• বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ
  • " />

     

    মাসাকাদজার রূপকথার বিদায়ে আফগানিস্তান-গেরো কাটালো জিম্বাবুয়ে

    আফগানিস্তান ১৫৫/৮, ২০ ওভার 
    জিম্বাবুয়ে ১৫৬/৩, ১৯.৩ ওভার 

    জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে জয়ী


    পুরো স্কোরকার্ড দেখুন


    আফগানিস্তান তখনও ডিভিশন ফাইভ খেলেনি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে গিয়েছিল হ্যামিল্টন মাসাকাদজার। মাসাকাদজা এরপর ক্রিকেট থেকে বিরতি নিয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন, জিম্বাবুয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে গিয়ে ফিরে এসেছে আবার। সর্বশেষ তাদের পূর্ণ সদস্যপদ স্থগিত করেছে আইসিসি। এরই মাঝে দৃশ্যপটে এসেছে আফগানিস্তান, ক্রিকেটের অন্যতম উঠতি শক্তি হয়ে উঠেছে তারা, হয়ে উঠেছে জিম্বাবুয়ের নিয়মিত প্রতিপক্ষ। সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে এর আগে ৮টি টি-টোয়েন্টি খেলে একটিতেও জিততে পারেনি জিম্বাবুয়ে। মাসাকাদজা বিদায়ী ম্যাচে দেখে গেলেন সেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়। শুধু দেখে গেলেন না, ৪২ বলে ৭১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে রাখলেন বড় অবদান। তার ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের শেষটা হলো তার রূপকথার মতোই। ক্রিস এমপোফুর ৪ উইকেটের পর মাসাকাদজা ও চাকাভার ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের ১৫৫ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে গিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে সান্ত্বনার জয়টা পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। 

    রানতাড়ায় শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর ও মাসাকাদজা। মুজিবের প্রথম দুই বলেই চার-ছয় মেরেছিলেন টেইলর, পাওয়ারপ্লেতে দুজন মিলে তুলেছিলেন ৪৩ রান। অবশ্য ৪ ওভারেই উঠেছিল ৩৮ রান, মুজিবের ওপর চড়াও হয়ে ডিপ-মিডউইকেটে টেইলর ক্যাচ তোলায় ও গুলবাদিন নাইবের দারুণ ওভারে একটু থিতিয়ে এসেছিল জিম্বাবুয়ে। নবির লেংথ বলকে স্ট্যান্ডে পাঠিয়ে আবার জিম্বাবুয়েকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে এনেছেন এরপর মাসাকাদজা। 

    এদিন যেন সব ভুলে ব্যাটিংকে নতুন করে উপভোগ করছিলেন তিনি, নবিকে চার-ছয়ের পর রশিদ খানকেও তিনি মেরেছেন পরপর দুই বলে একই ক্রমের শট। ২৭ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, জাদরানের স্লোয়ারে লং-অনে নবির হাতে ধরা পড়ার আগে মেরেছেন ৪টি চারের সঙ্গে ৫টি ছয়। মাসাকাদজাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন আরেক অভিজ্ঞ রেজিস চাকাভা, আগের ম্যাচে ব্যর্থ হলেও এদিন তিনি করেছেন ৩২ বলে ৩৯, মুজিবের বলে ডিপ-মিডউইকেটে ক্যাচ দেওয়ার আগে। মাসাকাদজার সঙ্গে তিনি গড়েছেন ৭১ রানের জুটি। 
     


    এ দুজনকে ফেরানোর পর আরেকটি সুযোগ পেয়েছিল আফগানিস্তান, প্রথম বলেই মুজিবকে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন উইলিয়ামস, যেটি ফেলে দিয়েছেন তিনি। সে ওভারে দুই চার মেরে আফগানিস্তানকে আর কোনো সুযোগ দেয়নি আফগানিস্তান, শেষ ওভারে গিয়ে নিশ্চিত হয়েছে তাদের জয়।  

    টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে আফগানিস্তানের ব্যাটিং শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছিল বিশাল স্কোরের। রহমনউল্লাহ গুরবাজ ও হজরতউল্লাহ জাজাইয়ে আফগানিস্তানের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত, পাওয়ারপ্লেতে দুজন মিলে তুলেছিলেন ৫৫ রান। জিম্বাবুয়ের বোলাররাও শুরুতে ছিলেন এলোমেলো, হয় বেশি শর্ট, অথবা বেশি ওয়াইডে বল করেছিলেন তারা। আফগানিস্তান সে ঝড় চালিয়ে গেছে আরও কিছুক্ষণ। এর মাঝে চাকাভার হাতে মাদজিভার বলে সহজ ক্যাচ তুলেও বেঁচেছেন গুরবাজ। 

     

     

    অবশেষে জিম্বাবুয়ে ব্রেকথ্রু পেয়েছে মুতোমবদজির কাছ থেকে, তাকে স্লগ করতে গিয়ে লিডিং-এজড হয়ে ক্যাচ দেওয়ার আগে জাজাই করেছেন ২৪ বলে ৩১ রান। শফিকুল্লাহর সঙ্গে টেম্পোটা ধরে রাখারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন গুরবাজ, ৪০ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিও পেয়েছেন। শফিকও একটা জীবন পেয়েছেন, অবশ্য এবার সুযোগটা বেশ কঠিন ছিল ডিপ-মিডউইকেট থেকে দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়া চাকাভার জন্য। ১৩ বলে ১৬ রান করে এমপোফুর স্লোয়ারে স্লগ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে শফিকের, এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত থেকে রিভিউ নিয়েও বাঁচেননি তিনি। 

    এ উইকেট দিয়েই বাঁধ ভেঙেছে আফগানিস্তানের, জিম্বাবুয়ে চেপে ধরেছে তাদের। গুরবাজ ক্যাচ দিয়েও বাঁচলেন উইলিয়ামস নো-বল করায়, তবে সে ওভারেই আড়াআড়ি খেলতে গিয়ে হারিয়েছেন স্টাম্প। পরের ওভারে পেসের বৈচিত্রে নবিকে ফিরিয়েছেন এমপোফু, তুলে মারতে চাইলেও ঠিক উড়ানটা পাননি নবি। কিছু করতে পারেননি নাজিবুল্লাহ জাদরানও, মুতোমবদজির গুগলি পড়তে না পেরে তিনি তুলেছেন ক্যাচ। 

    মাঝে ১৭ বল বাউন্ডারি ছাড়া কাটিয়েছে আফগানিস্তান, উইলিয়ামসকে ছয়  মেরে সে খরা কাটিয়েছেন গুলবাদিন নাইব। অবশ্য জারভিসের বাউন্সারে এলোমেলো হয়ে গেছেন তিনি, করেছেন ৭ বলে ১০ রান। শেষ ওভারে এমপোফুকে টেনিস বল শটে ছয় মেরে শুরু করেছিলেন রশিদ, তবে সে ওভারে দুই উইকেট নিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ পেসার। অভিষিক্ত নিয়াজাইয়ের পর তিনি ফিরিয়েছেন নয়ে নামা আসগর আফগানকেও, বোলিং শেষ করেছেন ৩০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে, যা তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং, জিম্বাবুয়ের হয়ে যা দ্বিতীয় সেরা।