• ট্রিবিউট
  • " />
    X
    GO11IPL2020

     

    হাজার বছর ধরে...

    ১.

     

    পেশোয়ার, পাকিস্তান। ২০০৬।

     

    ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচে একটা আউট তুমুল বিতর্ক বাঁধালো। ইনজামাম-উল-হক ক্রিজের বাইরে, সুরেশ রায়নার থ্রো ব্যাট দিয়ে আটকালেন তিনি। ভারতীয়রা আবেদন করলো, সাইমন টউফেল আউট দিলেন আরেক আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলে। তিনিই অধিনায়ক, আম্পায়ারদের ব্যাখ্যা মনঃপুত হলো না ঠিক! পরে ইনজামাম বললেন, ভারতীয়রা ক্রিকেটের স্পিরিটের কথা ভেবে আবেদন না করলেও পারতো। ভারতীয়রা আইন দেখালেন, ক্রিকেটের আইনে আউট ইনজামাম।

     

    ২.

     

    দিনাজপুর, বাংলাদেশ।


    ‘এল-শেপ’ এর দোতলা বাড়িটা নদীর পাশেই। শহরতলীর এক যৌথ পরিবার। দরজাটা পেরিয়ে ছোট্ট উঠান, বাড়ির ওপাশে অবশ্য প্রশস্ত খোলা পরিসর। একটা সাদা-কালো টেলিভিশন। ২১ ইঞ্চি। তিন বাড়ি মিলিয়ে একটিই ‘জাদুর বাক্স’! কোন এক অজানা কারণে আমাদের বাড়িতে টেলিভিশন সেট নেই তখনও।

     

    ক্রিকেট ওই সাদা-কালোতেই বর্ণিল হয়ে উঠতো তখন! খেলা শুরু হয়ে যায়, চ্যানেল ঠিকমতো টিউন করা শেখা হয়নি তখনও। বুক দুরুদুরু, একজন টেলিভিশনের টিউনারে হাত দিয়ে, একজন অ্যান্টেনা ঘুরাতে ছাদে উঠেছেন, মাঝে একজন বার্তাবাহক! কী সেই রোমাঞ্চ!

     

    সেই সাদা কালোতেই প্রথম শচীন টেন্ডুলকারকে দেখা। ব্রায়ান লারার ব্যাট নামের ‘গিলোটিন’ এর পরিচয় পাওয়া। ওয়াসিম আকরামের ফ্লাডলাইটের আলোয় সাদা বলের সেই সুইং, লাল বলের হ্যাটট্রিক। মনে হতো, বাঁহাতে বল না করলে বোলিংয়ের অর্থই নেই! সনাথ জয়াসুরিয়ার পা তুলে খেলা সেই শট, এই লোকের ভয়ডর নেই!

     

    ৩.

     

    মার্টিন সুজির সেই কাদামাখা জার্সি, হাসিবুল হোসেন শান্তর ভোঁ দৌড়, আর আমাদের অল্প বুঝেই রঙের উচ্ছ্বাস!

     

    আকরাম খানের নামের সঙ্গে মিলিয়ে পাড়ার ক্লাবের অধিনায়ককে ডাকা হতো। এক ভাইয়ের নামে শেষে ‘আবেদীন’ আছে বলে তাঁকে এখনও ‘নান্নু’ ভাই বলে ডাকা হয়! পাইলট কিপিংয়ের অন্য নাম, সুজনের সেই অদ্ভুত অ্যাকশন। মনির স্পিন, বুলবুলের আঁটসাঁট ব্যাটিং। শাহরিয়ার হোসেনের ৫ রানের আক্ষেপ, মেহরাব হোসেনের বিস্ময় সেঞ্চুরি!

     

    মার্ক ওয়াহর কলার তুলে রাখা, সার্কেলের মধ্যেই ফিল্ডিং। বড় ভাই অধিনায়ক হয়ে ডিপে ফিল্ডিং করেন, আর ছোট ভাই সে পজিশন থেকে একটু এদিক ওদিক! স্টিভ ওয়াহর সেই লাল রুমাল! রিকি পন্টিংয়ের তখন ফ্রেঞ্চকাট ছিল। শেন ওয়ার্ন নামের সেই জাদুকরী ক্রিকেটার, নাকের উপরে জিঙ্ক অক্সাইডের প্রলেপ (তখনও এই কাষ্ঠনামটা জানা ছিল না!)। গ্লেন ম্যাকগ্রা নামের এক লম্বা বোলার, কী নির্লিপ্ত অ্যাকশন। সে অ্যাকশনে বল করলে স্পিডই ওঠে না টেনিস বলে! আর গিলি। গ্লাভস ঠিক করছেন, ব্যাটটাকে চালাচ্ছেন কত ‘আলগা’ করে! মাইকেল বেভান, শেষ না করে মাঠ ছাড়বেনই না!

     

    প্রথম পেপারকাটিংয়ের যে ছবিটা মনে পড়ে, হ্যাট মাথায় মাইক আথারটন। নিক নাইট আর নেইল ফেয়ারব্রাদারের ওপেনিং জুটি। ড্যারেন গফ তখন কতো গতিতে বল করেন! অ্যান্ড্রু ক্যাডিকের সেই অ্যাকশন। চেষ্টা করা হয়েছে, এটাও! 

     

    আজহারউদ্দীনের তাবিজ, আর না ঘুরেই থ্রো। অনিল কুম্বলে নামের সেই লাফানো বোলারটা, ভাংগা চোয়াল, বল করে যাচ্ছেন তবুও! সৌরভ গাঙ্গুলির ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে ছয়। ভিভিএস লক্ষণ; ভিভিএস এর পূর্ণরূপ তখন বহুল প্রচলিত কুইজ। আর একজন রাহুল দ্রাবিড়। দেখে মনে হতো, এই লোকটা ওই বাইশ গজের চৌহদ্দি ভালবাসেন অনেক, তাই আউট হতে চান না! রবিন সিংয়ের মতো মিনি অলরাউন্ডার।

     

    সেই স্টাইলিশ ক্রিস কেয়ার্নস, সে সময়ের সেরা অলরাউন্ডার। চশমা পরা ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের কাঁধ উঁচু করে রাখা সেই স্ট্যান্স। জিওফ অ্যালোট, ’৯৯ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশী উইকেট ছিল তাঁর। ন্যাথান অ্যাস্টল, ওপেনিংয়ে ঝড়। ক্রিস হ্যারিস, কবজি ওভাবে রেখেও বল করা যায়!

     

    সাঈদ আনোয়ারের সেই ফ্লিক, আর ১৯৪। শহীদ আফ্রিদি নামের একজন অস্থিরচিত্তের ক্রিকেটার, এলেন, দু চারটে মারলেন, আকাশে তুলে দিলেন বল, ফিরে গেলেন। ইনজামাম উল হকের আলসেমি। এই বুঝি এলবিডাব্লিউ হলেন! সাকলাইন মুশতাক; স্পিনার এত দূর থেকে দৌড়ায় কেনো? ওয়াকার ইউনুসের সেই ইয়র্কার।

     

    ফিল্ডিংয়ের তখন অপর নাম জন্টি রোডস। হ্যান্সি ক্রনিয়ের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক কে ছিলেন, কাউকে আটকানোর জন্য মোক্ষম প্রশ্ন! অ্যালান ডোনাল্ডের নাকে গালে ‘সাদা চুন’। শন পোলকের শরীর মোচড়ানো অ্যাকশন, নকল করা বেশ কঠিন! পল অ্যাডামস নামের সেই চায়নাম্যান, বোলিং করছেন, নাকি জিমন্যাস্টিকের শো করছেন, বুঝে ওঠা দায়! ল্যান্স ক্লুজনারের সেই বিশ্বকাপ। জ্যাক ক্যালিসের ‘অলরাউন্ডার’ হয়ে ওঠা। হার্শেল গিবসের অনেক কিছু দেওয়ার পূর্বাভাস।

     

    অর্জুনা রানাতুংগা, এই মোটা লোকটা ক্রিকেটের মাঠে কী করেন! আবার নাকি বিশ্বকাপ জিতেছেন, জিতিয়েছেন। ক্রিজে তো হেঁটে হেঁটে রান নেন! অরবিন্দ ডি সিলভা, ক্যাপ পরে বোলিং করলে নো বল হয় না তাহলে! রমেশ কালুভিতারানা; কালু নাকি মারেন প্রচন্ড! চামিন্দা ভাস, পুরো নামটা নাকি অনেক বড়!

     

    কোর্টনি ওয়ালশ, কার্টলি অ্যামব্রোস। কাঠখোট্টা নাম, ভয়ংকর বোলিং। কার্ল হুপারের হ্যাট। ফিলো ওয়ালেসের ছক্কা, মিনি বিশ্বকাপে। শিব চন্দরপল নতুন তখনও। জিমি ‘প্যাডামস’ অ্যাডামস। রিডলি জ্যাকবসের পেটা শরীর।

     

    অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের রিভার্স সুইপ। নিল জনসন, ওপেনিং করেন, বোলিংয়েও আসেন সবার শুরুতে। গ্রান্ট ফ্লাওয়ার। অ্যান্ডির ভাই। ডগলাস মেরিলিয়ারের সেই শট। হিথ স্ট্রিকের বোলিং, অ্যালেস্টার ক্যাম্পবেলের ব্যাটিং। ডগলাস হন্ডোর চুল।

     

    ৪.

     

    সেই সাদাকালো টিভিটা হারিয়ে গেল।

     

    হোস্টেলে থাকার সময় কত দোকান, অফিস, রাস্তাঘাটের বড় পর্দা, নিজেদের পয়সায় কেনা টেলিভিশনে ক্রিকেট-রোমাঞ্চের স্বাদ নেয়া।

     

    বয়স বাড়তে লাগলো। ওয়াসিম আকরামরা চলে যেতে লাগলেন। বুলবুল-শান্তরা মিলিয়ে গেলেন। আফতাব-আশরাফুল এলেন। রফিক, পাইলটরাও থামলেন একসময়। হাবিবুল বাশার চলে গেলেন অদ্ভুত আনন্দের অনেক উপলক্ষ্য এনে দিয়ে। স্টিভ ওয়াহর পর পন্টিং অধিনায়ক হলেন। শেন ওয়ার্ন কত বিচিত্র কিছু দেখালেন। মাইকেল বেভানের উত্তরসূরী মাইক হাসি দীর্ঘ-সীমিত সংস্করণে ‘মিস্টার ক্রিকেট’ হয়ে উঠলেন।

     

    ইংল্যান্ডে এরই মাঝে অ্যাশেজ যুগ এলো। ফেয়ারব্রাদারের নাম ভুলে মার্কাস ট্রেসকোথিক হয়ে উঠলেন প্রিয় ওপেনার। কেভিন পিটারসেনে নতুন স্বপ্ন। পল কলিংউড, ফ্রেডি ফ্লিনটফরা তারকা। আজহারউদ্দীন ম্যাচ পাতালেন। শচীন-সৌরভ-দ্রাবিড়-লক্ষণরা পরিণত হলেন আরও! ইডেন মহাকাব্য রচিত হলো। বীরেন্দর শেওয়াগ নামের পা-না-চলা-হাত-শক্ত এক ব্যাটসম্যান দেখালেন নতুন কিছু।

     

    ক্রিস কেয়ার্নস বিদায় নিলেন, শেন বন্ডরা তখন নতুন দিনের তারকা। অ্যাডাম প্যারোরে গেলেন, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এলেন। স্টিভেন ফ্লেমিংও বিদায় বলে দিলেন!

     

    ইনজামাম-ইয়োহানা থেকে ইউসুফ-ইউনুস খানরা সাঈদ আনোয়ারদের অকস্মাত চলে যাওয়ার ধাক্কা সামাল দিতে ব্যস্ত। শোয়েব আখতার-ব্রেট লিতে তুমুল যুদ্ধ। গতির। শন টেইট এলেন তারপর। শেন বন্ড অংশ নিতে পারতেন, চোট তা হতে দিল না।

     

    জ্যাক ক্যালিস অলরাউন্ডের সব রেকর্ড নিজের করে নিলেন প্রায়। তারপর বিদায়। বিস্ময় অধিনায়ক হয়ে আসা গ্রায়েম স্মিথও তুলে রাখলেন প্যাডজোড়া।

     

    রানাতুংগা-ডি সিলভারা চলে গেলেও জয়াসুরিয়া-ভাস-মুরালি ছিলেন। এলেন জয়াবর্ধনে, এলেন সাঙ্গাকারা। তাঁদের কাঁধে শ্রীলঙ্কার জোয়াল বইলো কতদিন। কার্ল হুপাররা গেলেন, ওয়ালশ গেলেন, অ্যামব্রোস গেলেন, রয়ে গেলেন লারা। তারপর যাবার আগে বলে গেলেন, ‘ডিড আই এন্টারটেইন ইউ?’

     

    সে প্রশ্নের উত্তর আলাদা করে দেওয়ার কী প্রয়োজন আছে কোনো! নেই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের একজন ‘রাজপুত্র’ প্রয়োজন ছিল। এখনও আছে। ক্যারিবীয় সমুদ্রের তীরে সন্ধান চলছে তাঁর। তবে থাকলেন একজন চন্দরপল, সারওয়ান, গেইলদের নিয়ে। জিম্বাবুয়েতে অদ্ভুত বিষণ্ণ এক বাতাস এসে যেন মিলিয়ে নিয়ে গেল ফ্লাওয়ারস-স্ট্রিক-জনসন-ক্যাম্পবেলদের। টাটেন্ডা টাইবু নামের এক ছোটখাট শরীরের ‘কালো’ মানুষই হলেন অধিনায়ক!

     

    ৫.

     

    আজ ক্রিকেটের রাজপুত্র নেই, রেকর্ডের বরপুত্র লিটল মাস্টার নেই। নেই সেই ওয়াল, ফ্লিকের সেই রাজা, মুলতানের সুলতান, নেই পান্টারের পুল, মাতারা হারিকেনের হাঁটু তুলে মারা সেই শটগুলো। সুইংয়ের রাজা নেই, গতির সেনানীরা নেই। লেগস্পিনের অন্য নাম বিদায় বলেছেন, অফস্পিনে অনেক অনেক উইকেট নিয়ে থেমেছেন আরেকজন।

     

    হঠাৎ ছোবল মেরে ওঠা বলের কারিগর থেমেছেন, দুহাত দিয়ে দুহাতের কিপিং গ্লাভস নিয়মিতভাবে ঠিক করেন না কেউ আর। আরও কত নাম, কত চরিত্র।

     

    তাঁদের জায়গায় এলেন আরও কতজন।

     

    মাইকেল ক্লার্ক, কুমার সাংগাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, ড্যানিয়েল ভেট্টোরি, গ্রায়েম স্মিথ, মাইকেল হাসি। বাইশ গজের চৌহদ্দিতে ফুরিয়ে এল তাঁদেরও দিন! শিব চন্দরপলও থেকেও নেই।

     

    ৬.

     

    টনি গ্রেগের সেই ভরাট কন্ঠস্বর থেমে গেছে। রিচি বেনোর ‘শুপার্ব’ কানে বাজে এখনও, যদিও বেনো কোন সুদূরে যেন হারিয়ে গেছেন। রবিন জ্যাকম্যান, টনি কোজিয়ারদের গলা ভেঙ্গে গেছে। বিল ল’রিও ধারাভাষ্যের উর্ধ্বে উঠে গেছেন।

     

    একসময় আম্পায়ার বলতে বোঝা ডেভিড শেফার্ড হয়তো আজ ফিল হিউজকে এলবিডব্লিউ দেন, হয়তো আমাদের মানজারুল ইসলামের ফ্লাইটেই বোকা বনেছেন হিউজি।

     

    নতুন দিনের আম্পায়ার সাইমন টউফেলও ইতি টেনেছেন। বিলি বাউডেন নেই প্রায়। চলে যাবেন আলীম দারও।

     

    ৭.

     

    লর্ডস, লন্ডন।

     

    মিচেল স্টার্ক দেখলেন, ক্রিজের বাইরে বেন স্টোকস। থ্রো করলেন, হাতটা ‘বাড়ালেন’ স্টোকস। টেলিভিশন আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দিলেন, ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’ আউট হয়েছেন স্টোকস। অধিনায়ক মরগানের আম্পায়ারদের ‘ব্যাখ্যা’ মনঃপুত হলো না। ক্রিকেটের স্পিরিটের কথা উঠলো। একদল বললো, আবেদন না করলেও পারতেন, আরেক দল দেখালো আইন।

     

    আরও অনেক বছর পরে এভাবে আবার আউট হবেন কেউ। আবার বাঁধবে বিতর্ক।

     

    ইনজামামের আউটটার মতো করে।

     

    ৮.

     

    তখন সাকিবকে নিয়ে মহাকাব্য হবে। মাশরাফিকে নিয়ে লেখা হবে জয়গাঁথা; যেমন পাইলটের সেই ছয়, শান্তর সেই দৌড় নিয়ে বলা হয় এখন। স্টিভেন স্মিথ হয়ে উঠবেন নতুন কোনো ওয়াহ, অথবা পন্টিং বা ক্লার্ক। অ্যালেস্টার কুকের পরে আসবেন আরও কেউ, যিনি আরও নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাবেন ইংল্যান্ডকে। বিরাট কোহলি গড়বেন কত রেকর্ড, হয়তো আজিঙ্কা রাহানেদের কেউ হয়ে উঠবেন ‘দ্য ওয়াল’ এর যোগ্য উত্তরসূরি! কেন উইলিয়ামসন হয়ে উঠবেন আগামী দিনের কিউই ক্রিকেটের বিজ্ঞাপন। নতুন কোনো আকরাম-আনোয়ার খুঁজে পাবে পাকিস্তান। ডি ভিলিয়ার্সরা ঘুচাবেন আফ্রিকানদের চিরন্তন কোনো আক্ষেপ। চান্ডিমাল-ম্যাথুসরা নিবেন সাংগা-জয়ার দায়িত্ব। জেসন হোল্ডার বা অন্য কেউ ফিরিয়ে আনবেন সেই সোনালী ক্যারিবীয় দিন। এল্টন চিগুম্বুরারা জিম্বাবুয়েকে এনে দিবেন ভুলতে বসা নিয়মিত সাফল্যের স্বাদ!

     

    নাসের হুসেইন, মাইকেল আথারটন, মাইকেল স্ল্যাটার, মার্ক টেলর, মার্ক নিকোলাসরা হয়ে উঠবেন মাইক্রোফোনের কিংবদন্তি। রিচার্ড কেটেলব্রো, ক্রিস গ্যাফানিরা হবেন শেফার্ড-বাকনর বা আলীম-সাইমন।

     

    ৯.

     

    সেই সাদা-কালো টেলিভিশন আজ স্মৃতি। কম্পিউটার স্ক্রিন বা এলইডি অথবা রঙ্গীন বিশালকায় টেলিভিশনের স্ক্রিনে আজ তাই খুঁজে পাওয়া যায় না সেই ক্রিকেট-ফেরীওয়ালাদেরও। জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’র চরিত্রগুলোর মতো ক্রিকেটের কতদিনের চেনা মুখগুলোও যেন হারিয়ে গেল অকস্মাৎ। আমাদের শৈশবে যাঁরা তারকা ছিলেন, তাঁরা গেলেন, যাঁরা তারকা হয়ে উঠলেন কৈশোর-যৌবনে, তাঁরাও গেলেন! বাইশ গজের চৌহদ্দির হিসাব-নিকাশ শেষ তাঁদের।

     

    তাঁদের কেউ এখন কোচ, কেউ ধারাভাষ্যকার। কেউবা আছেন অন্য কিছু নিয়ে। শুধু ওই চেনা ভঙ্গিমায় দেখা যায় না তাঁদের। যাবেও না আর! 

     

    একসময় মনে হতো, যেদিন এই ক্রিকেটাররা ক্রিকেট ছেড়ে চলে যাবে, কী অনুভূতি হবে সেদিন! এখনও চেনা ক্রিকেটে হঠাৎ কারও মুখ ভেসে ওঠে। কারও স্ট্যান্স, বোলিং অ্যাকশন খুঁজে ফেরা হয়!

     

    তবুও ক্রিকেট থাকে, ক্রিকেটের মতো করেই। নতুনের আবাহন শুনে জাগে নতুন সুর। রচিত হয় নতুন কোন উপন্যাস, নতুন কোনো চিত্রনাট্য।

     

    তবুও ক্রিকেটেই খুঁজে ফেরা হয় সেই চিরন্তন জীবন।

     

    আহা, ক্রিকেট!

     

     


     

    সম্পর্কিত লেখাঃ যে আগুন ছড়িয়ে গেলো সবখানে

     


     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন