• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    পাকিস্তানকে উড়িয়েই সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার

    পাকিস্তানকে উড়িয়েই সিরিজ দক্ষিণ আফ্রিকার    

    স্কোর

    পাকিস্তান ৫০ ওভারে ২৪০/৮ (ফখর ৭০, ইমাদ ৪৭*, ফেকলেকোয়াও ২/৪২, অলিভিয়ের ২/৪৬)

    দক্ষিণ আফ্রিকা ৪০ ওভারে ২৪১/৩ (ডি কক ৮৩, ডু প্লেসি ৫০*, ফন ডার ডুসেন ৫০*; শাহীন শাহ ১/৩৪)

    ফলঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী (৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী)

    ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ ডি কক, ম্যান অব দ্য সিরিজঃ ইমাম উল হক


    ফাফ ডু প্লেসি বলেছিলেন, সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটা তারা বিশ্বকাপের মহড়া হিসেবে দেখছেন। সেই মহড়া এর চেয়ে ভালো হতে পারত না দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে একরকম উড়িয়েই সিরিজ নিশ্চিত করেছে আফ্রিকা।

    কেপ টাউনের টেবল মাউন্টেনের পেছনে ছিল মেঘের আনাগোনা। সেই মেঘ শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি হলো না, তবে সিরিজটাই যেন এই মেঘ-এই রোদের মতো অনুমান দুঃসাধ্য। জোহানেসবার্গের জয়ে পাকিস্তানের দিকেই যখন পাল্লা ভারি, কেপ টাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা ফিরল দারুণভাবে। সেই পথ দেখানোর শুরুটা করে দিয়েছে তাদের পেসবোলিং অলরাউন্ডাররাই।

     

     

    এই সিরিজে চার ম্যাচেই পরে ব্যাট করা দল জিতেছে। কেপ টাউনে আগে ব্যাট করার দলের পক্ষেই পরিসংখ্যান কথা বললেও ডু প্লেসি তাই আগে বোলিং নিয়েছেন। শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের, এই সিরিজে তাদের সেরা ব্যাটসম্যান ইমাম উল হক ৮ রান করে। তবে ফখর জামান ও বাবর আজম পথ দেখাচ্ছিলেন পাকিস্তানকে। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন যোগ করলেবন ৫৬ রান। মোহাম্মদ হাফিজ অবশ্য ফখরকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারলেন না, আউট ১৭ রানে। ফখর অবশ্য ভালোই খেলছিলেন, ৭৩ বলে করে ফেলেছিলেন ৭০ রান। এর পরেই ফেকলেকাওয়ের বলে ক্যাচ দিলেন ইমরান তাহিরকে।

    তখনও ২৫ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ১২৮। সেটা এখান থেকে অন্তত ২৭০-৮০ হতেই পারত। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা এরপর চেপে বসেছেন পাকিস্তানের ওপর। শোয়েব মালিক ৩১ রান করে বিদায় নেওয়ার পর বাকিরা সংগ্রাম করেছেন রানের জন্য। মোহাম্মদ রিজওয়ান ১০ রান করেছেন ৩০ বলে, শাদাবের ১৯ রানের জন্য খেলতে হয়েছে ৪২ রান। শেষ দিকে ইমাদ ওয়াসিম ৩১ বলে ৪৭ রান না করলে ২৪০ও হয় না পাকিস্তানের স্কোর। দুইটি করে উইকেট নিয়েছেন ফেকলেকাও ও ডুয়াইন অলিভিয়ের।

    এই রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা হতে পারত দুঃস্বপ্নের মতো। কিন্তু আগের ম্যাচ নায়ক উসমান খান শেনোয়ারির বলে ক্যাচ দিয়েও নো বল হওয়ায় বেঁচে গেছেন কুইন্টন ডি কক। সুযোগটা এর চেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারতেন না, প্রথম ১০ ওভারেই তুলে নিয়েছেন ৬৫ রান। এর মধ্যে দলের ৩৯ রানে হাশিম আমলা চলে গেলেও ডি ককের ঝড় থামেনি তাতে। ৪২ বলে পেয়েছেন ফিফটি, আর পরের ৪৩ রান করার জন্য খেলতে হয়েছে মাত্র ১৬ বল। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৮৩ রান করে আউট যখন হয়েছেন, ২০.২ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলে নিয়েছে ১৪৬ রান। দলের জয়ও তাতে নিশ্চিত হয়ে গেছে অনেকটাই। এরপর অবিচ্ছিন্ন ৯৫ রানের জুটিতে বাকি কাজটা সেরেছেন ডু প্লেসি ও ফন ডার ডুসেন। দুজনেই ঠিক ফিফটি করে অপরাজিত ছিলেন, ঠিক ১০ ওভার হাতে রেখেই জিতেছে আফ্রিকা।