• আইপিএল ২০২১
  • " />

     

    আইপিএল ২০২১: দলগুলির শক্তি-দুর্বলতা, সম্ভাবনা

    আইপিএল ২০২১: দলগুলির শক্তি-দুর্বলতা, সম্ভাবনা    

    গতবার কোভিড-১৯ এর কারণে আরব আমিরাতে হলেও আইপিএলের ১৪তম আসর এবার হতে চলেছে ভারতের মাটিতেই। ৯ এপ্রিল শুরু হয়ে আহমেদাবাদে ৩০ মে হওয়ার কথা ফাইনাল। তবে করোনা মহামারির কারণে খেলা হবে শুধুমাত্র ৬টি স্টেডিয়ামে, থাকবে না হোম-অ্যাওয়ে পদ্ধতি। 

    এবারের নিলামে আইপিএলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্যে বিক্রি হয়েছেন ক্রিস মরিস। এছাড়াও এবার সবচেয়ে দামি পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্যে আছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কাইল জেমিসন, ঝাই রিচার্ডসন ও কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। নতুন আসা ক্রিকেটাররা কেমন ভূমিকা রাখতে পারেন, প্রতি দলের শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে প্যাভিলিয়নের আইপিএল প্রিভিউ... 
     

    মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯, ২০২০ চ্যাম্পিয়ন)
    গত আসরে অবস্থান: চ্যাম্পিয়ন 

    যারা দলে এসেছেন: অর্জুন টেন্ডুলকার, পিযুশ চাওলা, যুধবির চরক, মার্কো ইয়েনসেন, ন্যাথান কোল্টার-নাইল, অ্যাডাম মিলন, জেমস নিশাম
    যাদের ওপর নজর: ইশান কিষাণ, কুইন্টন ডি কক

    গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবারও শিরোপার দাবিদার। ব্যাটিং অর্ডারের প্রতি পজিশনে সবার ভুমিকা বরাবরের মতই পরিষ্কার, সাথে আছে শক্তিশালি পেস লাইনআপ। বোলিংয়ে মাঝের ওভারে রান আটকানোর জন্য আছেন পরীক্ষিত স্পিনার রাহুল চাহার আর ক্রুনাল পান্ডিয়া; মুম্বাইয়ের জয়ের নকশায় এবারও নেই কোন পরিবর্তন। বরং জাসপ্রিত বুমরা আর ট্রেন্ট বোল্টের সাথে এবার যোগ দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট অ্যাডাম মিলনে, দলে ফেরত এসেছেন ন্যাথান কুল্টার-নাইল। এমনকি জেমস নিশামকে দলে ভিড়িয়ে বেঞ্চ আরও শক্ত করেছে তারা। অর্জুন টেন্ডুলকারকে নিয়ে কথা উঠলেও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের রেকর্ড তার পক্ষেই কথা বলছে।


    আইপিএল ২০২১ ফিক্সচার: বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী



    দিল্লি ক্যাপিটালস

    গত আসরে অবস্থান: রানার্স-আপ

    যারা দলে এসেছেন: লুকমান মেরিওয়ালা, এম সিদ্ধার্থ, ভিশু ভিনোদ, রিপাল পাটেল, উমেশ যাদব, স্টিভ স্মিথ, স্যাম বিলিংস, টম কারান
    যাদের ওপর নজর: ঋষভ পান্ট, অক্ষর প্যাটেল

    নিয়মিত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের অনুপস্থিতিতে এবার দায়িত্বে ঋষভ পান্ট, যিনি এই আসরের সবচেয়ে তরুণ অধিনায়কও। গতবারের ফাইনালিস্টরা এবারও যথেষ্ট শক্তিশালী। গত আসরের নিয়মিত মুখের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন স্মিথ, বিলিংস, কারান, উমেশ যাদবরা। গত আসরে খুব একটা ভাল করতে না পারলেও সদ্য শেষ হওয়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে পৃথ্বি শ' ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে, গড়েছেন এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এবারের আইপিএলে তার ব্যাট থেকে তাই রান আশা করছেন কোচ রিকি পন্টিং। টপ অর্ডারে অধিক সন্ন্যাসীতে গাঁজন নষ্ট না হলে এবারও তাদের প্লে-অফ খেলার পক্ষে বাজি না ধরার খুব বেশি মানুষ হয়ত নেই।  

