• বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ
  • " />

     

    ফাইনালের আগে আফগানিস্তান পেলো সাকিব-বার্তা

    আফগানিস্তান ১৩৮/৭, ২০ ওভার (জাজাই ৪৭, গুরবাজ ২৯; আফিফ ২/৯, সাইফউদ্দিন ১/২৩) 
    বাংলাদেশ ১৩৯/৬, ১৯ ওভার (সাকিব ৭০*, মুশফিক ২৬, মোসাদ্দেক ১৯*, নাভিন ২/২০, রশিদ ২/২৭) 
    বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী 


    পুরো স্কোরকার্ড দেখুন 
    যেভাবে ঘটলো 


    ম্যাচটা ফাইনালের পোশাকি মহড়া, মিরপুরে ২৪ তারিখ এ দুই দলই হবে মুখোমুখি। সে মহড়াটিকেই আফগানিস্তান-গেরো কাটানোর উপলক্ষ্য হিসেবে বেছে নিল বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির পর এ ফরম্যাটে আফগানিস্তানকে আবারও হারালো তারা। বোলারদের দারুণ প্রত্যাবর্তনে ঘুরে দাঁড়ানো সমন্বিত পারফরম্যান্সের পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ৪৫ বলে ৭০ রানের ইনিংসে আফগানিস্তানকে ৬ বল বাকি থাকতেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ের ওপরে থাকা আফগানিস্তানকে এর আগে নিজেদের চেয়ে 'শক্তিশালি দল' হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন সাকিব, চট্টগ্রামে তার পারফরম্যান্স আফগানদের কাছে গেল একটা বার্তা হয়েও। 

    রানতাড়ায় দুই ওপেনারকে শুরুতেই হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। পিচের ধীরগতির সঙ্গে যেন মানিয়ে নিতে পারছিলেন না বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। সাকিব সে পিচে ব্যাটিংয়ের মন্ত্রটা বের করে ফেললেন, শট খেলার জন্য সময় দিলেন নিজেকে। একটি মাত্র ছয় মেরেছেন, চার মেরেছেন ৮টি-- এ সংখ্যাও আদতে কিছুটা বলে দেয়, এ ইনিংসের নিজের ওপর কতোখানি নিয়ন্ত্রণ ছিল সাকিবের। মুশফিক তাকে সঙ্গ দিয়েছিলেন বেশ কিছুক্ষণ, দুজনের ৫৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে উদ্ধার করেছিল লিটন ও শান্তর দ্রুত ফেরার পর আসা চাপ থেকে। 
     

    চাপে পড়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করেছেন সাকিব-মুশফিক/বিসিবি


    এরপর ১১ রানের ব্যবধানে মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির ও আফিফকে হারিয়ে আবার চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে সাকিব ছিলেন অনড়, মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচ শেষ করেই ফিরেছেন তিনি। রশিদ খানকেও তিনি খেলেছেন দারুণ নিয়ন্ত্রণে। মাহমুদউল্লাহ ও আফিফ ফিরেছিলেন রশিদের বলেই-- প্রথমজন লং হপ মিস করে হয়েছেন এলবিডব্লিউ, পরেরজন অফস্টাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড। রশিদ হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে উঠে গিয়েছিলেন, ফিরে এসে বোলিংয়ের সময়ও খোঁড়াচ্ছিলেন। মঙ্গলবারের ফাইনাল সামনে রেখে তাকে নিয়ে ঝুঁকিটা আফগানিস্তান না নিলেও পারত কিনা- সেটা অবশ্য প্রশ্ন। মাঝে নাভিনের বলে কাট করতে এজড হয়ে নিজের জায়গাটা আরও অনিশ্চিত করে তুলেছেন এ ম্যাচেই দলে ফেরা সাব্বির রহমান। 

    তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, মুজিবের ঝুলিয়ে দেওয়া বলটার পিচিংয়ে ঠিকঠাক যেতে পারেননি লিটন, তার টো-এন্ডে লেগে বল উঠেছে ওপরে। এরপর অভিষিক্ত পেসার নাভিন-উল-হকের ফুললেংথের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে আকাশে বল তুলেছেন শান্ত, মিডউইকেটে গেছে ক্যাচ। ১২ রানেই ২য় উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। 

     

     

    চট্টগ্রামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানের শুরুটা অবশ্য হয়েছিল বাংলাদেশের ঠিক বিপরীত। তাদের ইনিংসে ছিল মূলত দুইটি ভাগ- আফিফ বোলিংয়ে আসার আগে ও পরে। যে আফগানিস্তান উড়ছিল, তাদেরই হুট করে পপাতধরণীতল অবস্থা হয়ে গেল যেন নিমিষেই। ৯ ওভারেই দুই আফগান ওপেনার তুলেছিলেন ৭৫ রান। ১০ম ওভারে ৭ম বোলার হিসেবে আফিফকে আনলেন সাকিব, বদলে গেল চিত্রটা।
     


    আফিফের প্রথম ওভারেই বদলে গিয়েছিল চিত্রটা/বিসিবি


    তৃতীয় বলে লেগ-মিডলে পড়ে সোজা হওয়া বলে বড় শটের চেষ্টা ব্যর্থ হলো জাজাইয়ের, এর আগের দুই বলেও আক্রমণাত্মক শট খেলে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এক বল পর ফুললেংথ থেকে তুলে মারতে গিয়ে ঠিক টাইমিং করতে পারেননি আসগর আফগান, ধরা পড়েছেন লং-অফে। পরের ওভারেই মোস্তাফিজ করেছেন আঘাত, এবার তার পেসের বৈচিত্রে বোকা বনে লিডিং-এজড হয়ে খাড়া ওপরে তুলে তার হাতেই ধরা পড়েছেন গুরবাজ, তিনি অবশ্য আউট হতে পারতেন ১ রানেই, লং-অনে সহজ ক্যাচই ছেড়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। 

    সাকিব এলেন, তার স্লাইড করে যাওয়া বল মিস করে প্লাম্বড হলেন মোহাম্মদ নবি। ব্যাটিং-ধসে রান-আউট থাকবে- এই অলিখিত নিয়ম মেনে সেটা হলেন গুলবাদিন নাইব। স্কয়ার লেগ থেকে সিঙ্গেল চুরি করতে গিয়েছিলেন, স্লাইড করে ডাইভরত অবস্থাতেই থ্রো করে রান-আউট নিশ্চিত করেছেন মাহমুদউল্লাহ। প্রথমে সহজ ক্যাচ মিস করেছিলেন, এবার করলেন দুর্দান্ত রান-আউট- বোলিংয়ের মতো বদলে গিয়েছিল বাংলাদেশের ফিল্ডিং-ও। 

    সাইফউদ্দিন ও শফিউলও এসে পেলেন সাফল্য। সাইফকে ফ্লিক করতে গিয়ে স্টাম্প হারালেন নাজিবুল্লাহ, শফিউলের বলে ক্যাচ তুলেছেন কারিম জানাত। লিটন লং-অফে ধরেছিলেন প্রায় অদ্ভুতুড়ে এক ক্যাচ, অল্পের জন্য মিস করে গেছেন সেটা। অদ্ভুতুড়ে স্কুপসহ বরং ১৭ বলে ২৩ রানের ক্যামিও খেলেছেন শফিকুল্লাহ, আফগানিস্তান ১৩৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছে সেটার কল্যাণেই। তবে শেষ পর্যন্ত সাকিবের দারুণ এক ইনিংসের কাছে যথেষ্ট হয়নি সেটা।