• জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ড
  • " />

     

    বাপকা বেটা!

    পিতা ও পুত্রের টেস্ট খেলার ঘটনা নেহায়েত কম নয় ক্রিকেটে। তবে 'বাপ-বেটা' উভয়েরই টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকাটা খুব লম্বা নয়..


     

    অমরনাথ

    অভিষেক টেস্ট, দেশের জন্য প্রথম সেঞ্চুরি। লালা অমরনাথকে কিংবদন্তির আসনে বসানোর জন্য যথেষ্ট। লালা সেখানেই থামেননি, ভারতকে দিয়েছেন আরও দুই টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান পুত্র। ১৯৩৩-৩৪ সেশনে বোম্বে(বর্তমান মুম্বাই) টেস্টে ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেঞ্চুরি করেছিলেন লালা, এর প্রায় ৪১ বছর পর অকল্যান্ডে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সেঞ্চুরি করেছিলেন সুরিন্দর অমরনাথ। পিতার মতো সুরিন্দরেরও সেঞ্চুরির দেখা পাওয়া হয়নি আর, তবে সুরিন্দরের ভাই মহিন্দর সে ‘ক্ষতি’টা পুষিয়ে দিয়েছিলেন ভালভাবেই। আট বছর সময় ব্যবধানে নিজের প্রথম ১৪ টেস্টে মহিন্দরের সেঞ্চুরি ছিল না কোনো, সেই তিনিই ক্যারিয়ার শেষ করেছিলেন ৬৯ টেস্টে ১১ সেঞ্চুরি নিয়ে!

     

    ব্রড

    তালিকায় একমাত্র ইংলিশ বাপ-বেটা। বাবা ক্রিসের মতোই বামহাতি ব্যাটসম্যান, ডানহাতি বোলার স্টুয়ার্ট। তবে বাবা ছিলেন ওপেনার, স্টুয়ার্ট দলের অন্যতম প্রধান পেসার। ক্রিসের ছয়টি সেঞ্চুরি, স্টুয়ার্টের একমাত্র সেঞ্চুরিটিই আবার রেকর্ড জুটির অংশ। লর্ডসে পাকিস্তানের সঙ্গে জোনাথন ট্রটের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ৩৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন ব্রড জুনিয়র। আর বল হাতে ব্রড পরিবারের টেস্ট উইকেট ৩৫২টি, বাবা ক্রিসের অবদান যেখানে শুন্য!

     

    মোহাম্মাদ

    পিতা-পুত্র, দুজনই ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র ‘জুটি’। হানিফ মোহাম্মদের ১২টি সেঞ্চুরির সবচেয়ে বিখ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ব্রিজটাউনে ১৯৫৭-৫৮ সালে, ৩৩৭। ৯৭০ মিনিট ব্যাট করেছিলেন সেদিন লিটল মাস্টার, ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘতম ইনিংস। পুত্র শোয়েব মোহাম্মদের সেঞ্চুরি সাতটি, তবে মজার ব্যাপার হলো, শোয়েবের টেস্ট গড়ই (৪৪.৩৪) হানিফের (৪৩.৯৮) চেয়ে বেশী!

     

    দুই ল্যাথাম...

     

     

    হ্যাডলি

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে পড়ে ওয়াল্টার হ্যাডলি টেস্ট খেলেছিলেন ১১টি। ১৯৪৬-৪৭ সেশনে ক্রাইস্টচার্চে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরিটি করেছিলেন হ্যাডলি সিনিয়র। পরে তাঁর পাঁচ ছেলের তিনজনই টেস্ট খেলেছিলেন, তবে বাবার সেঞ্চুরির তালিকায় নিজেকে যোগ করতে পেরেছিলেন একমাত্র রিচার্ডই। দুটি সেঞ্চুরি রিচার্ডের, তবে ৪৩১ উইকেট নিয়ে দীর্ঘদিন টেস্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় শীর্ষেই ছিলেন স্যার হ্যাডলি।

     

    পাতৌদি

    পাতৌদির নবাবরা সেঞ্চুরি করেছিলেন দুই দেশের হয়ে। ইফতিখার সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে, বডিলাইন সিরিজে ১৯৩২-৩৩ সালে, সিডনিতে। পরে ভারতেরও অধিনায়ক ছিলেন ‘সিনিয়র’ নবাব, কিন্তু ততোদিনে নিজের সেরাটা ফেলে এসেছিলেন। ‘জুনিয়র’ নবাবের জন্যই বোধহয় সে সম্মান অর্জনের দায়িত্বটা দিয়ে গিয়েছিলেন। মানসুর সেটা পূরণও করেছিলেন, এক চোখ (কার দূর্ঘটনায় শুধু এক চোখে দেখতে পেতেন ‘টাইগার’) নিয়েই করেছিলেন ছয়টি সেঞ্চুরি, দিল্লীতে ১৯৬৩-৬৪ সালে অপরাজিত ২০৩ রানের ইনিংস সহ!

     

    মার্শ

    অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৫০টি টেস্ট খেলেছিলেন জিওফ মার্শ, করেছেন চারটি সেঞ্চুরি। তবে সে গর্বকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল বোধহয় দুইটা উপলক্ষ্য, যখন দুই ছেলে শন ও মিচেলকে ব্যাগি গ্রিন তুলে দিয়েছিলেন মার্শ সিনিয়র। শন অভিষেকেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে করেছিলেন সেঞ্চুরি, পরে করেছেন আরও দুইটি। পাকিস্তানের সঙ্গে অভিষেক মিচেল, দ্বিতীয় টেস্টে বাবা আর ভাইকে ছুঁয়ে ফেলেছিলেন প্রায়। তবে আবুধাবির সেই ৮৭ রানের ইনিংসই হয়ে আছে এখন পর্যন্ত মিচেলের সর্বোচ্চ।

     

    শুধু শন নয়, মিচেলের সংগেও এমন ছবি আছে বাবা জিওফ মার্শের



    নজর

    ১৯৫২-৫৩ সালে নজর মোহাম্মাদ ‘ক্যারি থ্রু দ্য ইনিংস’ করেছিলেন ১২৪ রান করতে, ভারতের সঙ্গে। পাকিস্তানের সেটিই প্রথম সেঞ্চুরি, লক্ষ্ণৌতে। মোহাম্মাদের সেটিই একমাত্র টেস্ট সিরিজ, তবে ছেলে মুদাসসর খেলেছেন ৭৬টি টেস্ট। সেঞ্চুরি করেছেন দশটি, ছয়টিই আবার ভারতের বিপক্ষে। নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটি করতে ৫৩৭ মিনিট সময় নিয়েছিলেন ‘ছোট’ নজর, টেস্টের সবচেয়ে ধীরগতির সেঞ্চুরি এটিই!



    রাদারফোর্ড

    কেন রাদারফোর্ডের শুরুটা হয়েছিল বিভৎস। অভিষেকেই ‘পেয়ার’ মেরেছিলেন, ১৯৮৪-৮৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে অভিষেক সিরিজে ৭ ইনিংসে করেছিলেন ১২ রান! সেই কেনই নিজের ৫৬ টেস্টের ১৮টিতে কিউইদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, করেছিলেন তিনটি সেঞ্চুরি। ছেলে হামিশের ক্যারিয়ার আবার পুরো বাবার উল্টো! ২০১২-১৩ সালে ইংল্যান্ডের সঙ্গে ডুনেডিনে অভিষেক টেস্টেই করেছিলেন ১৭১ রান, কিন্তু পরের ১৫ টেস্টে ছোট রাদারফোর্ড ফিফটির দেখাই পেয়েছেন মোটে একবার!

     

    মাঞ্জরেকার

    ৫৫ টেস্টে সাত সেঞ্চুরি, ভিজয় মাঞ্জরেকার ছিলেন ভারতের প্রথম দিককার ব্যাটিং তারকাদের একজন। নিজের শেষ টেস্টেও ইংল্যান্ডের সঙ্গে সেঞ্চুরি করেছিলেন ভিজয়। ছেলে সঞ্জয় খেলতে পারতেন বাবার থেকেও বেশী টেস্ট, তবে ছোট মাঞ্জরেকারকে ৩৭ টেস্টে চার সেঞ্চুরি নিয়েই থামতে হয়েছে। একটি আবার ডাবল সেঞ্চুরি আছে সঞ্জয়ের, ১৯৮৯-৯০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সে সিরিজেই অভিষেক হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের।



    নোর্স

    তালিকায় একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকান এই জুটি থাকতো না, যদি না ‘বুড়ো ডেভ’ নোর্স ১৯২১ সালের নভেম্বরের জোহানেসবার্গে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম সেঞ্চুরির রেকর্ডটা না গড়তেন। ১৯০২-০৩ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত ৪৫ টেস্ট খেলেছিলেন ডেভ। ছেলে ডাডলি বা আর্থার নোর্স অবশ্য এত সময় নেননি, নিজের ষষ্ঠ টেস্টেই, ১৯৩৫-৩৬ সেশনে ইংল্যান্ডের সঙ্গে করেছিলেন ২৩১। ১৯৫১ সালে যখন আবার ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলেন ডাডলি, ততদিনে তিনি প্রোটিয়া অধিনায়ক। ট্রেন্টব্রিজে ভাংগা বুড়ো আংগুল নিয়েই নিজের নবম টেস্ট সেঞ্চুরিটি করেছিলেন ততদিনে বুড়ো হয়ে যাওয়া ডাডলি নোর্স!

     

    ল্যাথাম

    রড ল্যাথামকে মূলত মনে রাখা হয়, ১৯৯২ বিশ্বকাপে কিউইদের সেমিফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া মিডিয়াম পেসার ত্রয়ী, ‘ডিবলি, ডবলি আর ওবলি’-দের একজন হিসেবেই। ‘ওবলি’ বা রড ক্যারিয়ারে খেলেছেন মোটে চারটি টেস্ট, তবে ১৯৯২-৯৩ সেশনে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বুলাওয়েতে একটা সেঞ্চুরিও করেছিলেন। ছেলে টমের জন্ম সে বছরেই। ছোট ল্যাথামের চতুর্থ ও সর্বশেষ সেঞ্চুরিটিও সে মাঠেই, থামবেন কবে, সেটা বলবে সময়ই!

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন