• ক্রিকেট

বিরাটের রাজত্বে দুর্দমনীয় পাক-কাপ্তানের হানা !

পোস্টটি ৩৪৭ বার পঠিত হয়েছে
'আউটফিল্ড’ একটি কমিউনিটি ব্লগ। এখানে প্রকাশিত সব লেখা-মন্তব্য-ছবি-ভিডিও প্যাভিলিয়ন পাঠকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ উদ্যোগে করে থাকেন; তাই এসবের সম্পূর্ণ স্বত্ব এবং দায়দায়িত্ব লেখক ও মন্তব্য প্রকাশকারীর নিজের। কোনো ব্যবহারকারীর মতামত বা ছবি-ভিডিওর কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য প্যাভিলিয়ন কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না। ব্লগের নীতিমালা ভঙ্গ হলেই কেবল সেই অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

বিরাট কোহলি আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে আছেন প্রায় তিন বছর ছয় মাস ধরে। শীর্ষস্থানীয় এই আসন থেকে বিরাটকে সরানো প্রায় অসম্ভবের কাছে গিয়েই ঠেকছিল বর্তমান ক্রিকেটারদের কাছে। এই অসম্ভব কাজটিই এবার করে দেখালেন বর্তমান পাক-অধিনায়ক বাবর আজম! 

ফ্যাব-ফোউর এর যুগেও প্রায় অনায়াসেই বিরাট তার ওয়ানডের শীর্ষস্থান ধরে রাখেন। তার ফর্ম, ধারাবাহিকতা, দক্ষতা সব মিলিয়ে তিনি কেবল ভারতেরই নন, বরং পুরো ক্রিকেট বিশ্বের গর্ব। তবে ১২৫৭ দিন ধরে একটানা এক নম্বরে থাকার পর অবশেষে তাকে পেছনে ফেললেন বাবর আজম। 

অভিষেকের পর থেকেই বাবর সকলের নজর কেড়ে নিতে সক্ষম হোন। কোহলির মতো তার কাভার ড্রাইভও যে নজরকারা! প্রথম থেকেই ছিল ধারাবাহিকতা, ছিল দুর্দান্ত দক্ষতা এবং ক্রিকেট বুকের সকল শটস! অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে উঠেন দর্শকপ্রিয়। ক্রিকেটবোদ্ধাদেরও ছিলেন নজরে। তবে সকল কিছুকে ছাপিয়ে তার বর্তমান ফর্মের কল্যাণে তিনি আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদকৃত র‍্যাংকিংয়ে কোহলিকে ছাপিয়ে চতুর্থ পাকিস্তানি হিসেবে হয়ে যান বিশ্বের সেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান।

কিছুদিন আগেই তিনি সাউথ-আফ্রিকা সফরে দুর্দান্ত পার্ফমেন্স করে ছাপিয়ে যান আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মাকে। তাকে পিছানোর পর বাবরের রেটিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় ৮৫২। বিরাট তখন ৮৫৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ছিলেন এক নম্বরে। সে সময়ই আন্দাজ করা যাচ্ছিল বিরাটের এই একতান্ত্রিক শাসন আর মানতে নারাজ পাক-কাপ্তান। শেষ ম্যাচে করা ৯৪ রানের বদৌলতে সকলের আন্দাজকে বাস্তবে রূপান্তর করে নিজের র‍্যাংকিংয়ে যোগ করেন মূল্যবান ১৩ পয়েন্ট আর হয়ে উঠেন বিশ্ব ক্রিকেটের এক নম্বর ওডিআই প্লেয়ার।

কোহলি থেকে এই সিংহাসন ছিনিয়ে নেয়াতে সবচাইতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে সাউথ-আফ্রিকার বিপক্ষে বাবরের দুর্দমনীয় ফর্ম। একটি সেঞ্চুরি ও একটি হাফ-সেঞ্চুরি সহ দক্ষিণ-আফ্রিকা সিরিজে ৭৬ গড়ে করেছেন ২২৮ রান! 

কেবলমাত্র এই সিরিজেই যে বাবর দারুণ খেলেছেন তা কিন্তু নয়। তার খেলা শেষ ১২ ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনি ম্যাচপ্রতি ৯০.৬ করে মোট করেছেন ৯০৬ রান, যার ২টি ইনিংসে তিনি ছিলেন অপরাজিত। তার তুলনায় বিরাটের খেলা শেষ ১২ ম্যাচে তিনি করেছেন ৫৬০ রান, গড় ৪৬.৬। রোহিত শর্মাও ৪৫.৫৮ গড়ে করেছেন ৫৪৭ রান। অর্থাৎ পরিসংখ্যান হতে স্পষ্ট বাবরের এই অর্জন তার প্রাপ্যই ছিল।

ভারত ও পাকিস্তান দলের ভবিষ্যত সূচী অনুযায়ী পাকিস্তান শীঘ্রই জিম্বাবুয়ের সাথে ওয়ানডে খেলবে। পরে আবার আছে ইংল্যান্ড সফর। অন্যদিকে ভারত দল আইপিএল শেষে খেলবে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপ। এরপর আছে ইংল্যান্ডের সাথে টেস্ট সিরিজ। অর্থাৎ ভারত দলের নিকট ভবিষ্যতে নেই কোনো ওয়ানডে ম্যাচ যেখানে পাকিস্তানের আছে কমপক্ষে ২টি ওডিয়াই সিরিজ।

আপাতত বাবরের সাথে বিরটের রেটিং পয়েন্টের পার্থক্য কেবল ৮ হলেও উভয় দলের ভবিষ্যত সফরসূচী বিচার করলে, বাবর যদি তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন তাহলে বাবর যে খুব অনায়াসেই বিরাটকে অনেক ব্যবধানে পিছিয়ে যাবেন সেটায় কারোরই সন্দেহ আছে বলে মনে হয়না।