• বিশ্বকাপের দল-ব্যবচ্ছেদ
  • " />

     

    • বিশ্বকাপের দল-ব্যবচ্ছেদ

    'পয়া' ইংল্যান্ডে পাকিস্তানের পাঁচ 'দুর্ভাবনা'

    এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল এমন একটা রেকর্ড নিয়ে এসেছে, যেটা আর কোনো দলেরই নেই। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো ১০ ওয়ানডেতে হারের কালি তাদের গায়ে। পেসারদের অফ ফর্ম, মিডল অর্ডারে নানা প্রশ্ন, হুট করে চূড়ান্ত দলে পরিবর্তন- পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অভিযানের আগে আছে নানা প্রশ্ন। 

     

    ইংল্যান্ডই ফেরাবে ভাগ্য? 

    র‍্যাঙ্কিংয়ে ছয়ে, ফর্মটাও ভালো যাচ্ছে না মোটেই। শেষ চারে গেলেও সেটাকে সাফল্যই ধরতে হবে সরফরাজের দলের জন্য। তবে ইংল্যান্ড বলেই হয়তো কিছুটা আশা দেখতে পারে পাকিস্তান। ইতিহাস বলে, ইংল্যান্ডে বড় টুর্নামেন্টে রেকর্ডটা তাদের দুর্দান্ত, অন্তত গত ২০ বছরে। সর্বশেষ ইংল্যান্ডের মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনালে গিয়েছিল পাকিস্তান, সেবারই সর্বশেষ শিরোপার অতটা কাছাকাছি যাওয়া তাদের। ২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডে শিরোপা উঠেছিল তাদের হাতে। এরপর ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে চমকে দিয়ে শিরোপা তাদের হাতেই, সেটাও ইংল্যান্ডেই। সর্বশেষ সেই শিরোপার পর থেকে পাকিস্তানের ওয়ানডে ফর্ম উল্টোস্রোতের যাত্রী, তবে ইংল্যান্ড বলেই তাদের আশাটা হয়তো বেশি।

     

    পেসাররা ফিরবেন ফর্মে?

     

    বিশ্বকাপের আগে হঠাৎ করেই ফর্ম হারিয়ে বিবর্ণ পাকিস্তানের পেসাররা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র শেষ হওয়া সিরিজে চার ম্যাচ মিলে মাত্র ১৪টি উইকেট নিয়েছেন পাকিস্তানের পেসাররা। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো গড় মোহাম্মদ হাসনাইন ও শাহীন শাহ আফ্রিদির, ৪৯! শুরুতে, শেষে সবখানেই খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন পেসাররা। তবে সবাই ব্যর্থ হলেও বলির পাঁঠা হতে হয়েছে জুনাইদ খান ও ফাহিম আশরাফকে। এই দুজনকে বাদ দিয়ে শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত দলে ঢুকে গেছেন মোহাম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজ। আমিরের ফেরাটা খুব চমক ছিল না, তবে ওয়াহাব ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর আর ওয়ানডেই খেলেননি। কোচ মিকি আর্থার গত বছরও বলেছিলেন, ওয়াহাব তাদের পরিকল্পনায় নেই। তার ওপর বাদ পড়াটা ভালোভাবে নিতে পারেননি জুনাইদ, কালো টেপ বাঁধা ছবি ফেসবুকে দিয়ে প্রতিবাদও জানিয়েছেন।

     

    টপ অর্ডারই ভরসা, কিন্তু স্ট্রাইকরেট?

    ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা তিন ম্যাচে ৩৪০ পেরিয়েছে পাকিস্তান, যদিও হেরেছে তিনটি ম্যাচই। তবে তাতে টপ অর্ডারের অবদান খাটো হয়ে যাচ্ছে না। ইমাম উল হক, ফখর জামানের ওপেনিং জুটির পর বাবর আজমও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন জনই পেয়েছেন সেঞ্চুরি। সমস্যা হচ্ছে, ২০১৫ সালের পর থেকে পাকিস্তানি ওপেনারদের সেঞ্চুরি, গড় সবই ভালো হলেও স্ট্রাইক রেট ৮৪। এমনিতে সেটা খারাপ নয়, তবে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে দ্রুত রান তোলার হারটা আরেকটু বাড়াতে হতে পারে তাদের। 

     

    কাজে আসবে আসিফ আলীর এক্স ফ্যাক্টর?

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দুই ফিফটিতে ছয়-সাতে নিজের দাবিটা জানান দিয়ে রেখেছেন আসিফ আলী। বিশ্বকাপের দলেও ডাক পেয়েছেন, কিন্তু নিয়তির কী অদ্ভুত পরিহাস; সেদিনই নিজের দুই বছরের শিশুকন্যাকে হারিয়েছেন ক্যান্সারে।  পাওয়ার হিটারের ভূমিকায় আসিফ কতটা কার্যকর হবেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অনেকটা ভাগ্য নির্ভর করছে হয়তো তার ওপর। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, শোককে শক্তিতে পরিণত করতে পারবেন?

     

    চার-পাঁচের সমস্যা মিটবে?

    ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টপ অর্ডার ভালো করলেও চার-পাঁচ নিয়ে কিছুটা চিন্তা থেকেই গেছে পাকিস্তানের। মোহাম্মদ হাফিজ, হারিস সোহেল, শোয়েব মালিকদের কেউ বড় রান পাননি তেমন। বরং অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদই পাঁচে উঠে এসে শেষ ম্যাচে আরেকটু হলে পেয়ে গিয়েছিলেন সেঞ্চুরি। গত দুই বছরে চারে নিয়মিত ছিলেন হাফিজই, তিনি না থাকলে খেলেছেন হারিস। পাঁচে শোয়েব মালিক নিয়মিত খেললেও হয়তো অধিনায়কের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হতে পারে তাঁকে।

     

     

     

    স্কোয়াড

    সরফরাজ আহমেদ (অধিনায়ক), আবিদ আলি, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফাখার জামান, হারিস সোহেল, হাসান আলি, ইমাদ ওয়াসিম, ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, শাদাব খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক

     

    র‍্যাঙ্কিং-

    সূচি

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৩১ মে, ৩.৩০, নটিংহাম

    ইংল্যান্ড, ৩ জুন, ৩.৩০, নটিংহাম

    শ্রীলংকা, ৭ জুন, ৩.৩০, ব্রিস্টল

    অস্ট্রেলিয়া, ১২ জুন, ৩.৩০, টন্টন

    ভারত, ১৬ জুন, ৩.৩০, ওল্ড ট্রাফোর্ড

    দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৩ জুন, ৩.৩০, লর্ডস

    নিউজিল্যান্ড, ২৬ জুন, ৩.৩০, বার্মিংহাম

    আফগানিস্তান, ২৯ জুন, ৩.৩০, লিডস

    বাংলাদেশ, ৫ জুলাই, ৩.৩০, লর্ডস

     

    বিশ্বকাপে রেকর্ড

    ১৯৭৫- গ্রুপ পর্ব

    ১৯৭৯-সেমিফাইনাল

    ১৯৮৩- সেমিফাইনাল

    ১৯৮৭-সেমিফাইনাল

    ১৯৯২-চ্যাম্পিয়ন

    ১৯৯৬-কোয়ার্টার ফাইনাল

    ১৯৯৯-ফাইনাল

    ২০০৩-গ্রুপ পর্ব

    ২০০৭-গ্রুপ পর্ব

    ২০১১- সেমিফাইনাল

    ২০১৫-কোয়ার্টার ফাইনাল