• ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
  • " />

     

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি ১০ : বিয়েলসিস্তা, এল লোকোর লৌকিকতায়

    ২০০৩ সালের কোন একটা সময় রিভারপ্লেটের কোচ লিওনার্দো এস্ত্রাদার কাছে একটা ফোন এল। 
    লিও, তোমার রিজার্ভ দলে সান লরেঞ্জোর একটা ছেলে আছে, হাভিয়ের মাসচেরানো। ওকে একটু ফাঁকা করে দিও, উরুগুয়ের বিপক্ষে ওকে মাঠে নামাবো।

    লিও পুরোই থতমত খেয়ে গেলেন, কিন্তু বস! সেতো মাত্র ক্লাবে জয়েন করেছে, এটাই তার প্রথম ক্লাব আর এখনো সে মাঠে নামারই সুযোগ পায় নি!

    সে আমি বুঝব, বলে শেষ করলেন আর্জেন্টিনার তৎকালীন কোচ মার্সেলো ‘এল লোকো’ বিয়েলসা। আর এভাবেই  ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার আগেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয়ে গেল মাসচেরানোর। 

    লিওনার্দো এস্ত্রাদার মতো অনেকেরই মনে হতে পারে, এটা কীভাবে সম্ভব? যে ছেলে পেশাদার ফুটবলে একটা ম্যাচও খেলেনি তাকে জাতীয় দলের অভিষেক করানো এটা নিতান্ত পাগলামি ছাড়া আর কিছু নয়। বিয়েলসা সম্পর্কে না জানলে গোটা ব্যাপারটা আসলেই পাগলামিই মনে হবে। বিয়েলসার ‘এল লোকো’ বা পাগলা ডাকনামটা সবারই জানা, তবে তাঁকে আরো একটা নামে ডাকা হয়। এল প্রফেসর -  দা প্রফেসর। ফুটবল নিয়ে গবেষণাকে একটা অনতিক্রম্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন বিয়েলসা। জোনাথন উইলসন তাঁর এইট বাই এইট ম্যাগাজিনের এক লেখায় বলেছেন, ব্রাজিল থেকে ৬০ এর দশকে ব্যাক ফোর ব্যাপারটা চালু হওয়ার পর থেকে আধুনিক ফুটবলে মার্সেলো বিয়েলসার মত প্রভাব কোন ল্যাটিন আমেরিকানের নেই। কিন্তু কোচ হিসেবে বিয়েলসার অর্জন তেমন কিছু নেই। আর্জেন্টিনার হয়ে অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া লিগে কিছু ট্রফি, বিলবাওকে ইউরোপা এবং কোপা দে রেতে রানার্স আপ করানো এবং সম্প্রতি লিডসে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়ে আবার প্রিমিয়ার লিগে ফেরান। এগুলো বলার মতো তেমন কোন সাফল্য নয়, বরঞ্চ তাঁকে গুরু মানেন যেসব কোচেরা তাদের প্রত্যেকেরই এর থেকে বড় সাফল্যগাঁথা আছে। তাহলে বিয়েলসাকে বর্তমানের সেরা ম্যানেজার আর খেলোয়াড়েরা এত সম্মান কেন করেন? বিয়েলসার পাগলাটে কাজকর্মগুলোও সাধারণত মিডিয়ার সামনে আসে, তাঁর ফুটবল দর্শন আর কৌশল নিয়ে খুব একটা প্রচার দেখা যায় না। রোজারিওর এল লোকোর ফুটবল জ্ঞান আর দর্শন কীভাবে বিস্তৃত হয়ে যাওয়া অবশ্য বাধা পড়েনি তাতে।
     

    খেলার আগের বিয়েলসা

    লিডসকে নিজের প্রথম মৌসুমেই স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন বিয়েলসা। লম্বা একটা সময় চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষেও ছিল তারা। কিন্তু মৌসুমের মাঝপথে বিয়েলসা খবরে এলেন ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ কারণে। ডার্বি কাউন্টির সঙ্গে ম্যাচের আগে তাদের ট্রেনিং পর্যবেক্ষণ করার জন্য একজন গুপ্তচর পাঠিয়েছিলেন তাদের ট্রেনিং সেশনে। এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিয়েলসা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছিলেন, জানিয়েছিলেন এই কাজ তিনি কয়েক যুগ ধরেই করে আসছেন! 

    পরে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে তিনি ডার্বির টিম ট্যাকটিকস বুঝিয়েছেন সাংবাদিকদের, সেই বিশ্লেষণের মাত্রা দেখে ডার্বি কাউন্টির তখনকার ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের মাথা চক্কর দেওয়ার কথা। প্রতিপক্ষের চুলচেরা বিশ্লেষণ ব্যাপারটার আধুনিক যুগের পথিকৃৎ বলা যায় মার্সেলো বিয়েলসাকে। ভেলেজ সার্সফিল্ডে থাকার সময়ে তিনি ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিপক্ষের খেলার ভিডিও বিশ্লেষণের জন্য একটা কম্পিউটার চেয়ে তাদের পিলে চমকে দিয়েছিলেন। কারণ তখন ১৯৯৭ সাল, ভিডিও বিশ্লেষণ টার্মটার সাথেই তখনো পরিচিত নয় মানুষ। লিডসের চাকরির ইন্টারভিউয়ের সময় বিয়েলসা এর আগের মৌসুমের সব প্রতিপক্ষের সব খেলা দেখে সব ফর্মেশনের বিশ্লেষণসমেত হাজির হয়ে চমকে দিয়েছিলেন ইন্টারভিউ বোর্ডকে। চাকরি নেওয়ার আগেই তিনি লিডস সম্পর্কে যতটুকু জানতেন অতোখানি ফুটবলজ্ঞান লিডসের মালিকপক্ষেরও ছিল না।


    একই কাজ তিনি করেছেন ভেলেজ সার্সফিল্ড এবং অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের ইন্টারভিউয়ের সময়ও, হাজির হয়েছিলেন ৫০টা ভিডিও টেপ আর একতাড়া খাতা নিয়ে। খেলার বিশ্লেষণ নিয়ে বিয়েলসার উন্মাদনা এমনই যে একবার পারিবারিক ছুটি কাটাতে গিয়েও তিনি দিনে ১৪ ঘন্টা করে খেলার ভিডিও দেখেছেন এবং নিজের শ্বশুরকে খেলার সময় নোট নিতে বাধ্য করেছিলেন। আপনার কাছে ব্যাপারগুলো পাগলামি মনে হতে পারে, কিন্তু বিয়েলসা মাঠে যেমন ফুটবল চান সেটার জন্য এমন চুলচেরা বিশ্লেষনের বিকল্প নেই।  

    প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণের সাথে সাথে চলে আসে জায়গামতো সঠিক খেলোয়াড়কে খেলানোর ব্যাপারটা। স্কাউটিং ব্যাপারটাকে মার্সেলো বিয়েলসা নিয়ে গেছেন অন্যরকম এক উচ্চতায়।  বিয়েলসা তাঁর পরিকল্পনার জন্য যথোপযুক্ত খেলোয়াড় খুঁজে বের করার জন্য কতটা আগ্রহী সেটা তাঁর প্রথম ম্যানেজারি জীবনের একটা গল্প থেকেই পরিষ্কার হয়। বিয়েলসা মাত্র ২৫ বছরেই তাঁর প্রথম ফুটবল ম্যানেজারের দায়িত্ব পান। ইউনিভার্সিটি অফ বুয়েন্স আয়ার্স ছিল তাঁর দল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দলের জন্য ২০জন খেলোয়াড়কে বাছাই করতে বিয়েলসা ৩০০০ এরও বেশি খেলোয়াড়ের ট্রায়াল নিয়েছিলেন। বিয়েলসার প্রথম প্রফেশনাল কোচিং চাকরি ছিল তাঁর পুরনো ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়জে। ক্লাবে ঢুকেই বিয়েলসার মনে হয়েছিল এখানে যথেষ্ট মেধা নেই। এর প্রতিকার করতে তিনি আর্জেন্টিনার মানচিত্র নিয়ে গোটা দেশটাকে ৭০টা আলাদা অংশে ভাগ করে প্রতিটা অংশে নিজে ব্যক্তিগতভাবে ট্রায়ালের আয়োজন করেছিলেন। স্কাউটিংএর নেশা বিয়েলসার এতটাই প্রবল যে একবার রাত ১টার সময় তিনি রোজারিওর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের মার্ফি শহরের এক বাসার দরজায় টোকা দিয়ে অনুরোধ করেছিলেন যে বাসার ১৩ বছরের কিশোরটির পায়ের গঠনটা আরেকবার দেখতে চান তিনি। ট্রায়ালে দেখে মনে হয়েছিল ছেলেটি ভাল খেলতে পারবে। ঐ ছেলেটি ছিলেন মাউরিসিও পচেত্তিনো। পরে পচেত্তিনো বলেছেন, ঐ রাতে বিয়েলসা যদি তাঁর বাসায় না আসতেন তাঁর জীবনটা অন্যরকম হত। 

