• ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
  • " />

     

    ক্যাম্ফার-ডকরেলের অবিশ্বাস্য জুটিতে টিকে রইল আয়ারল্যান্ড

    ক্যাম্ফার-ডকরেলের অবিশ্বাস্য জুটিতে টিকে রইল আয়ারল্যান্ড    

    গ্রুপ পর্ব, হোবার্ট (টস- স্কটল্যান্ড/ব্যাটিং)

    স্কটল্যান্ড, ২০ ওভারে ১৭৬/৫ (জোন্স ৮৬, বেরিংটন ৩৭, অ্যাডাইর ১/২৩, ক্যাম্ফার ২/৯)

    আয়ারল্যান্ড, ১৯ ওভারে ১৮১/৪ (ক্যাম্ফার ৭২*, ডকরেল ৩৯*, হুইল ১/২৫)

    ফলাফলঃ আয়ারল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী। 


    কার্টিস ক্যাম্ফার। আপনি আয়ারল্যান্ডের কেউ হোন কিংবা না, আজকের ম্যাচ দেখে থাকলে নিশ্চিতভাবেই তিনি আপনার স্মৃতিতে জায়গা করে নিয়েছেন অনেকদিনের জন্য! একটা সময় যে জয় স্কটিশদের চোখে ভাসছিল, সেই জয় তো মূহুর্তেই মিলিয়ে গেছে ক্যাম্ফারেরই এক ইনিংসে। স্কটিশরা ভাবতেই পারে, ছোট দৈর্ঘ্যের এই খেলায় কত কম সময়েই না দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে যায়! ম্যাচের অধিকাংশ সময়েই দাপটের সাথে খেললেও শেষের ঝড়ে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল স্কটিশরা। ক্যাম্ফার ও ডকরেলের ৫৭ বলে ১১৯ রানের এক জুটিতে আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা জিতে নিয়ছে ৬ উইকেটে। 

    ১৭৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুটা মোটেও হয়নি যেমনটা তারা চাইত। চতুর্থ ওভারেই অধিনায়ক বলবিরনে আউট হয়ে যায় দল ২২ রানে থাকা অবস্থায়। তিন রানে জীবন পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে পরের ওভারে স্টার্লিংও ফিরে যান ৮ রানে। দুই তরুণ টাকার ও টেক্টর মিলে চেজে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তারা দুজনে ফিরে যান ইনিংসের অর্ধেক শেষ হবার আগেই। দশম ওভারেই আয়ারল্যান্ড তাদের চতুর্থ উইকেট হারিয়ে ফেলে মাত্র ৬১ রানে। 

    এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে ১৩তম ওভার থেকেই। আগের ম্যাচে যে ওয়াটের স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল ক্যারিবিয়ান হিটাররা, সেই ওয়াটকে দিয়েই শুরু। তার ওভারে ওয়াইড-বাই চারের সহায়তায় মোট ১৮ রান এলে ১৩ ওভারে শতক পূর্ণ করে ফেলে আইরিশরা। ৭ ওভারে হিসেবটা নেমে আসে ৭৭ রানে, এরপর যে বোলারই এসেছেন, ক্যাম্ফার ও ডকরেলের সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন। ডকরেল-ক্যাম্ফার জুটির সামনে আর কোন সময়ই স্কটিশদের ম্যাচে সুযোগ আছে বলে মনে হয়নি। স্কুপ, রিভার্স সুইপ, প্যাডল সুইপ- এসব উদ্ভাবনী শটের সাথে দুর্দান্ত দৌড়ে নিয়মিত দুই-এক বের করে আইরিশরা বিশাল রানের চেজটাকে সহজ বানিয়ে ছাড়ে।  এতটাই সহজ যে, স্কটল্যান্ড যখন বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ রানতাড়া করে ম্যাচটা জিতল, তখনও বাকি পুরো এক ওভার। 

    ম্যাচের সূচনাও আয়ারল্যান্ড করেছিল ভালোভাবে। গেল ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো মানসিকে যখন ১ রানে অ্যাডাইর এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললেন, আয়ারল্যান্ড ডাগআউটের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল উইকেটটার গুরুত্ব। তবে আইরিশদের মাথাব্যাথার কারণ এদিন হয়ে উঠেছিলেন মানসির রেখে আসা পার্টনার মাইকেল জোন্স। শুরুটা দুর্দান্তই করেছিল আইরিশরা, প্রথম দুই ওভারে আসে মাত্র ৩ রান। 

    শুরুতে রান পেতে যথেষ্ট ভুগেছেনও জোন্স, ধীরে ধীরে ছন্দ পেতে শুরু করলে বাউন্ডারি খুঁজে নিচ্ছিলেন নিয়মিত। স্কটিশরা পাওয়ারপ্লে শেষ করে ৩৯ রানে। জোনস তখন ১৭ ও ক্রস ২১ রানে। এরপরেই মূলত চড়াও হন দুই ব্যাটার। ম্যাককার্থির এক ওভারে আসে ১৩ রান। ৯ম ওভারে ক্যাম্পার এসে দারুণ স্লোয়ারে ক্রসকে ২৮ রানে ফিরিয়ে দিলে রানের চাকা কিছুটা স্লথ হয়ে আসে। ইনিংসের অর্ধপথে স্কটিশদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭৩। জোনস ও বেরিংটন মিলে পরের ছয় ওভারে আনেন ৬৪ রান। 

    তবে ওই সময়ে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছিলেন বেরিংটনই। সেসময়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে জোন্স প্রথম ফিফটির দেখা পেয়ে যান ৩৮ বলে। ১৫ ওভার শেষে স্কটল্যান্ডের রান যখন ১২২, জোন্স তখনও ৪৩ বলে ৫৫ রানে। এরপর বড় স্কোরের দিকে ছুটে চলা স্কটল্যান্ডের পথে আবারও বাঁধা হয়ে দাঁড়ান কার্টিস ক্যাম্ফার। ১৭তম ওভারে এসে বেরিংটনকে ৩৭ রানে ফিরিয়ে দিয়ে ওভার শেষ করেন মাত্র ৫ রানে।

    তবে ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে জোন্স যে ১১ বল খেলেন, তাতে আনেন ৩১ রান। লিস্ক এসে ১৭ রানের ক্যামিও খেলেন, যার ফলে ১৭৬ রানে পৌঁছে যায় স্কটল্যান্ড। তবে সেই সংগ্রহটা আরও বড় হতে পারত, যা হয়নি অ্যাডাইরের বোলিংয়ের কল্যাণে। ইনিংসের শেষ ওভারে বল করতে এসে মাত্র ৬ রান দিয়ে অ্যাডাইর তার স্পেল শেষ করেছিলেন ২৩ রানে। ক্যাম্ফার ও ডকরেলের অবিশ্বাস্য জুটির কল্যাণে পাওয়া জয়ে তার সেই বোলিংটাও বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়ালো।