• বিশ্বকাপের দল-ব্যবচ্ছেদ
  • " />

     

    • বিশ্বকাপের দল-ব্যবচ্ছেদ

    'ফেবারিট' ভারতের পাঁচ ভাবনা

    লর্ডসে তেরঙা পতাকা উড়েছিল ১৯৮৩ সালে। এরপর ওয়াংখেড়েতে আরেকবার উড়ল ২০১১ সালে। কপিল দেব, মহেন্দ্র সিং ধোনির পর এবার কি তবে বিরাট কোহলি? ইংল্যান্ডে ভারতের পক্ষে বাজি ধরার লোকের অভাব নেই। তবে তার আগে সামনে আসবে বেশ কিছু প্রশ্নও।

     

    চার নম্বরে রাহুলই ভরসা?

    চার নম্বরে কে ব্যাট করবেন, সেট নিয়ে কত জলঘোলা হয়ে গেল। কয়েক বছর ধরেই এখানে কেউ নির্ভরতা দিতে পারছেন না ভারতকে। গত এক বছর এখানে আম্বাতি রাইড়ুর রান সবচেয়ে বেশি হলেও বিশ্বকাপ দলে জায়গাই পাননি। ঋষভ পান্টকেও বিবেচনা করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁকেও রাখা হয়নি। শিকে ছিড়ল ‘থ্রি ডাইমেনশনাল’ বিজয় শংকরের, সেটা নিয়ে খোঁচাও দিলেন রাইড়ু। দীনেশ কার্তিককেও রাখা হলো বিকল্প ভাবনায়। তবে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বোঝা গেল, কেএল রাহুলকেই চার নম্বরের জন্য ভাবছে ভারত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানে আউট হলেও কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে চারে নেমে দারুণ একটা সেঞ্চুরি পেয়েছেন রাহুল। শংকর, কার্তিকও এর মধ্যে সেভাবে কিছু করতে পারেননি। রাহুলেই সম্ভবত পেয়ে গেছে চারের সমাধান।

     

    বৈচিত্র্যেও মধুর সমস্যা?

    সম্ভবত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় বোলিং আক্রমণ নিয়েই যাচ্ছে ভারত। বুমরা, ভুবনেশ্বর, সামির সঙ্গে দুইজন রিস্ট স্পিনার, একজন বাঁহাতি স্পিনার আর সঙ্গে অনুময়ে কেদার যাদব। আর পান্ডিয়া তো আছেনই। সমস্যা হচ্ছে, এঁদের মধ্য থেকে ঠিক কম্বিনেশনটা খুঁজে বের করাই সবচেয়ে কঠিন। কুলদীপ অবশ্যই বড় অস্ত্র, এই মুহূর্তে চাহালের চেয়ে একাদশের দৌড়ে এগিয়েও আছেন। দুজনেই কাল ভালো করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, জাদেজাও সুযোগ পেলে দাবি জানিয়ে রাখছেন।
     

    যাদবের জায়গায় কে?

    চার নম্বর নিয়ে তো বটেই, ছয় নম্বর নিয়েও পুরোপুরি নির্ভার থাকতে পারছেন না কোহলি। এদার যাদব এখনও সেরে উঠেননি, কাল বাংলাদেশের বিপক্ষে নামতে পারেননি। প্রথম ম্যাচের আগে যদিও ফিট হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি নামতে না-ই পারেন, তাহলে তাঁর জায়গায় কে খেলবেন? বিজয় শংকরকে নিলে একজন বাড়তি বোলারের জায়গা তৈরি হয়, সেতা ছাড়া সম্ভবত উপায়ও নেই ভারতের। তবে কেদারের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে অফ স্পিনের অবাহবও হয়তো টের পাবেন কোহলি।

     

     

     

    টপ অর্ডারেই বাজিমাত?

    খুব সম্ভবত টুর্নামেন্টের সেরা টপ অর্ডারের ট্রফিটা ভারতেরই। রোহিত শর্মা-শিখর ধাওয়ান একসঙ্গে খেলছেন অনেক দিন ধরেই, ওয়ানডেতে নিজেদের দিনে যে কেউই একা শেষ করে দিতে পারেন খেলা। আর বিরাট কোহলি নিজেকে তো অতিমানবের উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। গত বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান করা প্রথম নয়েই আছেন এই তিনজন, সবার ওপরে আছেন কোহলি ও রোহিত। বিশ্বকাপে ভারতের সম্ভাবনা অনেকটুকু নির্ভর করছে এঁদের ওপরেই।

     

    লেজটা বেশিই বড়?

    সাতে পান্ডিয়া পর্যন্ত ভারতের ব্যাটিংয়ে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো অনেকেই আছেন। তবে দরকার হলে এরপর সেভাবে রান তোলার লোক কই? ভুবনেশ্বর ব্যাটিং মন্দ করেন না, কিন্তু চাহাল-কুলদীপ-বুমরাদের কাছ থেকে খুব একটা সাহায্য ব্যাটে নাও পেতে পারে ভারত। এখানে হয়তো নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যে কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন জাদেজা।

    স্কোয়াড

    বিরাট কোহলি (অধিনায়ক),রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, এমএস ধোনি, কেদার যাদব, হারদিক পান্ডিয়া, কুলদিপ যাদব, যুঝভেন্দ্র চাহাল, জাসপ্রিত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার, মোহাম্মদ শামি, বিজয় শঙ্কর, লোকেশ রাহুল, রবীন্দ্র জাদেজা, দীনেশ কার্তিক

     

    কোচ: রবি শাস্ত্রী

     

    র‍্যাংকিং 

    সূচি

    দক্ষিণ আফ্রিকা, ৫ জুন, ৩.৩০, সাউদাম্পটন

    অস্ট্রেলিয়া, ৯ জুন, ৩.৩০, ওভাল

    নিউজিল্যান্ড, ১৩ জুন, ৩.৩০, নটিংহাম

    পাকিস্তান, ১৬ জুন, ৩.৩০, ওল্ড ট্রাফোর্ড

    আফগানিস্তান, ২২ জুন, ৩.৩০, সাউদাম্পটন

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২৭ জুন, ৩.৩০, ওল্ড ট্রাফোর্ড

    ইংল্যান্ড, ৩০ জুন, ৩.৩০ , বার্মিংহাম

    বাংলাদেশ,  ২ জুলাই, ৩.৩০, বার্মিংহাম

    শ্রীলংকা, ৬ জুলাই, ৩.৩০, লিডস

     

    বিশ্বকাপের রেকর্ড

    ১৯৭৫-গ্রুপ পর্ব

    ১৯৭৯-গ্রুপ পর্ব

    ১৯৮৩ -চ্যাম্পিয়ন

    ১৯৮৭-সেমিফাইনাল

    ১৯৯২-গ্রুপ পর্ব

    ১৯৯৬-সেমিফাইনাল

    ১৯৯৯- সুপার সিক্স

    ২০০৩-রানার্সআপ

    ২০০৭-গ্রুপ পর্ব

    ২০১১-চ্যাম্পিয়ন

    ২০১৫ -সেমিফাইনাল