    ট্রায়ালে দেখে মনে হয়েছিল ছেলেটি ভাল খেলতে পারবে। ঐ ছেলেটি ছিলেন মাউরিসিও পচেত্তিনো।

    প্রতিপক্ষ কীভাবে খেলবে জানা হল এবং সঠিক খেলোয়াড়গুলোও পাওয়া গেল। এরপর আসে তাদের ট্রেনিং করিয়ে প্রস্তুত করানোর ব্যাপার। বিয়েলসার মাঠের ট্রেনিং রেজিমেন্ট তাঁর আরেকটি অনন্য বিশেষত্ব। এবং প্লেয়ার ডেভেলপমেন্টে বিয়েলসার নামযশের অন্যতম কারণ। বিয়েলসার যেকোন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করুন, সবাই বলবে যে এল লোকোর ট্রেনিং গ্রাউন্ড যেকোন মিলিটারি কমান্ডো ট্রেনিং এর থেকেও বেশি কড়া। ম্যাচ ডের দুইদিন আগে থেকে বিয়েলসা প্রস্তুতি শুরু করেন, মূল একাদশের বিপক্ষে রিজার্ভ একাদশের ম্যাচ খেলান। এক্ষেত্রে রিজার্ভ একাদশকে প্রতিপক্ষের সম্ভাব্য ট্যাকটিকসে খেলানো হয়। ট্রেনিং গ্রাউন্ডে উপস্থিত ভক্ত আর দর্শকদের কাজে লাগিয়ে বিয়েলসা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন শারীরিক আর মানসিক অনুশীলন করান।  লিডসের খেলোয়াড়দের বিয়েলসা প্রতি  ম্যাচ ডের আগে ডাবল সেশন করিয়েছেন। এর অর্থ হল ম্যাচের আগে দুইরাত খেলোয়াড়দের ট্রেনিং গ্রাউন্ডেই থাকতে এবং ঘুমাতে হয়।  ম্যাচের আগের দিন বিয়েলসা তাঁর প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণের ফলাফল নিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে বসেন। ম্যাচে কী হলে কী হবে এর হাজারো রকম সিনারিও নিয়ে বিয়েলসার পরিকল্পনা থাকে। একেবারে খুঁটিনাটি সহ।

     

    মাঠের বিয়েলসা

    অ্যাথলেটিক বিলবাও এবং ভিয়ারিয়ালের একটা জমজমাট ম্যাচ শেষে এক সাংবাদিক একবার বিয়েলসাকে প্রশ্ন করলেন, এই যে আপনি প্রতিবার বিলবাওয়ের আক্রমণের সময় বসা থেকে উঠে টেকনিকাল এরিয়াতে  ঠিক ১৩কদম ডানে আর ১৩ কদম বামে, এভাবে পায়চারি করেন এটা কি কাকতালীয় নাকি এর কোন তাৎপর্য আছে? বিয়েলসা তার স্বভাবসুলব স্মিতহাস্যে জবাব দিয়েছিলেন, আমার কাছে এর থেকে কাকতালীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ মনে হয় যে একজন এমন চমৎকার খেলা দেখা বাদ দিয়ে বসে বসে আমার কদম গুণেছে! বিয়েলসা একেবারেই বাড়িয়ে বলেন নি। বিয়েলসার দলগুলো সবসময়ই প্রচন্ড আক্রমণাত্মক এবং গতিময় ফুটবল উপহার দিয়ে এসেছে দর্শকদের। কিন্তু সেটার ধরন কেমন আসলে? 

    ৩-৩-১-৩ ও বিয়েলসিস্তাঃ

    ৩-৩-১-৩ হল মার্সেলো বিয়েলসার ট্রেডমার্ক ফর্মেশন। যদিও বিভিন্ন সময়ে বা অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ৪-২-৩-১ এও তিনি খেলেছেন। তবে আক্রমণে বিয়েলসা দলের শেইপ ৩-৩-১-৩ এ গিয়েই দাঁড়ায়। মাঠের খেলায় বিয়েলসা চারটি মূলনীতি অনুসরণ করেন - কন্সেন্ত্রাসিওন পার্মানেন্তে, মুভিলিদাদ, রোতেসিওন এবং রিপিনিতিযাসিওন।  

    রক্ষণ থেকে আক্রমণে ফর্মেশনের পরিবর্তন

    কন্সেন্ত্রাসিওন পার্মানেন্তে বা মনোযোগ। খেলার প্রস্তুতির সময়ে করা ট্রেনিং ড্রিল এবং প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ মাথায় রেখে খেলায় মনোযোগ দেওয়া। সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলো  আলাদাভাবে আগেই অনুশীলনের কারণে খেলোয়াড়রা জানেন কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে। তাদের কাজ হল মনোযোগ ধরে রেখে খেলে যাওয়া। 

    মুভিলিদাদ বা গতিময়তা। গতিময় ফুটবুল বিয়েলসার মূলনীতির সাথে এতটাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে তার খেলোয়াড়দের বলা আছে কখনো যেন দাঁড়ানো অবস্থায় পাস রিসিভ না করে। অর্থাৎ যে পাস বাড়াবে সে যেন সবসময়ই শূন্য স্পেসে পাস বাড়ায়। বিয়েলসা পজিশনাল ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন এবং ভার্টিকালি মাঠে দ্রুত ট্রানজিশান করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে চলে যায় তার দল। আক্রমণের ক্ষেত্রে উইং ও হাফ স্পেসে ওভারলোড তৈরী করে বিয়েলসার দল।   আর রক্ষণে হাই লাইন ডিফেন্স এবং নিরন্তর প্রেসিং করে গোটা দলের সবাই। 

    রোতেসিওন বা আবর্তন। গতিময়তা অর্জনের জন্য কখনো স্থির থাকা যাবে না, বল নিজের কাছে রাখা যাবে না বেশি সময়। টোটাল ফুটবলের অনুরাগী বিয়েলসা চান তার দলের সকল খেলোয়াড় যেকোন পজিশনে যাতে খেলতে পারে। এজন্যই সাধারণত রক্ষণে তিনি মিডফিল্ডারদের খেলিয়ে থাকেন। মাঠে প্রতিটা খেলোয়াড়ের অ্যাক্টিভ জোন নির্দিষ্ট করা থাকে, অন্য কেউ যদি নিজের জোনে চলে আসে তবে একজন খেলোয়াড়কে আরেকটি শুন্য জোনে গিয়ে অবস্থান নিতে হবে। 

    আর সবশেষে হল রিপিনিতিযাসিওন বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত। আক্রমণে যারা আছে তাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়া আছে নিজেদের বুদ্ধি, বিবেচনা এবং সৃষ্টিশীলতা কাজে লাগিয়ে মাঠে স্পেস এবং গোলের সুযোগ তৈরী করার। আক্রমণ, মাঝমাঠ আর রক্ষণ তিনজায়গাতেই বিয়েলসা একজন করে পিভট ব্যবহার করেন। এই তিনটি পিভট খেলার ভার্টিকাল ট্রাঞ্জিশান নিশ্চিত করে। বিয়েলসার লিডসে এই তিনটি ব্লকে দায়িত্ব পালন করেন তিনজন - লুক এইলিং(স্পেয়ার ম্যান), ক্যালভিন ফিলিপস(ফালক্রাম) এবং পাবলো হারনান্দেজ(এনগাঞ্চে)। 

     

    স্পেয়ার ম্যান

    বিয়েলসার স্পেয়ার ম্যান দর্শন খুবই সহজ। তাঁর মূলনীতি হল প্রতিপক্ষের যতজন ফরোয়ার্ড খেলবে তার থেকে একজন বেশি সেন্টার ব্যাক তাঁর দলে থাকবে। প্রতিপক্ষের ফর্মেশনের ওপরই নির্ভর করে বিয়েলসা থ্রি ম্যান ব্যাকলাইন খেলাবেন নাকি ফোর ম্যান। তো এই স্পেয়ার ম্যানের কাজটা কী? বিয়েলসা যেহেতু হাই প্রেসিং স্টাইলের ফুটবল খেলেন, কাজেই তার প্রতিটা সেন্টার ব্যাক একজন ফরোয়ার্ডকে প্রেস করবে এবং স্পেয়ার ম্যানের কাজ হল মাঝমাঠ আর রক্ষণের যোগাযোগ বজায় রাখা এবং আক্রমণের সূচনা করা। এ কারণে বিয়েলসা স্পেয়ার ম্যান হিসেবে সেন্টার ব্যাক পজিশনে প্রায়ই মিডফিল্ডারদের খেলান। চিলিতে তিনি গ্যারি মেদেল এবং আর্তুরো ভিদালকে সেন্টার ব্যাক এবং উইং ব্যাক পজিশনে খেলিয়েছেন। বিয়েলসার সিস্টেমে উইঙ্গার এবং উইং ব্যাকদের আসলে খুব একটা পার্থক্য নেই। রক্ষণে স্পেয়ার ম্যান অন্য সবার মতই প্রেস করবে, তবে আক্রমণে তার ওপরে ওঠার স্বাধীনতা আছে। যদি বলের দখল থাকা অবস্থায় যদি প্রতিপক্ষের প্রেসের সম্মুখীন হয় বিয়েলসার দল, তারা স্পেয়ার ম্যানের কাছে বল দেবে। স্পেয়ার ম্যানের কাজ হল প্রেসকে হজম করে নিয়ে বল মাঝমাঠে চালান করা। পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনার রক্ষণে বিয়েলসার পুরনো ছাত্র হাভিয়ের মাসচেরানোকে খেলিয়ে রক্ষণের স্পেয়ার ম্যান দর্শনের প্রয়োগ করেছেন।

    স্পেয়ার ম্যানের কাজ প্রতিপক্ষের চাপ হজম করে খেলা আগানো

    ফালক্রাম

    সেন্টার ব্যাক তিনজনের সাথে মিডফিল্ডার তিনজন মিলে মাঠে বাটির আকৃতি তৈরী করেন। বিয়েলসার ফর্মেশনে হোল্ডিং মিডফিল্ডার বা ফালক্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশন। স্পেয়ার ম্যানের সাথে মিলে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের সূচনা করা বা উইংয়ের দিকে বল বাড়িয়ে খেলার প্রশস্ততা বাড়ানোর দায়িত্ব ফালক্রামের হাতেই। উইং ব্যাক বা ওয়াইড মিড ফিল্ডাররা হাফ স্পেস ধরে দ্রুত বল এগোনোর দায়িত্ব থাকেন। মাঝমাঠের ফালক্রাম প্রেসের মাঝে বল রিসিভ করে আক্রমণের সূচনা করতে পারবে। আক্রমণে যেমন স্পেয়ার ম্যান উঠে এসে যোগ দিতে পারেন মাঝমাঠে তেমনি রক্ষণের সময় আবার ফালক্রাম নিচে নেমে আসতে পারবেন।  বার্সায় সার্জিও বুস্কেটস, সিটিতে ফার্নান্দিনহো, অ্যাটলেটিকোতে থমাস পার্টে মূলত এই কাজ করে থাকেন। 

     

    ভার্টিকাল প্রতি আক্রমণের দিক নির্দেশনা আসবে ফালক্রাম থেকে

    এনগাঞ্চে

    রেজিস্তাদের ওপরে থাকে বিয়েলসার চিরাচরিত ১-৩ আক্রমণ। ফর্মেশন যতই পরিবর্তন করুন, বিয়েলসা সাধারণত আক্রমণভাগে ১-৩ ব্যাপারটা সবসময়ই বলবৎ রাখেন। এই ১-৩ এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পজিশন হল পেছনের ঐ ১জন। এই পজিশানকে আর্জেন্টাইন ফুটবলে ডাকা হয় এনগাঞ্চে বা আংটা। এনগাঞ্চে একটা আংটার মতই দলের আক্রমণভাগকে ধরে রাখেন। এনগাঞ্চে পজিশানে খেলেন একজন প্লেমেকার যার মাঠের ওপরের দিকে থাকার পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। রক্ষণে পা না লাগিয়ে এনগাঞ্চে তার সামনের ফরওয়ার্ডদের সাথে মিলে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সিভ ব্লক এবং ওয়াইড পজিশানে ওভারলোড তৈরি করেন। সিটিতে কেভিন ডি ব্রুইনা, পচেত্তিনোর স্পার্সে ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন প্রায়ই স্ট্রাইকারদের পেছনে নেমে এসে এনগাঞ্চের দায়িত্ব পালন করেন।

     

    এনগাঞ্চে বা আংটায় ভর করে বাকি সবাই আক্রমণে যাবে

     

    পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, এত গবেষণা, এত চুলচেরা বিশ্লেষণ, হাড়ভাঙা অনুশীলনের পরও সাফল্য ব্যাপারটা বিয়েলসার কাছে অধরা কেন? এর একটা উত্তর হল, বিয়েলসার খেলার দর্শন বুঝে সেটা মাঠে প্রতিফলিত করার জন্য দলে অন্তত ১৫-২০জন বুদ্ধিমান ও প্রতিভাবান ফুটবলার একসাথে দরকার, যেটা বিয়েলসার ভাগ্যে জোটেনি বেশিরভাগ সময়ই। এজন্যই বিয়েলসা নিজেই স্কাউটিং করে গলিঘুঁজি থেকে খেলোয়াড় ধরে আনেন। গার্দিওলার যেমন নিজের পছন্দমতো যেকোন খেলোয়াড় যত দামেই হোক কিনে ফেলার বিলাসিতা করতে পারেন, বিয়েলসার ভাগ্যে ওই সুযোগটা এখনো জোটেনি। সকল বিয়েলসা দলের মৌসুমের শেষ মাথায় গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ার একটা প্রবণতা আছে। একই সমস্যা ইউর্গেন ক্লপের ডর্টমুন্ডেও হতো। এর মূল কারন হল বিয়েলসা এবং ক্লপ দুজনেই হাই প্রেসিং, হাই ইন্টেন্সিটি খেলা দাবী করেন নিজ খেলোয়াড়দের থেকে। এই তীব্রতা এবং ফিটনেস একটা গোটা মৌসুম ধরে রাখাটা খুবই কষ্টসাধ্য। ক্লপ লিভারপুলে এসে অবশ্য নিজের নীতির সাথে আপোষ করেছেন, এখন পুরো ৯০মিনিট তিনি তার খেলোয়াড়দের দৌড়াতে বলেন না। কিন্তু এতবার ঠেকা খেয়েও বিয়েলসা নিজের নীতিতে অবিচল এবং খেলার ধরন পরিবর্তন করতে নারাজ, এজন্য এখনো এই সমস্যার সমাধান বিয়েলসা খুঁজে পাননি। এ সকল সমস্যাই মেটানো সম্ভব যদি বিয়েলসা কোন ভারি ও গভীর পকেটওয়ালা, ধনী ক্লাবের দায়িত্ব নেন। এখানেই বিয়েলসার মূল ঝামেলাটা। তিনি এতই প্রখরভাবে নীতিবান এবং আপোষ করতে নারাজ যে ক্লাবের মালিকদের সাথে তাঁর টক্কর লাগাটা মোটামুটি অবশ্যম্ভাবী। মতের মিল না হলে তিনি দুইদিনের মাথায় পদত্যাগ করেছেন এমন উদাহরণও আছে। এমন একজন বিস্ফোরক ব্যক্তিত্বের লোকের ওপর বড় ক্লাবগুলো ভরসা করবে না সেটা বলাই বাহুল্য।   

     

    বড় ক্লাবে আস্তানা গাঁড়তে না পারলেও বিয়েলসা বড় কোচ এবং বড় খেলোয়াড়দের জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছেন। কিন্তু তাঁর নিজের অনুপ্রেরণা কারা? বিয়েলসার ফুটবল দর্শন এবং খেলার ধরনের উপর সবচেয়ে বড় প্রভাব বিশ্বকাপজয়ী দুইজন কিংবদন্তী আর্জেন্টাইন কোচের - সিজার লুই মেনোত্তি এবং কার্লোস বিলার্দো। মজার ব্যাপার হল মেনোত্তি এবং বিলার্দো পুরোপুরি বিপরীত মেরুর দুইজন কোচ। মেনোত্তি সবসময় ফুটবলের সৌন্দর্য্য নিয়ে কাজ করেছেন। সুন্দর এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা ছিল মেনোত্তির মূলমন্ত্র। অন্যদিকে বিলার্দো ছিলেন বাস্তববাদী কোচ, যিনি ম্যাচ জয়ের জন্য যেকোন কিছুই করতে পারতেন। বিলার্দোর দলে মাঝমাঠ এবং রক্ষণের প্রায় সব খেলোয়াড়ই থাকত ডেস্ট্রয়ার ঘরানার। বাস্তববাদী বিলার্দো ম্যাচের আগে প্রস্তুতি নিতেন প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী ম্যাচের সম্ভাব্য বিভিন্ন সিনারিওর ড্রিল অনুশীলন করিয়ে। তখন আর্জেন্টিনার এবং ফুটবল জগতের বেশিরভাগ কোচই হয় মেনোত্তি নয় বিলার্দো ঘরানার। বিয়েলসা নিজেই বলেছেন, আমি আমার জীবনের ১৬ বছর সময় দিয়েছি মেনোত্তি আর বিলার্দোকে। ৮ বছর আমি মেনোত্তির কথা শুনেছি আর ৮ বছর বিলার্দোর। তবে শেষ পর্যন্ত বিয়েলসা এদের কারো পথেই না হেঁটে নিজের আলাদা একটা ঘরানা তৈরী করেছেন। বিলার্দোর বাস্তববাদী অনুশীলন ও প্রতিপক্ষ বিশ্লেষণ এবং মাঠের অনুপ্রেরণায় মেনোত্তির আক্রমণাত্মক দৃষ্টিনন্দন ফুটবল। বিয়েলসার দেখানো পথে হেঁটেছেন অনেকেই। এদের মাঝে টাটা মার্টিনো, পেপ গার্দিওলা, হোর্হে সাম্পাওলি, মাউরিসিও পচেত্তিনো, সান্তিয়াগো সোলারি, ডিয়েগো সিমিওনে, মার্সেলো গায়ার্দো এরা হয়েছেন গুরুর থেকেও বেশি বিখ্যাত। এরা কম বেশি সবাই ‘বিয়েলসিস্তা’ দ্বারা এখনো প্রভাবিত। গার্দিওলা কেন মিডফিল্ডারদের রক্ষণে খেলান, সিমিওনের ভার্টিকাল কাউন্টার অ্যাটাক, পচেত্তিনোর উইং এ ওভারলোড বা সাম্পাওলির ভার্টিকাল প্রেসিং - এসবের পেছনেই রয়েছে বিয়েলসার প্রকট ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব। 

    জীবনের ১৬ বছর সময় দিয়েছি মেনোত্তি আর বিলার্দোকে। ৮ বছর আমি মেনোত্তির কথা শুনেছি আর ৮ বছর বিলার্দোর।

     বড় নাম ছাড়াও বিয়েলসার শিষ্যদের মাঝ থেকে উঠে আসছেন বেশ কিছু নতুন প্রজন্মের কোচ। এর মাঝে বিয়েলসার সাবেক ক্লাব ভেলাজ সার্সফিল্ডের ম্যানেজার গ্যাব্রিয়েল হাইঞ্জা, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ওয়াল্টার স্যামুয়েল, আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কোচ পাবলো আইমার এবং কলম্বিয়া জাতীয় দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসো উল্লেখযোগ্য। প্লেয়ার ডেভেলপমেন্টেও বিয়েলসা সবার সেরাদের একজন। এতটাই যে আর্সেন ওয়েঙ্গার, গার্দিওলারা সবসময়ই বিয়েলসার অধীনে খেলা তরুণদের ওপর ভরসা করেছেন। আর্জেন্টিনায় আয়ালা, মাসচেরানো, তেভেজ, সিমিওনে, বাতিস্তুতা, পচেত্তিনো। বিলবাওতে জাভি মার্টিনেজ, ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে, অ্যান্ডের হেরেরা, আয়মেরিক লাপোর্তে, আদুরিজ। চিলিতে অ্যালেক্সিস সানচেজ, গ্যারি মেদেল, আর্তুরো ভিদাল। মার্সেইতে দিমিত্রি পায়েট, বেঞ্জামিন মেন্ডি, মিচি বাতশুয়াই। এরা সবাই নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে বিয়েলসার অবদান স্বীকার করেছেন নিরংকুশভাবে। 

     

    অ্যাথলেটিকের ফরোয়ার্ড ইকার মুনাইনকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বিয়েলসাকে মিডিয়ায় যতটা পাগলাটে বলে উপস্থাপন করা হয়, আসলে কী উনি অমনই? মুনাইনের জবাব ছিল, না। উনি এর থেকেও বেশি পাগল! তবে বিয়েলসার পাগলামির গল্পগুলো খেয়াল করলে দেখবেন সবই আসলে বিয়েলসার ফুটবলের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ভালবাসা এবং অটল নীতির গল্প। নীতির সাথে আপোষ করতে চান না বলেই ২দিনের মাথায় লাৎসিও এবং ১৩ ম্যাচের মাথায় লিলে থেকে পদত্যাগ করেন এল লোকো। তাঁর ফুটবল জ্ঞানের প্রখরতার জন্য তাঁর শিষ্যরা এখনো ফিরে ফিরে যায় তাঁর কাছে। বার্সেলোনা বি দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে পেপ গার্দিওলা বিমানে উড়ে রোজারিও গিয়েছিলেন বিয়েলসার পরামর্শ নিতে। রোজারিওর ঐ বাসায় প্রায় ১১ঘন্টা ধরে দুজন ফুটবল নিয়ে কথা বলেছিলেন, গার্দিওলার ভাষ্যমতে ওই ১১ঘন্টাই তাঁর বর্তমান ফুটবল দর্শনের ভিত গড়ে দিয়েছে। বার্সেলোনার মূল দলের দায়িত্ব পাওয়ার পরও বিয়েলসার সাথে দেখা করেছেন পেপ। পেপ পরে বলেছেন, আমি গোটা জীবন বার্সেলোনায় কাটাবার পরও বিয়েলসার সাথে আলাপ করার পর মনে হল তিনিই বার্সা সম্পর্কে আমার থেকে বেশি জানেন। 

    গোটা জীবন বার্সেলোনায় কাটাবার পরও বিয়েলসার সাথে আলাপ করার পর মনে হল তিনিই বার্সা সম্পর্কে আমার থেকে বেশি জানেন। 

    মানুষ হিসেবে এল লোকো কেমন? ট্রেনিং গ্রাউন্ডে যতটা কড়াকড়ি করুন না কেন বিয়েলসার কাছে আসা সকল খেলোয়াড় ও ভক্তরা তাঁকে প্রচন্ড ভালবাসে। নিউয়েলস বয়েজের স্টেডিয়ামের নাম বিয়েলসার নামে, লিডসে সম্প্রতি তাঁর নামে একটা রাস্তার নামকরণও করা হয়েছে। ধনী পরিবারে জন্ম হলেও সাদাসিধে জীবনে অভ্যস্ত বিয়েলসা লিডসে সাধারণ একটা অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন, পায়ে হেঁটে যান ট্রেনিং গ্রাউন্ডে, এলাকার সবার সাথে গল্পগুজব করতে করতে। লিডসের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ট্রেনিং এ তিনি লিডসের সকল খেলোয়াড়কে দিয়ে শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার করিয়েছিলেন। ভক্তরা টিকেট কেটে তাদের খেলা দেখার জন্য কতটা কষ্ট করে সেটা বুঝানোর জন্য। বিনয়ী এবং আত্মম্ভরীতা বিবর্জিত এই লোকটা ফিফার গালা ডিনারে হাজির হন ট্র্যাকসুট পরনে, রাস্তায় একজন রাজমিস্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে এতটাই অনুশোচনায় ভোগেন যে নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে নিজের নামে বিচার দেন। তিনি কখনোই একা সাক্ষাৎকার দেন না কোন সাংবাদিককে, বরঞ্চ মাঝে মাঝে সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঘন্টার পর ঘন্টা ট্যাকটিকস নিয়ে আলোচনা করেন। বিয়েলসা বলেছিলেন যে ৩৬রকম ভাবে নাকি দুজন প্লেয়ার নিজেদের মাঝে পাস দিতে পারে। পায়ের আটটা অংশ দিয়ে পাস দেওয়া সম্ভব সেটা নিজের জুতার ওপর এঁকে বিলবাওয়ের খেলোয়াড়দের বুঝিয়েছিলেন বিয়েলসা, এরপর ঐ জুতা পরেই কাজ করেছেন বেশ কিছুদিন। সিড লো’র মতে বিয়েলসা ফুটবল জগতের একজন বোটানিস্ট, প্রকৃতিতে নতুন কোনো খেলার ধরন, নতুন প্রজাতির কোনো প্লেয়ার দেখলেই তিনি যত্ন করে তার বিবরণ টুকে রাখেন, সেটা সম্পর্কে পড়াশোনা করেন, গবেষণা করেন। ফুটবলের প্রতি তাঁর এই উন্মাদনা আর ভালবাসার জন্যই তাঁকে তাচ্ছিল্ল্যভরে নয়, স্নেহভরেই ডাকা হয় এল লোকো - পাগলা। 

     

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ির পূর্বের পর্বগুলোঃ

     

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি ৯ : ফলস ১০ এর ফাঁকিবাজিতে উইঙ্গারের প্রস্থান

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি ৮ঃ গেম অফ জোনসের প্রথম পাঠ - হুয়েগো দে পসিসিওন

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-৭: ক্লাসিক ১০ এর মৃত্যু

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-৬ : 'জোন ১৪' এর অতল গহ্বরে

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-৫: লেস্টার জলসায়

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-৪ঃ একজন শূন্যসন্ধানী বা 'রমডয়টারের' গল্প

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-৩ঃ রেজিস্তাদের রাজত্বে

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-২ঃ গেগেনপ্রেসিং

    ট্যাকটিকসে হাতেখড়ি-১ঃ কাতেনাচ্চিওর "কূটকৌশল"
     

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন