• আইপিএল ২০২১
  • " />

     

    প্রশ্নবিদ্ধ হায়দরাবাদকে পিষ্ট করে শীর্ষে ফিরল চেন্নাই

    প্রশ্নবিদ্ধ হায়দরাবাদকে পিষ্ট করে শীর্ষে ফিরল চেন্নাই    

    গ্রুপপর্ব, দিল্লি (হায়দরাবাদ/ ব্যাটিং)
    সানরাইজারস হায়দরাবাদ ১৭১/৩, ২০ ওভার (পান্ডে ৬১, ওয়ার্নার ৫৭, উইলিয়ামসন ২৬*, এনগিডি ২/৩৫, কারান ১/৩০)
    চেন্নাই সুপার কিংস ১৭৩/৩, ১৮.৩ ওভার (গায়কোয়াড় ৭৫, ডু প্লেসি ৫৬, রায়না ১৭*,  রশিদ ৩/৩৬, সন্দীপ ০/২৪) 
    চেন্নাই সুপার কিংস ৭ উইকেটে জয়ী  


    রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের ৪৪ বলে ৭৫ রান ও ফাফ ডু প্লেসির ৩৮ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে ১৭২ রানতাড়ায় হায়দরাবাদের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত সহজ জয়ে আবারও টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে চেন্নাই। দলে ফেরার দিনে মনিশ পান্ডের ৪৬ বলে ৬১ রানের ইনিংসের সঙ্গে ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের ফিফটি, তবে ৫৫ বলে ৫৭ রানের ইনিংসে হায়দরাবাদ অধিনায়ক নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন, কেন উইলিয়ামসনের ১০ বলে ২৬ ও কেদার যাদবের ৪ বলে ১২ রানের ক্যামিওর পরও তাদের স্কোর ছিল ‘পার’-এর চেয়ে কমই। এরপর রশিদ খান ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিলেও তা যথেষ্ট হয়নি চেন্নাইকে আটকানোর, প্রথম ম্যাচে হারার পরে এই নিয়ে টানা ৫ ম্যাচ জিতল এমএস ধোনির দল। 

    এই ম্যাচের আগে দারুণ ফর্মে ছিল গায়কোয়াড়-ডু প্লেসির ওপেনিং জুটি, এবারও দুজন শুরুটা করেছিলেন দারুণ। শুরু থেকেই হায়দরাবাদ বোলারদের উপর চড়াও হয়ে পাওয়ারপ্লেতে দুজনে মিলে তোলেন ৫০ রান। দুজনের জুটি ভাঙতে ১৩তম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে হায়দরাবাদকে, যেটি ছিল ১২৯ রানের। দিল্লির প্রথম ম্যাচ তাই ইঙ্গিত দিল, রানতাড়ায় সুবিধা পেতে পারে এখানে দলগুলি। 

    ৩২ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেছেন ডু প্লেসি, ৩৬ বলে গায়কোয়াড়। রশিদকে টানা দুই চারে ম্যাচ দ্রুত শেষ করারই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন গায়কোয়াড়, তবে পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন। ছয় না মারলেও এদিন তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার। নেমেই আক্রমণাত্মক থাকা মইন আলি রশিদের ওভারে দুই চার মেরে আবার উড়িয়ে খেলতে ক্যাচ দিয়েছেন। পরের বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন ডু প্লেসিও। তবা হায়দরাবাদের মিরাকলের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেয়নি আর। রবিন্দ্র জাদেজা ৭ ও সুরেশ রায়না ১৭ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেই ফিরেছেন।
     
    ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই শিশিরের প্রভাব ছিল আলোচনায়, টসে জিতে ওয়ার্নারের সিদ্ধান্ত তাই এসেছে বিস্ময় হয়েই। আগের ম্যাচ থেকেই হায়দরাবাদের টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত আসছে আলোচনায়। দীপক চাহারের করা প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই জনি বেইরস্টো ফিরে গেলে আরও প্রশ্নবিদ্ধ হত এদিনের প্রথম সিদ্ধান্তটা, তবে ধোনি বেশ সহজ ক্যাচটা ফেলে দিয়েছেন। সুযোগটা অবশ্য একেবারেই কাজে লাগাতে পারেননি বেইরস্টো, চতুর্থ ওভারে স্যাম কারানের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে ফিরে গেছেন ৭ রান করেই। কারানের দারুণ বোলিংয়ে ওয়ার্নার একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি, দলে ফেরা পান্ডেও সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেননি সেভাবে। পাওয়ারপ্লেতে উঠেছিল ৩৯ রান। 

    অন্যদিকে শট খেলার চেষ্টা বিফলে গেছে ওয়ার্নারের একের পর এক, পান্ডের ওপর সেটা হয়ত কিছুটা চাপও তৈরি করছিল। দুজন স্ট্রাইক বদল করেও ঠিক কমাতে পারেননি সে চাপ। স্পিনাররা আক্রমণে আসতে অবশ্য কিছুটা চড়াও হয়েছিলেন পান্ডে, ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন ৩৫ বলে।  পরের ওভারেই ৪৯ রানে থাকতে রবিন্দ্র জাদেজাকে ছয় মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন ওয়ার্নার, তার জন্য বল খেলেছেন ৫০টি! 

    নিজের ধীরতম ফিফটির দিনে অবশ্য বেশ কয়েকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ওয়ার্নার- চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ছুঁয়েছেন ১০ হাজার টি-টোয়েন্টি রান, ৫০তম আইপিএল ফিফটি করার দিনে মেরেছেন লিগে নিজের ২০০তম ছয়। লুঙ্গি এনগিডির সামান্য বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে যেভাবে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন, সেটাই বলে দিচ্ছিল যে ব্যাটে রান আসলেও দিনটা আসলে তার ছিল না। পান্ডেও ফিরে গেছেন ওই ওভারেই, এনগিডির বলটা মাঠছাড়া হবে মনে হলেও ডু প্লেসির দারুণ ক্যাচে কপাল পুড়েছে তার।

    শেষ দুই ওভারে অবশ্য আগের ম্যাচের ফর্ম বজায় রেখে কেন উইলিয়ায়মসন দারুণ খেলেছেন, কেদার যাদবকে সাথে নিয়ে ওই দুই ওভারে নিয়েছেন ৩৩ রান। শুধু টস নয়, আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ আছে উইলিয়ামসনকে ওপরে পাঠানো না নিয়েও। শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয় আবারও ইঙ্গিত দিয়েছে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে এসব ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে ভাবনা থেকে শুরু করে হায়দরাবাদকে যা করার, করতে হবে দ্রুতই। ৬ ম্যাচ পরও তাদের জয়ের কলামে যে এখনও ঝুলে আছে এক নম্বরই।