• ইউরো ২০২০
  • " />

     

    একজন নিঃস্ব ও দুষ্টু জামাইকান ছেলের স্বপ্ন

    একজন নিঃস্ব ও দুষ্টু জামাইকান ছেলের স্বপ্ন    

    জামাইকা থেকে ইংল্যান্ডে আসা ইংলিশ ফরোয়ার্ড রাহিম স্টার্লিং এর জীবনের কথন। প্লেয়ার্স ট্রিবিউনে প্রকাশিত লেখাটার চুম্বক অংশের অনুবাদ এখানে।  

    আমার মেয়েটা দিনে দিনে বেশ দুষ্টু হয়ে উঠছে। আমার মা অবশ্য আমাকে আগেই সাবধান করে দিয়েছিল। ৬ বছর হলে বাচ্চারা বেশ বুঝতে শুনতে শিখে ফেলে। এই তো সেদিনই আমার মেয়েটা একটা গান আপনমনে গুনগুন করতে করতে পুরো ঘর দৌড়ে বেড়াচ্ছিল। ওদিকে তার বাবা কেবল ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতে বাসায় ফিরেছে, তাতে আমার মেয়ের কি কিছু আসে যায়? একদমই না! কারণ আমার মেয়েটা পুরোদস্তুর লিভারপুলের ভক্ত। সে সারা বাড়ি দৌড়াচ্ছে আর গান গাইছে। এবং সে ঠিক তার বাবার মত করেই দৌড়াচ্ছে বুকটা একটু সামনে ঠেলে, পশ্চাদ্দেশ উঁচিয়ে, হাত দুলিয়ে দুলিয়ে দৌড়াচ্ছে আর গান গাচ্ছে। কী গান গাচ্ছে সে?
    মো সালাহ! মো সালাহ!
    রানিং ডাউন দা উইং
    সালাহ লা লা লালাহ
    ইজিপশিয়ান কিং!



