• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    • বিপিএল ২০১৯

    তামিম-ময় ফাইনালে কুমিল্লাই 'ভিক্টোরিয়ান'

    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স  ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (তামিম ১৪১*, এনামুল ২৪; সাকিব ১/৪৫)

    ঢাকা ডায়নামাইটস ২০ ওভারে ১৮২/৯ (রনি ৬৬, থারাঙ্গা ৪৮; ওয়াহাব ৩/২৮, পেরেরা ২/৩৫, সাইফ উদ্দিন ২/৩৮)

    ফলঃ কুমিল্লা ১৭ রানে জয়ী


    দুই দলে ২২ জন ক্রিকেটার। তবে এমন কিছু দিন আসে ক্রিকেটে, যেদিন আসলে একজনই খেলেন। তামিম ইকবাল আজ যা করেছেন, একজন ক্রিকেটারের পক্ষে এর চেয়ে বেশি কিছু করা কঠিন। শুরুতে দলের প্রায় ৭০ শতাংশ রান একাই করে খেলেছেন ৬১ বলে ১৪১ রানের একটা ইনিংস। এরপর মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধরেছেন মহামূল্যবান দুইটি ক্যাচ। বল করলে হয়তো আজ হ্যাটট্রিকও করে ফেলতেন কী না কে জানে! তামিম-ময় ফাইনালে বিপিএলে দ্বিতীয় শিরোপা জিতল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

     

     

    ছুটির দিনে মিরপুরের দর্শকঠাসা গ্যালারির পয়সা এর চেয়ে ভালো উসুল বোধ হয় আর ছিল না। তামিম ইকবাল এমনই এক ইনিংস খেললেন, যেটি নিয়ে গল্প করা যাবে অনেক দিন। ঝড়-টড় বললেও কম বলা হয়, মাঘ মাসে দুরন্ত এক সাইক্লোনে ছিন্নভিন্ন করে ফেললেন ঢাকার বোলিং। ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ঢাকার দারুণ শুরুর পরেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা হেরে গেল ১৭ রানে।



     

    গল্পটা আসলে তামিমকে দিয়েই শুরু হওয়া উচিত। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই আঘাত হানলেন রুবেল হোসেন। আগের বলটা চার মেরেছিলেন এভিন লুইস, রুবেলের পরের বলে লাইন মিস করে এলবিডব্লু। রিভিউ নিয়েও লাভ হলো না, ৭ বলে ৬ রান করে আউট হয়ে গেলেন।

    ১১ রানে জীবন পেলেন এনামুল, কাজী অনীকের বলে পয়েন্টে তাঁর ক্যাচটা ধরতে পারলেন না রুবেল। ২৪ রানে কঠিন একটি সুযোগ দিয়েছিলেন তামিম, কিন্তু বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও তাঁর ক্যাচটা ধরতে পারলেন না নুরুল। এবারও দুর্ভাগা বোলারের নাম কাজী অনীক। এরপর তামিম কঠিন একটা ক্যাচ দিয়েছিলেন, কিন্তু ঝাঁপিয়ে পড়েও সেটি একটুর জন্য নিতে পারেননি আন্দ্রে রাসেল।

    তামিম অবশ্য ততক্ষণে হাত খুলে খেলতে শুরু করে দিয়েছেন। নারাইনকে দিয়ে শুরু, তাঁর বলেই মেরেছিলেন প্রথম ছয়। সাকিবের পরের ওভারে পর পর দুই বলে দুই চার। ১০ ওভার শেষেও কুমিল্লার রান ৭৩, এরপর তামিমের ব্যাট আরও খাপখোলা। শুভাগত হোমের বলে পর পর চার-ছয়ে পৌঁছে গেলেন ফিফটিতে, ৩১ বলে।


     

    ১২ ওভারে গিয়ে কুমিল্লার রান যখন ১০০র কাছাকাছি, হঠাৎ করেই ছন্দপতন। শুরুটা সাকিবের বলে বিজয়ের এলবিডব্লু দিয়ে, যদিও সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নিতে চেয়েছিলেন বিজয়। কিন্তু লুইস রিভিউটা আগেই খরচ করে ফেলায় সেটি আর পারেননি। রিপ্লেতেও দেখা গেছে, বল বিজয়ের ব্যাটে লেগেছিল। কিন্তু নারাইনের পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে আবার মতিভ্রম শামসুর রহমানের। এবার সিঙ্গেল না হওয়ার পরও দৌড় দিলেন, ক্রিজে ফেরার আগেই সাকিব তাঁকে করলেন রান আউট।

    কিন্তু এসব কি আর তামিমকে ছুঁতে পারে? মাহমুদুল হাসানকে ছয় মেরে ঢুকলেন সত্তরে, সবচেয়ে বেশি ঝড় গেল রুবেলের ১৫তম ওভারে। ওয়াইডিশ লং অনে চার দিয়ে শুরু, পরের বলে ডিপ স্কয়্যারলেগে দিয়ে ছয়। পরের বলে আউটও হতে পাতেন, বেঁচে গেছেন একটুর জন্য। এর পরের বলে আবার ইনসাইড এজ, এবার চার। শেষ বলে ছয় মেরে সেই ওভার থেকে নিলেন ২৩ রান।

    রাসেলকে ছয় মেরে গেলেন ৯৯ রানে, এক বল পর চার মেরে পেলেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৫০ বলে পেলেন সেঞ্চুরি, পরের ফিফটিটা পেলেন মাত্র ১৯ বলে। সেই তোপ চলতে থাকল সেঞ্চুরির পরেও। এর মধ্যে বিপিএলে তো বটেই, যে কোনো টি-টোয়েন্টিতেই বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস, সবচেয়ে বেশি ছয় এসব রেকর্ডও হয়ে গেছে। একটুর জন্য  ভাঙা হয়নি বিপিএলে গেইলের ১৪৬ রানের রেকর্ড। তাতে অবশ্য তামিমের আক্ষেপ থাকার কথা নয়, বরং ২০০ না পেরুনো নিয়েই একটু অতৃপ্তি থাকতে পারে।  

    ঢাকার ব্যাটিং দেখে তামিমের সেই আক্ষেপ না জেগে পারেই না। প্রথম ওভারেই নারাইন আউট হয়ে যাওয়ার পর উপুল থারাঙ্গা আর রনি তালুকদার ২০০কেও মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন খুবই সম্ভব। সাইফ উদ্দিনের তৃতীয় ওভার থেকেই ঝড় শুরুর রনির, ওই ওভার থেকে নিলেন ১৬ রান। মাহেদীর পরের ওভার থেকে রনি নিলেন চার-ছয়। থারাঙ্গাও অন্যদিক থেকে যোগ দিয়েছেন তাঁর সঙ্গে। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে উঠে গেল ৭১ রান। ৮ ওভারে রান হয়ে গেল ৯২, ঢাকা দেখতে পাচ্ছে আরেকটি শিরোপা। এর মধ্যে ২৬ বলে ফিফটি পেয়ে গেলেন রনি, অন্যদিকে চলছে থারাঙ্গা-ঝড়ও। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৪৮ রান করে পেরেরার বলে ক্যাচ দিলেন থারাঙ্গা, ভাঙল ১০২ রানের জুটি।

    ঢাকার খেই হারানোর শুরু এর পরেই। সাকিব ওয়াহাব রিয়াজকে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন ৩ রানে। ক্যাচটা কে ধরলেন? তামিম।  বড় ধাক্কাটা এরপর খেল ঢাকা, ৩৮ বলে ৬৬ দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলার পর রান আউট হয়ে গেলেন রনি। তবে পোলার্ড-রাসেল ছিলেন, ঢাকার আশা ছিল ভালোমতোই। কিন্তু রাসেল ৪ রান করে পেরেরার বলে আউট হয়ে কুমিল্লাকে দিলেন বড় একটা স্বস্তি। আর পুরো টুর্নামেন্টে নিজের ছায়া হয়ে থাকা পোলার্ড যখন ১৩ রান করে আউট হলেন, ঢাকার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেল। নিয়তিই বটে, এই ক্যাচটা ধরলেন তামিমই!

    শেষ দিকে সোহান-মাহমুদুল রান করে ব্যবধান একটু কমালেও ম্যাচ জেতানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না তা। ঢাকার হার যে নিশ্চিত হয়ে গেছে আগেই!