• বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
  • " />

     

    • বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    রাজনীতিতে আসা নিয়ে মাশরাফির যত ব্যাখ্যা

    মাশরাফি বিন মুর্তজা রাজনীতিতে আসছে চাইছেন কেন? জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রশ্নটা শুধু ক্রিকেট মাঠে নয়, পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সারা দেশেই ভেসে বেড়াচ্ছে। নিজের ফেসবুক পেজে মাশরাফি অবশ্য বলেছিলেন, সময়ের ডাক শোনার জন্যই এসেছেন রাজনীতিতে। তবে আজ মিরপুর সংবাদ সম্মেলনে আজ আরও অনেক কিছু পরিষ্কার করলেন, উত্তর দিলেন আরও অনেক প্রশ্নের।

    বেশ কিছু দিন ধরেই নড়াইলে নিজের ফাউন্ডেশনের কাজ করছিলেন মাশরাফি। বিপিএল জেতার পর নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশনের জন্য একটা অ্যাম্বুলেন্সও উপহার হিসেবে চেয়েছিলেন। মানুষের সেবাই যদি হয় লক্ষ্য, তাহলে সেই নড়াইল ফাউন্ডেশন থেকেই তো কাজ করতে পারতেন। প্রশ্নটা করা হলে মাশরাফি সেই সাংবাদিকের কাছে পালটা জানতে চান, ‘এবার আপনাকে আমি জিজ্ঞেস করি আমার ফাউন্ডেশনে কী কী কাজ হয়েছে বলতে পারবেন?’

    রাস্তা তৈরি করা আর হাসপাতালের কথা বললে মাশরাফি তখন বললেন, ‘আমি ফাউন্ডেশন করে এটা বুঝেছি, আমি অনেক কিছুই কাজ করেছি, এটা সত্যি কথা কিন্তু মানুষজন জানে না। এমনকি নড়াইলের মানুষজনও জানে না। যেটা আমি বললাম করার চেষ্টা করেছি। আমার জায়গা থেকে যতটুকু করা দরকার চেষ্টা করেছি। যে সুযোগটা আমাকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, আরেকটু বড় পরিসরে করা, সেটাই।’

    সেই আরেকটু বড় পরিসরে করা নিয়েও কথা হলো অনেক। এই মুহূর্তে খেলছেন, রাজনীতির সঙ্গে কোনো সংশ্রব নেই। খেলা ছাড়ার পরও তো রাজনীতিতে আসা যেত। মাশরাফি আগের কথাটাই আবার বললেন, ‘প্রথম আমি যদি বিশ্বকাপ পর্যন্ত ধরেন, আমি যেটা চিন্তা করেছি... আর সাত থেকে আট মাস বাকি আছে। বিশ্বকাপের পর আমার ক্যারিয়ার যদি শেষ হয়, নেক্সট সাড়ে চার বছরে কি হবে আমি জানি না। আর আমার একটা সুযোগ আসছে, যেটা আমি উপভোগ করি সবসময়, মানুষের সেবা করার। স্রেফ এখান থেকেই মনে হয়েছে, হয়তো সাড়ে সাত-আট মাস পর তো আবার জাতীয় নির্বাচন হবে না।’

    জোর দিয়েই বললেন, নিজেকে এখনো অত বড় খেলোয়াড় মনে করেন না, 'এটা বললাম আগে, আমার ক্যারিয়ার অবশ্যই শেষের দিকে। না আমি শচিন টেন্ডুলকার না আমি ম্যাকগ্রা যে আমার কথা মানুষ স্মরণ রাখবে। আমি আমার মত করেই ক্রিকেটটা  খেলেছি। আমার স্ট্রাগলিং লাইফে যতটুক পেরেছি খেলেছি। তবে আমি সবসময় এঞ্জয় করেছি মানুষের জন্য কাজ করতে পারা। এটা আমার ছোটবেলার শখ ছিল বলতে পারেন। যেই সুযোগটা আমি বললাম, মাননিয় প্রধান মন্ত্রী দিয়েছে, বৃহৎ পরিসরে যদি কিছু করা যায়।'

    কিন্তু নির্বাচন করতে গিয়ে তো মুদ্রার উলটো পিঠও দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এজন্য বিষোদগারও সইতে হয়েছে তাঁকে। এতোদিন সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেলেও এবার মুদ্রার উলটো দিক দেখতে হয়েছে। মাশরাফি মনে করেন, সবারই মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি যে আপনার নিজের ব্যক্তিত্ব থাকা উচিত। আপনি যদি কোনো দলকে সাপোর্ট করেন তাহলে অবশ্যই সেটা প্রকাশ্যে বলা উচিত। এমন অনেকেই আছে যারা সমর্থন করে কিন্তু বলতে পারে না। প্রত্যেকে যে যার দল করে তাঁর সম্মানটা থাকা উচিত এবং তাঁর মতে করে দেশের জন্য কাজ করবে এই মানসিকতাই থাকা উচিত। যারা কমেন্ট করছে বা করবে তা আমার নিয়ন্ত্রণে নাই। ’

    নিজের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারটা বার বারই বললেন। বিশেষ করে নির্বাচনে কোনো কারণে বিরোধী দলে গেলে কী হবে সেই প্রশ্নও এলো। মাশরাফির উত্তর, ‘হতে পারে, কালকে আপনার জীবনে কী ঘটবে আপনি জানেন না। আমার জীবনে কী ঘটবে সেটাও আমি জানি না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি ক্লিয়ার মাইন্ড নিয়ে যাচ্ছি কিনা। আমি শুধু নিজেকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। কালকে আমার সাথে কী হবে সেটা জানি না। তাই এতকিছু ভাবার সুযোগ এখনো নাই।’

    রাজনীতিতেই যদি আসার ইচ্ছা থাকে, তাহলে দেশের বিভিন্ন সংকট নিয়ে এতদিন কথা বলেননি কেন? বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক নিজেকে এখনও আগাপাশতলা রাজনীতিক মনে করেন না, ‘এত গভীর রাজনীতি আমি করিনি, জানিও না। যেটা পরিষ্কারভাবে বললাম আমার উদ্দেশ খুব সিম্পল, যেটা মানুষের জন্য করে শান্তি পাই। টাচ পাই। ততটুকু।। আমাকে যদি ডিপ লেভেলের পলিটিশিয়ান ভাবেন সেটা আমি এখনো হয়তবা না, হইনি। সো আমাকে ওই পর্যায়ে ভাবলে আমার প্রতি অবিচার হবে। আমার অভিজ্ঞতাটা একদমই নতুন। তবে আমি যেটা বলেছি ভাল কাজ করতে চাই। সেটা হয়ত সামনে দেখা যাবে কতটুকু করতে পারি।’

    কিন্তু বাংলাদেশের এই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে তিনি টিকে থাকবেন কী করে? বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেকে যোগ্য প্রার্থী দাবি করার মানদন্ড কী? মাশরাফি এখানে খেলোয়াড়ি মানসিকতারই প্রমাণ দিতে চান, ‘আমি তো সেটা একবারও বলিনি, আমি আপনার চেয়ে বেটার (প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থির চেয়ে)। তাকে আমি সম্মান করি। তাকে অসম্মান করে আমি কীভাবে বলব উনার চেয়ে আমি বেটার। সেটা অবশ্যই আমি বলব না। এ অবস্থায় আমি নিশ্চয় যাব না। অবশ্যই আমি চাই আমি আমার মতো করে বলব। আরেকজনকে ছোট করে আমি বড় হবে সেই সুযোগ নিশ্চয় নাই। দেখুন, আমি একজন স্পোর্টসম্যান। ওখানেও কিছুটা এই মানসিকতা কিছুটা থাকতে হবে। ’

    তবে নিজের রাজনৈতিক প্রচারণার গূঢ় মন্ত্রটা ফাঁস করলেন না। ছোট্ট করে শুধু বললেন, ‘নিষেধ আছে।’ আপাতত মনযোগ দিতে চান ক্রিকেট মাঠেই, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজ শেষের আগে ভাবতে চান না রাজনীতি নিয়ে। রাজনীতির মঞ্চে তিনি কেমন করেন, সেটা জানার জন্য আরও কটা দিন অপেক্ষা করতেই হবে।