• " />

     

    টেন্ডুলকারের গুরু আর নেই

    টেন্ডুলকারের গুরু আর নেই    

    প্রথম শ্রেণিতে খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। তবে ক্রিকেট খেলার জন্য নয়, তাঁকে সবাই চেনে ক্রিকেটার তৈরির কারিগর হিসেবেই। আরও নির্দিষ্ট করে বললে শচীন টেন্ডুলকারের গুরু হিসেবে। সেই রামাকান্ত আচরেকার আর নেই, বুধবার ৮৬ বছরে চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে।

    অনেকদিন থেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে ছিলেন আচরেকার, বয়সজনিত কারণে স্বাস্থ্যের অবনতিও ঘটেছিল। গত মাসেও অবশ্য শচীন দেখা করতে গিয়েছিলেন গুরুর সঙ্গে। এই আচরেকারের পরামর্শেই স্কুল বদলেছিলেন টেন্ডুলকার, বান্দ্রার নিউ ইংলিশ স্কুল থেকে গিয়েছিলেন সারদাশ্রম বিদ্যানিকেতনে। কিশোর শচীনের স্বপ্ন ছিল পেসার হওয়ার, আচরেকার তাঁকে বানিয়েছিলেন ব্যাটসম্যান। এরপর শচীন যা করেছেন, সেটা সবাই জানেন। গুরু পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, আর সেই পথে হেঁটে বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে অনেক দূর চলে গেছেন শচীন।

    অবশ্য শুধু শচীনের মধ্যেই আচরেকারের ছায়া খোঁজা অন্যায় হয়ে যাবে। নব্বইয়ের দশকে মুম্বাইয়ের আরও অনেক কিশোরকে দীক্ষা দিয়েছিলেন ক্রিকেটে, যাঁদের মধ্যে ভারতের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন বিনোদ কাম্বলি ও অজিত আগারকার। আবার আচরেকারের দেখাদেখি কোচিংয়ে নেমেছেন ভারতেরই সাবেক ক্রিকেটার চন্দ্রকান্ত পন্ডিত, সঞ্জয় বাঙ্গার, প্রাভিন আমরে ও রমেশ পাওয়াররা।

    আচরেকার নিজের জীবনে একটা মাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৬০ সালে স্টেট ব্যাংকের হয়ে মঈন উদ দৌলা ট্রফিতে খেলা ওই ম্যাচই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ। এরপর মুম্বাইয়ের নির্বাচক হিসেবে কিছুদিন কাজ করেছেন। তবে কোচিং ছিল তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। ১৯৯০ সালে দ্রোণাচার্য আর ২০১০ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন ক্রিকেট গুরু হিসেবেই। আচরেকার চলে গেলেও তাই বেঁচে থাকবেন শচীনের মধ্যেই।