• বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ
  • " />

     

    কোন দিকে যাবেন, বুঝতে পারছেন না মোসাদ্দেক

    টেস্ট সিরিজের ক্ষত এখনো দগদগে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে অন্ধকার সময় বোধ হয় চলছে এখন। বিশ্বকাপের পর থেকে ঠিকমতো হচ্ছে না কিছুই। এর মধ্যেই অবশ্য সব ভুলে নামতে হচ্ছে অনুশীলন, এক দিন পরেই যে আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজ। দ্বিধা আর সংশয়ের এই সময়ে সাকিবের ‘মন খুলে খেলার’ কথা মনে করিয়ে দিতে মোসাদ্দেক হোসেন বললেন, তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না কোনদিকে যাবেন।

    টেস্ট সিরিজের দল থেকে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশ দলে। মোসাদ্দেক অবশ্য আপাতত তিন ফরম্যাটেই আছেন। টেস্টের স্মৃতিটা স্বাভাবিকভাবেই তাড়া করে বেড়াবে। তবে মোসাদ্দেক সব ভুলে আপাতত টি-টোয়েন্টিতে মনযোগ দিতে চান, ‘এখানে যদি আমরা চিন্তা করি যে কামব্যাক করা কঠিন হয়ে যাবে তাহলে জিনিসটি অন্যরকম হয়ে যায়। ফরম্যাটটি পুরোপুরি আলাদা। টেস্ট ক্রিকেট ছিল আর এখন টি-টোয়েন্টি। সবাই চিন্তা করছে টি-টোয়েন্টি নিয়ে। আর এগুলোর চেয়েও আমরা বেশি ফোকাস করছি একটি ম্যাচ জেতার দিকে। একটি ম্যাচ জিতলে হয়তো মোমেন্টামটি আমাদের দিকে চলে আসবে আশা করি। ’

    সাকিব অবশ্য টেস্টে একটা কথা বলেছিলেন যে, মন খুলে খেলতে হবে সবাইকে। মোসাদ্দেককে সেটা মনে করিয়ে দিলে খানিকটা অসহায়েরই মতো বললেন, ‘দেখুন বিষয়টি এমন হয়েছে যে মন খুলে খেলতে গিয়ে আমি আউট হয়েছি। এটি নিয়েও আমার এখন প্রশ্নের উত্তর দেয়া লাগছে। আমি এখন কোন দিকে যাবো সেটি নিজে বুঝতে পারছি না। সামনে টি-টোয়েন্টি রয়েছে, আমি মনে করি এখানে বেশি ফোকাস করা উচিত।’

    টেস্টের চেয়ে এখানে অবশ্য ভূমিকাটা অন্যরকম হবে মোসাদ্দেকের। চার ওভাল বল হবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজেরও সেটি মনে আছে, ‘আসলে যখন সাদা বলে খেলা হয় তখন সবসময় আমি বোলিং এবং ব্যাটিং দুটিতেই খুব বেশি ফোকাস করি। কারণ আমি জানি যে আমাকে বেশিরভাগ সময়ে বোলিং করা লাগতে পারে। টেস্টে যখন আমি বোলিং করিনি, এটি নিয়ে চিন্তিত ছিলাম না যে টি-টোয়েন্টিতে বোলিং করবো না। অবশ্যই আমি যখন বোলিং করি তখন মেইন বোলার হিসেবেই করি। ’

     

     

    এখানেও অবশ্য চলে আসছে রশিদ খান জুজু। গত বছর ভারতে আফগানদের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতে রশিদ তো কম ভোগাননি, যেমন ভুগিয়েছেন গত টেস্টে। মোসাদ্দেক অবশ্য এসব মনে রাখতে চান না, ‘আসলে রশিদ খানকে নিয়ে আমরা ভয়ের কথা চিন্তা করি না। টেস্ট ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি পুরোটাই ভিন্ন ক্রিকেট। আমরা যখন টি-টোয়েন্টি খেলবো তখন কোনো ডিফেন্স করার কিংবা অনেক কিছু চিন্তা করার সময় নেই। এখানে আসলে রান করতে হবে সেটাই মূল ব্যাপার। তখন রশিদ খান বোলিং করছে কিনা কিংবা কে করছে সেটি নিয়ে চিন্তা না করে আমি মনে করি আমাদের কাজের জায়গাতে ফোকাস করা উচিত।’

    তবে নিজ থেকেই বললেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, ‘আমাদের যে ঘরোয়া লিগটি আছে সেখানে অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। মানে আরো বেশি ফোকাস করা উচিত। আমরা যারা খেলি তাদের আরো দায়িত্ব নিয়ে খেলা উচিত যেন টেস্ট খেলতে গেলে আমরা বেশি বেটার করতে পারি। ’

    আফগানিস্তানের কাছে হারের পর তাহলে বোধোদয় হচ্ছে ক্রিকেটারদের!