• " />

     

    ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই!

    জো রুট শুধু ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের অধিনায়কই নন, এই প্রজন্মের সবচেয়ে মেধাবী ব্যাটসম্যানদেরই একজন। তাঁর ভাই হওয়া যেমন গর্বের, ক্রিকেট খেলতে গেলে আবার থাকে প্রত্যাশার বাড়তি চাপও। বিলি রুট তাই পাড়ি জমিয়েছেন নটিংহ্যামশায়ারে। সেখানেই রয়্যাল লন্ডন ওয়ানডে কাপের ম্যাচে বিলির কাউন্টি মুখোমুখি জোর কাউন্টি দল ইয়র্কশায়ারের। দুই ভাইয়ের দ্বৈরথ ফিরিয়ে এনেছে আগের স্মৃতিও...


     

    জয়েস

    এড জয়েস আয়ারল্যান্ড ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন তখন ইংল্যান্ডে। থ্রি লায়ন্সের হয়ে তাঁর অভিষেক ওয়ানডেটাও ওই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গেই। বেলফাস্টে সেদিন শুধু একজন জয়েসের অভিষেক হয়নি, হয়েছিল দুইজনের। আয়ারল্যান্ড দলে যে ছিলেন এডেরই ভাই, ডম! দুজনই নিজ নিজ দলের হয়ে ওপেনিং করেছিলেন সেদিন। এড করেছিলেন ১০, ডম পেয়েছিলেন গোল্ডেন ডাক! জয়েস এরপর আবার ফিরে গেছেন জন্মভূমিতে, আয়ারল্যান্ডের হয়ে খেলছেন এখনও। তবে ডম অভিষেকের পর খেলতে পেরেছিলেন আর দুইটি ওয়ানডে।


     

    হার্নে

    ১৮৮৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গেলেন ফ্র্যাঙ্ক হার্নে। দুই টেস্টের সিরিজ শেষে ফ্র্যাঙ্ক আর ইংল্যান্ডে ফিরলেন না, স্বাস্থ্যগত কারণে রয়ে গেলেন সেখানেই। ব্যবসা খুলে বসলেন ক্রীড়াসামগ্রীর, ওয়েস্টার্ন প্রভিন্স থেকে ডাক এলো খেলার জন্য। শীঘ্রই ডাক পেয়ে গেলেন জাতীয় দলেও। ১৮৯২ সালে ইংল্যান্ড আবার এলো দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে, একটি টেস্ট খেলতে। আফ্রিকার হয়ে সেদিন অভিষেক ফ্র্যাঙ্কের। তবে ইংল্যান্ডের হয়েও সেদিন অভিষেক হলো আরও দুই হার্নের। ফ্র্যাঙ্কের দুই ভাই জর্জ ও অ্যালেকেরও সেদিন প্রথম টেস্ট! ফ্র্যাঙ্ক আফ্রিকার হয়ে ১৮৯৪ সালে ইংল্যান্ড সফরও করেছিলেন, তবে জর্জ বা অ্যালেক খেলতে পারেননি একটির বেশী টেস্ট! তবে আফ্রিকার প্রতি নিজ পরিবারের দায়বদ্ধতা থেকেই কিনা, ফ্র্যাঙ্কের ছেলে জর্জও তিনটি টেস্ট খেলেছিলেন প্রোটিয়াদের হয়ে!


     

    চ্যাপেল

    তিনজনেরই জন্ম দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায়। ইয়ান, গ্রেগ, ট্রেভর, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটেই তো বিখ্যাত তিন ভাই! প্রথম দুইজন ছিলেন অজিদের অধিনায়কও। তিনজনই শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলতেন। গ্রেগ প্রথম পাড়ি জমান কুইন্সল্যান্ডে, ১৯৭৬ সালে। আর ট্রেভর যান নিউ সাউথ ওয়েলসে যাওয়ার আগে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় যান ১৯৭৬ সালে। তবে ইয়ান থেকে গিয়েছিলেন দক্ষিণেই। বড় ভাই ইয়ানের বিপক্ষে পাঁচবার শিল্ডের ম্যাচ খেলেছেন গ্রেগ, ইয়ান একবার খেলেছেন ট্রেভরের সঙ্গে। তবে গ্রেগ ও ট্রেভরের একে অন্যের বিপক্ষে খেলা হয়নি কখনও।

     

    শিল্পীর চোখে তিন চ্যাপেল


     

    হাসি

    ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া থেকে উঠে এসেছেন দুই ভাই। ডেভিড চলে গিয়েছিলেন ভিক্টোরিয়াতে, তবে মাইক ছিলেন ওয়েস্টার্নেই। সাতবার চারদিনের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছেন দুই হাসি, পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচেও  সংখ্যাটা একই। টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশেও দুজন খেলেছেন দুই দলে। মাইকের সিডনি ডেভিডের মেলবোর্ন স্টার্সের সঙ্গে মুখোমুখি হয়েছে তিনবার।


     

    রিড

    আপন ভাই নয়, তবে ব্রুস ও জন রিড ছিলেন ‘কাজিন’। ১৯৮৬ সালে ওয়েলিংটন টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই ভাই। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডে জন রিডকে আউট করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রুস। স্কোরকার্ডে লিখা ছিল, ‘রিড ক ফিলিপস ব রিড’! চোটের কারণে ২৭ টেস্টের বেশী খেলতে পারেননি ব্রুস। আর ক্রিকেটের চেয়ে ভূগোল-শিক্ষকতাকেই বেশী পছন্দ করতেন বলে সব মিলিয়ে ১৯টি টেস্ট খেলেছেন জন।  


     

    লি

    একজন বিখ্যাত পেসার, আরেকজনের ক্যারিয়ার তেমন দীর্ঘ নয়। তবে ক্যারিয়ারজুড়েই ব্রেট ও শেন লি খেলেছেন পাশাপাশিই। একবার মুখোমুখি হয়েছিলেন, একটি প্রদর্শনী ওয়ানডে ম্যাচে। তিন বল খেলে ডাক মেরেছিলেন শেন, আউট হয়েছিলেন ব্রেটের বলেই!

     

    তথ্যসূত্রঃ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ইএসপিএন ক্রিকইনফো 

    প্রিয় প্যাভিলিয়ন পাঠক, 

    কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের আরও অনেক কিছুর মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ক্রীড়াঙ্গনকে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি আমরাও। প্যাভিলিয়নের নিয়মিত পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ী হিসেবে আপনাদের কাছে অনুরোধ থাকবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর। আপনার ছোট বা বড় যেকোনো রকম আর্থিক অনুদান আমাদের এই কঠিন সময়ে মূল্যবান অবদান রাখবে।

    ধন্যবাদান্তে,
    প্যাভিলিয়ন