    চিন্তা করতে পারেন আমার মেয়েটা কী পরিমাণ যন্ত্রণা দেয় আমাকে? আমি ঈশ্বরের নামে দিব্যি করে বলতে পারি, আমি ঠিক এমনটাই ছিলাম ঐ বয়সে। দুষ্টুমি করে মানুষকে জ্বালিয়ে শেষ করে দিতাম, কিন্তু আবার পুরোটাই চুপচাপ। কারো সাথে কথা বলতাম না। আমার মেয়ের ব্যাপারটাও আমার মতই। আমরা কাউকে যদি বিশ্বাস করি তাহলেই মনের কথা বলতে পারি। আপনাদের উপর কি আমি বিশ্বাস রাখতে পারি? আমার কাহিনীটা বলবার জন্য?
    আমার বয়স যখন ২ তখন আমার বাবাকে খুন করা হয়। এই ঘটনাটা আমার জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করেছে অনেকটা সময়। বাবা খুন হওয়ার কিছু সময় পরেই আমার মা আমাকে আর আমার বড় বোনকে জামাইকায় রেখে ইংল্যান্ড গিয়ে তাঁর পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। বেশ কিছু বছর আমরা আমাদের নানার সাথে কিংস্টোনে থেকেছি। অন্য বাচ্চাদেরকে যখন তাদের মা বাবার সাথে দেখতাম আমার ভীষণ হিংসা হত। আমার মা কেন চলে গেছেন, বাবা কেন ফিরেন না এসব বোঝার বয়স আমার তখনো হয় নি। আমার নানা চমৎকার লোক ছিলেন, কিন্তু ঐ বয়সে একটা বাচ্চা তার মাকে কাছে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। 
    মায়ের অনুপস্থিতির দুঃখ ভোলানোর জন্য আমার কাছে ছিল ফুটবল। বৃষ্টি শুরু হলেই সবাই মিলে ফুটবল নিয়ে বের হয়ে যেতাম আর কাদাপানিতে গড়াগড়ি করে ফুটবল খেলতাম। জামাইকার এই ব্যাপারটাই আমার শিশুমনে সবচেয়ে দাগ কেটেছিল, বৃষ্টি শুরু হলেই কেউ ঘরে বসে থাকতে চাইতো না, বাইরে গিয়ে ভিজতে চাইতো, আনন্দ করতে চাইত। 
    আমার বয়স যখন ৫ তখন মা আমাদেরকে লন্ডনে তাঁর নিজের কাছে নিয়ে যান। আমার আর আমার বোনের জন্য ব্যাপারটা বেশ কঠিন ছিল, কারণ পুরোপুরি ভিন্ন একটা আবহাওয়া আর সংস্কৃতির দেশ ইংল্যান্ড। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল আমাদের কোন টাকাপয়সা ছিল না। আমার মা তখনো পড়াশোনা শেষ করেন নি। বাড়তি আয়ের জন্য তিনি হোটেলের ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করতেন। আমার মনে আছে ভোর ৫টায় উঠে আমি স্টোনব্রিজ হোটেলে মাকে হোটেলের টয়লেট সাফ করতে সাহায্য করছি। ওদিকে আমার বোন বিছানার চাদর পাল্টাচ্ছে। এভাবেই আমাদের জীবন চলতো তখন। ভোরের শিফটের কাজ শেষ করে আমরা সকালের নাশতা করতাম হোটেলের লবির ভেন্ডিং মেশিন থেকে। বাউন্টি চকলেট বার ছিল আমার প্রতিদিনকার ব্রেকফাস্ট। 
    আমাদের পরিবারের বন্ধনটা খুব শক্ত ছিল। সেটা তো থাকতেই হবে, কারণ আমরা নিজের দেশ ছেড়ে ভিন্ন একটা দেশে এসেছি যেখানে আমাদের কোন আত্মীয় স্বজন নেই। আমাদের জন্য কেবল আমরাই ছিলাম। আর এর মাঝে আমি আমার মার জীবনটাকে খুব সহজ করেছি এমন না। আমি ভয়ানক দুষ্টু ছিলাম ছোটবেলায়। এখন চিন্তা করলে আমার নিজেকে বেশ দোষীই মনে হয়, আমার মাকে আমি প্রায় পাগল করে ছেড়েছিলাম। আমি খুব খারাপ ছিলাম এমন না, কিন্তু আমি কারো কথাই শুনতাম না। আমার মার, বোনের, স্কুলের শিক্ষকদের। প্রাইমারি স্কুলে ক্লাসে যখন শিক্ষকেরা পড়াতেন আমার চোখ থাকতো হয় জানালার দিকে বা ঘড়ির দিকে। আমি কেবল চিন্তা করতাম কখন ছুটির ঘন্টা বাজবে আর আমি বাইরে গিয়ে ফুটবল খেলব, ঠিক আমার হিরো রোনালদিনহোর মত। এই ধরনের আচরণের জন্য আমাকে মূল স্কুল থেকে বেরও করে দেওয়া হয়েছিল, আলাদা ক্লাস করতাম আমি তখন। 
    আমার জীবনটা আরো একবার মোড় ঘুরল যখন ক্লাইব এলিংটন নামে একজনের সাথে আমার পরিচয় হল। এলাকার যেসব ছেলেদের বাবা নেই তাদের নিয়ে ক্লাইব সপ্তাহান্তে বিভিন্ন মজা করতেন। কখনো খেলাধুলা হত, কখনো নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়া হত। তিনি একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাহিম, তুমি আসলে কী করতে পছন্দ কর? খুব সোজা প্রশ্ন, আমি উত্তর দিলাম, ফুটবল। ক্লাইভ বললেন, দারুণ! আমরা প্রতি রবিবার একটা লিগের আয়োজন করি। চলে আসো আমাদের সাথে।
    এবং ঐ মুহূর্তেই আমার নিয়তি নির্ধারিত হয়ে গেল। এর পর থেকে আমার জীবনে ফুটনল ছাড়া আর কিছু ছিল না। দিনে, রাতে এমনকি ঘুমের ভেতর স্বপ্নেও আমি কেবল ফুটবল নিয়েই ভাবতাম। আমার বয়স যখন দশ কী এগার, লন্ডনের বেশ কিছু ক্লাব আমাকে স্কাউট করছিল। ফুলহাম আমাকে চাইছিল এবং আর্সেনাল আমাকে চাইছিল। আর্সেনালের মত ক্লাব যখন আপনাকে চায়, অবশ্যই আপনি সেখানে যাওয়ার কথাই চিন্তা করবেন। আর্সেনাল লন্ডনের সবচেয়ে বড় ক্লাব, মানা করার প্রশ্নই আসে না। তাই আমি আমার মাকে গিয়ে বললাম, আমি আর্সেনালে সাইন করব। 
    আমার মা একজন পোড়খাওয়া মানুষ। এই কঠিন দুনিয়ায় কীভাবে টিকে থাকতে হয় এটা আমার মার থেকে ভাল খুব বেশি মানুষ জানে না। তিনি আমাকে হাত ধরে বসালেন, তারপর বললেন, আমি জানি তুমি আর্সেনালে যেতে চাও। কিন্তু আমার মনে হয় তোমার আর্সেনালে যাওয়া উচিত হবে না এখনি। 
    আমার মাথায় বাজ পড়ল, কেন?? মা বোঝালেন, আর্সেনালের মত বড় ক্লাবে তোমার মত প্রতিভাবান ফুটবলার আরো ৫০ জন থাকবে। সেখানে তুমি কেবলই একটা জার্সি নাম্বার হয়ে থাকবে। তোমার এমন কোন জায়গায় যাওয়া উচিত যেখানে তোমাকে আলাদা করে নজর দেওয়া হবে, এবং কষ্ট করে তুমি উপরে উঠে আসতে পারবে। 

     

    তিনটা বাস বদল করলে পরে আমাদের বাসা থেকে আমার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পৌছানো যেত


    মার কথা মেনে নিয়ে আমি কিউপিআর এ যোগ দিলাম। ফিরে তাকালে বুঝি সেটা আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলোর একটা ছিল। কিউপিআর আমার অনেক যত্ন করেছে। কিন্তু কিউপিআর এর ট্রেনিং গ্রাউন্ড ছিল লন্ডনের আরেক মাথায়, হিথ্রোতে। আমার পরিবার বেশ ঝামেলায় পড়ে গেল, কারণ আমার মা কিছুতেই আমাকে একা ছাড়বেন না। কাজেই ঠিক হল আমার বোন আমাকে প্রতিদিন ট্রেনিং এ নিয়ে যাবে। ১৮ নাম্বার, ১৮০ নাম্বার আর ১৪০ নাম্বার - তিনটা বাস বদল করলে পরে আমাদের বাসা থেকে আমার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পৌছানো যেত। লন্ডনের ঐ বিখ্যাত লাল ডাবল ডেকার বাসে জীবনের একটা বড় অংশ পার করেছি আমি আর আমার বোন। বিকেল ৩টাইয় আমরা বাসা থেকে বের হতাম আর রাত ১১টায় বাসায় ঢুকতাম। আর আমার ১৭ বছর বয়সী বোন রাস্তার ধারের একটা ক্যাফেতে অপেক্ষা করত আমার ট্রেনিং শেষ হওয়ার। একবারও আমি আমার বোনকে এ নিয়ে আপত্তি করতে শুনি নি। আমার কিশোরী বোন যে আমার জন্য নিজের ঐ সময়ের কত ইচ্ছে, সাধ, আহ্লাদ বিসর্জন দিচ্ছে সেটা আমি ঐ বয়সে বুঝতে পারি নি, এখন পারি। আমার পরিবারের সবাই আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাদের ছাড়া আমি কিছুই না। 
    লন্ডনে থাকার সবচেয়ে মজার দিক ছিল, আমি আমার স্বপ্নকে নিজের চোখের সামনে তৈরী হতে দেখেছি, আক্ষরিক ভাবেই। উঠোনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি নিউ ওয়েম্বলির নির্মাণকাজ দেখতাম প্রতিদিন। একদিন বাসা থেকে বেরিয়েই দেখলাম ওয়েম্বলির বিশাল তোরণ দাঁড়িয়ে গিয়েছে। বাসার পাশের ছোট্ট এক টুকরা মাঠে আমরা ফুটবল খেলতাম। গোল করলেই আমি ওয়েম্বলির তোরণের দিকে তাকিয়ে উদযাপন করতাম। মনে হত, ঠিক যেন আমি স্টেডিয়ামের ভেতরেই আছি। আমি জানতাম আমাকে দিয়ে সম্ভব, একদিন আমি আসলেই ঐ স্টেডিয়ামের ভেতরেই খেলব। 
    সবাই আমার এই স্বপ্নে বিশ্বাস করত না। আমার স্কুলের এক শিক্ষক ক্লাসে আমার মনোযোগের অভাবে প্রায়ই বিরক্ত হতেন। একদিন আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, রাহিম, তুমি কি মনে কর ফুটবল তোমার পেশা হবে? তুমি কি জান কোটি কোটি বাচ্চারা তোমার মত ফুটবলার হতে চায়? তুমি তাদের থেকে আলাদা কীভাবে? আমি ঐ মুহূর্তে কোন উত্তর দিতে পারি নি। মনে মনে বলেছি, ঠিক আছে দেখছি আমি বিষয়টা।  
    মাস দুয়েক পর আমি ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৬ দলে ডাক পেলাম। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে আমি দুইটা অ্যাসিস্ট করলাম। খেলাটা টিভিতেও দেখিয়েছিল, আমার জন্য বিশাল ব্যাপার। খেলা শেষে সোমবার যখন স্কুলে ফিরে গেলা ঐ একই শিক্ষক তখন আমার সবচেয়ে ভাল বন্ধু! 
    আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত এল যখন আমার বয়স ১৫। লিভারপুল আমাকে চাইছে। কিন্তু লন্ডন থেকে লিভারপুল ৩ ঘন্টার দুরত্বে। আমি আমার মা আর বোনকে বসিয়ে বুঝালাম যে আমি লিভারপুল যেতে চাই। ঐ সময়ে আমাদের পাড়ায় ছিনতাই, খুনোখুনির মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। আমি জানতাম এখান থেকে বের হতে না পারলে আমি ঠিকভাবে ফুটবলে মনোযোগ দিতে পারব না। আমার মা আর আমার বোন অনেক ত্যাগ স্বীকার করে আমাকে এই পর্যন্ত এনেছে। এবার আমার ফিরিয়ে দেওয়ার পালা। 

     

    এবার আমার ফিরিয়ে দেওয়ার পালা


    ২ বছরের জন্য আমি পুরোপুরি গায়েন হয়ে গেলাম লন্ডন, আমার এলাকা থেকে। কেবল সপ্তাহান্তে ট্রেনে চড়ে আমি বাড়ি আসতাম একদিনের জন্য। কেবল আমার মাকে দেখতে। রাতেই ট্রেনে চেপে আবার ফিরে যেতাম লিভারপুলে। সেখানে আমি এক বৃদ্ধ দম্পতির সাথে থাকতাম। তাঁরা আমাকে খুবই আদর করতেন, নিজেদের নাতির মতই যত্ন আত্তি করতেন। কিন্তু আমার মার তবুও শান্তি হত না। প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে মা ফোন দিতেন। রাহিম, সকালের প্রার্থনা করেছ? খাওয়ার আগে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছ? 
    জীবনের ঐ দুই বছর আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার মাথায় কেবল কাজ করত, আমার মা আর বোন আমার জন্য যে কষ্টটা করেছে সেটা বিফলে যেতে দেওয়া যাবে না। আমার মনে আছে আমার জীবন ২-৩বার এমন হয়েছে আমি ট্রেনিং থেকে বাসায় ফেরার আগে মা ফোন দিয়েছেন, এটা আমাদের নতুন ঠিকানা এখানে আসো। আমি ছোট ছিলাম, মনে করতাম এমন বুঝি সবাই করে, নিয়মিত বাসা বদল করে। এখন আমি বুঝতে পারি, বাসা ভাড়া আমাদের জন্য বেশি হয়ে যেত ঘনঘনই, তখন মাকে বাধ্য হয়ে বাসা বদলাতে হত। মিডিয়াতে আমার সম্পর্কে একটা ধারণা প্রচার করা হয় যে আমি বিলাসবহুল জীবন পছন্দ করি, আমি আমার ধন সম্পত্তি শোঅফ করি। আমি আমার মাকে দামী বাড়ি কিনে দিয়েছি, সেই বাড়িতে রত্ন খচিত একটা টয়লেট আছে - এ ব্যাপারটা একসময় ব্রিটিশ মিডিয়া অনেক ফলাও করে প্রচার করেছে। দেখ সবাই, রাহিম স্টার্লিং কীভাবে টাকার অপচয় করছে, সম্পদের কৃচ্ছ্বসাধন করছে। কিন্তু তারা তো জানে না ঐ রত্ন খচিত বাথরুম থেকে মাত্র ১৫ বছর আগেই আমি, আমার মা, আমার বোন হোটেলে হোটেলে টয়লেট পরিষ্কার করতাম যাতে সেই টাকা দিয়ে ভেন্ডিং মেশিন থেকে কিনে খাবার খেতে পারি। আমার মা খালি হাতে নিজ দেশ ছেড়ে ইংল্যান্ড এসেছিলেন, তিনি নিজের পড়াশোনা নিজের খরচে শেষ করেছেন, তিনি এখন একটা নার্সিং হোমের ডিরেক্টর। তাঁর ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গেছে, তাঁর ছেলে এখন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলে। 

     

    তাঁর ছেলেমেয়ে বড় হয়ে গেছে, তাঁর ছেলে এখন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে খেলে


    আর আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর কী জানেন? আমি ১৭ বছর বয়সে প্রথম ইংল্যান্ড জাতীয় দলে ডাক পাই। ইউক্রেনের বিপক্ষে  বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইয়ার ম্যাচটা খেলা হয় ওয়েম্বলিতে। টিম বাসে চড়ে আমরা যখন স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলাম তখন জানালা দিয়ে আমি দেখছিলাম আর ভাবছিলাম … 
    ঐতো ওই বাসাটায় আমার বন্ধু থাকতো… 
    ঐযে ঐ পার্কিং লটটাতে আমরা খেলতাম… 
    আরে ঐ গলিটাতে আমার প্রথম গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়েছিল… 
    আরে ঐতো আমার বাসা, আমার মাঠ। ওখানে গোল দিয়ে আমি ওয়েম্বলিতে খেলার স্বপ্ন দেখতাম… 
    ইংল্যান্ড এমন একটা জায়গা যেখানে সহায়সম্বলহীন, জামাইকান একটা দুষ্টু ছেলে নিজের স্বপ্নকে সত্যি করতে পারে।  

     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন