X
GO11IPL2020
  • ক্রিকেট

জেমকন খুলনা: জাতীয় দল লাইট!

পোস্টটি ৩৮১ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ আমাদের দোরগোড়ায়। ৫টি দল মুখোমুখি হচ্ছে ‘মিনি বিপিএল’ খ্যাত এ টুর্নামেন্টে। তবে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ সৃষ্টি করছে যে দলটি, সেটি হচ্ছে জেমকন খুলনা। 

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ(বিপিএল) এ অংশগ্রহণকারী ক্লাব খুলনা টাইটানস এর মালিকপক্ষ জেমকন গ্রুপের হাতেই রয়েছে এ দলের দায়িত্ব। বিপিএলে খুলনা টাইটান্সের মাঝারী মানের দল দেখতেই সাধারণত অভ্যস্ত আমরা। তবে এবারের দল দেখে ধারণা করা যায় টুর্নামেন্ট জয়ে বেশ আটঘাট বেঁধেই নেমেছে খুলনার মালিকপক্ষ। তর্কযোগ্যভাবে বলা হচ্ছে, জেমকন খুলনা এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল।

স্কোয়াড: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ(অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, ইমরুল কায়েস, হাসান মাহমুদ, আল আমিন হোসেন, এনামুল হক বিজয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, আরিফুল হক, শফিউল ইসলাম, শুভাগত হোম চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, নাজমুল ইসলাম অপু, জাকির হাসান, সালমান হোসেন, জহুরুল ইসলাম অমি। 

ব্যাটিং:

ব্যাটসম্যান তালিকায় চোখ বুলালে যে দুইজন আপনার মনোযোগ কাড়তে বাধ্য তারা হচ্ছেন জাতীয় দলের দুই পরিচিত মুখ ইমরুল কায়েস এবং এনামুল হক বিজয়। যদিও এ দুজনের সংযোজন আদৌ দলের জন্য মঙ্গলজনক কিনা তা আমার বোধগম্য নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সময়ে ট্রলের শিকার এ দুই ব্যাটসম্যানের ওভারঅল টি-২০ পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। আপনি যদি দারুণ আশাবাদী মানুষ হন, আর যদি চিন্তা করেন সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট’স কাপে তাদের পারফরম্যান্স দেখে আশাবাদী হবেন, তাহলে আপনি প্রচণ্ড পরিমাণে হতাশ হবেন। ৫ ম্যাচে ওপেনিং এ ব্যাট করে ইমরুল কায়েসের রান ১৪৬(গড় ৩৬.৫)। ইমরুলেরটা তাও উল্লেখ করার মত, কিন্তু এনামুল? ৪ ম্যাচে রান করেছেন সাক্যলে ৪৫!   

একজন টি-২০ ক্রিকেটের নিয়মিত দর্শক মাত্রই জানেন, টি-২০ ক্রিকেটে ওপেনিং কত গুরুত্ব বহন করে। ব্যাটিং এ একটি ভালো শুরু পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের দারুণ এক মোমেন্টাম এনে দেয়। ঠিক একই কথা বোলিং এ। শুরুতেই বিপক্ষ দলের এক-দুটি উইকেট ফেলে দেওয়া কিংবা পাওয়ার প্লেতে কম রানে আটকে রাখা ব্যাটিং দলকে যথেষ্ট চাপের মুখে ফেলে। এ দুজনও সেরকম অবদান রাখবেন বলেই প্রত্যাশা করছি(সেটা ব্যাটিং কিংবা বোলিং যে দলের পক্ষেই হোক না কেন!)। কারণ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে হয়তো এ দুজনকেই আমরা ইনিংস শুরু করতে দেখব (কারণ দলে আর কোনো পিউর ওপেনার নেই)।

যদিও তারা যে একদমই চলনসই নয়, তা বলছি না। সর্বশেষ বিপিএলে ইমরুল কায়েস যথেষ্ট আশাজাগানিয়া পারফর্ম করেছিলেন। পরবর্তীতে সে ধারাবাহিকতা চোখে না পড়লেও ইমরুলকে নিয়ে তাও আশা জাগানোর রসদ খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু বিজয়? অনেকদিন যাবৎ অফফর্মে থাকা এ ক্রিকেটারের পাড় ভক্ত(যদি থাকে আরকি!) ও হয়তো তাকে নিয়ে খুব আশা করবেন না। 

আমি ব্যক্তিগতভাবে আশাবাদী মানুষ। তাই আশা করি তারা তাদের সবোর্চ্চটা দিবেন দলের জয়ে অবদান রাখার জন্য। তবে খুলনা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলছি, একটু টপাটপ উইকেট পড়া কিংবা পাওয়ার প্লেটে ডট বলের ছড়াছড়ির সম্মুখীন হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে ভুলবেন না!

তবে পুরোপুরি হতাশ হওয়ার আগে বাকি ব্যাটসম্যানের দিকে একটু চোখ বুলাতে পারেন। এ দলের কাণ্ডারি অবশ্যসম্ভাবীই মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সম্প্রতি কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠা জাতীয় দলের এ অভিজ্ঞ পারফর্মার খুলনার জয়ের এক বড় নিয়ামক। দলকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ও রিয়াদের কাঁধেই দিয়েছেন খুলনার টিম ম্যানেজমেন্ট। মিডল অর্ডারকে একাই টেনে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে রিয়াদের। দর্শকদের আকাঙ্ক্ষা ও তাই চরমে।

এ ছাড়াও এ দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ জহুরুল হক অমি, শুভাগত হোম; যারা বিপিএলের নিয়মিত পারফর্মার। আছেন বিপিএল ২০১৮ মৌসুমের খুলনার সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান আরিফুল হক, জাতীয় দলে ম্যাচ খেলা তরুণ জাকির হাসানরা।

তবে আমি সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে আছি যার উপর, তিনি হচ্ছেন অনুর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার শামীম হোসেন পাটোয়ারি। সাধারণত ৭ নম্বরে ব্যাট করা এ ক্রিকেটার কিছুদিন আগে এইচপি দলের একটি প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেছেন ৬৭ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস। এ টুর্নামেন্টে যেহেতু কোনো বিদেশি নেই, তাই স্বভাবতঃই শামীমের সুযোগ থাকছে পুরো বাংলাদেশের সামনে নিজেকে মেলে ধরার। ফিনিশিং এ ব্যাট করা এ ক্রিকেটারের দলে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন আরিফুল হক। তবে আরিফুল হকের চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে শামীমকেই এগিয়ে রাখতে চাই। বিপিএল ২০১৭ মৌসুমে খুলনার সেরা খেলোয়াড় আরিফুল এরপর সেরকমভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। তাই হয়তোবা শামীমকেই একটা সুযোগ দিবে খুলনা টিম ম্যানেজমেন্ট। যদি তিনি এ টুর্নামেন্টে নিজে প্রমাণ করতে পারেন, খুলনা তো প্রচণ্ড পরিমাণে লাভবান হবেই, সর্বোপরি লাভবান হবে গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।  

তো সবমিলিয়ে ব্যাটিং নিয়ে বলতে হয়, তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো ব্যাটিং লাইনআপ। তবে বিসমিল্লাতে একটু গলদ রয়ে গেছে আরকি! তারপরও ভালো কিছুর প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। 

বোলিং:

আসা যাক বোলিং এ। বোলিং এ আপনি পাচ্ছেন জাতীয় দলের পুরো স্বাদ। বোলিং এটাকে পেস বোলিং এর নেতৃত্বে থাকছেন শফিউল ইসলাম। জাতীয় দল এবং বিপিএলে ইতোমধ্যে নিজেকে প্রমাণ করা এ অভিজ্ঞ বোলার সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন আরেক পেস বোলার আল আমিন হোসেন। রয়েছেন সর্বশেষ বিপিএলে নজর কাড়া ঢাকা প্লাটুনের হয়ে খেলা হাসান মাহমুদ, খুলনা টাইগার্সের শহীদুল ইসলাম। সব মিলিয়ে পেস অ্যাটাকে এক দারুণ কম্বো পাচ্ছে জেমকন খুলনা। তবে স্পিনেও কম পিছিয়ে নেই তারা। জাতীয় দলের নাজমুল ইসলাম অপুর সাথে রয়েছেন তরুণ লেগি রিশাদ হাসান। 

আসলে খুলনার বোলিং লাইনআপ নিয়ে সমালোচনার বেশি জায়গা নেই। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ রয়েছে তাদের হাতে।

এক কথায় বলতে হলে তারুণ্যের সাথে অভিজ্ঞতার এক দারুণ মিশেল দেখা যাবে বোলিং এ। ব্যাটিং নিয়ে যে আশংকার কথা শুরুতে বলেছিলাম, সেই আশংকা যদি প্রমাণিত হয়ও, সেটিকে দারুণভাবে প্রায়শ্চিত্ত করার সক্ষমতা আছে খুলনার বোলিং ইউনিটের। খুলনার ব্যাটিং আর বোলিং যদি টুর্নামেন্টে একসাথে জ্বলে উঠে, তবে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, কাপটা খুলনার হাতেই আসবে।

প্রসঙ্গ সাকিব আল হাসান:  

এবার একটু আলাদা করে একজনের দিকে নজর দিতে চাই, তিনি হচ্ছেন তর্কাতীতভাবে এদলের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। ১ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেটে ফেরার মঞ্চ হতে চলেছে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপ। খুলনা টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে আপামর জনতা মুখিয়ে আছে সাকিবের পারফরম্যান্স দেখতে। জেমকন গ্রুপের কর্নধার কাজী ইনাম আহমদের কথায়ও যা স্পষ্ট।  

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সাকিব যতই বড় মাপের ক্রিকেটার হোন না কেন, তিনি ১২ মাসেরও অধিক সময় যাবৎ (৩৬৫+ দিন) ব্যাট বল হাতে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করেননি। যদিও তিনি তাঁর প্রিয় কোচ সালাউদ্দিন ও গুরু নাজমুল আবেদীন ফাহিমের তত্ত্ববধায়নে বেশ ঘাম ঝরিয়েছেন, তবুও পুরোপুরিভাবে ক্রিকেটীয় মেজাজে ফিরতে তাঁর আরেকটু সময় লাগবে। সত্য হচ্ছে যে টি-২০ কাপের জন্য দেয়া ফিটনেস টেস্টে তিনি উত্তীর্ণ হোন নি। তাই আপামর জনসাধারণ এবং খুলনার টিম ম্যানেজমেন্ট কে অনুরোধ করব, এখনই সাকিবকে ঘিরে প্রত্যাশার বেলুন এখনই ফোলাবেন না। তাকে তাঁর নিজের মতো করে খেলতে দিন, একটু নিজেকে বুঝতে সময় দিন, তাহলেই তিনি তাঁর ‘সাকিবীয়’ অবস্থানে ফিরে আসতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস।   

উপসংহার:

সব মিলিয়ে যদি আমাকে বলতে হয় জেমকন খুলনা সম্পর্কে, তাহলে বলব আদতে এটি ‘জাতীয় দল লাইট ভার্সন’। ৫টি দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাজেটে করা এ দলকে নিয়ে ম্যানেজমেন্ট ও সমর্থকদের উচ্চাশা প্রবল। যে উচ্চাশা কে তারা বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, তা সময়ই বলে দিবে।

 

 

তথ্যসূত্র:   

[১]- দেখে নিন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের সূচি

[২]- BCB President's Cup 2020 | ESPN Cricinfo

[৩]- তানজিদ-শামীম দাপটে টিম ‘বি’র বড় জয়

[৪]- সাকিব-রিয়াদকে দলে পেয়ে উচ্ছ্বসিত খুলনা, খেলবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য