• ফুটবল, অন্যান্য
  • " />

     

    ইউরোপিয়ান ফুটবলে চমক হতে পারে যে পাঁচ দলবদল

    দলবদলের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। প্রিমিয়ার লিগে ২৭ জুলাই থেকে নিয়ে পরবর্তী ১০ সপ্তাহ তথা ৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে দলবদল। লা লিগাতে দলবদল শুরু হবে ৪ আগস্ট থেকে, চলবে প্রিমিয়ার লিগের মতোই ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। আর সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ থেকে ইতালিতে শুরু হবে দলবদল। অবশ্য সবার আগে ১৫ জুলাই থেকে দলবদল শুরু হয়ে গেছে বুন্দেসলিগায়। এই দুই লিগেও ৫ অক্টোবর পর্যন্তই চলবে দলবদল।

    করোনা মহামারীর কারণে এবারের দলবদলের বাজারে অন্যবারের তুলনায় ভিন চিত্র দেখা যেতে পারে। করোনায় কমবেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ছোট-বড় সব ক্লাব, এমন অবস্থায় দলবদলের বাজারে কাড়ি কাড়ি অর্থ ঢালতে অনীহা দেখা যেতে পারে বড় ক্লাবগুলোর মাঝে। তবুও এই গ্রীষ্মে কিছু বড় মাপের দলবদল দেখা যেতেই পারে, তেমন পাঁচটি সম্ভাব্য দলবদল নিয়েই সাজানো হয়েছে এই লেখা।

     

    কাই হ্যাভার্টজ - বায়ার লেভারকুজেন থেকে চেলসি

    বায়ার লেভারকুজেনের জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হ্যাভার্টজকে দলে টানতে চায় চেলসি। এবারের দলবদলের বাজারে চেলসিকে ইউরোপের সবচেয়ে সক্রিয় ক্লাব বললে মোটেও বাড়িয়ে বলা হবে না। এরই মধ্যে আয়াক্স ফরোয়ার্ড হাকিম জিয়েখ এবং লাইপজিগ ফরোয়ার্ড তিমো ভের্নারকে দলভুক্ত করেছে ক্লাবটি। এবার ইউরোপের আরেক সম্ভাবনাময় ফরোয়ার্ড হ্যাভার্টজের দিকে নজর দিয়েছে ক্লাবটি। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে লেভারকুজেনের হয়ে ১৭ গোল করেছেন হ্যাভার্টজ। দলের রক্ষণে অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন থাকলেও আপাতত আক্রমণভাগেই অর্থ ঢালছে চেলসি।


    তবে ২১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে দলে টানতে বেশ বড় অংকের অর্থ খরচ করতে হতে পারে চেলসিকে। লেভারকুজেনের সঙ্গে হ্যাভার্টজের চুক্তিতে আর মাত্র ২ বছর বাকি রয়েছে। আর আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্যও কোয়ালিফাই করতে পারেনি ক্লাবটি, এছাড়া হ্যাভার্টজ নিজেও ক্লাব ছাড়ার জন্য তৈরি। এমন অবস্থায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রাইস ট্যাগটাই এখন পর্যন্ত এই দলবদলে একমাত্র বাধা হয়ে আছে। তবে শেষ পর্যন্ত চেলসি এবং লেভারকুজেনের আলোচনার মাধ্যমে সেই প্রাইস ট্যাগ কিছুটা কমে যেতেও পারে। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে এগুলে আগামী মৌসুমে হ্যাভার্টজকে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে দেখা যেতেই পারে।

     

    জেডন সানচো - বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড

    সাধারণত ইংলিশ খেলোয়াড়দের বিদেশী লিগে খুব একটা আলো ছড়াতে দেখা যায় না। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের জেডন সানচো। গত দুই মৌসুম জুড়েই জার্মান ক্লাবটির হয়ে মাঠে আলো ছড়াচ্ছেন এই ফরোয়ার্ড। দুর্দান্ত গতি এবং পায়ের কারিকুরিতে বুন্দেসলিগার অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে একদমই সময় নেননি ২০ বছর বয়সী এই তারকা। ডর্টমুন্ডের হয়ে চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচ খেলে ২০ গোল এবং সমান সংখ্যক অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।


    আর এই দুরন্ত ইংলিশ প্রতিভাকে ঘরের মাটিতে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এক মৌসুম বিরতির পর চ্যাম্পিয়নস লিগের দুয়ার উন্মুক্ত হওয়ায় সানচোকে দলে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে আরও। তবে সানচোকে দলে পেতে মোটা অংকের অর্থ খরচ করতে হতে পারে ইউনাইটেডকে। ডর্টমুন্ড সানচোর জন্য অন্তত ১২০ মিলিয়ন পাউন্ড চায় বলে খবর বেড়িয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। সেক্ষেত্রে ১০০ মিলিয়ন দিয়ে বাকিটা অ্যাড-অন বা পরে দেওয়ার অপশন দিতে পারে ক্লাবটি। কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে সানচোকে নিয়ে ক্লাবের অন্দরমহলে আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন ইউনাইটেডের আন্দ্রিয়াস পেরেইরা। আর একজন বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড খুব করেই প্রয়োজন ইউনাইটেড। এমন অবস্থায় অর্থ একটু বেশি ব্যয় করতে হলেও এই দলবদলটি সম্পন্ন করতে সবরকম চেষ্টাই করার কথা রেড ডেভিলদের।

     

    লাউতারো মার্টিনেজ - ইন্টার মিলান থেকে বার্সেলোনা

    কয়েক মৌসুম ধরেই বার্সেলোনার সঙ্গে লাউতারো মার্টিনেজকে জড়িয়ে খবর বের হচ্ছে। লুইস সুয়ারেজকে রিপ্লেস করার জন্য একজন জাত ফরোয়ার্ডের খোঁজে রয়েছে বার্সেলোনা। সেক্ষেত্রে ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারই এখন প্রথম পছন্দ বার্সেলোনার। এছাড়া মেসির সঙ্গে মার্টিনেজের আর্জেন্টাইন কানেকশন তো রয়েছেই। বেশ কয়েকবারই সংবাদমাধ্যমে ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের প্রশংসা করেছেন তিনি।


    কয়েক মৌসুম ধরে চেষ্টা করলেও এই বহুল প্রতীক্ষিত দলবদলটি সম্পন্ন করতে এবার বার্সেলোনা আটঘাট বেঁধেই নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনার কারণে ট্রান্সফার বাজেট সংকুচিত হয়ে গেলেও মার্টিনেজকে দলে টানতে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিক্রি করে দিতেও তৈরি বার্সেলোনা। যদিও মার্টিনেজের ১১১ মিলিয়ন ইউরোর রিলিজ ক্লজ বার্সেলোনা শোধ করবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু মার্টিনেজ ন্যু ক্যাম্পে আসতে আগ্রহী, সেক্ষেত্রে ইন্টারের তার বিষয়ে একটি সমঝোতায় আসা সম্ভব বলে মনে করছে কাতালান ক্লাবটি।

     

    এডিনসন কাভানি - অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, বেনফিকা নাকি লিডস?

    চলতি মৌসুমে পিএসজির চ্যাম্পিয়নস লিগ ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরই ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার এডিনসন কাভানি। দীর্ঘ ৭ বছর প্যারিসিয়ান ক্লাবটিতে কাটিয়েছেন কাভানি, এই সময়টায় নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি। ক্লাবটির হয়ে ৭ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩০১ ম্যাচ খেলে ২০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। তবে এবার নতুন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় তিনি।


    তার নতুন ঠিকানা হতে তৈরি ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাব। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে উত্তীর্ণ হওয়া মার্সেলো বিয়েলসার লিডস ইউনাইটেডও তাঁকে দলে পেতে চায়। তবে কোনও ক্লাবই এখনও কথা খুব একটা এগিয়ে নিতে পারেনি কাভানির সঙ্গে। তাই আগামী মৌসুমে তার গন্তব্য নির্ধারণ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

     

    উইলিয়ান - চেলসি থেকে বার্সেলোনা, ইন্টার মায়ামি ?

    চলতি মৌসুমেই চেলসির সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড উইলিয়ানের। ৩১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড চেলসির হয়ে এখন পর্যন্ত তিনশ-র বেশি ম্যাচ খেলেছেন, ৫৭ গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্ট করেছেন ৫৮ টি। দলের আক্রমণভাগে বেশকিছু নতুন সংযোজন হলেও উইলিয়ানকে দুই বছরের নতুন চুক্তি অফার করেছে চেলসি। তবে পরিবারসহ লন্ডনে থিতু হওয়া উইলিয়ান অন্তত তিন বছরের চুক্তি চান ক্লাবটির কাছ থেকে। সেই বিষয়ে চেলসি এখনও কোনও সিদ্ধান্তে না আসলেও দুটি ক্লাব উইলিয়ানকে দলে টানতে সরাসরি নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে চেলসিকে।


    দীর্ঘদিন ধরে উইলিয়ানকে দলে টানতে চেষ্টা করা বার্সেলোনা উইলিয়ানকে তার ইচ্ছে অনুযায়ী ৩ বছরের চুক্তি অফার করেছে বলে জানিয়েছে স্কাই স্পোর্টস। একইসঙ্গে ডেভিড বেকহ্যামের এমএলএস ক্লাব ইন্টার মায়ামিও তাকে সাড়ে তিন বছরের লোভনীয় চুক্তি অফার করেছে বলেও শোনা যাচ্ছে। এছাড়া লন্ডনেরই আরেক ক্লাব টটেনহামও উইলিয়ানকে নিয়ে আগ্রহী। চেলসিতে উইলিয়ানের সাবেক ম্যানেজার হোসে মরিনহো। তাই চেলসি উইলিয়ানের ইচ্ছে অনুযায়ী চুক্তি প্রস্তাব না করলে এবং তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনেই থাকতে চাইলে টটেনহামও হতে পারে তার পরবর্তী গন্তব্য।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন