• বিপিএল ২০১৯
  • " />

     

    • বিপিএল ২০১৯

    প্যাভিলিয়নের চোখে বিপিএলের সেরা একাদশ

    কেমন হবে বিপিএলের সেরা একাদশ?

    চার জন বিদেশী আর সাত জন দেশীকে রেখে সেই কাজটা মোটেই সহজ নয়। কিছু অটোমেটিক চয়েস অবশ্যই আছে, যাদের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তোলার খুব একটা সুযোগ নেই। বাংলাদেশীদের মধ্যে তামিম ইকবাল টুর্নামেন্টের ফাইনালে গিয়ে ১৪১ রানের যে ইনিংস খেলেছেন, তাতে তাঁর নামটা থাকবেই। ৪৬৭ রান করেছেন, বিপিএলের এক আসরে এর চেয়ে বেশি রান করেছিলেন শুধু একবারই।

     

    ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী নিয়েও খুব বেশি ভাবার সুযোগ নেই। সুনীল নারাইন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখন ব্যাটেও বড় ভরসা। বড় ইনিংস না খেললেও ১৪৩ স্ট্রাইক রেটে নিয়মিতই ঢাকাকে এনে দিয়েছেন ঝোড়ো সূচনা। আর বোলিংয়ে ৬.৩৫ ইকোনমি রেটে ১৮ উইকেট তো আছেই।

    এই টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যানেরই হিসেবে তিনে আসা উচিত। আর এখানে রাইলি রুশোর নাম নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই খুব একটা। বিপিএলের ইতিহাসেই এক আসরে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন, হেলস- ডি ভিলিয়ার্স আসার আগে রংপুরের জোয়াল বয়েছেন একাই।

    চারে ইয়াসির আলীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারতেন রনি তালুকদার বা শামসুর রহমান। রনির স্ট্রাইক রেট, রান দুইটিই ইয়াসিরের চেয়ে বেশি, কিন্তু ধারাবাহিকতায় বাকিদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন ইয়াসির। পরের নামটি মুশফিক রহিমের, একাদশে আরেকজন অটোমেটিক চয়েস। দেশীদের মধ্যে এবার সবচেয়ে ধারাবাহিক মুশফিকই, ১৩৯ স্ট্রাইক রেটও দেশীদের মধ্যে তাঁকে রাখছে সবার ওপরে। তামিমের মতো মুশফিকেরও এবারের চেয়ে বিপিএলের এক আসরে বেশি রানও ছিল শুধু একবারই।

    ছয়ে নিকোলাস পুরানের মতো বিগ হিটারের জায়গা নিয়েও রশ্ন ওঠার সুযোগ কম। অন্তত ৩০০ রান করেছেন এমন ব্যাটসম্যানের মধ্যে শুধু অ্যালেক্স হেলসের স্ট্রাইক রেটই পুরানের চেয়ে বেশি। রাসেলের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি ২৮টি ছয় তাঁর, ম্যাচ অবশ্য খেলেছেন চারটি কম।

    সাকিব আল হাসান এরপর আসবেন সাতে। ব্যাট হাতে টুর্নামেন্ট খুব একটা ভালো যায়নি, তবে বল হাতে আর অধিনায়ক হিসেবে ছিলেন দুর্দান্ত। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট তাঁর তো বটেই, আর কোনো স্পিনারের ২০ উইকেটও নেই।

    আটে আন্দ্রে রাসেল আর রবি ফ্রাইলিঙ্কের জায়গায় একজনকে বেছে নেওয়াটা কঠিনই। রাসেলের রান, উইকেট, স্ট্রাইক রেট সবই ফ্রাইলিঙ্কের চেয়ে বেশি, তবে ‘ইমপ্যাক্ট’ হিসেব করলে ফ্রাইলিঙ্ক এগিয়েই থাকবেন। দুইটি ম্যাচ ব্যাট হাতে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন, আর বলে তো দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ছিলেন দারুণ।

    দেশী পেসারদের মধ্যে এরপর তিনটি জায়গা খালি থাকে। দাবিদার মূলত পাঁচজন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, সাইফ উদ্দিন ও তাসকিন আহমেদ। টুর্নামেন্টে ২২ উইকেট নিয়ে তাসকিন এবার আসলেই দুর্দান্ত, তিনি তাই অটোমেটিক চয়েসই। মাশরাফি বিন মুর্তজার সমান উইকেট রুবেল হোসেনেরও (২২), তবে ৭.০৩ ইকোনমিতে মাশরাফি এগিয়ে থাকবেন বাকিদের চেয়ে। সাইফ উদ্দিনও ২০ উইকেট নিয়ে পিছিয়ে নেই খুব। তবে ১২ উইকেট নিয়ে মোস্তাফিজ একাদশে চলে আসবেন মূলত তাঁর দুর্দান্ত ডেথ বোলিংয়ের কারণে। অন্তত তিনটি ম্যাচে তাঁর শেষ দিকের বোলিংয়ের জন্য জিতেছে রাজশাহী, ৬.৪৯ ইকোনমি অন্তত ১০ উইকেট পাওয়া পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম।

    এক নজরে একাদশ

    তামিম ইকবাল, সুনীল নারাইন, রাইলি রুশো, ইয়াসির আলী, মুশফিকুর রহিম, নিকোলাস পুরান, সাকিব আল হাসান, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা