• বিশ্বকাপের দল-ব্যবচ্ছেদ
  • " />

     

    'দ্বিতীয়' বিশ্বকাপের আগে 'প্রথম' আফগানিস্তানের সামনে পাঁচ প্রশ্ন

    আফগানিস্তান- রূপকথা। রূপকথা- আফগানিস্তান। এ বিশ্বকাপে এমন কোনও দল নেই, যার ক্রিকেটারদের আছে আইসিসির ডিভিশন ফাইভ টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতা। মোহাম্মদ নবি, আসগর আফগান, গুলবাদিন নাইবদের সেটা আছে। তারা এমন কিছু দেখে এসেছেন, যা দেখেননি অন্য দলের কেউ। বিশ্বকাপও তাদের কাছে নতুন নয়। গতবার সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে খেললেও দ্বিতীয় বিশ্বকাপে আফগানিস্তান যাচ্ছে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে, অবশ্যই প্রথমবারের মতো। প্রত্যাশার চাপটাও হয়তো এবার একটু বেশিই তাদের ওপর। তবে সেই বেশিটা কতোখানি? সেটা নির্ভর করছে নিচের প্রশ্নগুলোর জবাবের ওপর...

    টপ অর্ডার আদতেই হবে আক্রমণাত্মক? 

    মোহাম্মদ শাহজাদ ও হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের ওপেনিং জুটি আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের অন্যতম অস্ত্র, বেশ একটা দৃঢ় মিডল অর্ডারের আগে। জাজাইয়ের আছে বড় শটের সামর্থ্য, শাহজাদের ধরনই আক্রমণাত্মক। রহমত শাহ আফগানিস্তানের নতুন টেস্ট অধিনায়ক, প্রথম টেস্ট জয়ের অন্যতম নায়ক, তার খেলার কথা তিনে। গত বিশ্বকাপের পর থেকে আফগানিস্তান জিতেছে, এমন ম্যাচগুলিতে শাহজাদের গড় বেড়ে যায় দশ, স্ট্রাইক রেটও বাড়ে কিছুটা। রহমতের গড় ৩৬ থেকে বেড়ে হয় ৫০। টপ অর্ডারে আফগানিস্তানের ব্যাক-আপ নূর আলি জাদরান, নতুন বল সামলানোর সামর্থ্যটা ভাল তার, অবশ্য স্ট্রাইক রেটটা সুবিধার নয় খুব একটা- ৬৩.৩৫। তবে শাহজাদ, জাজাই, রহমতরা ভাল শুরু এনে দিতে পারলে দিনটা ভাল যেতে পারে আফগানিস্তানের, বিশ্বকাপে টপ অর্ডারের কাছ থেকে চাওয়াটা নিশ্চয়ই তেমনই। পারবেন তারা? 

    কাজে আসবে স্পিন-অস্ত্র? 

    শীর্ষ দশে আফগানিস্তান স্পিনার দুজন- রশিদ খান তিনে, লেগস্পিনে বিশ্বের অন্যতম বড় নাম এখন। মুজিব উর রেহমান আছেন নয়ে, তিনি রহস্য স্পিনার। শীর্ষ বিশে থাকা আরেকজন মোহাম্মদ নবি, তিনি আবার অফস্পিনার। আফগানিস্তানের স্পিন তাদের অন্যতম বড় অস্ত্র। তবে প্রশ্নটাও এখানেই, তিনজনের কম্বিনেশন একাদশে কিভাবে ঠিক করবে আফগানিস্তান? নবি ও রশিদের অলরাউন্ড সামর্থ্য অবশ্য তাদের কাজটা খুব বেশি কঠিন করবে না, তবে মুজিবকে খেলানোর উপায়টা বের করতে হবে তাদের। বিশেষ করে ইংলিশ কন্ডিশনে পেসারদের চাহিদা থাকলে তিনজনের সমন্বয়ের কাজটা সহজ নয় তাদের জন্য। 

     

     

    গুলবাদিন-চাপ, গুলবাদিনের চাপ 

    বিশ্বকাপের আগে অধিনায়কত্বে বদল এসেছে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের। শ্রীলঙ্কার অধিনায়কত্ব নিয়ে সমস্যাটা বেশ পুরোনোই, গত বিশ্বকাপের পর থেকে দিমুথ করুনারত্নের আগে তাদেরকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছয়জন। তবে আফগানিস্তানের তেমন কোনও সমস্যা ছিল না, বরং গত বিশ্বকাপের পর থেকে তাদের যা কিছু সাফল্য, সবই প্রায় আসগর আফগানের হাত ধরেই আসা। 

     

     

    বিশ্বকাপের আগে তাকে সরিয়েই চমক দিল আফগানিস্তান। বোর্ডের ভাষ্যমতে, ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের এই সিদ্ধান্ত, যেটির প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন নবি-রশিদরাও। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের আগে এমন সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে যাবে না তো আফগানিস্তানের? নাকি নাইব এনে দেবেন নতুন কোনও রূপকথা? 

     


    নিজেদের আলাদা করে চেনাবেন পেসাররা?

    গুলবাদিন নাইব, দাওলাত জাদরান, আফতাব আলমের সঙ্গে আফগানিস্তানের পেস আক্রমণে ডাকা হয়েছে হামিদ হাসানকে, যিনি তিন বছর পর বিশ্বকাপের আগে খেলেছেন ওয়ানডে। এক্সপ্রেস গতির নন কেউ, তবে কার্যকরী হতে পারেন তারা। গত বিশ্বকাপের পর থেকে আফগানিস্তান জিতেছে এমন ম্যাচগুলিতে জাদরান ও নাইবের গড় কমে আসে যথাক্রমে প্রায় ৬ ও ৭ করে, কমে আসে ইকোনমিও। এমনিতে স্পিন-নির্ভর বোলিং আক্রমণ আফগানিস্তানের, তবে ইংল্যান্ডে নিজেদের দায়িত্বটা ঠিকঠাক পালন করার বড় দায়িত্ব নাইব-জাদরানদের ওপর। 

    এবং 'দ্বিতীয়' বিশ্বকাপ... 

    ২০১১ বিশ্বকাপ খেলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৮ সালে আইসিসির ডিভিশন ফাইভ টুর্নামেন্ট খেলেছিল আফগানিস্তান। সেবার সফল হয়নি তারা, ২০১৫ সালে হয়েছে বিশ্বকাপে অভিষেক। এবার দশ দলের বিশ্বকাপে তারা এসেছে বাছাইপর্ব পেরিয়ে, নাটকীয়ভাবে। এমনকি সে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে। জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ডের মতো পূর্ণ সদস্য, স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালি সহযোগী দলগুলি বিশ্বকাপে নেই। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে নবীন দল তাই আফগানিস্তানই, ফরম্যাটটাও বেশ কঠিন তাদের জন্য। 

    দ্বিতীয় বিশ্বকাপে নতুন কোনও রূপকথার গল্প লেখা হবে আফগানদের? 

    স্কোয়াড 
    গুলবাদিন নাইব (অধিনায়ক) 
    মোহাম্মদ শাহজাদ
    নূর আলি জাদরান 
    হজরতউল্লাহ জাজাই 
    রহমত শাহ 
    আসগর আফগান 
    হাশমতউল্লাহ শাহিদি
    নাজিবুল্লাহ জাদরান 
    সামিউল্লাহ শিনওয়ারি 
    মোহাম্মদ নবি
    রশিদ খান 
    দাওলাত জাদরান 
    আফতাব আলম 
    হামিদ হাসান 
    মুজিব উর রেহমান 

    কোচ- ফিল সিমন্স 

    বিশ্বকাপে রেকর্ড- ২০১৫ সালে একমাত্র বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বেই আটকে গিয়েছিল আফগানিস্তান 

    সূচি 
    অস্ট্রেলিয়া, ১ জুন, ৬.৩০, ব্রিস্টল* 
    শ্রীলংকা, ৪ জুন, ৩.৩০, কার্ডিফ 
    নিউজিল্যান্ড, ৮ জুন, ৬.৩০, টন্টন* 
    দক্ষিণ আফ্রিকা, ১৫ জুন, ৬.৩০, কার্ডিফ* 
    ইংল্যান্ড, ১৮ জুন, ৩.৩০, ওল্ড ট্রাফোর্ড 
    ভারত, ২২ জুন, ৩.৩০, সাউদাম্পটন 
    বাংলাদেশ, ২৪ জুন, ৩.৩০, সাউদাম্পটন 
    পাকিস্তান, ২৯ জুন, ৩.৩০, লিডস 
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৪ জুলাই, ৩.৩০, লিডস 

    *দিবা-রাত্রির ম্যাচ