     

    সানরাইজারস হায়দরাবাদ (২০১৬ চ্যাম্পিয়ন)
    গত আসরে অবস্থান: প্লে-অফ (৩য়) 

    যারা দলে এসেছেন: কেদার যাদব, জগদিশ সুচিৎ, মুজিব-উর-রহমান, জেসন রয়  
    যাদের ওপর নজর: জেসন রয়, ভুবনেশ্বর কুমার

    নিলামে মাত্র তিনটি শূন্যস্থান পূরণ করতে হত তাদের, দলের ঘাটতি অনুযায়ী তিনটি খেলোয়াড় ঠিক যুতসই হয়নি বলা যায়। মুজিব আইপিএলে আগে ভাল খেললেও এই দলে একই ভুমিকায় রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীরা থাকায় তার ভুমিকা দলে কতোটুকু থাকবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবে দলটির জন্য শাপেবর হয়ে এসেছে মিচেল মার্শের ইনজুরি, যার পরিবর্তে দলে এসেছেন জেসন রয়। ডেভিড ওয়ার্নার, জনি বেইরস্টো, কেন উইলিয়ামসনদের নিয়ে আগেই ছিল শক্তিশালী টপ অর্ডার; রয়ের আগমনে হায়দরাবাদের টপ অর্ডার বোধহয় হয়ে উঠেছে সবচেয়ে শক্তিশালী। তবে তাদের ডেথ বোলিংয়ে যে ঘাটতি ছিল সেটা এবারও পূরণ হয়নি। ভুবনেশ্বর কুমার যদি পুরো আসরজুড়ে ফিট থাকেন তাহলে সেটা হয়ত মাথাব্যাথার কারণ হবে না। টপ অর্ডারে বিদেশিরা ঝড় তুললে আর সদ্য শেষ হওয়া ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজে ভুবনেশ্বরের ফর্ম যদি বজায় থাকে তাহলে প্লে-অফে তাদের জায়গা নিশ্চিত হবে বলেই ধরে নেওয়া যায়।


    রয়্যাল চ্যালেঞ্জারস ব্যাঙ্গালোর
    গত আসরে অবস্থান: প্লে-অফ (৪র্থ) 

    যারা দলে এসেছে্ন: শচিন বেবি, রজত পাটিদার, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীন, সুয়াশ প্রভুদেশাই, কেএস ভারত, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কাইল জেমিসন, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান
    যাদের ওপর নজর: দেবদূত পাডিকাল, মোহাম্মদ সিরাজ


    বরাবরের মত এবারও নিলামে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি আরসিবি, বিশাল অংকে দলে ভিড়িয়েছে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল আর কাইল জেমিসনকে। ২০১৪ আসর ছাড়া কোনবারই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি “বিগ শো”, তবে আন্তর্জাতিকে যেই ফর্মে আছেন সেটার প্রতিফলন এবারের আইপিএলে রাখবেন বলেই বিশ্বাস বিরাট কোহলিদের। প্রতিবারের মত এবারও তাদের চিন্তার জায়গা ডেথ বোলিং। ক্রিস মরিস, উমেশ যাদব, ইসুরু উদানাদের ছেড়ে দেওয়ার পরেও নিলামে কোন ভাল ঘরোয়া পেসার কেনেনি তারা, টেস্ট ক্রিকেটে সুনাম কুড়ানো কাইল জেমিসনকে দলে নিয়েছে। অধিনায়ক হিসাবে বিগ ব্যাশ জেতা ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান হয়ত সেই জায়গায় কিছুটা স্বস্তি দিতে পারেন। শিভাম দুবেকে ছেড়ে দিলেও শচিন বেবি, রজত পাটিদার, মোহাম্মদ আজহারউদ্দীনদেরকে নিয়ে মিডল অর্ডার যথেষ্ট শক্ত করেছে তারা, সাথে ওয়াশিংটন সুন্দর তার স্পিন বোলিং অলরাউন্ডারের ভুমিকা যথাযথভাবে পালন করবেন বলেই আশা রাখছেন কোচ মাইক হেসন। বড় অংকের খেলোয়াড়গুলো জ্বলে উঠলে বিরাট কোহলির আইপিএল শিরোপার আক্ষেপ ঘুচতে পারে এই আসরে।

     

     
    শিরোপাখরা কাটবে কোহলির ব্যাঙ্গালোরের?/আইপিএল


    কলকাতা নাইট রাইডারস (২০১২, ২০১৪ চ্যাম্পিয়ন)
    গত আসরে অবস্থান:
    ৫ম


    যারা দলে এসেছেন: করুন নায়ার, পাওয়ান নেগি, হরভজন সিং, বৈভব অরোরা, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, সাকিব আল হাসান, শেলডন জ্যাকসন, বেন কাটিং
    যাদের ওপর নজর: শুভমান গিল, সাকিব আল হাসান

    গত আসরের কোন পর্যায়েই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি নাইটরাইডাররা। তবে মাঝের ওভারগুলিতে কিপ্টে বোলিং আর মিডল অর্ডারে ভারসাম্যের যে অভাব গতবার তাদের ছিল সেটা ঘুচিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন সাকিব আল হাসান। চোটপ্রবণ আন্দ্রে রাসেলের যোগ্য বদলি হিসেবে আছেন বেন কাটিং। প্যাট কামিন্স, কামলেশ নাগারকোটি, শিভম মাভি, প্রশিধ কৃষ্ণাদের নিয়ে বেশ সামর্থ্যবান পেস বোলিং লাইনআপে এবার যুক্ত হয়েছেন ঘরোয়াতে নজরকাড়া বৈভব অরোরা আর ভেঙ্কটেশ আইয়ার। বরুণ চক্রবর্তীকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য এবার নেওয়া হয়েছে আইপিএলের পরীক্ষিত স্পিনার পাওয়ান নেগি ও হরভজন সিংকে। সব মিলিয়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দল সাজিয়ে প্লে-অফের জন্য কেকেআর হয়ে উঠেছে বেশ শক্ত দাবিদার। 


    পুরোনো দল কলকাতায় ফিরেছেন সাকিব আল হাসান/কেকেআর



    পাঞ্জাব কিংস
    গত আসরে অবস্থান: ৬ষ্ঠ 

    যারা দলে এসেছেন: শাহরুখ খান, যালায সাক্সেনা, উৎকর্ষ সিং, সৌরভ কুমার, ডাভিড মালান, ঝাই রিচার্ডসন, রাইলি মেরেডিথ, মোইসেস হেনরিকস, ফ্যাবিয়ান অ্যালেন
    যাদের ওপর নজর: ঝাই রিচার্ডসন, নিকোলাস পুরান

    গত আসরে দুর্দান্ত শুরুর পরে দ্বিতীয় ভাগে গিয়ে দলটি একেবারেই খেই হারিয়ে ফেলে। তাই এবার বিদেশি খেলোয়াড়দের পেছনে বেশ অর্থ ঢেলেছেন তারা, চড়া মূল্যে কিনেছে এবারের বিগ ব্যাশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ঝাই রিচার্ডসনকে, সঙ্গে আরেক তরুণ অস্ট্রেলিয়ান পেসার রাইলি মেরেডিথকে। মোহাম্মদ শামিকে এবার তারা যোগ্য সঙ্গ দেবেন বলেই আশা করা যায়। লোকেশ রাহুল, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, ক্রিস গেইলদের সাথে এবার যুক্ত হয়েছেন টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান মালান। মিডল অর্ডার ব্যাটিংটা গতবার তাদের হতাশ করায় এবার তারা দলে ভিড়িয়েছে মুশতাক আলি ট্রফিতে নজরকাড়া শাহরুখ খানকে। গতবার দ্বিতীয়ার্ধে তাদের ডেথ বোলিং আশাব্যঞ্জক হলেও হয়নি মাঝের ওভারগুলির বোলিং, ঘাটতি এবারও রয়ে গেছে ঠিক সেখানেই। লোয়ার মিডল অর্ডারে বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানদের অভাব এবারও হয়ত ভোগাবে দলটিকে।
     

    চেন্নাই সুপারকিংস (২০১০, ২০১১, ২০১৮ চ্যাম্পিয়ন)
    গত আসরে অবস্থান:
    ৭ম

    যারা দলে এসেছেন: কৃষ্ণাপ্পা গৌতম, রবিন উথাপ্পা, চেতেশ্বর পুজারা, হরি নিশান্থ, হরিশংকর রেড্ডি, ভগত ভার্মা, মইন আলি
    যাদের ওপর নজর: রুতুরাজ গায়কোয়াঢ়, স্যাম কারান


    গত আসরটা হতাশাজনক কেটেছে মাহেন্দ্র সিং ধোনির দলের। এবার নিলামটাও ঠিক যুত হয়নি তাদের। স্পিনার ছেড়ে দেওয়ার পরে বেশ চড়া মূল্যে কৃষ্ণাপ্পা গৌতমকে দলে ভিড়িয়েছে, সঙ্গে আছেন ইংলিশ স্পিনিং অলরাউন্ডার মইন আলি। রবিন্দ্র জাদেজা, স্যাম কারানকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে পাঠানো হলে তাদের ব্যাটিং ফর্মকে কাজে লাগাতে পারবে তারা। তবে ধোনি, সুরেশ রায়নাদের উপর এখনো দলটির ভরসা করাটাই কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে এবারও।


    রাজস্থান রয়্যালস (২০০৮ চ্যাম্পিয়ন) 
    গত আসরে অবস্থান: ৮ম 

    যারা দলে এসেছেন: শিভাম দুবে, কেসি কারিয়াপ্পা, কুলদিপ যাদব, চেতন সাকারিয়া, আকাশ সিং, ক্রিস মরিস, মুস্তাফিজুর রহমান, লিয়াম লিভিংস্টোন
    যাদের ওপর নজর: বেন স্টোকস, শিভাম দুবে

    জফরা আর্চারকে ঠিক কবে গিয়ে পাবে রাজস্থান- নিশ্চিত নয় সেটি, তার অনুপস্থিতি বেশ ভোগাতে পারে তাদের। তবে ক্রিস মরিস, মুস্তাফিজুর রহমান আর কার্তিক তিয়াগিদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ নিয়ে ডেথ বোলিংয়ের জায়গাটা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হবে না তাদের, সাথে তো বেন স্টোকস আছেনই। তবে মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখার মত স্পিনার নেই বললেই চলে। কুলদিপ যাদব দলে আসলেও তার পড়তি ফর্ম হয়ত খুব একটা আশা জাগাবে না তাদের, স্পিনের লড়াইটা এবারও তাই স্রেয়াশ গোপাল আর রাহুল তেওয়াতিয়াকেই লড়তে হবে। তবে বেন স্টোকস যদি তার অতিমানবীয় ফর্ম ধরে রাখতে পারেন তাহলে হয়ত নবনিযুক্ত অধিনায়ক সানজু স্যামসনকে খুব একটা মাথা ঘামাতে হবে না প্লে-অফ নিয়ে।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন