• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    রুদ্ধশ্বাস হারে খাদের কিনারে ঢাকা

    রুদ্ধশ্বাস হারে খাদের কিনারে ঢাকা    

    স্কোর

    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০ ওভারে ১২৭ (তামিম ৩৮; রুবেল ৪/৩০, সাকিব ২/২৩, নারাইন ২/২৫)

    ঢাকা ডায়নামাইটস ২০ ওভারে ১২৬/৯ (পোলার্ড ৩৪, রাসেল ৩০; সাইফ উদ্দিন ৪/২২)

    ফলঃ কুমিল্লা ১ রানে জয়ী


    শেষ ওভারে দরকার ১৩ রান, সাইফ উদ্দিনের প্রথম বলেই আউট রুবেল হোসেন। পরের বলে সিঙ্গেল দিয়ে শাহাদাত দিলেন আন্দ্রে রাসেলকে, তাঁর ওপরেই সব আশা ভরসা ঢাকা ডায়নামাইটসের। পরের দুই বলে কোনো রান নিতে পারলেন না রাসেল, দুই বলে দরকার ১২ রান। পঞ্চম বলটা পাঠালেন সীমানার ওপারে, শেষ বলে ছয় রান। সাইফ উদ্দিন নিখুঁত লেগ ইয়র্কার করলেন, ইনসাইড এজে চার হলো। ১ রানে জয় পেল কুমিল্লা, তবে ক্ষতিটা হলো ঢাকা ডায়নামাইটসেরই বেশি। টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে আরেকটু কোণঠাসা হয়ে গেল তারা। প্লে অফে উঠতে হলে কাল খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে জিততেই হবে তাদের।

     

     

    ঢাকার সামনে সমীকরণটা ছিল সহজ। কুমিল্লাকে হারালেই শীর্ষ চারে, আর কুমিল্লার জন্য এই জয় শীর্ষ দুই নিশ্চিত করার জন্য। শীর্ষ চার নিশ্চিত হলেও এক বিন্দু ছাড় দেয়নি কুমিল্লা, ১২৭ রানের পুঁজিটাকেই বানিয়ে ফেলেছে জয়ের। শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার, দ্বিতীয় ওভারেই মাহেদী হাসানের বলে ফিরে গেছেন এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া শ্রীলঙ্কান ওপেনার উপুল থারাঙ্গা। মিজানুর রহমান শুরুটা খারাপ করেননি, ১৬ বলে ১৬ রান করে ফেলেছিলেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে মোশাররফ রুবেলের বলে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুলকে। সাইফ উদ্দিনের পরের ওভারের প্রথম বলে বোল্ড রনি তালুকদার।

    সাকিব আল হাসানকে এই ম্যাচে এগিয়ে আসতে হতো, কিন্তু আজ ব্যর্থ অধিনায়কও। মাহেদীকে ছয় মারার পরেই তাঁর বলেই হয়ে গেছেন বোল্ড। এরপর সুনীল নারাইন আর কাইরন পোলার্ডে ঢাকার ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করলেন ৪২ রান, ম্যাচটাও আস্তে আস্তে ঢাকার মুঠোয় চলে আসছিল।

    কিন্তু ১৬ ও ১৭তম ওভারে গিয়েই গড়বড় হয়ে গেল সবকিছু। ১৬তম ওভারে আফ্রিদির বলে এক রানও নিতে পারলেন না রাসেল। পরের ওভারে সাইফ উদ্দিন দিলেন বড় ব্রেক থ্রু, তাঁর বলে তামিমকে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৩৩ বলে ৩৪ রান করে ফিরলেন পোলার্ড। পরের বলে আউট নুরুলও। সেই ওভার থেকে এলো মাত্র ১ রান। তবে আফ্রিদির পরের ওভারে আবার দুলল পেন্ডুলাম, ওই ওভার থেকে রাসেলের দুই ছয় সহ ঢাকা নিল ১৭ রান।

    নাটখলো ১৯তম ওভারে, ওয়াহাব রিয়াজের বলে ক্যাচ তুলে দিলেন রাসেল। কিন্তু নো বলে বেঁচে গেলেন। ওই ওভারে আউট শুভাগত, শেষ বলে চার মারায় ঢাকার লক্ষ্য দাঁড়াল ১৩ রান। কে জানত, একটুর জন্য তা হবে না?

    তার আগে কুমিল্লার শুরুটা ছিল দারুণ। তামিম ইকবাল দুর্দান্ত কিছু শটে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন, দিনটি তাঁর হতে যাচ্ছে। ওই প্রান্তে এভিন লুইস অবশ্য একদমই সুবিধা করতে পারছিলেন না, ১৬ বলের ৮ রানের ধুঁকতে থাকা ইনিংস শেষ হলো নারাইনের বলে বোল্ড হয়ে। বিজয় রুবেলের প্রথম বলেই বোল্ড। তামিম অবশ্য ২০ বলে ৩৬ রান করে ফেলেছিলেন। কিন্তু শুভাগত বলে রুবেলের দারুণ এক ক্যাচে ফিরে গেলেন।

    ততক্ষণে অবশ্য ৫২ রানে ৩ উইকেট তুলে ফেলেছে কুমিল্লা, কিন্তু উইকেট হারানোর শুরু তখনই। ইমরুল ফিরলেন ৭ রানে, শামসুর করলেন ২। আফ্রিদি ১৭ বলে ১৮ রান করলেও থিসারা পেরেরা, সাইফ উদ্দিন দুই অঙ্ক ছুঁতে পারলেন না। ৮৭ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর যখন কাঁপছে কুমিল্লা, সেখান থেকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছেন মাহেদী আর ওয়াহাব রিয়াজ। ১৫ বলে ২০ রান করেছেন মাহেদী, আর ১২ বলে ১৬ রান করেছেন ওয়াহিব। ১২৭ করেছে কুমিল্লা, শেষ পর্যন্ত এই রানটাই হয়ে গেছে জয়ের জন্য যথেষ্ট।