• বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ
  • " />

     

    মোস্তাফিজদের সাথে ভাষাগত সমস্যার সমাধান আছে ল্যাঙ্গেভেল্টের কাছে

    দুজনের খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের কোনো তুলনা হয় না। ‘হাইপ’ বা প্রত্যাশা যা-ই বলুন না কেন, কোর্টনি ওয়ালশ আর শার্ল ল্যাঙ্গেভেল্টের মধ্যে তার দুস্তর ব্যবধান। ওয়ালশ যেখানে সর্বকালের সেরা পেসারদের ছোট্ট তালিকায় থাকবেন, ল্যাঙ্গেভেল্টকে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট মানচিত্রে বড় জায়গা দেওয়া কঠিন। তবে বড় খেলোয়াড় হলে যে বড় কোচ হওয়া যায় না, ফুটবলের মতো সেই আপ্তবাক্য ক্রিকেটেও তো খাটে কিছুটা। ওয়ালশ যত বড় পেসার ছিলেন, শিক্ষক হিসেবে সেই মাপের কি না সেটা নিয়ে তাই তর্ক হতেই পারে। বাংলাদেশের কোচিং করানোর সময় ওয়ালশের যে মূল বাধা, সেই ভাষাগত সমস্যার কথাই উঠে এলো আজ। দক্ষিণ আফ্রিকান ল্যাঙ্গেভেল্টও সেই ব্যাপারে জানেন, সেটা তার কথা থেকে টের পাওয়া গেল। সেজন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে কথা বলার ওপরেই জোর দিয়েছেন বেশি।

    রিভার্স সুইং বা ইয়র্কার-বাউন্সার, এসব অনেক কিছু নিয়েই কথা হলো আজ। আসলে হয়েছিল ওয়ালশের সময়ও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি বার বারই বলেছিলেন, লাইন লেংথের ধারাবাহিকতার জন্য প্রচুর খাটতে হবে পেসারদের। নিজেও কম খাটেননি ওয়ালশ, মিরপুরে রোদে পুড়ে পেসারদের সঙ্গে তার কাজ করার ছবি ছিল নিয়মিত। কিন্তু পারফরম্যান্সে সেই ছাপ খুব একটা ফেলতে পারেননি মোস্তাফিজরা। বাংলাদেশের পেস আক্রমণ যে তিমিরে ছিল, কমবেশি থেকে গেছে সেই তিমিরেই।

    তবে ওয়ালশের সমস্যা যে অন্য জায়গায় ছিল, সেটা জাতীয় দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের কাছ থেকে জানা গিয়েছিল আগেই। ওয়ালশ এমনিত একটু অন্তর্মুখী লোক, মজা-টজা করলেও উপমহাদেশীয় চরিত্র বুঝে শিষ্যদের সঙ্গে যোগাযোগে কোথাও যেন একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছিল তার। আবার পেসাররাও ভাষাগত সমস্যার কারণে তার কাছ থেকে সেরাটা নিতে পারেননি, বা নেওয়ার চেষ্টা করেননি; সেই পর্যবেক্ষণও আছে সিনিয়র ক্রিকেটারদের। ল্যাঙ্গেভেল্টের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় যে এই বিষয়টা বিসিবি কর্তারা উল্লেখ করেছেন, সেই আভাস পাওয়া গেল আজ।

    ল্যাঙ্গেভেল্ট ডমিংগোর মতো যে খুব সপ্রাণ সপ্রতিভ তা নয়। কথা বলেন একটু আস্তে ধীরে, গম্ভীর নন অবশ্য। তবে কোচ হিসেবে যে জড়তা ঝেড়ে ছাত্রদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে, তা জানেন। আফগানিস্তানের বোলিং কোচ ছিলেন বছর দেড়েক। সেখানেও যে একই চ্যালেঞ্জ ছিল আজ সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আফগানিস্তানেও কিন্তু আমার সামনে একই রকম চ্যালেঞ্জ ছিল। আমার ধারণা সবার সঙ্গে গ্রুপে বললে যা হয়, একজনের সঙ্গে আলাদা করে কথা বললে সে নিজেকে আরেকটু বেশি প্রকাশ করতে পারে। আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, খেলোয়াড়েরা হ্যাঁ বলে দিত না বুঝেই। আমি জানি এটা কীভাবে সামলাতে হয়।’

    সেই উপায়ও বাতলে দিলেন সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার, ‘আমি আলাদা করে কথা বলতে চাই, তাহলে আমি ও বুঝতে পারব ও আসলেই বুঝেছে কি না। না বুঝলে অন্য কারও সাহায্য নিতে পারব। ক্তহা বলতে হবে আস্তেধীরে, তাড়াহুড়ো না করে। যেন পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারে। ফাস্ট বোলারদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক গড়াটাও জরুরি। যদি পরিবার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তাহলে তা-ই সই। আমার কাছে যে কোনো সময় যে কেউ স্বাগতম। আর যদি দরকার হয়, দোভাষীর সাহায্যও নেওয়া যায়। আমি জানি, এটা একটা চ্যালেঞ্জ। তবে এটা নিতে আমি তৈরি।’