• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    রাজশাহীকে বাঁচিয়ে রাখলেন এভান্স-ডেসকাটে

    রাজশাহীকে বাঁচিয়ে রাখলেন এভান্স-ডেসকাটে    

    সিলেট সিক্সার্স ১৮৯/৫, ২০ ওভার (পুরান ৭৬, সাব্বির ৪৫, রাব্বি ২/৩০, মোস্তাফিজ ১/৩১) 
    রাজশাহী কিংস ১৯০/৫, ১৮ ওভার (এভান্স ৭৬, ডেসকাটে ৪২, তানভীর ২/২৭) 
    রাজশাহী ৫ উইকেটে জয়ী 


    শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখতে জিততে হতো দুই দলকেই। এ দুই পয়েন্ট দিত সামনের অক্সিজেনটা। সেটা পেল রাজশাহী কিংস। লরি এভান্স ও রায়ান টেন ডেসকাটের দারুণ জুটির ওপর ভর করে সিলেট সিক্সার্সের ১৮৯ রান রাজশাহী পেরিয়ে গেছে ১২ বল বাকি থাকতেই। ১২ ম্যাচ শেষে এখন রাজশাহীর পয়েন্ট ১২, শেষ চারে যেতে তাদের এখন চেয়ে থাকতে হবে ঢাকার বাকি দুই ম্যাচের দিকে। আর এক ম্যাচ বাকি থাকলেও বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত ৮ পয়েন্ট পাওয়া সিলেটের। 

    চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে এদিন নিকোলাস পুরানের ৩১ বলে ৭৬ রানের ইনিংসে ভর করে সিলেট গিয়েছিল ১৮৯ রান পর্যন্ত। রাজশাহী সে রানতাড়ায় পথ হারিয়ে ফেলেছিল প্রায়, তাদেরকে ফিরিয়ে এনেছেন এভান্স ও ডেসকাটে। কুমিল্লার বিপক্ষে রাজশাহীকে জিতিয়েছিল এ দুজনের জুটিই। তবে সেটা ছিল প্রথম ইনিংসে। এবার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে রাজশাহীকে অক্সিজেন দেওয়ার কাজটা করলেন তারা। দুজনের জুটির শুরুতে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৬৮ বলে ১২৬ রান। দুজনের জুটিতে এলো ৪৫ বলে ১০৯ রান। 

     

     

    ১০, ১১, ১৩তম ওভারে ডেসকাটে মেরেছেন একটি করে ছয়, আর এভান্স মেরেছেন একটি করে চার। ১৪তম ওভারে এবাদত হোসেনকে দারুণ তিনটি শটে টানা তিনটি চার মেরেছিলেন এভান্স। এরপরের ওভারে ডেসকাটে একাই মেরেছেন চার ও ছয়। তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে মোহাম্মদ নওয়াজের করা ১৬তম ওভার। সে ওভারে এভান্স একাই তুলেছেন ২৪ রান- চার, চার, দুই, ছয়, চার, চারে। এর মাঝে প্রথম বাউন্ডারি দিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেছেন এভান্স, ২৮ বলে। সোহেল তানভীরের এক ওভারে ফিরেছেন দুজন- প্রথমে ১৮ বলে ৪২ রান করা ডেসকাটে। এরপর পয়েন্টে আফিফের দারুণ ক্যাচ বনেছেন ৩৬ বলে ৭৬ রান করা এভান্স। তার শটটা ছুটন্ত অবস্থায় লাফিয়ে উঠে ধরেছেন আফিফ, এরপর বাউন্ডারির বাইরে যাওয়ার আগে ভেতরে ছুঁড়ে ভার সামলে নিয়েছেন সেটা। তবে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি সেসব। 

    রাজশাহীর রানতাড়ায় শুরুতে জাকির হাসান ও শাহরিয়ার নাফীস হয়ে ছিলেন দর্শকই। প্রথমে জাকির ফিরেছেন তাসকিনের শর্ট বলে মিড-অনে ধরা পড়ে। জনসন চার্লসের সঙ্গে নাফীসের জুটিতে উঠেছে ৪২ রান, তবে সেখানে নাফীসের অবদান ১৩ বলে ৯। বড় রানতাড়ায় রাজশাহীকে ভিতটা গড়ে দিয়েছিল চার্লসের ২৬ বলে ৩৯ রানের ইনিংসই। সেখানে চার্লস মেরেছেন ৭টি চার, আউট হয়েছেন পুরানের ‘অদ্ভুত’ ক্যাচে। কাপালিকে তুলে মেরেছিলেন চার্লস, সেটার জন্য ছুটছিলেন সাব্বির-পুরান দুজনই। পুরানই হাত বাড়ালেন, তবে চলে গেলেন বাউন্ডারির বাইরে। আদতে তিনি সেটা মিস করে গেছেন, তবে তার হাতের নিচেই হাত পেতে রেখেছিলেন সাব্বির, ক্যাচ ধরা পড়েছে সেখানেই। 

    এর আগে সিলেটের ইনিংসে ছিলেন এই সাব্বির ও পুরানই। 

    লিটন-রয় ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে সে পর্যন্তই। প্রথম ওভারের শেষ বলে সানির বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে লিটন করেছেন ৬ বলে ১০, মোস্তাফিজের বলে ‘টাক’ করতে গিয়ে কট-বিহাইন্ড হওয়ার আগে রয় করেছিলেন ৮ বলে ১৩ রান। রাজশাহী মোমেন্টামটা পেয়েছিল, তবে সেটা হারিয়ে ফেলেছে নিজেদের হাস্যকর ভুলেই। শুন্যতেই আউট হতে পারতেন সাব্বির, তবে তার বিপক্ষে কট-বিহাইন্ডের আবেদনই করেননি বোলার রাব্বি বা উইকেটকিপার জনসন চার্লস। 

    সেই সাব্বির পরে আফিফের সঙ্গে জুটিতে তুলেছেন ৪৬, আর নিকোলাস পুরানের সঙ্গে ৫৩। মিরাজ ও আরাফাত সানিকে দুই ছয় মারা আফিফ আউট হয়েছেন মিরাজকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে, ২৫ বলে ২৯ রান করার পর। ১১ ওভারে সিলেটের রান ছিল ৩ উইকেটে ৮৮। 

    এরপরই গিয়ার বদল করেছেন পুরান ও সাব্বির। ১৪তম ওভারে সানির বলে উঠেছে ২২ রান, যার ২১ রানই নিয়েছেন পুরান। তবে এর পরের ওভারে জোড়া ব্রেকথ্রুতে রাজশাহীকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন রাব্বি। প্রথমে ৩৯ বলে ৪৫ রান করা সাব্বির পরিণত হয়েছেন লন-অনে ডেসকাটের সীমানাঘেঁষা দারুণ ক্যাচে, পরের বলেই মোহাম্মদ নওয়াজ খোঁচা মেরে ধরা পড়েছেন উইকেটকিপারের হাতে। ১৭তম ওভারে মোস্তাফিজ ৪ রান দিয়ে চেপে ধরেছিলেন সিলেটকে।

    তবে সিলেটের উড়ানটা নিশ্চিত করেছেন পুরান। ২১ বলে পূর্ণ করেছেন ফিফটি, শেষ পর্যন্ত মেরেছেন ছয়টি করে চার ও ছয়। লং-অন থেকে স্কয়ার লেগের মাঝেই মেরেছেন পাঁচটি, একটি পয়েন্টের ওপর দিয়ে। এই বিপিএলে এটি তৃতীয় ফিফটি এই বাঁহাতির। শেষ ৩ ওভারে সিলেট তুলেছে ৪৪ রান। ফিল্ডিংয়ে এদিন বেশ এলোমেলো ছিল রাজশাহী, পঞ্চম বোলার হিসেবে সৌম্যও ছিলেন বেশ খরুচে। ৪ ওভারে তিনি দিয়েছেন ৪৭।