• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়ের গল্প

    ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড় কে? উত্তরটি খুব সহজ নয়। তবে ফুটবল নিয়ে একটু বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করলে আপনার জানা থাকার কথা সাবেক কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার জেরার্ডো বেডোয়ার নাম। ৪৫ লাল কার্ড দেখে ইতিহাসে সবচেয়ে ‘কুখ্যাত’ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি রয়েছে তার। 

    বেডোয়া পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের পুরোটাই কাটিয়েছেন দক্ষিণ আমেরিকায়। আরও নির্দিষ্ট করে বললে শুধু নিজ দেশ কলম্বিয়া এবং আর্জেন্টিনার ক্লাবগুলোতেই ক্যারিয়ারের সিংহভাগ কাটিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে শুধু ২০০৫ সালে অল্প সময়ের জন্য মেক্সিকোর পুয়েবলা ক্লাবে খেলেছিলেন বেডোয়া।


    মাঠে বরাবরই উদ্ধত আচরণের জন্য কুখ্যাত ছিলেন বেডোয়া। ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ৪৫ বার লাল কার্ড দেখেছেন। খেলা ছেড়ে সাবেক ক্লাব সান্তা ফে-র হয়ে ডাগআউটে দাঁড়ানোর পরও দুইবার লাল কার্ড দেখেছেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের ৪১ তম লাল কার্ডের গল্পটি শুনলেই মাঠে তার ঔদ্ধত্যের বিষয়ে একটি ধারণা পেয়ে যাবেন আপনি। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করে প্রথমে ভূপাতিত করেন বেডোয়া, এরপর মাটিতে পড়ে থাকা সেই খেলোয়াড়ের মাথায় লাথিও দেন তিনি। সেই ঘটনার পর ১৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। যদিও ম্যাচের পর সহজচিত্তেই বলেছিলেন, ‘আমি আসলে এমন না।”

    কলম্বিয়ার ফুটবল সাংবাদিক কার্ল ওর্সউইক ফিফার জন্য ‘ফুটবল মুন্দিয়াল’ নামের একটি সিরিজ তৈরি করতে গিয়ে স্বদেশী বেডোয়ার মাঠ এবং মাঠের বাইরের আচরণ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। তার মতে, “সে সব সময় এই বিষয়টি উল্লেখ করে যে, মাঠে এবং মাঠের বাইরে সে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। খেলোয়াড় হিসেবে সে ভালো হলেও তার পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই লাল কার্ডের অভিশাপ কাটাতে পারেনি সে। পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট খেলোয়াড় হিসেবেই তার নামে শিরোনামে আসত সবসময়।” 

    খেলোয়াড় হিসেবে আসলেই মন্দ ছিলেন না বেডোয়া, কলম্বিয়ার একমাত্র আন্তর্জাতিক শিরোপা ২০০১ সালের কোপা আমেরিকা জয়ে বড় অবদান ছিল তার। সেমিফাইনালে হন্ডুরাসের বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত গোল করে দেশকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ফাইনালে মেক্সিকোকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা জিতে নেয় কলম্বিয়া। ৩৫ বছর পর আর্জেন্টাইন ক্লাব রেসিংকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেছিলেন। ২০১৩ সালে কলম্বিয়ান ক্লাব সান্তা ফে-র ৩৭ বছরের শিরোপা খরা কাটাতেও অবদান রেখেছিলেন বেডোয়া।

    কিন্তু সেই যে লাল কার্ডের বিড়ম্বনা, ক্যারিয়ারজুড়েই সেটি তার ইমেজকে বারবার হুমকির মুখে ফেলেছে। খেলা ছাড়ার পর সান্তা ফে-র সহকারী কোচ হিসেবে কাজ শুরুর পরও সেই কার্ডের বিড়ম্বনা পিছু ছাড়েনি তার। মূলত তার লাল কার্ড দেখার পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারাতেই ক্যারিয়ারজুড়ে তাকে ভুগতে হয়েছে বলে মত ওর্সউইকের, “সে একজন বিস্ফোরক ব্যক্তিত্ব। লাল কার্ড দেখার পর সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না। সেই মুহূর্তে ধীরেসুস্থে, মাথা ঠাণ্ডা রেখে মাঠ ত্যাগ করার চেষ্টা না করে সে বরং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করত।”

    “সহকারী ম্যানেজার হিসেবে নিজের প্রথম ম্যাচের ২১ মিনিটে যখন লাল কার্ড দেখে সে, তখন বেঞ্চের খেলোয়াড়রা হাসছিল। এমন কিছু যে হতে যাচ্ছে সেটা তারা জানত। তার লাল কার্ডের কুখ্যাতি ক্যারিয়ারের কোনও পর্যায়েই কাজে আসেনি।”


    তবে এতো লাল কার্ডের পরও সান্তা ফে-র সমর্থকরা তাকে ভালোবাসেন। কারণ তাদের দীর্ঘ শিরোপা খরা যে তার হাত ধরেই কেটেছে। সে ক্লাবের হয়ে সবসময় নিজেকে উজাড় করে দিতেন বলেই সান্তা ফে-র সমর্থকদের কাছে পছন্দের পাত্র হয়ে উঠেছিলেন বেডোয়া- বলেছেন ওর্সউইক, “সান্তা ফে-তে সমর্থকরা তাকে ভালোবাসে, কারণ তারা দেখেছে প্রতিটি ট্যাকলে সে তার শতভাগ দিয়েছে। সে ক্লাবের জন্য মাঠে নিজের সবটা দিয়েছে প্রতিটি ম্যাচে। তার ব্যাপারে এই বিষয়টি অনেক বিখ্যাত ছিল যে, সে ক্লাবের ব্যাজকে অন্তরে ধারণ করে খেলত সবসময়।”

    লাল কার্ডের দিক দিয়ে বেডোয়ার বিশ্বরেকর্ড অদূর ভবিষ্যতে অন্য কারও হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমান সময়ে খেলা চালিয়ে যাওয়াদের মাঝে রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোসের ২৬ লাল কার্ড দেখেছেন। তবে ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার বেডোয়ার রেকর্ড ছুঁতে পারবেন কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।

    খেলা ছাড়ার পর থেকে বেডোয়া নিজের ‘কুখ্যাতি’ মেটানোর চেষ্টা করছেন বলে জানালেন ওর্সউইক, “সে খেলা ছাড়ার পর থেকেই বলে আসছে যে তার এখন কোনও শত্রু নেই। নিজের কুখ্যাতি মেটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে সে। তবে সাথে এটাও মনে করে যে, সে তার সর্বোচ্চটি দিয়ে চেষ্টা করেছে এজন্যই ফ্যানরা তাকে ভালোবাসে।”

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন