• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ছোটদের ফুটবলে হেড দেওয়া বারণ!

    অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলারদের অনুশীলনে হেডের সংখ্যা নির্ধারিত করে দেয়ার কথা ভাবছে ইংলিশ ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা এফএ। ইংল্যান্ডে যুব ফুটবলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমিয়ে আনতে হেডিংয়ের বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

    এদিকে স্কটিশ এফএ অনূর্ধ্ব-১২ ফুটবলে হেডিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। আর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ফুটবলে হেড করা থেকে সৃষ্ট শারীরিক জটিলতায় প্রাণ হারানো প্রথম ব্রিটিশ ফুটবলার জেফ অ্যাস্টলের মেয়ে ডন অ্যাস্টল। ওয়েস্ট ব্রমউইচ আলবিওনের প্রয়াত স্ট্রাইকার জেফ ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফেলোপ্যাথি (সিটিই) নামের রোগে দীর্ঘদিন ভোগার পর ২০০২ সালে ৫৯ বছর বয়সে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর গবেষক উইলি স্টেওয়ার্টের সঙ্গে মিলে ফুটবলে হেডিং নিষিদ্ধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার ডন।

    নিউরো ডিজেনারেটিভ রোগে একজন সাধারণ ব্যক্তির চেয়ে প্রায় সাড়ে তিনগুণ বেশি মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকেন ফুটবলাররা- আজীবন স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিভ্রংশ ঝুঁকি (ফিল্ড) নামক এক গবেষণায় এমনটা উঠে এসেছে। ফুটবলে হেডিংয়ের ফলেই মূলত ফুটবলারদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

    এফএ এবং পিএফএ যৌথভাবে এই গবেষণাটির অর্থায়ন করেছে। এই গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পেশাদার ফুটবলে হেডিংয়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেয়ার জন্য এফএ গত ডিসেম্বরে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে- এফএ’র হেড অফ মেডিসিন শার্লট কোউই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত হেডিংয়ের টেকনিককে অক্ষুণ্ণ রেখে এর থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায়- সে বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেয়াটাই হবে টাস্ক ফোর্সের মূল কাজ।

    গবেষক প্রফেসর উইলি স্টেওয়ার্টের মতে অবশ্য শুধু বয়সভিত্তিক ফুটবলে নয়, বরং সিনিয়র ফুটবলের অনুশীলনেও হেডিং কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, “যুব ফুটবলে হেডিং কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়াটা অবশ্যই দারুণ ব্যাপার। কিন্তু আমি মনে করি এটা যথেষ্ট না। অপেশাদার, পেশাদার, সিনিয়র সব ধরনের ফুটবলেই হেডিংয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এরপর অন্যান্য খেলাতেও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে।“

    তবে ফুটবলে হেডিংয়ের ফলে সরাসরি স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে আরো গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন স্টেওয়ার্ট, “হেডিং এবং স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র আমরা এখনো খুঁজে পাইনি। তবে এখন পর্যন্ত হওয়া গবেষণা থেকে একটা বিষয় নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, যেসব খেলাধুলায় হেড কন্টাক্টের বিষয়টি রয়েছে সেসব খেলার ফলে স্মৃতিভ্রংশের সম্ভাবনা তৈরি হয়। হেডিংয়ের ফলে মাথায় গভীর চোটের সম্ভাবনার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি।“ ইংল্যান্ডে মস্তিষ্কের চোট নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘হেডওয়ে’-ও হেডিং কমানোর বিষয়ে এফএ-র পরিকল্পনাগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে।