• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    বাংলাদেশকে জেমি ডের বার্তা

    সব ঠিকঠাক থাকলে এখন পুরোদলে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতে জেমি ডে। ২৬ মার্চ সিলেটে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সব ছাপিয়ে এখন শিরোনাম তো কেবল করোনাভাইরাস। থমকে যাওয়া বিশ্বে তাই আতঙ্ক ভর করেছে। বাংলাদেশ কোচও ম্যাচ বাতিলের পর ফিরে গেছেন নিজ দেশ ইংল্যান্ডে। পরিস্থিতির ভয়বহতা ভালোভাবেই টের পেয়েছেন তিনি, আপাতত তাই বাংলাদেশের মানুষকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে বলছেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ।

    জেমি ডে দেশ ছেড়েছেন ১৩ মার্চ। তখনও বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছায়নি। তবে সংক্রামণের হার যে কোনো সময় গতিশীল হয়ে যেতে পারে সে আশঙ্কা ভর করেছে এখন, "দুঃখজনক হলেও বাংলাদেশে এখন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে। এবং এখান থেকে ফিরে আসতে হয়ত সময় লাগবে। আমি ডাক্তার নই, একজন ফুটবল কোচ মাত্র। তবে মানুষের উচিত সরকারের পরামর্শ মেনে চলা এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা। কারণ এই মানুষগুলোই আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরামর্শ নিয়ে সেগুলো মেনে চলা উচিত।" 

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রতিযোগিতা স্থগিত করেছে বাফুফে। আর এএফসির নির্দেশনা অনুযায়ী জুন পর্যন্ত জাতীয় দলের সবগুলো খেলাও অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য পিছিয়ে গেছে। জেমি ডের মতো তাই তার সহকারি, স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস, অ্যান্ড্রু পিটার টার্নারও দেশে ফিরে গেছেন।


    আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জেমি ডে 
    প্রিয় বাংলাদেশের মানুষ,
    স্টুয়ার্ট ও আমার মনে হয়েছে এটা আমাদের দায়িত্বের ভেতর পড়ে- তাই আপনাদের উদ্দেশ্যে এই বার্তাটি দিচ্ছি।

    সামনের মাসগুলোতে আমাদের বড় পরীক্ষা দিতে হবে। জাতি হিসেবে আমাদের এই সময়টায় আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, এবং দুঃসময় পার করতে হবে। দয়া করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে সুস্থ্য ও নিরাপদ থাকার চেষ্টা করুন। এই ভাইরাস যাতে না ছড়াতে পারে তাই সেদিনে খেয়াল রাখুন। যারা বড় হুমকির মুখে তাদের রক্ষা করুন।

    প্রয়োজনের সময় বাংলাদেশের মানুষ কঠোর পরিশ্রম ও প্রার্থনা দিয়ে এক হয়ে যায়। নিজেদের রক্ষা করতে এখন আমাদের একত্রিত হতে হবে ভিন্ন উপায়ে। এই জরুরী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে- এটা গুরুত্বপূর্ণ। 

    এই মহান জাতি আত্মশৃঙ্খল এবং এই ভিন্ন উপায়েই এবার আপনারা এটা করে দেখা পারবেন। আপনাদের ওপর আমার পুর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, আপনারা পারবেন।

    আমাদের ফুটবল স্থগিত রয়েছে। যখন ফিরবে তখন আবার গর্বের সঙ্গে আমাদের দলকে নেতৃত্ব দেব আমি।
    এই কঠিন সময়ে আপনারা শক্ত থাকুন।

    আপনার জন্য ভালোবাসা ও প্রার্থনা থাকল।
    -বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস


    ডে বলছেন সবকিছু বিবেচনার পর ৩-৪ মাসের আগে জাতীয় দলের খেলা হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর পরিস্থিতি যেহেতু কঠিন, তাই আপাতত দেশ ছাড়ার আগে খেলোয়াড়দের ফিটনেসের জন্যও আলাদা কোনো অনুশীলন দিয়ে যাননি তিনি। সবার সুস্থ্যতাই বাংলাদেশ কোচের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে সবচেয়ে বেশি, "আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলেছি। ওদেরকে বলেছি সুস্থ্য থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে ও পরিবারের খেয়াল রাখতে। ওরা যাতে ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত না হয়- এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সেটাই। যেহেতু ওরা এখন খেলছে না আর ক্লাবের অধীনে আছে- তাদের ফিটনেসও ক্লাবগুলোরই দেখতে হবে।"

    বাংলাদেশ থেকে লন্ডন ফিরে জেমি ডে রয়েছেন সেলফ আইসোলেশনে। লন্ডনের পরিস্থিতি এখনও গুরুতর না হলেও, সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও অনেক সময় লেগে যাবে বলে মনে করছেন তিনি "লন্ডন এখনও ইতালি, স্পেনের মতো লকডাউন হয়নি, তবে যা অবস্থা তাতে মনে হচ্ছে দ্রুতই সেদিকে যেতে হবে। এখান থেকে স্বাভাবিক হতে গোটা বিশ্বেরই অনেক সময় লেগে যাবে। দয়া করে এ সময়ে নিজে নিরাপদ রাখুন ও নিজের খেয়াল রাখুন।"
     

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন