• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    রাশিয়ান লিগে অভাবনীয় দৃশ্য: রোস্তভের মূল একাদশে ১১ কিশোর

    গত শুক্রবার অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখা গেল রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে।  দেশটির শীর্ষ ঘরোয়া লিগে পূর্ণ শক্তির পেশাদার দলের বিপক্ষে খেলল টিনএজাররা। সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত টিনএজাররা গুনে গুনে দশটি গোল হজম করেছে। যদিও ম্যাচের প্রথম গোলটি এসেছিল কিশোর দলটির তরফ থেকেই। সেই এক গোলের পর তাদের ওপর দিয়ে রীতিমত রোলার কোস্টার চলেছে। তবে কেন রাশিয়ান লিগে টিনএজারদের খেলালো চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা ক্লাব রোস্তভ?

    ইউরোপের অন্যান্য লিগগুলোর মতো করোনার কারণে দীর্ঘ বিরতির পর গত শুক্রবার মাঠে গড়িয়েছে রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। প্রথম ম্যাচেই পিএফসি সোচির মুখোমুখি টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা এফসি রোস্তভ। তবে সোচিতে সেই ম্যাচ খেলতে যাওয়ার দুই দিন আগে রোস্তভের ৬ জন খেলোয়াড়ের শরীরে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। আর রাশিয়ান লিগের নতুন প্রটোকল অনুযায়ী কোনও ক্লাবের খেলোয়াড় বা স্টাফদের কারও করোনা শনাক্ত হলেই পুরো স্কোয়াডকে কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে হবে। আর এই নিয়মের ফলে দুই দিন পরে সোচির বিপক্ষে ম্যাচ থাকলেও পুরো স্কোয়াডকে কোয়ারেন্টিনে পাঠাতে বাধ্য হয় রোস্তভ।

     


    এক্ষেত্রে সবদিক বিচার করে ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়াই হত স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। এই প্রক্রিয়ায় আগামী ১৯ জুলাই রাশিয়ান কাপের সেমিফাইনালের দিনটিকে রিজার্ভ হিসেবে ধরে দুই দলকে সেদিন এই ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দিয়েছিল লিগ কর্তৃপক্ষ। তবে কিনা ম্যাচ কবে হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার লিগ কর্তৃপক্ষ বা রাশিয়ান ফুটবল ইউনিয়নের নেই। নিয়মানুযায়ী সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারত যেই দলের মাঠে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা তাদের, এই ম্যাচে সেটি ছিল পিএফসি সোচি। মানবিক দিক বিচার না করেই দলটি নির্ধারিত দিনেই ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। আর তাই শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে রোস্তভ ক্লাবের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন পর্যায়ের কিশোর ফুটবলারদের দিয়ে এই ম্যাচের স্কোয়াড গঠন করে।

    বয়সভিত্তিক দলের আপাতত কোনও খেলা না থাকায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন সেই কিশোর ফুটবলাররা। তবে ক্লাবের এক নোটিশে অদ্ভুত পরিস্থিতিতে রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলার স্বপ্নপূরণ হয় সেই কিশোরদের। যাদের অনেকেই হয়ত পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রিমিয়ার লিগে আর খেলার সুযোগ নাও পেতে পারেন।

    তবে পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, সোচি কেন এতো কঠোর হতে গেল? সেই প্রশ্নের কয়েকটি উত্তর রয়েছে। প্রথমত, গত নভেম্বরে হঠাৎ সোচির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় টনসিল জনিত সমস্যায় পড়েন। পরে সেই ম্যাচে সোচির প্রতিপক্ষ ওরেনবার্গের অনুমতি সাপেক্ষে খেলাটি স্থগিত হয়েছিল। আবারও প্রশ্ন ওঠে, ওরেনবার্গ সোচির প্রতি যেই উদারতা দেখিয়েছে, সেটি সোচি কেন রোস্তভের প্রতি দেখাল না? কারণ হিসেবে সামনে আসছে রাশিয়ান লিগের একটি নিয়ম। নিয়মানুযায়ী এক মৌসুমে কোনও দলের দুটি ম্যাচ স্থগিত হলে সেই দলকে লিগ থেকে বহিষ্কার করা হবে। আর এই শাস্তি থেকে বাঁচতেই সোচি অমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    তবে ম্যাচ শেষে সোচির সাধারণ পরিচালক দিমিত্রি রুবাশকো সরাসরি ম্যাচ পেছানোর বিপক্ষে নিজেদের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। করোনার কারণে অন্তত ১৪ দিন রোস্তভের মূল দলকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আর এই সময়ের মাঝে সোচির বিপক্ষে ম্যাচ ছাড়াও আরও একটি ম্যাচ খেলতে হবে রোস্তভকে। তার মতে, সোচি যদি এই ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে মত দিত এবং রোস্তভের পরের ম্যাচটি বহাল থাকত, তাহলে রোস্তভের পরের প্রতিপক্ষ অপরিপক্ব স্কোয়াডের বিপক্ষে খেলার সুবিধা পেত। কারণ সেই ম্যাচের আগে যেহেতু মূল দলের খেলোয়াড়রা কোয়ারেন্টিন থেকে বের হতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে ঐ ম্যাচেও কিশোরদের দিয়ে গড়া দলকেই খেলাতে হবে রোস্তভকে। তাই রোস্তভের পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ যেহেতু সেই সুযোগ নিতে পারে, তাই সোচিও এই সুযোগ নেওয়াটাকেই সমীচীন বোধ করেছে।

    তবে একইসঙ্গে দিমিত্রি রোস্তভের তরুণ দলটির প্রশংসাও করেছেন। তাদের লড়াই করার মানসিকতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। আর রোস্তভের কিশোর দলটি বিশাল ব্যবধানে হারলেও ম্যাচে প্রশংসা কুড়িয়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করেছে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই দলটির রোমান রোমানভ গোল করে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন। এরপর অবশ্য ম্যাচজুড়ে আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত ছিল তারা।


    তবে ম্যাচে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন রোস্তভের ১৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক দেনিস পপোভ। ১০ গোল হজম করলেও রাশিয়ান লিগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৫ টি সেভের রেকর্ড গড়েছেন তিনি, সঙ্গে একটি পেনাল্টিও ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন এই কিশোর। তাই ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও তার হাতেই উঠেছে।

    রোস্তভের পরের ম্যাচ ২৭ জুন আর্সেনাল তুলার বিপক্ষে। সেই ম্যাচের সময়ও মূল দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে কোয়ারেন্টিনেই থাকতে হতে পারে। তেমনটা যদি হয়, তাহলে আবারও রোস্তভের কিশোরদের প্রিমিয়ার লিগে খেলতে দেখা যেতে পারে।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন