• বিশ্বকাপের দল-ব্যবচ্ছেদ
  • " />

     

    'চ্যাম্পিয়ন' অস্ট্রেলিয়ার সামনে বিশ্বকাপের আগে পাঁচ প্রশ্ন

    বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল, গতবারের চ্যাম্পিয়ন। মাঝের ডামাডোল কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া ফিরেছে ট্র্যাকে, ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজ জেতার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও জয় দিয়ে তারা জানান দিয়েছে, এবারও বেশ একটা চ্যালেঞ্জ জানাবে তারা। আদতে কতখানি প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়া? শিরোপা ধরে রাখার মিশনে তাদের সামনে হাজির হবে নিচের প্রশ্নগুলি...

     

    টপ অর্ডারে টপ অস্ট্রেলিয়া? 

    গত বিশ্বকাপের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ রান-সংগ্রাহক অ্যারন ফিঞ্চ, তবে ফর্মটা হারিয়ে ফেলেছিলেন মাঝের ডামাডোলে। এমনকি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের জায়গা নিয়েই শঙ্কিত ছিলেন তিনি। ফর্মে ফিরেছেন, অস্ট্রেলিয়া পেয়েছে স্বস্তি। ফিঞ্চের পর সবচেয়ে বেশি রান যে দুজনের, সেই ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথও ফিরেছেন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে। ওয়ার্নার আইপিএলে ছিলেন বেশ ধারাবাহিক, স্মিথ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে করেছেন সেঞ্চুরি। এ তিনজনেরই আছে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা। টপ অর্ডারে তিনজনের ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। ছন্দটা খুঁজে পাবেন তারা? 

    চোটকবল পেস-আক্রমণ

    মিচেল স্টার্ক গত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। গত বিশ্বকাপের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি উইকেট প্যাট কামিন্সের। জ্যাসন বেহরেনডর্ফের সঙ্গে আছেন কেন রিচার্ডসন, ন্যাথান কোল্টার-নাইল। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মার্কাস স্টোইনিসও তাদের শক্তির জায়গা, ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচেও দেখিয়েছেন, ডেথ ওভারে তিনি হতে পারেন কার্যকরী। 

     

     

    দল নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়া সবচেয়ে বড় মধুর সমস্যায় পড়েছিল এই বিভাগেই- চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়নি জশ হ্যাজলউডের। তবে চোটের সমস্যা আছে স্টার্ক-কামিন্সদের, তাদের ফিটনেসের ওপর নির্ভর করছে অস্ট্রেলিয়ার অনেক কিছুই। অবশ্য গত বিশ্বকাপের পর থেকে পেসাররা ৫ উইকেটের বেশি নিয়েছেন, এমন মাত্র ৪টি ম্যাচ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।  



    জ্যাম্পাই সবেধন নীলমণি?

    ইংল্যান্ডের মাটিতে ভূমিকা রাখতে পারে স্পিন, সেটা স্বীকার করেছেন অধিনায়ক ফিঞ্চও। এবার পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন বোলিংয়ের যে প্রজাতি, তাদেরই একজন স্পিনে অস্ট্রেলিয়ার কান্ডারি- অ্যাডাম জ্যাম্পা। তার সঙ্গী ন্যাথান লায়ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল অস্পফিনার হলেও ওয়ানডে অভিজ্ঞতা তার জ্যাম্পার চেয়ে প্রায় অর্ধেক। কাজ চালানোর মতো অপশন হিসেবে আছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কাউন্টিতে অফস্পিনে বেশ ভালই করেছেন তিনি। হাত ঘুরাতে পারেন অ্যারন ফিঞ্চ, স্মিথরাও। তবে যথেষ্ট হবে সেসব? 

    গোড়ায় গন্ডগোল হবে না তো?  

    গত বিশ্বকাপের পর থেকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওপেন করেছে ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন জুটি। বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ে নামার মতো আছেন চারজন- ওয়ার্নার, ফিঞ্চ, উসমান খাওয়াজা, শন মার্শ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটিং করেছেন চারজনই, ওপেনিংয়ে কারা থাকবেন সেটা তাই নিশ্চিত করেনি এখনও অস্ট্রেলিয়া। পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে গত চার বছরে সবচেয়ে বেশি রান ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের, তবে গড়ে বেশ এগিয়ে খাওয়াজার সঙ্গে ফিঞ্চের জুটি। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার গোড়াপত্তনের কাজটা করবেন কারা? 

    টুর্নামেন্ট ‘ক্যারি’ করতে পারবেন ক্যারি? 

    সহকারি কোচ ব্র্যাড হ্যাডিনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা আছে কিনা। প্রশ্নটা অদ্ভুত, তবে অস্ট্রেলিয়ার সমস্যাটাও সেরকমই। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অস্ট্রেলিয়ার স্পেশালিস্ট কিপার একজনই- অ্যালেক্স ক্যারি। দলে সুযোগ পাননি পিটার হ্যান্ডসকম। ক্যারির চোট তাই অস্ট্রেলিয়াকে ফেলে দিতে পারে অদ্ভুত সমস্যায়, তখন কিপিং গ্লাভস সামলাবেন কে! নিজের ফেরার ব্যাপারটা নাকচ করেছেন হ্যাডিন, সম্ভাবনা হিসেবে বলেছেন ফিঞ্চ-ওয়ার্নারের কথা। কিপিং গ্লাভস সামলানোর অভিজ্ঞতা টুকটাক আছে তাদের, তবে টুর্নামেন্টজুড়েই হয়তো অস্ট্রেলিয়ার প্রার্থনা থাকবে, অন্তত ক্যারির যাতে কিছু না হয়! 

    স্কোয়াড

    • অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক) 
    • ডেভিড ওয়ার্নার
    • উসমান খাওয়াজা
    • শন মার্শ
    • স্টিভ স্মিথ
    • গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
    • মার্কাস স্টোইনিস 
    • অ্যালেক্স ক্যারি 
    • অ্যাডাম জ্যাম্পা
    • ন্যাথান লায়ন
    • মিচেল স্টার্ক
    • প্যাট কামিন্স
    • জ্যাসন বেহরেনডর্ফ
    • ন্যাথান কোল্টার-নাইল
    • কেন রিচার্ডসন

    কোচ- জাস্টিন ল্যাঙ্গার

    সূচি 
    আফগানিস্তান, ১ জুন, ৬.৩০, ব্রিস্টল*  
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৬ জুন, ৩.৩০,নটিংহাম 
    ভারত, ৯ জুন, ৩.৩০, ওভাল
    পাকিস্তান, ১২ জুন, ৩.৩০, টন্টন 
    শ্রীলংকা,১৫ জুন, ৩.৩০, ওভাল 
    বাংলাদেশ, ২০ জুন, ৩.৩০, নটিংহাম 
    ইংল্যান্ড, ২৫ জুন, ৩.৩০, লর্ডস 
    নিউজিল্যান্ড, ২৯ জুন, ৬.৩ও, লর্ডস*  
    দক্ষিণ আফ্রিকা, ৬ জুলাই, ৬.৩০, ওল্ড ট্রাফোর্ড* 

    *দিবারাত্রির ম্যাচ

    বিশ্বকাপে রেকর্ড 
    ১৯৭৫-রানার্সআপ
    ১৯৭৯- গ্রুপ পর্ব 
    ১৯৮৩-গ্রুপ পর্ব 
    ১৯৮৭-চ্যাম্পিয়ন
    ১৯৯২-গ্রুপ পর্ব 
    ১৯৯৬-রানার্সআপ 
    ১৯৯৯- চ্যাম্পিয়ন
    ২০০৩-চ্যাম্পিয়ন
    ২০০৭-চ্যাম্পিয়ন 
    ২০১১-কোয়ার্টার ফাইনাল 
    ২০১৫-চ্যাম্পিয়ন