ই মূলত সুযোগটা করে দিয়েছিলেন। মূলত নেট বোলার হিসেবে সুযোগ পেলেও হেডকোচ সুজনের সিদ্ধান্তে তাসকিনকে খেলানে হলো একটা ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে বল হাতে সফল না হলেও কোচের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন ১৭ বছর বয়সী তাসকিন। প্রথম ম্যাচে তেমন সফল না হওয়ায় সেমিফাইনালে খেলতে পারার স্বপ্নও দেখেনি তাসকিন। তবে দাবার চাল চালেন হেডকোচ সুজন। খেলান সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে রাজশাহীর বিপক্ষে। আর সেই ম্যাচে সুযোগ পেয়েই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে তাসকিন। নেন ৪ ওভারে ৩১ রান খরচায় ৪ উইকেট। বল হাতে অস্বস্তিতে ফেলে দেন জিম্বাবুইয়ান চার্লস কভেন্টিরা এবং অস্ট্রেলিয়ান সিমন কেটিস এর মতো খেলোয়াড়দের। স্বভাবসুলভ ভাবেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার ওঠে তাসকিনের হাতে। মূলত ওই ম্যাচ থেকেই লাইমলাইটে আসে তাসকিন। সেবার চিটাগাং এর জার্সি গায়ে মাত্র ৪ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেও সেমিফাইনালে রাজশাহীর সাথে অমন পারফরম্যান্স দলকে ফাইনাল নিতে দারুন সাহায্য করে। ফাইনালেও গতির ঝড়ে মুগ্ধ করেছিলেন সবাইকে। ৪ ওভারে ২৮ রান খরচায় নিয়েছিলেন ২ উইকেট। পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কান তিলকরত্মে দিলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। কিন্তু দলের ব্যর্থথায় সেবার আর চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠা হয় নি। এর পরের গল্পটা শুধুই স্বপ্নের মতো।

inbound3865427162174868374ক্যারিয়ারের শুরুতে উড়তে থাকা তাসকিন

জীবন সবসময় সামানে আগাতে দেয় না। কখনো কখনো থেমে গিয়ে আবার শুরু করতে হয়। অনুর্ধ-১৯, প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট, বিপিএল মাতিয়ে যখন খুললাম খুললাম জাতীয় দলের দরজা তখনই হঠাৎ ইঞ্জুরির আগমন। পেতে পেতেও পাওয়া হয়নি লাল সবুজের জার্সিটা। কিন্তু উপরাল্লার খেল ঠেকায় কে? নিজের ১৮তম জন্মদিনের ঠিক দুই দিন আগে পেলেন নিজের জন্মদিনের সবচেয়ে বড় গিফট। অধিনায়ক মাশরাফির ইঞ্জুরিতে ২০১৪ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় লাল সবুজের জার্সিতে। অভিষেক ম্যাচটা দলের জন্য সুখময় না হলে তাসকিন ছিলেন অন্যান্য। ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচায় নেন অজি হার্ডহিটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। সেই ম্যাচে ম্যাক্সওয়েলের স্টাম্প উড়ানোটা সবাইকে করে বিমুগ্ধ।

inbound1639826919012091677অভিষেক ম্যাচে ম্যাক্সওয়েলকে ফেরানোর পর

একই বছরের ১৭ই জুই দেশের মাটিতে ভারতের সাথে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে অভিষেক হয় তাসকিনের। অভিষেক ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ৫ উইকেট নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। ভারত গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৫ রানে। কিন্তু দলীয় ব্যর্থতায় ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

inbound3605933984856041125অভিষেক ম্যাচে দলীয় ব্যর্থতায় প্রাপ্তি শুধুই পাঁচ উইকেট

২০১৪ সালটা জীবনের প্রথম সুখময় বছর কাটিয়ে তাসকিন মনযোগ দেন ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্যে। অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপের কোয়াটার ফাইনালে উঠতে বল হাতে তাসকিনের অবদান সবথেকে বেশি। ২০১৫ সালে মোট ১১ ওয়ানডে খেলে পান ১৪ উইকেট। যার মধ্যে বিশ্বকাপেই পান ৬ ম্যাচ খেলে ৯ উইকেট, যা কিনা বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেই বিশ্বকাপে সবথেকে কার্যকরী বোলিং স্পেলটি করেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে, পান ৪৩ রান করচায় ৩ উইকেট। দল জেতে ৩০০+ স্কোর চেজ করে। এছাড়া কোয়াটার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে তাসকিনের বোলিংয়ে মুগ্ধ হয় সেই ম্যাচেই কমেন্টেটর হিসেবে কমেন্ট্রিবক্সে দায়িত্ব পালন করা "প্রিন্স অফ কলকাতা" খ্যাত সৌরভ গাঙ্গুলি। যার কারনে, গতবছর প্রথম বারের মতো বাংলাদেশ ভারতের গোলাপি বল টেস্টে তাসকিনকে খোঁজেন ভারতের "প্রিন্স অফ কলকাতা" খ্যাত সৌরভ গাঙ্গুলি।

inbound3963639384239439829২০১৫ বিশ্বকাপে অধিনায়ক মাশরাফির সাথে ঐতিহাসিক ম্যাশকিন সেলিব্রেশন

২০১৬ সালে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে এবং টি-২০ মিলে ১৯ ম্যাচে নেন ২১ উইকেট। যার মধ্যে ওয়ানডেতে ৯ ম্যাচে ১৪ এবং টি-২০ তে  ১০ ম্যাচে ৭ উইকেট। তবে টি-২০ ফরমেটের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিলো দারুণ বোলিং। ম্যাচ শেষে বোলিং ফিগার ৪ ওভার, ১ মেডেন, ১৪ রান, ১ উইকেট। সেই ম্যাচ শুরুর আগে ফিতা দিয়ে নিজের বোলিং রানআপ মাপছিলেন তাসকিন। সেবার বাংলাদেশে খেলা দেখতে আসা গতি তারকা শোয়েব আখতার তখন তাসকিনকে দিয়েছিলো বোলিং টিপস। তাতেই কি ম্যাচে অমন আগুন ঝড়ানো পারফর্ম? তবে এশিয়া কাপের পরে অনুষ্ঠিত হওয়া টি-২০ বিশ্বকাপের মাঝ পথে বোলিং একশন বিতর্কে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হন তাসকিন। এরপরে একই বছরে পরিশ্রম করে বোলিং একশন পরীক্ষা দিয়ে আবারো আন্তজার্তিক ক্রিকেটে ফেরেন তাসকিন।

তবে গড়পড়তা ভাবে ২০১৬ সাল গেলে ২০১৭ এর জানুয়ারিতেই ডাক পড়ে টেস্ট স্কোয়াডে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদেরই ঘরের মাঠ বেসিন রিজার্ভ, ওয়েলিংটনের ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের ১ম ম্যাচের অভিষেক হয় তাসকিনের। কিন্তু টি-২০, ওয়ানডের মতো সারা ফেলানো অভিষেক ঘটাতে পারে নি। ওই সিরিজে ২ টেস্টের চার ইনিংস বল করে মোটে পেয়েছেন ২ উইকেট। বাংলাদেশও টেস্টে পায় হোয়াইটওয়াসের লজ্জ্বা। ক্যারিয়ারে মোট ৫ টি টেস্ট খেলা তাসকিন সবগুলোই খেলেছেন ২০১৭ সালে। এই ৫ টেস্টের ১০ ইনিংসে বল করে তাসকিন পেয়েছেন ৯৭.৪২ গড়ে মোটে ৭ উইকেট। নিউজিল্যান্ড সফর শেষ একই বছরের মার্চে বাংলাদেশ দল যায় শ্রীলঙ্কা সফরে। সেখানে ৩ ম্যাচ ওডিয়াই সিরিজের ২য় ম্যাচে তাসকিন হয়ে যান বাংলাদেশের হয়ে ওডিয়াইতে পঞ্চম হ্যাট্রিকম্যান। শ্রীলঙ্কা শেষ ৪০ রানে হারায় ৬ উইকেট। তাসকিন লাস্ট ওভারে ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম বলে পূরণ করেন হ্যাট্রিক। তবে ম্যাচটা ভেসে যায় বৃষ্টিতে। সেপ্টেম্বরে আবার নিউজিল্যান্ডের মাটিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির স্কোয়াডে ডাক পায় তাসকিন। তবে সব ম্যাচ খেলতে না পারলেও ২ ম্যাচ খেলে উইকেট পায় ২ টি। কিন্তু সেই ২ উইকেটও পায় বাংলাদেশের আরেকটি ঐতিহাসিক জয় পেয়ে সেমিফাইনালে উঠতে সাহায্য করা সেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। বাংলাদেশও পায় সাকিব রিয়াদের হাত ধরে ৫ উইকেটের বিশাল জয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ আবারো সফরে যায়। তবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকা। আর দলের সাথে সফরসঙ্গী হয় তাসকিনও। কিন্তু টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হয়ে দেশে ফেরে টিম বাংলাদেশ।

inbound3354064906208237712নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে তাসকিন

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ শেষে দেশে ফিরেই জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন তাসকিন। একই এলাকায় বসবাস করার সুবাদে সপ্তম শ্রেনিতে থাকতে পরিচয় হয় রাবেয়া নাঈমার সাথে। দশম শ্রেনিতে থাকতেই এ পরিচয় ভালবাসায় রূপ নেয়। তবে শুরুতে তাসকিনকে রাবেয়া পাত্তা দিতো না বলেই তাসকিনের মুখে শোনা গেছে। তাসকিন রাবেয়ার এ ভালবাসা শুরু হয় তাসকিন স্টার হয়ে ওঠার আগেই। তাই ২০১৭ অক্টোবরের ৩১ তারিখে তাসকিন রাবেয়ার একসাথে পথচলা নতুন করে শুরু হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাসকিনের বিয়ের "উকিলবাবা" তারই জাতীয় দলের আরেক সতীর্থ মাশরাফি বিন মর্তুজা।

inbound1320628325762897619দীর্ঘদিনের প্রেমিকা রাবেয়া নাঈমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া

বিগত বছরের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্সের কারনে তাসকিনকে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে এবং টেস্ট কোনটার স্কোয়াডে সুযোগ দিলেন না নির্বাচকরা। সেই বছর খেললেন সর্বসাকুল্যে ২ টা আন্তর্জাতিক টি-২০, তাও নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের সাথে। সেই দুই ম্যাচে মাত্র ২ উইকেট এবং হাত খুলে রান দেয়ায় সেই দুটোই হয়ে রইলো এখন পর্যন্ত তাসকিনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এর মধ্যেই ২০১৮ এর কোনো এক শুভক্ষনে তাসকিন রাবেয়ার কোল জুড়ে এলো তাদের প্রথম সন্তান তাসফিন আহমেদ রিহান। বাবা হওয়ার পরে দলে ফেলার  আগ্রহটা যেনো আরো বেড়ে গেলো তাসকিনের। এর কারনে কঠোর পরিশ্রম করায় ঘরোয়ায় কিছুটা পারফরম্যান্স ফিরলো। ২০১৮-১৯ সিজনের বিপিএলে সিলেট সিক্সার্স এর হয়ে ওই টুর্নামেন্টে দারুন পারফরম্যান্স করলো। পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সবমিলিয়ে ২য় সর্বোচ্চ উইকেট টেকারও হইলেন তাসকিন। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিল্ডিং বাঁচাতে গিয়ে পড়লেন পায়ের ইঞ্জুরিতে। যখনই আবার নতুন করে জাতীয় দলের দরজা খুলবে তখনই কি না এমন ধাক্কা?

inbound7712258206154298116তাসকিন নাঈমার কোল জুড়ে আসা তাদের প্রথম সন্তান

২০১৯ এর বিশ্বকাপ উপলক্ষে যখন নির্বাচকদের ভাবনায় ছিলেন তাসকিন তখন তাসকিনের ভাবনায় তার পায়ের ইঞ্জুরি। বিপিএল আর ২০১৯ বিশ্বকাপ এর মাঝের সময়টুকুতে চেস্টা করেছিলেন তাসকিন। কিন্তু ভাগ্যবিধাতা যে বড়ই নিষ্ঠুর ছিলেন তাসকিনের প্রতি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে ফিরতে চেয়েছিলেন প্রিমিয়ার লীগ দিয়ে। কিন্তু সর্বোচ্চ পরিশ্রমের পরেও নির্বাচকদের কাছে নিজেকে ফিট প্রমান করতে পারে নি। ফলাফল বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে বাদ। দল ঘোষনার দিন স্কোয়াডে নিজের নাম না দেখে ফিরিয়ে আনলেন ২০১১ বিশ্বকাপে মাশরাফির সেই কান্নার দৃশ্য। তবে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে চান্স না পেলেও উইন্ডিজ এবং আইরিশদের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজের স্কোয়াডে ঢুকলেন তাসকিন। কিন্তু কপাল খারাপ, সুযোগ পেলেন না এক ম্যাচেও। তাই আর হয়েও হইলোনা বিশ্বকাপ খেলা।

inbound7130158771659340564২০১৮ এর পরে লাল সবুজের জার্সি গায়ে এভাবে আর ওড়া হয়নি তাসকিনের

২০১৯-২০ সিজনের বিপিএল এও ছিলো যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স। তাই ২০২০ সালে এখন পর্যন্ত  বাংলাদেশ যতগুলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে তার একটায়ও সুযোগ হয় নি তাসকিনের।

একসময় দলের হাল ধরার আশা জাগানো তাসকিন এখন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছে। নিয়মিত ১৪০+ গতিতে বল করা তাসকিন আজ নির্বাচকদের ভাবনাও আছে কি না তাই সন্দেহ। আমরা বাংলাদেশের ভক্ত সমর্থক হয়ে আশা রাখি তাসকিন ফিরবেন। দলের পেস ইউনিটের হাল ধরার জন্য কিংবা মাশরাফি পরবর্তী যুগের পেস ব্যাটেলের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য হলেও তাসকিন ফিরবেন। তাসকিনের ফেরাটা তার নিজের জন্য যতটা প্রয়োজন ঠিক আমাদেরও তো ততটাই প্রয়োজন ওর পারফরম্যান্স। তাসকিন ফিরুক, আপন মহিমায় ফিরুক। ফিরতে ফিরতে তাসকিনও তার বোলিয়ের মাধ্যমে এমন ছন্দ ছড়াক–

হাসি কান্না হীরা পান্না দোলে ভালে
কাঁপে ছন্দে ভালো মন্দ তালে তালে...