• ক্রিকেট

সন্দেহজনক অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন বিপিএলের চমক আলিস!

কে এই আলিস আল ইসলাম?

ঢাকা ডায়নামাইটস আর রংপুর রাইডার্সের প্রথম ম্যাচের পর এই বোলারকে নিয়ে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বলাই যায়, আলিস এখন আক্ষরিক অর্থেই ওয়ান্ডারল্যান্ডে। বিপিএলে তো অভিষেক বটেই, প্রথম শ্রেণি এমনকি প্রিমিয়ার লিগেও কখনো খেলা হয়নি এই বোলারের। অথচ বিপিএলের অভিষেক ম্যাচে নেমেই পেলেন হ্যাটট্রিক, অফ স্পিনে শেষ ওভারে ঢাকাকে এনে দিয়েছেন ২ রানের জয়। হয়েছেন ম্যাচসেরাও। রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, আলিসকে তারাও দুই একজনের বেশি কেউ চিনতেন না।  কিন্তু কে এই আলিস হাসান?

নিজেই সংবাদ সম্মেলনে আজ জানালেন, ২০১৪ সালে কাঁঠালবাগান গ্রিন ক্রিসেন্ট ক্লাব থেকে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু। সাভারের বলিয়ারপাড়া এলাকায় তাঁর জন্ম, সেখান থেকেই বেড়ে ওঠা। ২০১৪ থেকে দুই বছর খেলেছিলেন দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেট। এরপর গত বছর ওল্ড ডিওএইচের হয়ে খেলেছেন প্রথম বিভাগ ক্রিকেট। ২৭ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট ছিল এই অফ স্পিনারের। দুই বার নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।

তবে তার চেয়েও বড় বিস্ময়, এই বোলার অভিযুক্ত হয়েছিলেন সন্দেহজনক অ্যাকশনের জন্য। প্রথম বিভাগে খেলার পর সন্দেহজনক অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে খানিকটা বিব্রতই হয়ে পড়েন ২২ বছর বয়সী এই বোলার। সরাসরি সেটি অবশ্য স্বীকার করলেন না, ‘না আসলে কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। তবে সবাই আসলে ভাবছিলেন.......। না, আসলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।’ পরে সংবাদ সম্মেলন শেষে অবশ্য স্বীকার করলেন, তাঁকে বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে দাবি করেছেন, নিজের ‘সন্দেহ’ থেকেই এই পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বিসিবির মিডিয়া কমিটির পরিচালক জালাল ইউনুসকে। গত কয়েক বছর ধরে বোলিং অ্যকাশনের অভিযুক্তদের কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি। জালাল ইউনুস অবশ্য মনে করতে পারলেন না, আলিস অভিযুক্ত হয়েছিলেন কি না। তবে বললেন, অভিযুক্ত হলেও আলিস শুদ্ধ হয়েই ফিরেছেন মাঠে। যদিও আজ তাঁর বোলিং দেখে অনেকেই পুরনো প্রশ্নটা তুলেছেন।

তাতে অবশ্য আলিসের আজকের অবদান খাটো হয়ে যাচ্ছে না। জানিয়েছেন, ঢাকা ডায়নামাইটসের ম্যাচে তাঁর বোলিং দেখেই কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের মনে ধরেছিল। গতকাল বিকেলে তাঁকে জানানো হয়েছিল, তিনি খেলছেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে যেন প্রস্তুত থাকেন। আলিস স্বীকার করলেন, আজ কিছুটা নার্ভাসই ছিলেন, ‘এতো বড় স্টেডিয়ামে, এতো বড় টুর্নামেন্টে প্রথম খেলা নার্ভাসেরই বিষয়। আমি প্রথমে নার্ভাসই ছিলাম, তবে তারপরও ভালো হয়েছে।’

জানাচ্ছেন, মিরপুরেই আগে কখনো খেলেননি, এত দর্শকের সামনে খেলা দূরে থাক, ‘আসলে এটা আমার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ। খোলাসা করে বলতে গেলে স্টেডিয়ামেই এটা আমার প্রথম ম্যাচ। আমি আসলে অনেক নার্ভাস ছিলাম। তবে ক্যাচ দুটি ড্রপ করার পর টিমমেটটা অনেক সাপোর্ট করেছে আমাকে, কোচ সাপোর্ট করেছেন। সবাই আসলে অনেক সাহস দিয়েছেন। তাতে আমার মনে হয়েছে যে, ভালো জায়গায় বলটা করতে পারি তাহলে ভালো কিছু হতে পারে। আমি শুধু ভালো জায়াগায় বল করতে চেয়েছি।’ সেই ভাল জায়গায় করে পেয়ে গেলেন হ্যাটট্রিকও। সেটা নিয়ে অবশ্য সরল দর্শন তার, 'হ্যাটট্রিক করা যায় না, হ্যাটট্রিক হয়ে যায়'।