• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    মাশরাফির রংপুরকে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে কুমিল্লা

    মাশরাফির রংপুরকে হারিয়ে সরাসরি ফাইনালে কুমিল্লা    

    রংপুর রাইডার্স ১৬৫/৫, ২০ ওভার (হাওয়েল ৫৩*, গেইল ৪৬, রুশো ৪৪, সনজিত ১/১৪, মেহেদি ১/২৮) 
    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ১৬৬/২, ১৮.৫ ওভার (লুইস ৭১*, এনামুল ৩৯, শামসুর ৩৪*, শফিউল ১/২১)
    কুমিল্লা ৮ উইকেটে জয়ী 


    ২০১৫ সালে ফাইনাল খেলেছিল কুমিল্লা, সেবার তাদের অধিনায়ক ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবার সেই মাশরাফির বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে হারিয়েই সরাসরি ফাইনালে গেল ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা। প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে সনজিত সাহার দারুণ বোলিংয়ের পর এভিন লুইস ও এনামুল হকের জুটির সঙ্গে শামসুর রহমানের ঝড়ে রংপুরকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা। রংপুর এখন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে  নামবে ঢাকার বিপক্ষে। 

     

     

    ১৬৬ রানের লক্ষ্য ছিল, কুমিল্লার ব্যাটিং যেন ছিল বেশ পরিকল্পিতই। অযাচিত বড় শটের চেষ্টা খুব বেশি করেননি তারা, গড়েছেন জুটি। 

    মাশরাফিকে ডাউন দ্য গ্রাউন্ডে এসে ছয়ের আগে নাহিদুলকে ইনসাইড-আউটে চার মেরেছিলেন তামিম, তবে মাশরাফিকে স্কয়ার লেগে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন মিড-অনে টপ-এজড হয়ে। রংপুরের সাফল্যের শেষও যেন ওখানেই। 

    এরপর লুইসের সঙ্গে এনামুলের জুটিতে উঠেছে ৯০ রান, ৬৩ বলে। দুজন স্ট্রাইক বদল করেছেন নিয়মিত, মেরেছেন বাউন্ডারিও। ফরহাদ রেজা ও মাশরাফিকে এনামুল মেরেছেন দুই ছয়, শফিউলের ইয়র্কারে বোল্ড হওয়ার আগে করেছেন ৩২ বলে ৩৯ রান। 

    এনামুল ফিরলেও ছিলেন লুইস। চোট পেয়ে টুর্নামেন্টের একটা অংশ মিস করেছিলেন, আজ ফিল্ডিংয়েও স্বস্তিতে ছিলেন না। তবে ব্যাটিংয়ে সেসবকে উড়িয়ে দিলেন তিনি। চতুর্থ ওভারে সোহাগ গাজিকে টানা দুই চারে শুরু করেছিলেন, এরপর নিয়মিত বড় শট খেলে গেছেন। বেনি হাওয়েল, মাশরাফি ও রেজাকে টানা তিন ওভারে মেরেছিলেন ছয়। এর মধ্যে তৃতীয়টি দিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেছেন, ৪২ বলে। বিপিএলে এবার এটি প্রথম ফিফটি তার, আছে একটি সেঞ্চুরিও। 

    তবে এনামুলের উইকেটের পর লুইস ছিলেন দর্শক হয়েই। এরপর দায়িত্বটা নিয়ে নিয়েছিলেন শামসুর রহমান। শেষ ২৪ বলে প্রয়োজন ছিল ৩৮ রান, কুমিল্লা যে ৭ বল বাকি থাকতে জিতল তার মূল অবদান ১৫ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকা ওই শামসুরেরই। 

    ১৫তম ওভারে প্রথম বোলিং করতে এসেছিলেন রবি বোপারা, তার করা পরের ওভারে শামসুর তাকে মেরেছেন চার ও ছয়। ব্লকহোলে বোলিং করে যাওয়া শফিউলও খেই হারিয়ে ফেললেন শামসুরের সামনে। ফরহাদ রেজাকে এরপর চারের পর ছয় দিয়ে কুমিল্লার জয় নিশ্চিত করেছেন শামসুরই।  

    এর আগে রংপুরের ইনিংসের হাইলাইটস ছিল হাওয়েল-ঝড়। 

    ১৫ ওভারে রংপুরের রান ছিল ৪ উইকেটে ৯১, এরপর বেনি হাওয়েলের ঝড়ে শেষ ৫ ওভারে তারা তুলেছে ৭৪ রান! এ ঝড়ের মূল কারিগর হাওয়েল। সঙ্গে ছিলেন রাইলি রুশো। ১৬তম ওভারে আফ্রিদিকে রুশোর চারের পর হাওয়েল মেরেছিলেন ছয়, ঝড়টা শুরু হয়েছে তখনই। সাইফউদ্দিন ও রিয়াজ- দুজনই নিজের শেষ ২ ওভারে গুণেছেন ৩১ রান করে। থিসারা পেরেরাকে এক ওভারের পর আর করাননি ইমরুল। 

    হাওয়েল শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২৮ বলে ৫৩ রান করে, এর আগে বিপিএলের এ মৌসুমে যে তিন ইনিংস তিনি ব্যাটিং করেছিলেন, সর্বোচ্চ ছিল ১৩ রান। সে তুলনায় রাইলি রুশোর ৩১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস অবশ্য স্বাভাবিকই, এ আসরের সর্বোচ্চ রান-সংগ্রাহক শুরুর দিকে অবশ্য বেশ সংগ্রামই করেছেন আজ। 

    কুমিল্লার রুশো-হাওয়েল দুর্দশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পিচ্ছিল ফিল্ডিং। অন্তত দুইটি বাউন্ডারি সোজা মিস করেছেন ওয়াহাব রিয়াজ ও মেহেদি হাসান, গেইল ও রুশোর দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচও ছেড়েছেন দুজন। গেইলের ক্যাচ না ভোগালেও রুশোরটির জন্য ভাল মূল্যই দিতে হয়েছে কুমিল্লাকে। 

    শেষভাগের আগে অবশ্য রংপুরকে বেশ চেপে ধরেছিল কুমিল্লা, যার মূল অবদান সনজিত সাহার দারুণ বোলিংয়ের। পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে এসেছিলেন তিনি, শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ১৪ রান, সঙ্গে রবি বোপারার উইকেট। তার ডাউন দ্য লেগের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে কট-বিহাইন্ড হয়েছিলেন বোপারা। সনজিত পেতে পারতেন গেইলের উইকেটও, সোজা ক্যাচ ছেড়েছিলেন মেহেদি। পরে গেইল আউট হয়েছেন সেই মেহেদির বলেই।  

    আর গেইলের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে রান-আউট হয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। হ্যাঁ-না করতে করতে তিনি গিয়েছিলেন স্ট্রাইক প্রান্তে, সেদিক উইকেট ভাঙার পর উইকেটকিপার এনামুলের থ্রো অন্যপ্রান্তে সরাসরি ভেঙেছে স্টাম্প, গেইলও ওপাশে ছিলেন ক্রিজের বাইরেই। তবে আগেই মিঠুন আউট হয়ে যাওয়ায় বেঁচে গেছেন তিনি। 

    পাওয়ারপ্লেতে রংপুর তুলেছিল মাত্র ৩৪ রান, এর মাঝে যে পাঁচটি চার হয়েছিল, সবকটিই মেরেছেন গেইল। ৭ম ওভারে মেহেদিকে কাভার দিয়ে চারের পর সোজা ব্যাটে ছয় মেরেছিলেন তিনি, তবে দানবীয় রুপ দেখাতে পারেননি ঠিক, আউট হয়েছেন ৪৪ বলে ৪৬ রান করে।