• অন্যান্য খবর
  • " />

     

    মেসি, পেলে ও এক ক্লাবের মহারথীদের গল্প

    মেসি, পেলে ও এক ক্লাবের মহারথীদের গল্প    

    পেলের কীর্তিটা কাল রাতেই ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসি। এক ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডটা এতোদিন ছিল সান্তোসের পেলের। ৬৪৩ গোলের সেই কীর্তি ছাড়িয়ে মেসির গোল এখন ৬৪৪টি। মেসিকে কেউ ছাড়াতে হলে টানা ১৫টি মৌসুমে অন্তত ৪৩ গোল করতে হবে, তাও আবার একটা ক্লাবের হয়ে। গ্যারি লিনেকার তাই বলেই দিয়েছেন, এই রেকর্ডটা আর ভাঙবে বলে মনে হয় না।

    ফুটবলে একটা সময় এক ক্লাবের হয়ে পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়ে দেওয়াটা মোটামুটি নিয়মিতই ছিল। পেলেই যেমন ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছেন সান্তোসে। এক ক্লাবের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল যাদের, তাদের সেই তালিকায় তাই বেশির ভাগ ফুটবলার তাদের ক্যারিয়ারটা কাটিয়েছেন আশির দশকের আগে। আরেকটু নির্দিষ্ট করে বললে মেসি-রোনালদো ছাড়া বাকিরা সবাই আশির দশকের আগেই ক্যারিয়ার শেষ করে ফেলেছেন।

    তবে শীর্ষ দশ ফুটবলারের মধ্যে পেলে ও মেসির পরের কিছু নাম একটু অচেনা ঠেকতে পারে আপনার। এঁদের অনেকেই নির্দিষ্ট ক্লাবের হয়ে কিংবদন্তি হয়েছেন, তবে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সেভাবে কিছু করতে পারেননি বলে আলোচনায় সেভাবে আসেননি। জার্ড মুলারের নামটা ব্যতিক্রম, জার্মান এই স্ট্রাইকার ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের পাশাপাশি জার্মান কিংবদন্তি ছিলেন। বায়ার্ন-জার্মানির হয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই জিতেছেন, অনেকের চোখে তিনিই সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার। ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে করেছেন ৫৬৫ গোল।

    তালিকার এর পরের নামটা ফার্নান্দো পেয়রেতো নামে একজন পর্তুগিজ ফুটবলারের, স্পোর্তিং লিসবনের হয়ে যিনি করেছেন ৫৪৪ গোল। ছয়বার পর্তুগিজ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন, তবে তার নামটা আপনি নাও শুনতে পারেন। চল্লিশের দশকে যখন খেলছেন, তখন বিশ্বকাপ বন্ধ থাকায় পর্তুগালের হয়ে বড় মঞ্চে খেলা হয়নি। আরেকটা চমকপ্রদ তথ্য, ৩১ বছর বয়সে যখন অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচটা খেলছিলেন পেয়রেতো, সেই ম্যাচ থেকে ওঠা টাকাটা খরচ করতে হয়েছিল নিজের দোকানের ধার শোধ করতে।

    তালিকার পাঁচ নম্বর নামটা যার, তাকে এখনও মনে করা হয় শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অস্ট্রিয়ান চেক ফুটবলার জোসেফ বিকানের অফিসিয়াল গোল ৮০৫ এর বেশি মনে করা হয়, এর মধ্যে স্লাভিয়া প্রাগের হয়েই করেছেন ৫৩৪টি। তার ক্যারিয়ারটাও কাটা পরেছে বিশ্বযুদ্ধের খড়গে। তবে ১৯৩৮ বিশ্বকাপে খেলার কথা ছিল তার, কিন্তু একটা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আর খেলা হয়নি।

    এর পরের নামটা যার, সেই জিমি ম্যাকগ্ররি খেলতেন স্কটল্যান্ডের সেল্টিকের হয়ে। স্কটিশ ক্লাবের হয়ে ৫২২টি, এখন পর্যন্ত ব্রিটিশ ফুটবলের ইতিহাসে তার গোলই সবচেয়ে বেশি। ১৯২২ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত কাটিয়েছেন সেল্টিকে, তবে বিশ্বকাপে খেলা হয়নি তার।

    এর পরের নামটা যার, জিমি জোমস ছিলেন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ফুটবলার। সে দেশেরই ক্লাব গ্লেনাভনের হয়ে তার গোল ৫২২টি, করেছিলেন ১৯৫১ থেকে ১৯৬২ সালের মধ্যে। দেশের হয়ে খেলেছেন মাত্র তিনটি ম্যাচ, কিন্তু বিশ্বকাপ খেলা হয়নি তার।

    উইয়ি সিলারের নামটা অবশ্য অনেকে শুনতে পারেন। হামবুর্গের এই ফুটবলারকে জার্মানির সর্বকালের সেরাদের একজন মনে করা হয়। হামবুর্গের হয়ে কাটিয়েছেন প্রায় পুরো ক্যারিয়ার, ১৯৫৩ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত করেছেন ৫০৩টি গোল। দেশের হয়ে ১৯৬৬ বশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন, ১৯৭০ বিশ্বকাপে হয়েছেন তৃতীয়। বিশ্বকাপে তার নয়টি গোল আছে, টানা চার বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলারও ছিলেন।

    তালিকার শেষ দুইটি নাম নিয়ে খুব বেশি বলার কিছু নেই। ইউসেবিওকে কালো চিতা হিসেবেই চেনেন সবাই, ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তার জিততে না পারা এখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি। বেনফিকার হয়ে ১৯৬১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত সর্বজয়ী এক ক্যারিয়ারে ৪৭৩ গোল করেছেন। আর শেষ নামটা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যার গোল ৪৫০টি। জোসেফ বিকানের ৮০৫টি গোলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে আর ৩২ গোল করতে হবে রোনালদোকে।  

    এখন যারা খেলছেন, মেসি-রোনালদোর বাইরে তাদের মধ্যেই এই রেকর্ড কার? বর্তমান ফুটবলারদের মধ্যে মেসি-রোনালদো ছাড়া এক ক্লাবের হয়ে ৩০০ গোলও নেই কারও। সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, বায়ার্নের হয়ে করেছেন ২৬৬ গোল।

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন