• ক্রিকেট

সাকিব যেদিন থেকে হয়ে উঠেছিলেন অতিমানব

পোস্টটি ১১৮৮৮০ বার পঠিত হয়েছে

জানুয়ারি ১৭, ২০১৭, ওয়েলিংটন।

চার দিন কিউইদের মাটিতে দাপটের সাথে লড়াই করে শেষদিনে এসে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়লো বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। প্রায় নিশ্চিত ড্র হতে যাওয়া ম্যাচটি হেসেখেলে জিতে নিল কেন উইলিয়ামসের দল। সেদিন বাংলাদেশ দলের কেউই সেভাবে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি। তবে সবার চোখে ভিলেন তখন একজনই। যিনি আবার প্রথম ইনিংসেই খেলেছেন দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস! তবুও পরাজয়ের দায়টা অনেকাংশেই গিয়ে পড়েছিল তার কাঁধেই। কারণ, পঞ্চম দিনের শুরুতেই দেখেশুনে না খেলে তিনি আউট হয়েছিলেন তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে। বাংলাদেশ যেন পথ হারিয়েছিল সেখানেই!  

কিন্তু আশ্চর্য নির্লিপ্ততার সাথে তিনি জানিয়ে দিলেন, ওভাবে খেলা নিয়ে তার কোন অনুশোচনা নেই! তার অনুশোচনা ওই অসময়ে আউট হওয়া নিয়ে। কারণ, তিনি জানেন যতক্ষণ তিনি থাকবেন উইকেটে, পথ হারাবেনা বাংলাদেশ। নাহ, তিনি ভিভ রিচার্ডস নন, যিনি দূর্ধষ একটি ইনিংস খেলে নিমিষেই ম্যাচের ভোল বদলে দেবেন। তিনি এবি ডি ভিলিয়ার্সও নন, যিনি যে কোনও ফরম্যাটেই যে কোনও মূহুর্তে খেলে ফেলবেন অতিমানবীয় কোনও ইনিংস। আসলে তার সাথে মেলানো যাবেনা কাউকেই। কারন তিনি তো বাংলাদেশের অতিমানব, কিংবা তার চেয়েও বেশি কিছু!


জানুয়ারি ১৪, ২০০৯, মিরপুর।

শ্রীলংকা জিম্বাবুয়ের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগেই সবাই ফাইনালে শ্রীলংকার সাথে দেখছিলেন বাংলাদেশকেই। ততদিনে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে বলে কয়ে হারিয়ে দেয় নিয়মিত। কিন্তু সব হিসাবনিকাশ বদলে দিয়ে ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত করে ফেললো জিম্বাবুয়ে। সেমিফাইনালে পরিণত হওয়া গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে করতে হত অসম্ভব কিছু। আর সে অসম্ভবকে সম্বব করতে বড্ড প্রয়োজন ছিল একজন ‘অতিমানব’! 


প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকাকে অল্প রানে বেঁধে ফেলার কাজটা করতে মূখ্য ভুমিকা রাখলেন অভিষিক্ত পেসার রুবেল হোসেন। তবুও কাজটা মোটেও সহজ ছিলোনা। ফাইনালে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশের সমীকরণ দাঁড়ালো ২৫ ওভারে ১৪৮ রান। কাজটা আরো কঠিন হয়ে গেল মাত্র ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে। ২৫ ওভারে জয়ের চিন্তা ছাপিয়ে তখন ম্যাচ জয়ই প্রশ্নের সম্মুখীন। এরপরে যা ঘটে গেল শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে তাতে পাকাপাকিভাবেই 'অতিমানব' তকমাটি লেগে গেল একজনের নামের পাশে। মাঠে কিংবা টিভি সেটের সামনে, চাতক পাখির মত সবাই চেয়ে ছিলেন ওই একজনের দিকেই। ঠিক যেভাবে কোনও ‘সুপারহিরো’ হাজির হন সবার ত্রাণকর্তা হয়ে!

 

 

কুলাসেকারা, মুরালিধরন, অজন্তা মেন্ডিস আর ম্যাথুসদের নিয়ে গড়া শ্রীলংকার বোলিং লাইনআপটি মোটেও দুর্বল ছিলোনা। সেদিন সবাই হয়ে গেলেন সাধারণ মানের বোলার। যথারীতি পাহাড়সম চাপের মুখেও সাকিব খেলে গেলেন তার খেলাটাই। যা মানেনা পরিস্থিতির চাহিদা, যা মানেনা ক্রিকেটীয় সমীকরণ। তবুও তাতেই যেন লুকিয়ে থাকে অসম্ভবকে সম্ভব করার মন্ত্র।

এ যেন একজনের লড়াই তিনটি ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। লড়াইটা তিনি জিতেও গেলেন। ওভারের লক্ষ্য ঠিক রেখে দলকে তুলে নিয়ে গেলেন ফাইনালে। খেললেন ৬৯ বলে অপরাজিত ৯২ রানের চোখধাঁধানো এক ইনিংস। সাথে হারিয়ে দিলেন শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়েকেও। ফাইনালে 'ব্যাটসম্যান' মুরালিধরনে শেষ ওভারে গিয়ে থমকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে শিরোপা হারানোর বেদনার চেয়েও বড় প্রাপ্তি হয়ে সেই সিরিজে আবির্ভাব হয়েছিল একজন অতিমানবের। যিনি দলের মাঝে একটা বিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পেরেছিলেন, সম্ভব অনেক কিছুই!