• বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর ২০২১
  • " />

     

    টস, ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘাটতি: বড় হারের যেসব কারণ দেখছেন মুমিনুল

    টস, ব্যাটিংয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘাটতি: বড় হারের যেসব কারণ দেখছেন মুমিনুল    

    পাল্লেকেলেতে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দুইদিন পড়েছিল ৬ উইকেট, এরপর পঞ্চম দিনের এক সেশন শেষ হওয়ার আগেই পড়েছে বাকি ৩৩টি। তবে প্রথম দুই দিনের ওই ‘উইকেট-খরা’র কবলে পড়েছিল টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নামা বাংলাদেশ, পরের তিনদিন স্পিনাররা যেমন সহায়তা পেয়েছেন, প্রথম দুই দিন ছিল না তেমন। শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয়ের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক বলছেন, টসের পরই নির্ধারিত হয়ে গেছে ম্যাচের প্রায় অর্ধেক ভাগ্য। তবে প্রথম টেস্টের মতো সম্মিলিত ব্যাটিং পারফরম্যান্স, শ্রীলঙ্কান বোলারদের বিপক্ষে বাংলাদেশে ব্যাটসম্যানদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করাকেও কারণ হিসেবে দেখেন তিনি এই হারের পেছনে। 

    “আমার মনে হয় এই টেস্ট ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল টস। দেখুন, প্রথম ২ দিনে কিন্তু উইকেটে বোলারদের জন্য কোনো সুবিধা ছিল না। আমার মনে হয়েছে, এই ম্যাচটার ৫০ শতাংশ ফলাফল টসের সময়েই নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। কন্ডিশন (বাংলাদেশের মতো) অনেকটা একই (ছিল)। পার্থক্য শুধু এখানে আর্দ্রতা একটু বেশি”, ম্যাচশেষে বলেছেন মুমিনুল। 

    প্রথম টেস্টের মতো এবারও প্রথম ইনিংসে দারুণ শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল, দুই স্পিনার রমেশ মেন্ডিস ও প্রভিন জয়াবিক্রমাকে থিতু না হতে দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন তিনি আক্রমণ করে। তবে শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয়েছে তাকে সেঞ্চুরির আগেই, এরপর আর তেমন বড় ইনিংস বা জুটি দেখেনি বাংলাদেশ। মূলত প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৫১ রানে অল-আউট হয়ে যাওয়ার পরই আর ম্যাচে ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। 

    প্রথম টেস্টের ব্যাটিংয়ের পুনরাবৃত্তি করতে না পারার আফসোস আছে তাই বাংলাদেশ অধিনায়কের, “প্রথম টেস্টে ছয় সেশন ব্যাটিং করেছিলাম, দ্বিতীয় টেস্টে (অমন) করতে পারলে খুবই ভাল হতো। একই সাথে এই টেস্টে কিন্তু পেসাররা খুবই ভাল বল করেছে। স্পিনাররা শুরুতে ওইরকম সুবিধা পায়নি। আমার কাছে মনে হয় টসটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পেসাররা খুবই ভাল করেছে, স্পিনাররা একদমই সহায়তা পায়নি। তো যেটা বললাম আমরা যদি অন্তত ৫ সেশন ব্যাট করতে পারতাম তাহলে ফল ভিন্ন হতে পারতো, যেটা আমরা পারিনি। এর দায় অবশ্য আমাদের নিজেদেরই। 

    “আমার মনে হয় যে আমরা দলগত ভাবে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। শুধু তামিম ভাই প্রথম ইনিংসে ভাল করেছে, ভাল শুরু এনে দিয়েছে। এছাড়া আমরা কেউই দলগত ভাবে ভাল করতে পারিনি। আমার কথাই যদি বলি আমি আসলে ইনিংস বড় করতে পারিনি, আমরা যদি তিন-চার সেশন ব্যাটিং করতে পারতাম... প্রথম টেস্টে কিন্তু আমরা প্রায় ছয় সেশন ব্যাট করেছিলাম। এই টেস্টেও যদি এই কন্ডিশনে তিন-চার সেশন ব্যাট করতাম তাহলে হয়ত জিনিসটা অন্যরকম হতো”, ম্যাচশেষে বলেছেন মুমিনুল। 

    দুই ইনিংসেই তামিমের উইকেটের পর মিডল-অর্ডারে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটির ইঙ্গিত ছিল মুমিনুলের। তবে হয়নি সেটি। প্রথম ইনিংসে তামিমের এনে দেওয়া শুরুর পর আক্রমণের চেষ্টাই করে গিয়েছিলেন শুরুর দিকের ব্যাটসম্যানরা। আগেরদিন নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, এমন উইকেটে নেতিবাচক মানসিকতা থাকলে চলবে না একদমই। মুমিনুল বলছেন, মাঝামাঝি একটা অ্যাপ্রোচে চলার দরকার ছিল তাদের- একেবারে আক্রমণাত্মক না, আর রক্ষণাত্মকও না। 

    তবে খানিকটাই সেই মাঝামাঝির ফাঁদে পড়েছেন মুমিনুল নিজেই। দুই ইনিংসেই রমেশ মেন্ডিসের শিকার তিনি- প্রথম ইনিংসে লো-ফুলটস মিস করে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন ৪৯ রানে, দ্বিতীয় ইনিংসে লেট কাট করতে গিয়ে ইনসাইড-এজে হয়েছেন বোল্ড। মুমিনুলের মতে, নির্দিষ্ট বোলারদের বিপক্ষে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঘাটতি ছিল তাদের, “বিশেষ বোলারের জন্য সবারই বিশেষ পরিকল্পনা থাকে- আমি যখন বাঁহাতি স্পিনারের বিপক্ষে খেলছিলাম তখন আমার একরকম ব্যাটিং ছিল আবার তামিম ভাই যখন ডানহাতি স্পিনারের বিপক্ষে খেলছিল তখন তার ভিন্ন ব্যাটিং ছিল। কোনো কোনো সময় এই পরিকল্পনাগুলো (বাস্তবায়ন করা) হয়ে ওঠে না।”

    উইকেট পড়তে বা একাদশ নির্বাচনেও ভুল করেননি বলে মত তার, “দেখতে অনেকটা একই রকম ছিল (উইকেট প্রথম টেস্টের মত)। একজন স্পিনার কম খেলিয়েছি কিনা... আমরা যদি আগে ব্যাটিং করতাম তখন দেখতেন যে গল্পটা ভিন্নরকম হত। ওরা হয়তো আমাদের জায়গায় থাকতো আজকে। আমরা আজকে ওদের জায়গায় থাকতাম। আর এসব উইকেটে খুব বেশি স্পিনারও লাগেনা যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে। তো আমাদের তো দুজন খুব ভালো মানের স্পিনার ছিল, আমার মনে হয়না আরেকটা স্পিনার লাগতো। দুই স্পিনারই আমার মনে হয় যথেষ্ট।”

    ১-০ ব্যবধানে সিরিজ হারলেও প্রাপ্তির দিকটাও দেখছেন এখান থেকে মুমিনুল। তামিমের ব্যাটিং, শান্তর সেঞ্চুরি, মুশফিক-লিটন দাসের ফিফটি, তাইজুল ইসলামের ৫ উইকেটের সঙ্গে তিনি আলাদা করে বলেছেন পেসারদের- বিশেষ করে তাসকিন আহমেদের- পারফরম্যান্সের কথা। টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক হতে গেলে অভিজ্ঞতার গুরুত্বর কথাও বলেছেন তিনি, আশা করেছেন, তরুণরা ধারাবাহিকতার ঘাটতি পূরণ করবেন সামনে। 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন