• বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে সিরিজ ২০১৬
  • " />

     

    ২২ গজের সেলুলয়েড : চেষ্টা, ক্ষ্যাপাটে দৌড়, অক্কার গল্প

    ক্যাচ, মিস, ক্যাচ, ছক্কা!

    সাকিব আল হাসানের টসড আপ ডেলিভারিটা লং অনে পাঠালেন ভুসি সিবান্দা। সৌম্য সরকার সীমানার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন, প্রথমবার তালুবন্দি করতে গিয়ে বেরিয়ে গেল বল। দ্বিতীয়বার ধরলেন, তবে ভার সামলাতে না পেরে সীমানারেখা পেরিয়ে গেলেন। তবে তার আগেই ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বল, তখনও শূন্যেই ছিল তা! সীমানারেখার এপাশে এসে ধরলেন এবার, চূড়ান্তবারের মতো! তবে রিপ্লে দেখালো, বল ছুঁড়ে দেয়ার সময় সীমানারেখা ছুঁয়েছিল সৌম্যর পা! বেঁচে গেলেন সিবান্দা, পেলেন ছয় রান!

    ভাগ্য অবশ্য খুব বেশী পক্ষে থাকেনি সিবান্দার। সাকিবের পরের বলের ফ্লাইটটা ঠিক ধরতে পারেননি, লেগসাইড দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন তামিম ইকবালের হাতে। তামিম অবশ্য একবারের প্রচেষ্টাতেই ধরলেন তা!

     

    অতি চালাকের স্ট্যাম্প নেই!

    শাফল করলেন, এগিয়ে এলেন একটু। জায়গা বানিয়ে মুস্তাফিজকে খেলতে গেলেন এল্টন চিগুম্বুরা। ফুল লেংথের বলটার নাগালই পেলেন না পা দিয়েও! চিগুম্বুরার লেগস্ট্যাম্প ছত্রখান হলো। এলেন লুক জঙ্গোয়ী। তিনি আবার আরেককাঠি সরেস, করতে গেলেন রিভার্স সুইপ। মুস্তাফিজের কাটারটার নাগাল পেলেন না তিনিও, হারালেন মিডল স্ট্যাম্প!

    মুস্তাফিজের সঙ্গে চালাকিতে পেরে উঠবেন কি, উল্টো তো স্ট্যাম্পই হারালেন দুজন!

     

    ক্ষ্যাপাটে দৌড়- এক

    মাশরাফির বলটা মিডউইকেটে ঠেলে দিয়ে দুই রানের জন্য ছুটেছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। সঙ্গী ম্যালকম ওয়ালার দাঁড়িয়েই ছিলেন, সেদিকে খেয়াল কই মাসাকাদজার! যখন খেয়াল হলো, উল্টো দৌড় শুরু করলেন। মাসাকাদজার উল্টো দৌড় দেখে ওয়ালারও একটু দৌড়ালেন, কাল হয়ে দাঁড়ালো সেটিই! সাব্বির রহমান ইতিমধ্যেই থ্রো করেছেন, নুরুল ইসলাম বল ধরে স্ট্যাম্প ভেঙ্গেও দিয়েছেন। বোলিং প্রান্তে থ্রো হলে রান-আউট হতে পারতেন মাসাকদজাই, উল্টো ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা দিতে হলো ওয়ালারকেই!

    পরে মাসাকাদজাও অবশ্য রানআউটই হয়েছেন!

     

    ক্ষ্যাপাটে দৌড়- দুই

    এবার তামিম ইকবাল দাঁড়িয়ে ছিলেন। লুক জঙ্গোয়ীর বলটা লেগ সাইডে খেলে দেখছিলেন সেটাই, হাতটাও তুলেছিলেন। ইশারাটা স্পষ্ট, সৌম্যকে দৌড়াতে মানা করছেন! কে শোনে কার কথা, সৌম্য দিলেন ভোঁ দৌড়! ফল যা হওয়ার তাই হলো, দুই ব্যাটসম্যানই গিয়ে দাঁড়ালেন একই প্রান্তে! ওয়েলিংটন মাসাকাদজার থ্রোটা হাতে জমিয়ে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিলেন জঙ্গোয়ী, ড্রেসিংরুমের দিকে বিরস-বদনে হাঁটা দিলেন সৌম্য! 

     

    ছক্কার পরেই অক্কা

    সৌম্যর নাটকীয় ক্যাচটা হয়নি শেষ পর্যন্ত, হয়েছিল ছয়। পরের বলেই সিবান্দা ক্যাচ দিলেন তামিম ইকবালকে। সাব্বির রহমান গ্রায়েম ক্রেমারকে ছয় মেরেছিলেন কাউ কর্নার দিয়ে। পরের বলেই ক্যাচ দিলেন ম্যালকম ওয়ালারকে। দুজনের রানই আবার ৪৬!


    ছক্কা মারার পরের বলে আউট হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। লুক জংগোয়ীকে কাভারের ওপর দিয়ে ছয় মারার পরের বলেই বোল্ড!

     

    অভিষেকের রকমফের

    খুলনায় টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হলো দুজনের। শুভাগত হোম চৌধুরি আর কাজী নুরুল হাসানের। শুভাগতের টেস্ট অভিষেক হয়েছে আগেই, নুরুলের আন্তর্জাতিক অভিষেকই আজ। নুরুল দুইটা রানআউটের অংশ ছিলেন, পরে ব্যাট হাতে অপরাজিত থেকেছেন ৭ রানে। আর শুভাগত বোলিংয়ের সুযোগ পাননি, তৃতীয় আম্পায়ারের সহায়তায় দেয়া সিদ্ধান্তে হয়েছেন ‘বোল্ড’।

    অভিষেকটা কি দুইরকম হলো দু'জনের?

     

    তাড়া করে বেশী রান

    আফতাব আহমেদ আর মোহাম্মদ আশরাফুল করেছিলেন ফিফটি। ২০০৭ সাল, জোহানেসবার্গ, ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৬৪ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। করেছিল ১৬৫। এতদিন টি-টোয়েন্টিতে তাড়া করতে নেমে সর্বোচ্চ রান ছিল এটিই। আজ খুলনায় সে রেকর্ড টপকে গেল বাংলাদেশ, কোনো ব্যাটসম্যানের ফিফটি ছাড়াই। জিম্বাবুয়ে করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এক রান কম, তবে বাংলাদেশ সে রান টপকে করলো ১৬৬। সেদিন বল বাকী ছিল ১২টি, আজ ৮টি।  

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন