• আইপিএল ২০২১
  • " />

     

    কেন আইপিএল থেকে নাম সরিয়ে নিচ্ছেন ইংলিশরা?

    কেন আইপিএল থেকে নাম সরিয়ে নিচ্ছেন ইংলিশরা?    

    ম্যানচেস্টারে হতে যাওয়া ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার ৫ম টেস্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার পরদিনই ইংল্যান্ডের তিন খেলোয়াড় এবারের আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আগেই ইনজুরি ও নানাবিধ কারণে জস বাটলার, বেন স্টোকস ও জফরা আর্চার আইপিএল থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার পর এবার একই পথে হাটলেন জনি বেইরস্টো, ডাভিড মালান ও ক্রিস ওকস। 

    তবে এরই মধ্যে তাদের বদলিও পেয়ে গেয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বেইরস্টোর বদলে সানরাইজারস হায়দ্রাবাদ দলে ভিড়িয়েছে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান শারফেন রাদারফোর্ডকে আর মালানের বদলে পাঞ্জাব কিংস দলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান এইডেন মার্করামকে। তবে ওকসের কোনও বদলি এখনো খুঁজে পায়নি দিল্লি ক্যাপিটালস। 

    অনেকেরই ধারণা ভারত শেষ টেস্ট খেলতে নারাজ ছিল বলেই এসেছে এরকম সিদ্ধান্ত। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভনও শেষ টেস্ট বাতিল হয়ে যাওয়ার জন্য আইপিএলের দিকেই আঙুল তুলেছেন। আদৌতে ইংলিশ খেলোয়াড়দের এই সিদ্ধান্তটা প্রতিবাদ হিসেবেই এসেছে নাকি সেটার কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে ইংলিশদের আগামী শীতকালের ঠাসা সময়সূচীর যে তাতে ভূমিকা আছে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। 

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পরে ইংল্যান্ড অ্যাশেজ খেলতে পাড়ি দিবে অস্ট্রেলিয়ায়। দুই স্কোয়াডে আছে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া এই তিন খেলোয়াড়েরই দুই স্কোয়াডেই থাকার কথা। বাগড়াটা হয়ত বেঁধেছে সেখানেই। 

    ১৯ সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের আগে বাধ্যতামূলক ৬ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে সকল খেলোয়াড়দের। আইপিএল শেষে বিশ্বকাপের জন্য আবার কোয়ারেন্টিনে দিন পার করতে হবে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর অ্যাশেজের উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে ইংলিশদের। আর এক রাজ্য থেকে আরেক রাজ্যে টেস্ট খেলতে যাওয়ার জন্য প্রতি টেস্টের আগেই কোয়ারেন্টিনে থাকতে হতে পারে। চার মাসেরও বেশি সময় ধরে ইংলিশদের তাই ঘর থেকে দূরে তো বটেই, বায়ো-বলয়ের মাঝে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিন পার করতে হবে। 

    সিনিয়র ইংলিশ খেলোয়াড়েরা ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া সফরে লম্বা কোয়ারেন্টিন নিয়ে বোর্ডের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। খেলোয়াড়দের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার আরেকটি কারণ তাদের পরিবার। বেশিরভাগ খেলোয়াড় এতো লম্বা সময় পরিবার থেকে দূরে থাকতে চান না বলে অস্ট্রেলিয়াতে তারা সপরিবারে যেতে ইচ্ছুক। কিন্তু একইসাথে পরিবারের সদস্যদের এই লম্বা কোয়ারেন্টিনের বিড়ম্বনাতেও ফেলতে চান না তারা। তার ওপর ইংল্যান্ডের এই তিন ফরম্যাটের খেলোয়াড়দের অনেকেই ছোট শিশুর বাবা। এক সন্তানের বাবা বাটলার আইপিএলে যাননি দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্যই। ওকসও মূলত তার ছোট সন্তানদের ফেলে এতদিন একা থাকতে চান না। এমনকি টেস্ট দল থেকে সরাসরি ভাইটালিটি ব্লাস্ট খেলতে যাওয়া মইন আলী ও তার দুই সন্তানকে ফেলে এতো লম্বা সময় খেলার মাঝে থাকতে পারবেন নাকি সন্দেহ আছে তা নিয়েও, যদিও অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে তা থাকার কথা। 

    এসব কিছু নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় ভুগছে ইসিবি। এমনকি অ্যাশেজে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাতে হতে পারে এমন সম্ভাবনাও ফেলে দিতে পারছেন না তারা। তবে ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন নিশ্চিত যে অ্যাশেজ সময়মতই হবে। তিনি আশাবাদী যে প্রথম সারির দল নিয়েই তারা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবেন,”অস্ট্রেলিয়া সফরে আমাদের সম্ভাব্য সেরা দল নিয়ে যাওয়ার কথাই ভাবতে হবে। এটি একটি ঐতিহাসিক সিরিজ। আমি নিশ্চিত যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ই এই সিরিজে অংশ নিতে চাইবে।” 

    সিএর সাথে ইসিবি অবশ্য কোয়ারেন্টিন নিয়মাবলী শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। বদ্ধ হোটেলের কামরার বদলে কোনও গলফ কোর্সের পার্শ্ববর্তী রিসোর্টে ইংল্যান্ড দলের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা যায় কি না তা নিয়ে তলব করছে ইসিবি। তবে খেলোয়াড়দের সাথে যাওয়া পরিবার সদস্যরা এসব সুবিধার আওতায় পড়বে কি না সেটা নিয়ে সন্দিহান ইসিবি। এই বিষয়ে হ্যারিসন বলেন,”এই বিষয়ে আমরা একইসাথে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাথে কথা বলছি। আমাদের সবারই লক্ষ্য এমন একটা সমাধানে উপনীত হওয়া যা নিয়ে দুই পক্ষই খুশি থাকে।”

    অ্যাশেজের মত একটি ঐতিহ্যবাহী সিরিজে যদি ইংল্যান্ডকে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে মাঠে নামতে হয় তাহলে সেটা অনেকটাই আকর্ষণ হারাবে। ইতিমধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতির পরে ক্রিকেট থেকে সাময়িক অব্যাহতি নিয়েছেন বেন স্টোকস। লম্বা সময় বায়ো-বলয়ে থেকে অন্য কোনও খেলোয়াড়ের যাতে একই পরিনতির শিকার না হতে হয় সেজন্যই খেলোয়াড়দের কথা শোনা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে এই মহামারীর সময়ে পরিবার থেকে দূরে থেকে, চিরন্তন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে কোনও খেলোয়াড় যদি ক্রমাগত ক্রিকেটের মধ্যে নাও থাকতে চায় তাতেও যেমন অবাক হবার কিছু নেই, তেমনই তাদের সেরকম সিদ্ধান্তের কারণটা বুঝতেও খুব একটা চিন্তা করার কথা নয়। আইপিএল থেকে ইংলিশদের নাম প্রত্যাহারের ঘটনাও তাই একেবারেই অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    মইন আলী, স্যাম বিলিংস, স্যাম কারান, টম কারান, জর্জ গারটন, অইন মরগান, ক্রিস জর্ডান, লিয়াম লিভিংস্টোন, জেসন রয়- এই কয়জন অবশ্য আইপিএল খেলতে যাচ্ছেন। এদের কয়েকজন এখনও ইংলান্ডের ভাইটালিটি ব্লাস্ট খেলছেন। তবে এদের মধ্যেই অ্যাশেজ দলেও প্রত্যাশিত মইন আলী ও স্যাম কারানের মত খেলোয়াড়েরা যদি অবসাদ, বায়ো-বলয় প্রসূত ক্লান্তি, পরিবার থেকে দূরে থেকে একাকীত্ব অনুভব করা বা এরকম কোনও কারণে অ্যাশেজ বা অন্য কোনও সফর থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেন তাহলে খুব একটা অবাক হওয়ার সুযোগও নেয়।      

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন