• ক্রিকেট

একটু ভবিষ্যতের দিকেও তাকানো যেত

পোস্টটি ৩০৮ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

               উইন্ডিজের সাথে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালেই কানাঘুষা চলছিল যে সাকিব ব্যক্তিগত কারণে নিউজিল্যান্ড সিরিজে নাও খেলতে পারে। পরে প্রথম টেস্টে যখন কুঁচকির চোট নিয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে গেলেন তখন নিশ্চিতভাবেই জানা ছিল যে সাকিবকে নিউজিল্যান্ডে পাওয়ার কোনো আশা নেই। সম্প্রতি ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েব পোর্টাল ক্রিকফ্রেনজিতে এক তুমুল আলোচনার খোরাক জাগানো সাক্ষাৎকারে সাকিবের বলা একটা লাইনের মূলভাবটাই এমন ছিল যে “বয়স ৩৪ হয়ে গেল। আর দুই বছর হয়তো নিজের সেরাটা দিতে পারবেন। এরপরেও তো বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তাকাতে হবে।” খুবই যৌক্তিক কথা। অবশ্যই সামনের দিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তাকাতে হবে। শুধু সেজন্যই না। সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদ। বাংলাদেশের এই চার মূল স্তম্ভের বয়স তো আর দিন দিন কমছে না। ফলে তাদের পক্ষেও টানা খেলার ধকল নেওয়া অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। আর যেখানে ২০২৩ পর্যন্ত প্রচন্ড ব্যস্ত সূচি বাংলাদেশ ক্রিকেটের এবং তারা প্রায় তিন ফরম্যাটেই খেলে থাকেন। তাই কিছু কিছু সময় তাদের বিশ্রামও দিতে হবে। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেও বাংলাদেশকে এগোতে হবে। কিন্তু তারা কি কোনোভাবে তা করছে। আমি মানতে পারি না। এই নিউজিল্যান্ড সিরিজে বাংলাদেশের একাদশ গঠন দেখলে যদি আপনার মনে হয় যে টিম ম্যানেজমেন্ট ভবিষ্যতে না তাকাতেই বদ্ধ পরিকর তাহলে আপনি একটুও বাড়িয়ে বলবেন না কথাটা।

                    সাকিবের প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু করি। তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে তিন নাম্বার পজিশনে খেলে থাকেন। এবং ব্যাটিং অলরাউন্ডারের রোল প্লে করে থাকেন যেখানে তিনি দলের মূল বোলার ও মূল ব্যাটসম্যান দুই ভূমিকাই পালন করে থাকেন। এই সিরিজে তার জায়গায় তিনে খেলানো হয় সৌম্য সরকারকে। যিনি বলতে গেলে ছয় বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তরুণ ক্রিকেটার। যাক ওই সমালোচনাতে না যাই। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই দলের মূল বোলার কখনো হবেন না যিনি দশ ওভার বল করবেন এবং তার ব্যাট যেভাবে কথা বলছে তাতে হয়তো মূল ব্যাটসম্যানও হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আর তার ফর্ম বরং তাকে দলেই না রাখার জোর দাবি তুলছে। তিনি কোনোভাবেই সাকিবের পরবর্তী বাংলাদেশ দলের হাল নিতে পারবেন না। সাকিবের উত্তরসূরী হিসেবে মিরাজের নামটাই সবসময় জোরেশোরে উঠে। বল হাতে উইকেট টেকিং না হলেও রান চেক দেওয়াতে ও ইকোনমি রেট ঠিক রাখার দিক থেকে কোন গাফিলতি তার বোলিংয়ে নেই। আবার সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে দুই টেস্টে ব্যাট হাতে এক সেঞ্চুরি, এক ফিফটি এবং দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে সাহসী ও দৃঢ় ব্যাটিং সহ ৪৯.৫ এভারেজে ১৯৮ রান করে তার ব্যাটিং প্রতিভারও সাক্ষর রেখেছেন। আবার নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও তার ফিফটি ছিল। তাই চাইলেই একটু সাহস করে টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে তিনে বাজিয়ে দেখতে পারত। এশিয়া কাপের ফাইনালে তার ওপেনিংয়ে নেমে ব্যাটিং কেউ হউতো ভুলেনি এখনো। আবার এমনও না ব্যাপারটা টিম কম্বিনেশননে বড় সমস্যা করে ফেলত। তিন ওয়ানডেতেই দুই মেহেদীকে সাতে ও আটে খেলানো হয়। একই প্রোফাইল, একই স্টাইলের দুইজনকে একই রোলে খেলানো আমার কাছে বোধগম্য হয়নি। এর জায়গাতে মিরাজকে তিনে, মেহেদী ও সাইফুদ্দিনকে সাতে ও আটে খেলানো যেত। যদি তা না করা যাত তাহলে মুশফিককে আরেকটু উপরে খেলিয়ে মিরাজকে চার বা পাঁচে খেলিয়ে তার ব্যাটসম্যান সত্তাকে প্রস্ফুটিত করার আরেকটা সুযোগ দেওয়া যেত, যেটার যোগ্য তিনি ছিলেন। এরকম করলে দল কতটুকু সফল হত বলতে পারি না। কিন্তু অন্তত এইটুকু ঠিকই বোঝা যেত যে টিম ম্যানেজমেন্টের কোনো না কোন প্ল্যাম আছে দলটি নিয়ে। আর এর পাশাপাশি ডেপথের কথা না হয় বাদই দিলাম।

           আবার যখন নিউজিল্যান্ডের সাথে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ইঞ্জুরি নিয়ে মুশফিক খেলতে পারল না তখনও এই ভবিষ্যতে তাকানোর সাহস ও আকাঙ্খা দুটোরই ঘাটতি চোখে পড়ে। সেখানেও অপেক্ষাকৃত তরুণ শান্ত বা মোসাদ্দেককে সুযোগ না দিয়ে দেওয়া হয় মিঠুনকে। শান্ত আর মোসাদ্দেকের হয়তো ফর্ম খারাপ যাচ্ছে। কিন্তু এখনো মিঠুনের চেয়ে অনেক বেশিই তাদের জাতীয় দলকে দেওয়ার আছে। অন্তত টি-টোয়েন্টিতে।

               আমাদের ক্রিকেটে নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর ইচ্ছে নেই এমন কথা ভাবতেও ইচ্ছে করে না। তাই হয়তো বা এমন বোল্ড কোনো পদক্ষেপের সাহস তাদের নেই। কিন্তু কথায় বলে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে নাকি মানুষের কিছু না হারানোর ভয় চলে যাওয়াতে তাদের সাহসও বেড়ে যায়। প্রশ্ন হল বাংলাদেশ ক্রিকেটের টিম ম্যানেজমেন্টের আর কতখানি পিঠ ঠেকে গেলে সেই সাহস তারা দেখাতে পারবেন