• ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
  • " />

     

    কুশাল ঝড়ের পর হাসারাঙ্গার ঘূর্ণিতে সুপার ১২-তে শ্রীলংকা

    কুশাল ঝড়ের পর হাসারাঙ্গার ঘূর্ণিতে সুপার ১২-তে শ্রীলংকা    

    গ্রুপ পর্ব, জিলং (টস- শ্রীলংকা/ব্যাটিং)

    শ্রীলংকা, ১৬২/৬, ২০ ওভার (কুশাল মেন্ডিস ৭৯, আসালাঙ্কা ৩১, মেকারান ২/২৫)

    নেদারল্যান্ডস, ১৪৬/৯, ২০ ওভার (ও’ডাউড ৭১*, হাসারাঙ্গা ৩/২৮, থিকশানা ২/৩২)

    ফলাফল: শ্রীলংকা ১৬ রানে জয়ী।

     

    প্রথম রাউন্ডের নির্মম এক বাস্তবতা, অন্যের হারের অপেক্ষায় থাকা। যেমনটা এখন করতে হবে নেদারল্যান্ডসকে। যেভাবে ম্যাচের শুরু করেছিল ডাচরা, সেই ভাবনা হয়তো আসতোই না।। কিন্ত কুশাল মেন্ডিসের দুর্দান্ত ৭৯ রানের ইনিংসে লংকানরা ১৬২ রান তুলে ফেলে, এরপর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা-মাহিশ থিকশানাদের দারুণ বোলিংয়ে নিয়মিত উইকেট তুলে নিয়ে ডাচদের ম্যাচ থেকে ছিটকেই দিচ্ছিলো শ্রীলংকা। কিন্ত ও’ডাউডের একা লড়াই তাদের ক্ষীণ আশাটাও বাঁচিয়ে রেখেছিল, ১৬ রানের হারের পরও যেভাবে তাদের সুপার টুয়েলভের স্বপ্ন বেঁচে আছে এখনো। ডাচরা মুখিয়ে আছে নামিবিয়ার একটি হার দেখতে। 

    ইনজুরিতে শক্তি হারানো শ্রীলংকার বোলিং আক্রমণ শুরুতে নেদারল্যান্ডসের ওপেনারদের ভালোই পরীক্ষা নিয়েছে। বিক্রমজিৎ রান করার কোনো উপায়ই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। চতুর্থ ওভারে বিক্রমজিৎ ১৩ বলে ৭ রানে আউট ফিরলে ডি-লিড আর ও-ডাউদ মিলে টিকে থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, ডি লিড ১৪ রানে আউট হয়ে গেলে ডাচরা পাওয়ারপ্লে শেষে তুলে ২ উইকেটে ৪০। হাসারাঙ্গা এসে অ্যাকারমানকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দিলে দায়িত্ব বর্তায় অভিজ্ঞ টম কুপারের ওপর। কিন্ত অফ-ফর্মে থাকা এই ব্যাটার এদিনও ব্যর্থ, ১৯ বলে ১৬ রান করে যখন ফিরছেন ডাচদের প্রয়োজন ৫১ বলে ৯১ রান। 

    অধিনায়ক এডওয়ার্ড এসে কিছু আশা জাগালেন বটে। ১৪তম ওভারে হাসারাঙ্গার টানা পাঁচ বলে সুইপে দুই চারে আনলেন ১৩ রান। ৬ ওভারে ৬৭ রানের সমীকরণে পরের ওভারেরও প্রথম বলে চার মারার পর আবার যখন এডওয়ার্ডস সুইপে গেলেন, বিনুরা ফার্নান্দোর নাকল বল এসে ভেঙ্গে দিল স্টাম্প। হাসারাঙ্গা এক ওভারেই এরপর ফিরিয়ে দেন দুজনকে, আরও দুজন রান আউট হয়ে গেলে ডাচদের বাকি থাকে এক উইকেট। মারওয়ে ব্যাটিংয়ে আসবেন কি না, সে চিন্তায় হয়তো ডাচরা ছিল তখন।

    ব্যাথা নিয়ে মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন মারওয়ে, শেষ উইকেট হয়ে দলের প্রয়োজনে এলেন মারওয়ে। যে কারণে ও’ডাউডের ইনিংসটার করুণ সমাপ্তি ঘটলো না। ইনিংসের সূচনা করতে নেমে একে একে সবাইকে দেখেছেন প্যাভিলিয়নের পথ ধরতে। ১৮তম ওভারে এরপর বিনুরাকে টানা তিন বাউন্ডারি মেরে ৩৮ বলে ফিফটি পান। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও ৭১ রানের ইনিংসে ১৪৬ রানে নিয়ে যেতে পেরেছেন।

    এর আগে ক্লাসেন-প্রিংলদের বোলিংয়ে প্রথম পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ২২ রান। শেষ ওভারে মেন্ডিসের সুইপে আসা ছয়ে পাওয়ারপ্লে শেষে শ্রীলংকার রান হয় ৩৬। ডাচদের করা প্রথম ৪৮ বলে লংকান ব্যাটাররা আনতে পারে মোটে ৪২ রান। ততক্ষণে পাথুম নিসাঙ্কারও ফেরা সারা, ২১ বলে ১৪ রানের ভোগান্তির ইনিংস থেমেছে তার মেকারানের দুর্দান্ত গতির ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে। মেকারানের ওই ৭ম ওভারেই নিসাঙ্কার পরের বলেই ধনাঞ্জায়া এলবিডব্লিউর শিকার, আমিরাত ম্যাচের মতো আরেকটি ওভার তছনছ করে দিবে শ্রীলংকার ইনিংস?

    আসালাঙ্কা হ্যাটট্রিক বলে বাঁচলেন, কিন্ত তার ৩০ বলে ৩১ রানের ইনিংসে স্বচ্ছন্দে সময় কাটেনি একটুও। ওপাশে কুশালের দুর্দান্ত ব্যাটিং যদিও এতে শ্রীলংকার গায়ে কোন চাপ বসতে দেয়নি। ৩৪ বলেই কুশাল মেন্ডিস তার ফিফটি পূর্ণ করেছেন। আসালাঙ্কার বিদায়ের পরে রাজাপাকসে এসেও শুরু থেকেই চড়াও হওয়ার মনোভাব দেখান। তবে তার ইনিংসের ব্যাপ্তি ১৩ বলেই থেকেছে, যাতে রান দিয়েছেন ১৮। উইকেট গেলেও কুশাল তার ছন্দে ছেদ পড়তে দেননি। ১৫তম ওভারেই শতকের দেখা পেয়েছে শ্রীলংকা। ১৯তম ওভারে ক্লাসেনকে কুশালের মারা দুই ছয়ের অবদানে ইনিংসের শেষ দুই ওভারে আসে ২৪ রান। তবে শেষ ওভারে ৪৪ বলে ৭৯ রানে আউট হয়ে যান কুশাল মেন্ডিস। 

    নেদারল্যান্ডস যেমনটা শুরু করেছিল, সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বেশিক্ষণ। শর্ট-ব্যাক অব অ্যা লেংথে করে ছোট স্কয়ার বাউন্ডারির সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে লংকানদের। সব ছয়ই তারা মেরেছে স্কয়ার লেগ-মিড উইকেট দিয়ে। সেই আট ওভারের পরে অধিকাংশ ওভারেই রান তুলেছে ৯-১০ করে। যার ফলে প্রথম ৮ ওভারে ৪২ রান তুললেও শেষ ১২ ওভারে ১২০ রান এনে শ্রীলংকা ১৬২ রানের পুঁজি গড়ে। যে সংগ্রহ থেকে নেদারল্যান্ডসকে ১৬ রান দূরে রেখে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করে স্বস্তি ফিরে পেয়েছে শ্রীলংকা। গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সুপার টুয়েলভে পা রাখতে ব্যর্থ হয়ে এবার যে স্বস্তির খুঁজে ফিরেছিল নেদারল্যান্ডসও।