• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    কিক অফের আগে: ওয়েম্বলিতে রোমান হলিডে নাকি ইটস কামিং হোম?

    কিক অফের আগে: ওয়েম্বলিতে রোমান হলিডে নাকি ইটস কামিং হোম?    

    ইতালি-ইংল্যান্ড

    ইউরো ফাইনাল

    ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম

    ১২ জুলাই, বাংলাদেশ সময় রাত ১টা


    ইতালি-স্পেনের ম্যাচে গ্যালারিতে চোখে পড়েছিল একটা স্লোগান। সেটা ইতালিয়ান থেকে বাংলা করলে দাঁড়ায়, ইটস কামিং হোম নয়, এবার ইটস কামিং রোম। আজকের ইউরো ফাইনাল মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে ফুটবলের দুই পরাশক্তিকে। এদের মধ্যে এক দল ১৯৬৮ সালের পর দ্বিতীয় ইউরোর স্বপ্নে বিভোর, আর আরেক দল এবার প্রথম বড় কোনো আসরের ফাইনালেই উঠল ৫৫ বছর পর। শিরোপা যেই জিতুক, রোম বা লন্ডনে আজ আনন্দের বন্যা বইবে নিশ্চিতভাবেই।

    অবশ্য এটা নিয়ে সন্দেহ করার কোনো কারণ নেই, দুই দল যোগ্য হিসেবেই এসেছে ফাইনালে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফর্মের বিচারে ইতালি সম্ভবত এগিয়ে ছিল সবার চেয়ে। ঠিক সেভাবে ফেবারিটের তালিকায় কেউ না রাখলেও প্রথম ম্যাচ পরেই ইতালি জানিয়ে দিয়েছে, তারা শেষ পর্যন্ত যেতে এসেছে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত মোটামুটি নির্বিঘ্নে এলেও সেমিতে তাদের ভালোই ভুগিয়েছে স্পেন। তবে বড় টুর্নামেন্টে এরকম অফ ডে আসেই। রবার্তো মানচিনি আশা করবেন, তার দল সেই অফ ডে সেমিফাইনালেই কাটিয়ে এসেছে। এর মধ্যে মানচিনির ইতালি গড়ে ফেলেছে সবচেয়ে বেশি ক্লিন শট আর উরাজিত থাকার রেকর্ডও। তবে তার চেয়েও বেশি স্বস্তি পাবেন কোয়ার্টার আর সেমিতে বেলজিয়াম আর স্পেনের মতো দলের বাধা কাটিয়ে আসায়।



    সেই দিক দিয়ে ইংল্যান্ডকে হয়তো গত দুই রাউন্ডে খুব বড় পরীক্ষা দিতে হয়নি। শুরুটা অবশ্য বেশ স্লথ হয়েছিল গ্যারেথ সাউথগেটের দলের। ক্রোয়েশিয়ার সাথে হাঁচড়ে পাঁচড়ে পাওয়া জয়ের পর চেকদের সঙ্গে ড্রয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল ইংল্যান্ডকে নিয়ে। তবে নকআউটে এসে সত্যিকারের ইংল্যান্ডের দেখা মিলেছে। পুরনো শত্রু জার্মানদের হারিয়ে প্রথম বড় বাধা পার করেছে তারা। এরপর কোয়ার্টারে ইউক্রেনকে উড়িয়ে দেওয়ার পর অতিক্রত সময়ে এবারের চমক ডেনমার্কের বাধা পার করেছে যোগ করা সময়ে এসে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিট রেখেছে ইংল্যান্ড, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভালো ডিফেন্স তাদের। তাদের স্কোয়াড ডেপথও সম্ভবত সবচেয়ে বেশি, সাউথগেট সেজন্যই রোটেট করার স্বাধীনতাও পাচ্ছেন।

    তবে আজকের ম্যাচটা হবে ট্যাকটিকালি দুর্দান্ত দুই দলের দুই কোচের একটা লড়াইও। এখন পর্যন্ত ইতালি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ফ্রি ফ্লোয়িং ফুটবল খেলেছে। তবে স্পিনাজ্জলার অভাবে সেই ছন্দ কিছুটা নষ্ট হয়েছে সেমিতে এসে। ইতালির মূল ভরসা তাদের মধ্যমাঠের ত্রয়ী- ভেরাত্তি, জর্জিনহো ও বারেল্লা। অন্যদিকে স্ট্রাইকার ইম্মোবিলের গোলখরা পুষিয়ে দিচ্ছেন দুই উইঙ্গার ইন্সিনিয়ে ও কিয়েসা। তবে মধ্যমাঠের তিন জনের সাথে ইংল্যান্ডের মধ্যমাঠের ত্রয়ী মাউন্ট, ফিইপিস ও রাইসের লড়াইটাই ঠিক করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ। তবে ইংল্যান্ডের বাড়তি সুবিধা, তাদের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন নিজের ফর্মটা পেয়ে গেছেন। ওদিকে রাহিম স্টার্লিং এখন পর্যন্ত কাটাচ্ছেন তার সেরা সময়।

     

    দলের খবর

    মানচিনি এখন পর্যন্ত খুব বেশি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেননি। কিয়েসা গত দুই ম্যাচে প্রথম একাদশে থেকে গোল পেয়েছেন, আজ তার নামার কথা। ইংল্যান্ডের অনুশীলনে ছিলেন না ফিল ফোডেন, হালকা চোট আছে তার। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত দুই দলে বড় কোনো চোটের সমস্যা নেই।

    সম্ভাব্য একাদশ

    ইতালি

    দোন্নারুমা, কিয়েলিনি, বনুচ্চি, ডি লরেঞ্জো, এমারসন, বারেল্লা, জর্জিনহো, ভেরাত্তি, কিয়েসা, ইন্সিনিয়ে, ইম্মোবিলে

    ইংল্যান্ড

    পিকফোর্ড, ওয়াকার, ম্যাগুয়ের, স্টোন্স, শ, রাইস, ফিলিপ্স, মাউন্ট, স্টার্লিং, সাকা, কেইন

     

    আগে কী হয়েছিল?

    ইতালি-ইংল্যান্ড সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল ২০১৮ সালে। সেবার ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি। প্রতিযোগিতামূলক আসরে দুই দলের সর্বশেষ দেখা ২০১৪ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। মাউনাউসের সেই ম্যাচে ইতালি জিতেছিল ২-১ গোলে। তার আগে ইউরোতে দুই দলের দেখা হয়েছিল ২০১২ এর আসরে। সেবার ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে গিয়েছিল ইতালি।

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন