• আইপিএল ২০২১
  • " />

     

    'দামি' মরিসে শেষ হাসি মোস্তাফিজদের রাজস্থানের

    'দামি' মরিসে শেষ হাসি মোস্তাফিজদের রাজস্থানের    

    গ্রুপপর্ব, মুম্বাই (টস-রাজস্থান/ফিল্ডিং) 
    দিল্লি ক্যাপিটালস ১৪৭/৮, ২০ ওভার (পান্ট ৫১, কারান ২১, যাদব ২০, উনাডকট ৩/১৫, মোস্তাফিজুর ২/২৯, মরিস ১/২৭) 
    রাজস্থান রয়্যালস ১৫০/৭, ২০ ওভার (মিলার ৬২, মরিস ৩৬*, তেওয়াতিয়া ১৯, আভেশ ৩/৩২, ওকস ২/২২, রাবাদা ২/৩০) 
    রাজস্থান ৩ উইকেটে জয়ী 


    আইপিএলের এ মৌসুমের নিলামের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার তিনি। অথচ আগের ম্যাচে তাকে ক্রিজের মাঝপথের পরের অংশ থেকে সিঙ্গেল না নিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাঞ্জু স্যামসন, শেষ ওভারে গিয়ে। ক্রিস মরিস ঠিক পরের ম্যাচেই দেখালেন, কেন তার দাম সবচেয়ে বেশি, কেন স্যামসনের সে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে আরও। প্রায় ছিটকে যাওয়া ম্যাচে রাজস্থানকে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি, ১৮ বলে ৩৬ রানের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংসে এনে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলিং লাইন-আপ যে দিল্লির, শেষে গিয়ে গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছে তারা। কাগিসো রাবাদার ১৯তম ওভারে ১৫ রানের পর টম কারানের কাছ থেকে ১২ রান তুলতে মরিস নিয়েছেন ৪ বল। 

    ১৪৮ রানতাড়ায় মুম্বাইয়ের কঠিন উইকেটে রাজস্থান মুখ থুবড়ে পড়েছিল শুরুতেই। এ এমন উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসের ১৬তম ওভারে গিয়ে হয়েছে ম্যাচের প্রথম ছয়। আভেশের ঠিক পরের বলে ডেভিড মিলার মারলেন আরেকটি। তৃতীয় হিট পার করতে পারলেন না, ধরা পড়লেন লং-অনে। ৪৩ বলে ৬২ রানের ইনিংস শেষ সেখানে, রাজস্থান রয়্যালসের আশাও যেন ফুরিয়ে গেল সেখানেই। জয়দেভ উনাডকট, মোস্তাফিজুর রহমানের স্লো-বোলিংয়ের দারুণ প্রদর্শনীতে যে আশা পেয়েছিল রাজস্থান, টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা বোলিং লাইন-আপে দিল্লির ক্রিস ওকস, কাগিসো রাবাদা, আভেশরা গুঁড়িয়ে দিলেন সেটি-- মনে হচ্ছিল তেমন। 

    তবে মরিস ভাবলেন অন্য কিছু। মিলার ফেরার পর তাদের প্রয়োজন ছিল ২৩ বলে ৪৪ রান, এরপরের প্রথম ছয়টা মেরেছিলেন আইপিএল ইতিহাসের আরেক ‘দামি’ ক্রিকেটার জয়দেভ উনাডকট। ১৮তম ওভারে টম কারান দিলেন মাত্র ৭, এরপর বাকি থাকলো কাগিসো রাবাদার ওভার। তবে এতক্ষণ যে দিল্লি বোলাররা দেখিয়েছিলেন, পেস কমিয়ে আনার সঙ্গে পরিমিত পেসের মুভমেন্টও এ উইকেটে কার্যকর, সেসব ভুলে রাবাদা করতে গেলেন লেগ-কাটার। সেটি পড়ে ফেলে সীমানা ছাড়ালেন মরিস, সে ওভারে মারলেন আরেকটি ছয়। ততক্ষণে মুডে চলে যাওয়া মরিসকে এরপর থামাতে পারেননি কারান। 


    প্রথমে উনাডকট, শেষে মরিস- শেষ হাসি রাজস্থানের!/ আইপিএল


    এর আগে রানতাড়ায় পাওয়ারপ্লেতে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল রাজস্থান, পরে ৪২ রানে হারিয়ে ফেলেছিল ৫ উইকেট। ক্রিস ওকসে ফিরেছিলেন মনন ভোহরা ও জস বাটলার, রাবাদার বলে আগেরদিন রাজস্থানকে প্রায় পার করানো অধিনায়ক স্যামসন। শিভাম দুবে, রিয়াম পরাগরা আভেশ খানের শিকার। ১৩তম ওভারে মার্কাস স্টোয়নিসের কাছ থেকে ১৫ রান তুলেছিলেন মিলার, রাজস্থানের আশা হয়ে ছিলেন তিনিই। ৪০ বলে ফিফটি করেছিলেন, রাহুল তেওয়াতিয়ার সঙ্গে তার জুটি ছিল ৩৪ বলে ৪৮ রানের। এরপর আভেশের তৃতীয় শিকার হলেন মিলার। তারপর মরিসের যে গল্প, তা তো আগেই বলা। 

     

    মরিস যখন ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন, তখন ওপাশে ছিলেন উনাডকট, বোলিংয়ে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন যিনি রাজস্থানকে। ওয়াঙ্খেড়ের উইকেটে পেস কমিয়ে এনে একে একে তিন উইকেট নিয়েছেন তিনি, এ ম্যাচেই যিনি এসেছেন দলে। আগের ম্যাচে দিল্লির দুই ব্যাটিং নায়ক- পৃথ্বি শ ও শিখর ধাওয়ানের পর আজিঙ্কা রাহানে বোকা বনেছেন তার স্লোয়ারে। 

    এরপর হাজির হয়েছেন মোস্তাফিজ, তার ক্ল্যাসিক কাটারের প্রথম শিকার মার্কাস স্টোয়নিস। ১০ম ওভারের মাঝেই উনাডকট শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরাগ, তেওয়াতিয়াকে এনেছিলেন স্যামসন, সেসব সিদ্ধান্ত খুব একটা কাজে আসেনি তার। ললিত যাদবকে নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন পান্ট, ৫ম উইকেটে ৩৬ বলে ৫১ রান যোগ করেছেন এ দুজন। পান্ট ফিফটি করেছিলেন মাত্র ৩০ বলে। পরাগের ডিরেক্ট থ্রোয়ে রান-আউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে, নাহলে দিল্লিকে হয়তো আরেকটু এগিয়ে নিতে পারতেন তিনি। 

    ডেথ ওভারে এরপর মোস্তাফিজ ও চেতন সাকারিয়ার ওপর ভরসা রেখেছিলেন স্যামসন, শেষ ৫ ওভারে ৪৫ রান তুলেছিল দিল্লি। নিজের শেষ ওভারে আরেকটি স্লোয়ারে মোস্তাফিজ পেয়েছেন দ্বিতীয় উইকেট, যাতে বোল্ড হয়েছেন টম কারান। 
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন