• বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ
  • " />

     

    • বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    'ফাইনালের' আগে সাকিবের দুশ্চিন্তা যেখানে

    কাল দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৬ রানে হারানোর পরেই সাকিব আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, টি-টোয়েন্টিতে ভালো করার বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই। আর মিরপুরের চেনা কন্ডিশন একটা বাড়তি সুবিধা তো দিচ্ছেই। প্রথম ম্যাচে অমনভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই একটু নির্ভার বাংলাদেশ দল। এজন্য শেষ ম্যাচের আগে আজ অনুশীলনও করেননি কেউ। তারপরও টি-টোয়েন্টির সাফল্য পেয়ে যাওয়া রেসিপিতে একটা উপাদান নিয়ে একটু খচঅখচানি থাকতেই পারে সাকিবের। পেসারদের খরুচে হয়ে ওঠাটা যে নিয়মিতই হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের!

    কালকের ম্যাচের কথাই ধরুন। আবু হায়দার রনি দারুণ একটা শুরু এনে দেওয়ার পর পেসাররা হারিয়ে খুঁজেছেন নিজেদের। রনি, সাইফ উদ্দিন দুজনেই ধুঁকেছেন, তবে মোস্তাফিজুর রহমান যেভাবে রান দিচ্ছিলেন, বাংলাদেশের ম্যাচটা তখন ফস্কে যেতেই পারত। প্রথম ওভারে এসেই ২৪ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ, শেষ দিকে দুই উইকেট পেলেও দিয়েছেন ৫০ রান। ভাগ্য ভালো, সাকিব আল হাসান ৫ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাউকেই থিতু হতে দেননি। নইলে পেসারদের খরুচে হওয়াটা দেয়াল তুলে দিতে পারত বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের পথে।

    ম্যাচ শেষে কাল সাকিবকে এ নিয়ে প্রশ্নও করা হয়েছিল। সাকিব স্বাভাবিকভাবেই তিন পেসারের পাশেই দাঁড়ালেন, ‘দেখুন আমি যেটা বললাম পরে বল করা খুবই কঠিন ছিল।, এরকম পরিস্থিতিতে বল করার অভ্যাস কজনের আছে আমি জানি না। আমার অভিজ্ঞতা আছে। আমি জানি কী ধরনের বল করা যেতে পারে। সবার ওই অভিজ্ঞতা নাই। আজকের ম্যাচ তাদের জন্য ভাল একটা অভিজ্ঞতা।’ সাকিব যুক্তি দিলেও তা আসলে খুব একটা ধোপে টিকছে না দুইটি কারণে। রনি আর সাইফ উদ্দিন নতুন হলেও মোস্তাফিজের এর মধ্যেই টি-টোয়েন্টিতে বেশ অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। এই বছর নিদাহাসেও দুর্দান্ত বল করেছেন। কিন্তু সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকেই টি-টোয়েন্টিতে একটু বেশিই রান দিচ্ছেন মোস্তাফিজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও দিয়েছিলেন ৫০ রান। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে ওভারপ্রতি গড়ে ৯ রানেরও বেশি দিয়েছেন। ১০টি উইকেট পেয়েছেন বটে, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এই হারে রান দেওয়া ব্যবধান গড়ে দিতে পারে অনায়াসেই। এই বছরেই আসলে ইকোনমি রেট অনেক বেশি মোস্তাফিজের, ১২টি ম্যাচ খেলে ওভারপ্রতি ঠিক ১০ রান করে দিয়েছেন! অথচ ক্যারিয়ার ইকোনোমি রেট এখনো ওভারপ্রতি আটেরও নিচে তাঁর!

    রুবেল হোসেনকে বসিয়ে রাখাটাও সাকিবের যুক্তির আরেকটি দুর্বল দিক। আর কারও না হোক, টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকে বোলিং করার অভিজ্ঞতা বাকি সবার চেয়েই বেশি রুবেলের। বিশেষ করে শিশিরের সঙ্গে খাপ নেওয়ার ব্যাপারে বাকি সতীর্থদের চেয়ে রুবেল ম্যাচ সংখ্যায় অন্তত এগিয়ে থাকবেন একটু হলেও। এই বছর ওভারপ্রতি প্রায় ৯ রান করে দিলেও তাঁর চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন শুধু মোস্তাফিজ। আর পেসারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে ওভারপ্রতি কম রান দিয়েছেন শুধু আবু হায়দার। কাল ম্যাচ শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেছিলেন, তারা উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে চাননি।

    অঘোষিত ফাইনালের আগে কি সেই ভাবনাটা বদলাবেন সাকিব?