• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    তাসকিনের 'ছোট ছোট' পরিবর্তন এবং ওয়াকারের 'বিনয়'

    তাসকিনের 'ছোট ছোট' পরিবর্তন এবং ওয়াকারের 'বিনয়'    

    ঢাকা পর্বে সিলেট সিক্সারসের অনুশীলন চলছে মিরপুর একাডেমিতে। সকালবেলা নেট আর ফিল্ডিং অনুশীলন করছেন যে যার মতো। এর মধ্যে সেন্টার উইকেটে তাসকিন আহমেদ আর মোহাম্মদ ইরফানকে নিয়ে নিবিড় মনযোগে কাজ করে যাচ্ছেন সিলেট কোচ ওয়াকার ইউনুস। স্পট বোলিংয়ে লেংথ নিয়ে কাজ করেছেন অনেকক্ষণ। শিষ্যের বোলিংয়ে বেশ সন্তুষ্টও মনে হচ্ছিল ওয়াকারকে।

     

     

    এবারের বিপিএলে তাসকিন আহমেদ যে নিজেকে নতুন করে ফিরে পেয়েছেন, সেটা না বললেও চলে। সিলেট যেমনই করুক, তাসকিন আলো ছড়াচ্ছেন প্রায় প্রতি ম্যাচেই। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ২০টি উইকেট তাঁর, দুবার নিয়েছেন চার উইকেট। নিউজিল্যান্ডের টেস্ট আর ওয়ানডে দলে ডাক পেয়ে পুরস্কারও পেয়েছেন ফর্মের।

    তাসকিনের সময়টা ভালো যাচ্ছিল না মোটেই। সেই ২০১৭ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর জাতীয় দলের টেস্ট আর ওয়ানডেতে জায়গা হারিয়ে ফেলেছিলেন, মধ্যে চোটের জন্য ছন্দও হারিয়ে ফেলেছিলেন। বিপিএলে আবার ফিরেছেন পুরনো ফর্মে। তাসকিন সেজন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন সিলেটের কোচ ওয়াকারকে, ‘আমাদের সিলেটের যে প্রধান কোচ ওয়াকার ইউনুস সে অনেক সাহায্য করছে। মূল জিনিসটা আসলে ছন্দ আর আত্মবিশ্বাস। ও আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে আমি ভালো অবস্থায় আছি। প্রথম দিন থেকে যখন নেটে বল দেখছিল আমাকে বলল আত্মবিশ্বাস ঠিক রেখে বল করতে। কিছু ছোট ছোট ভুলগুলো উনি ধরিয়ে দিয়েছে। ওইগুলো নিয়ে কাজ করেছি। ওভারঅল রিদমটা ভালো আছে আল্লাহর রহমতে। লাইন লেংথের ধারাবাহিকতা নিয়ে আরেকটু সচেতন ছিলাম মাঠের মধ্যে। প্রতিনিয়তই আমি সুযোগ পেলে ওয়াকার স্যারের সঙ্গে কথা বলছি। উনি আসলে তেমন কোনো বড় পরিবর্তনের কথা বলে নাই।  শুধু বলেছেন, পেসটা যাতে কোনভাবেই না কমে।’

    ওয়াকার অবশ্য নিজের ভাগে কোনো কৃতিত্বই নিতে চাইলেন না, ‘আমি তাসকিনের সঙ্গে কিছু করিনি। সে নিজেই করেছে যা করার। সে খুবই পরিশ্রম করে, সেই সঙ্গে দ্রুত শিখছেও। সে সব সময়ই জাতীয় দলে ফিরতে চেয়েছে। আর আপনি যদি কিছু মন থেকে চান আর সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করে তাহলে সেটা পাবেনই। ওর ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’

    কিন্তু ঠিক কোন জায়গায় নিজেকে একটু বদলেছেন তাসকিন? ছন্দ ফিরে পাওয়ার রহস্যই বা কী? এই ফাস্ট বোলার বৈচিত্র্যের দিকেই জোর দিলেন, ‘আমি আসলে চেষ্টা করেছি নিজের বেসিকটা ঠিক রেখে একটু বৈচিত্র্য আনতে। অভিজ্ঞতাও কাজে এসেছে কিছুটা। আগে যেমন আমি বাউন্ডারি হলে আরও জোরে বল করার চেষ্টা করতাম। জোর তো আমার স্ট্রেন্থ। ডেফিনেটলি আমার ভালো পেসে ভালো লেংথে বল করতেই হবে। সেই সঙ্গে আমি ভেরিয়েশনেরও চেষ্টা করছি।’ ওয়াকার অবশ্য বললেন, তাসকিনের খুব বেশি কিছু বদলে দেননি, ‘আমি তো কিছু বদলাইনি। আমি শুধু চেষ্টা করেছি ও যেন পরিশ্রম করে যায়। ও যা করত এখনো তা-ই করছে। আর ভুলে গেলে চলবে না, ওর চোট ছিল। সেখান থেকে সেরে উঠতেও সময় লাগে অনেক। সেজন্য ওর একটু সাহায্যের দরকার ছিল, এই দলে সেটা সে পেয়েছে।’